পাতা:পল্লী-সমাজ.djvu/৭৮

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
পল্লী-সমাজ
৭৬


নির্লজ্জার মত নিভৃতে কাছে আসিয়াও বসে! এদিকে রমেশের আকস্মিক অভ্যাগমে রমারও অবস্থাসঙ্কট কম হয় নাই। কারণ, শুধু যে সে এ গ্রামের মেয়ে, তাই নয়; রমেশের সহিত তাহার সম্বন্ধটাও এইরূপ যে, নিতান্ত অপরিচিতার মত ঘোমটা টানিয়া দিতেও লজ্জা করে, না দিয়াও সে স্বস্তি পায় না। তা ছাড়া সেদিন মাছ লইয়া একটা সেদিন কাণ্ড ঘটিয়া গেল! তাই সবদিক্‌ বাঁচাইয়া যতটা পারা যায়, সে আড় হইয়া বসিয়াছিল। রমেশ আর সেদিকে চাহিল না। ঘরে যে আর কেহ আছে, তাহা একেবারে অগ্রাহ্য করিয়া দিয়া, ধীরে সুস্থে মাদুরের উপর উপবেশন করিয়া কহিল, “জ্যাঠাইমা!” জ্যাঠাইমা বলিলেন, “হঠাৎ এমন দুপুরবেলা যে, রমেশ?” রমেশ কহিল, “দুপুরবেলা না এসে তোমার কাছে যে একটু বস্‌তে পাইনে। তোমার কাজ ত কম নয়!” জ্যাঠাইমা তাহার প্রতিবাদ না করিয়া শুধু একটুখানি হাসিলেন। রমেশ মৃদু হাসিয়া বলিল, “বহুকাল আগে ছেলেবেলায় একবার তোমার কাছে বিদায় নিয়ে গিয়েছিলুম। আবার আজ একবার নিতে এলুম। এই হয়ত শেষ নেওয়া, জ্যাঠাইমা!” তাহার মুখের হাসি সত্ত্বেও কণ্ঠস্বরে ভারাক্রান্ত হৃদয়ের এমনই একটা গভীর অবসাদ প্রকাশ পাইল যে, উভয় শ্রোতা বিস্মিত-ব্যথায় চমকিয়া উঠিলেন।

 “বালাই, ষাট্‌! ও কি কথা, বাপ।” বলিয়া বিশ্বেশ্বরীর চোখদুটি যেন ছলছল করিয়া উঠিল। রমেশ শুধু একটু হাসিল।