ইস্তাহার/পিঞ্জরে বন্দী

পিঞ্জরে বন্দী

বিহঙ্গের মুক্ত পাখা অসীম আনন্দে মহাসাগরেতে ভাসে,
তারপর আদি রঙ মোছে তুলি ব্যর্থ সভ্যতার সর্বনাশে।
লৌহের পিঞ্জরে তুচ্ছ পরিমিত পরিধিতে সমর্পিত প্রাণ,
কঠিন শৃঙ্খলে বদ্ধ বন্দী পদ, বন্ধ হয় গান;
পৃথিবীর সীমারেখা ক্রমে ক্রমে হয়েছে সঙ্কীর্ণ,
স্থির প্রতিজ্ঞার মতো নিছক নিয়মচক্রে নিতান্ত বিদীর্ণ,
রক্তশূন্য ধমনীতে আবেগের সঞ্চারণে নেই কোন রীতি প্রয়োজন,
গণিতের নির্ভুল ছকে বাঁধা দিন ক্ষণ আয়ু জীবন মরণ।
কাননের বিহঙ্গেরা দেখে না পিঞ্জরস্বপ্ন মূঢ় মত্ততায়,
মুক্ত প্রাণে আজও তারা আকাশে সাগরে বাঁচে স্বাধীন সত্তায়,
কিন্তু আমরা পাশাপাশি কঠিন পিঞ্জরে শৃঙ্খলে
বদ্ধ পদে বন্ধনের যন্ত্রনায় কাতর হয়েছি পলে পলে,
নিজেদের পরস্পর প্রতিবিম্ব দেখে দেখে অতি পরিচিত;
রুদ্ধ দ্বার ক্ষুদ্র কক্ষে নিঃস্ব প্রাণে বিশ্বরেখা একান্ত সীমিত।

আমাদের দেখে কেউ হবে না তো আজ আর বিমূঢ় বিস্মিত,
মোদের স্বরূপ আজ নিয়তির শাসনেতে বিকৃত বিস্মৃত।
আমাদের দেহ যেন সস্তা দামের মেকী মোমের পুতুল,
হৃদয়ের প্রেমহীন পাত্রে সযতনে রাখা কাগজের ফুল।
প্রিয়ার প্রেমের সংজ্ঞা অর্থের গূঢ়তম অর্থ খুঁজে খুঁজে
মেলে। তাই পরিবারে প্রয়োজনে আত্মবলি চোখ মুখ বুজে,
বাঁধা বুলি, চেনা পথ একঘেয়ে জীবনের পুনরাবৃত্তিতে
কালচক্রে মৃত্যুর দিন গোনা বর্ষায় গ্রীষ্মে কিংবা শীতে।

ভিন্ন ভিন্ন পিঞ্জরের অন্তরালে পরস্পর হয়ে বন্দী,
সাদা খতে স্বীকৃত স্বাক্ষরে অনায়াসে করি সন্ধি।
শুধু প্রয়োজন হলে, কথা কই, গান গাই, কুড়োই রুটি,
তারপর খেলা শেষে পিঞ্জরের মঞ্চ থেকে যথারীতি ছুটি।