আদর্শ প্রশ্ন/পরিশিষ্ট


THE NATIONAL COUNCIL OF EDUCATION,
BENGAL
Fifth Standard Examination, 1906
BENGALI
Second Paper
Full Marks 50
Paper set by ——Babu Rabindra Nath Tagore
Babu Kshirodprasad Vidyabinode, M.A.

Examiners—— “ Purna Chandra De, B.A.

                         “ Kshetramohan Sen Gupta

N.B. Candidates are required to answer any THREE out of the four question of this paper.



১। প্রবন্ধ রচনা

(ক) ছিনু মোরা সুলোচনে গোদাবরীতীরে, কপোত কপোতী যথা উচ্চবৃক্ষচূড়ে বাঁধি নীড় থাকে সুখে; ছিনু ঘোর বনে, নাম পঞ্চবটী, মর্ত্যে সুরবনসম।

গোদাবরীতীরে স্থিত রাম ও সীতার কুটীর এমন বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা কর, যেন তাহা স্বচক্ষে দেখিতেছ; অর্থাৎ কুটীরের সম্মুখবর্তী নদীর তটভাগ কিরূপ, তাহার সমীপবর্তী বনে কি কি গাছ কিরূপে অবস্থিত, কুটীরের মধ্যে কোথায় কি আছে তাহা প্রত্যক্ষবৎ লিখ।

অথবা——

(খ) পুরাণে বা ইতিহাসে যাঁহার চরিতে তোমার চিত্তকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করিয়াছে, তাঁহার সম্বন্ধে আলোচনা কর।

অথবা ——

(গ) যে কোনো বাল্যপরিচিত প্রিয় আত্মীয় বন্ধুর বা পুরাতন ভৃত্যের বা পোষা প্রাণীর কথা ও তৎসম্বন্ধে হৃদয়ের ভাব ব্যক্ত করিয়া লিখ।

২। পত্র-রচনা

নিম্নলিখিত যে কোনো বিষয় অবলম্বন করিয়া অভিভাবক বা বন্ধু বা যাঁহাকে ইচ্ছা পত্র লিখ।

(ক) ‘মেস’ অর্থাৎ ছাত্রাবাসে কিরূপ ব্যবস্থা আছে এবং সেখানে কিরূপে দিন যাপন করা হয়।

(খ) বর্তমান বৎসরে জলবায়ু ও শস্যাদি-ঘটিত পল্লীবাসীদের অবস্থা।

(গ) যে পাড়ায় বাস কর তাহার বর্ণনা।

৩। অনুবাদ

নিম্নে উদ্‌ধৃত দুইটি রচনার মধ্যে যেটির ইচ্ছা বাংলা কর।

৩। অনুবাদ

নিম্নে উদ্‌ধৃত দুইটি রচনার মধ্যে যেটির ইচ্ছা বাংলা কর।

(ক) The day is full of the singing of birds, the night is full of stars—Nature has become all kindness, and it is a kindness clothed upon with splendour.

For nearly two hours have I been lost in the contemplation of this magnificent spectacle. I felt myself in the temple of the Infinite, God's guest in this vast nature. The stars, wandering in the pale ether, drew me far away from earth. What peace beyond the power of words they shed on the adoring soul! I felt the earth floating like a boat in this blue ocean. Such deep and tranquil delight nourishes the whole man—it purifies and ennobles. I surrendered myself—I was all gratitude and docility.

(খ) There was once a king who had three sons. He was equally fond of all of them, and he could not decide to which to leave the kingdom after his death. When the time came for him to die, he called them to his bedside, and said, “My dear children, I have had something on my mind for a long time, which I will now disclose to you; whichever of you is the laziest shall inherit my kingdom.”

The eldest said, Then father, the kingdom will be mine, for I am so lazy that when I lie down to sleep, if something drops into my eye I don't even take the trouble to shut it.”

The second said, “Father, the kingdom belongs to me. I am so lazy that when I sit by the fire warming myself, I would sooner let my toes burn than draw my legs back.”

The third said, “Father, the kingdom is mine. I am so lazy that if I were going to be hanged and had the rope round my neck, and some one were to give me a sharp knife to cut it with, I would sooner be hanged than raise my hand to the rope.”

When his father heard that, he said, “You certainly carry your laziness furthest, and you shall be king.”

