পাতা:পল্লী-সমাজ.djvu/১৮৫

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
১৮৩
পল্লী-সমাজ


পড়িল। অন্য কোন দিন হইলে সঙ্গে সঙ্গেই তাহার সর্ব্বাঙ্গ জ্বালা করিয়া উঠিত। কিন্তু, আজ জ্বালা করা ত দূরের কথা, কোথাও সে একবিন্দু অগ্নিস্ফুলিঙ্গের অস্তিত্বও অনুভব করিল না। মনে মনে একটু হাসিয়া তাহাকে উদ্দেশ করিয়া কহিল,—“তোমার হাত দিয়ে ভগবান্‌ আমাকে এমন সার্থক ক’রে তুলবেন, তোমার বিষ আমার অদৃষ্টে এমন অমৃত হ’য়ে উঠ্‌বে, এ যদি তুমি জান্‌তে রমা, বোধ করি, কখনও আমাকে জেলে দিতে চাইতে না! কে গা?”

 “আমি রাধা, ছোটবাবু! রমাদিদি অতি অবিশ্যি করে একবার দেখা দিতে বল্‌চেন।” রমা সাক্ষাৎ করিবার জন্য দাসী পাঠাইয়া দিয়াছে। রমেশ অবাক হইয়া রহিল। আজ এ কোন্‌ নষ্টবুদ্ধি দেবতা তাহার সহিত সকল প্রকারের অনাসৃষ্টি কৌতুক করিতেছেন! দাসী কহিল,—“একবার দয়া ক’রে যদি ছোটবাবু—” “কোথায় তিনি?”

 “ঘরে শুয়ে আছেন।” একটু থামিয়া কহিল,—“কাল ত আর সময় হ’য়ে উঠ্‌বে না; তাই এখন যদি একবার—” “আচ্ছা চল যাই—” বলিয়া রমেশ উঠিয়া দাঁড়াইল।

 ডাকিতে পাঠাইয়া দিয়া রমা একপ্রকার সচকিত অবস্থায় বিছানায় পড়িয়াছিল। দাসীর নির্দ্দেশমত রমেশ ঘরে ঢুকিয়া, একটা চৌকি টানিয়া লইয়া বসিতেই, সে শুদ্ধমাত্র যেন মনের জোরেই নিজেকে টানিয়া আনিয়া রমেশের পদপ্রান্তে নিক্ষেপ করিল। ঘরের এককোণে মিট্‌ মিট্ করিয়া