৪। ব্যাখ্যা

(ক) বর্তমান সভ্যতা সম্বন্ধে কোনো জাপানী লেখকের নিম্নলিখিত মন্তব্যের সরল ব্যাখ্যা কর-

“জগতে যুদ্ধ কবে নিরস্ত হইবে? য়ুরোপে ব্যক্তিগত ধর্মবুদ্ধি জাগ্রত আছে বটে, কিন্তু সেখানে জাতিসাধারণের ধর্মবুদ্ধি সে পরিমাণে সচেতন হয় নাই। লুব্ধস্বভাব জাতিদিগের ন্যায়পরতা থাকিতে পারে না এবং দুর্বলতর জাতিদের সহিত ব্যবহারকালে তাহারা বীরধর্ম বিস্মৃত হয়। এ কথা চিন্তা করিতেও হৃদয়ে বেদনা লাগে যে আজিও বাহুবলই জগতে প্রধান সহায়। য়ুরোপে এ কি অদ্ভুত বৈপরীত্য দেখিতে পাই? একদিকে হাঁসপাতাল, অন্য দিকে লোকহননের নবনব কৌশল; এক দিকে খৃষ্টধর্ম-প্রচারক, অন্য দিকে রাষ্ট্রবিস্তারের বিপুল আয়োজন। শান্তিরক্ষার উপায়সাধনের জন্য এ কি নিদারুণ অস্ত্রসজ্জা! এশিয়াখণ্ডের প্রাচীন সভ্যসমাজে এরূপ বৈপরীত্য কোন দিন স্থান পায় নাই। জাপানের প্রথম অভ্যুদয়ের দিন এরূপ আদর্শ তাহার ছিল না এবং এই আদর্শের প্রতি অগ্রসর হওয়া তাহার বর্তমান রাজনীতির লক্ষ্য নহে। এসিয়াকে দীর্ঘকাল যে মোহরজনী আচ্ছন্ন করিয়াছিল, জাপানের দিক্‌প্রান্তে তাহার আবরণ যখন কথঞ্চিৎ উন্মোচিত হইল তখন দেখা গেল জগতের মানবসমাজ এখনো কুহেলিকায় আবিষ্ট। য়ুরোপ আমাদিগকে যুদ্ধবিদ্যা শিক্ষা দিয়াছে, কবে সেই য়ুরোপ শান্তির কল্যাণ নিজে শিক্ষা করিবে?”

অথবা –

(খ) নিম্নোদ্ধৃত যে কোনো একটি কাব্যাংশ গদ্যে প্রকাশ কর। বাক্যগুলিকে পূর্ণতর করিবার জন্য আবশ্যকমত পরিবর্তন বা নূতন কিছু যোজনা করিলে অবিহিত হইবে না।

(১) (যজ্ঞশালায় গোপনে প্রবিষ্ট লক্ষণের দ্বারা আক্রান্ত নিরস্ত্র ইন্দ্রজিৎ বিভীষণকে দ্বাররোধ করিতে দেখিয়া কহিলেন) –

“ হায় , তাত , উচিত কি তব

এ কাজ , নিকষা সতী তোমার জননী ,

সহোদর রক্ষঃশ্রেষ্ঠ , শূলীশম্ভুনিভ

কুম্ভকর্ণ , ভ্রাতৃপুত্র বাসববিজয়ী ?

নিজগৃহপথ , তাত , দেখাও তস্করে ?

চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে ?

কিন্তু নাহি গঞ্জি তোমা , গুরুজন তুমি

পিতৃতুল্য । ছাড় দ্বার , যাব অস্ত্রাগারে ,

পাঠাইব রামানুজে শমনভবনে ,

লঙ্কার কলঙ্ক আজি ভঞ্জিব আহবে । ”

উত্তরিলা বিভীষণ ,— “ বৃথা এ সাধনা ,

ধীমান্‌! রাঘবদাস আমি ; কি প্রকারে

তাঁহার বিপক্ষে কাজ করিব , রক্ষিতে

অনুরোধ ?”

উত্তরিলা কাতরে রাবণি , –

“ হে পিতৃব্য , তব বাক্যে ইচ্ছি মরিবারে ।

রাঘবের দাস তুমি ? কেমনে ও মুখে

আনিলে এ কথা , তাত , কহ তা দাসেরে ।



কেবা সে অধম রাম ? স্বচ্ছ সরোবরে

করে কেলি রাজহংস পঙ্কজকাননে ;

যায় কি সে কভু , প্রভু , পঙ্কিল সলিলে ,

শৈবালদলের ধাম ? মৃগেন্দ্র কেশরী ,

কবে , হে বীরকেশরি , সম্ভাষে শৃগালে

মিত্রভাবে ? ”

(২) (কলিঙ্গদেশে অতিবৃষ্টি)

ঈশানে উরিল মেঘ সঘনে চিকুর ।

উত্তর পবনে মেঘ করে দুর দুর ।।
নিমেষে কে ঝাঁপে মেঘ গগনমণ্ডল ।

চারি মেঘে বরিষে মুষলধারে জল ।।

কলিঙ্গে থাকিয়া মেঘ করে ঘোর নাদ ।

প্রলয় ভাবিয়া প্রজা ভাবয়ে বিষাদ ।।

করিকর-সমান বরিষে জলধারা ।

জলে মহী একাকার , পথ হৈল হারা ।।

ঘন বাজধ্বনি চারি মেঘের গ র্জ ন ।

কারো কথা শুনিতে না পায় কোনো জন ।।

পরিচ্ছিন্ন নাহি সন্ধ্যা দিবস রজনী ।

সোঙরে সকল লোক জনক জননী ।।

হুড় হুড় দুড় দুড় শুনি ঝন ঝন ।

না পায় দেখিতে কেহ রবির কিরণ ।।

গ র্ত ছাড়ি ভুজঙ্গম ভাসি বুলে জলে ।

নাহিক নি র্জ ন স্থান কলিঙ্গ নগরে ।।

মাঝিয়াতে পড়ে শিলা বিদারিয়া চাল ।

ভাদ্রমাসেতে যেন পড়ে পা কা তাল ।।

চারি দিকে ধায় ঢেউ প র্ব ত বিশাল ।

উড়ি পড়ে ঘর গোলা করে দোলমাল ।।



Seventh Standard Examination, 1906
BENGALI
Second Paper
Full Marks 50
Paper set by Babu Rabindra Nath Tagore
Examiner—Pandit Tarakumar Kaviratna

N.B. Candidates are required to answer any three out of the four questions of this paper.

১। প্রবন্ধ রচনা নিম্নে উদ্ধৃত দুইটি রচনার মধ্যে যে কোনটি অবলম্বন করিয়া প্রবন্ধ লিখ –

(ক) সঞ্চয় ও সঞ্চার।

শক্তিসঞ্চয় যে প্রকার আবশ্যক, তাহার বিকিরণও সেইরূপ বা তদপেক্ষা অধিক আবশ্যক। হৃৎপিণ্ডে রুধিরসঞ্চয় অত্যাবশ্যক; তাহার শরীরময় সঞ্চালন না হইলেই মৃত্যু। কুলবিশেষ বা জাতিবিশেষে সমাজের কল্যাণের জন্য বিদ্যা বা শক্তি কেন্দ্রীভূত হওয়া এক কালের জন্য অতি আবশ্যক, কিন্তু সেই কেন্দ্রীভূত শক্তি কেবল সর্বতসঞ্চারের জন্য পুঞ্জীকৃত। যদি তাহা না হইতে পারে, সে সমাজশরীর নিশ্চয়ই ক্ষিপ্র মৃত্যুমুখে পতিত হয়।

খ) শিক্ষার উদ্দেশ্য।

And the entire object of true education is to make people not merely do the right things, but enjoy the right things : not merely industrious but to love industry : not merely learned, but to love knowledge : not merely pure, but to love purity : not merely just, but to hunger and thirst after justice.

অথবা –

(গ) রাম ও লক্ষণের চরিত্র তুলনা করিয়া প্রবন্ধ লিখ।

২। পত্র-রচনা

নিম্নলিখিত যে কোনো বিষয় অবলম্বন করিয়া পত্র লিখ –

(ক) জীবনের কোনো একটি বিশেষ স্মরণীয় ঘটনার বিবরণ।

(খ) জীবিকা-অর্জন ও জীবনের লক্ষ্যসাধন সম্বন্ধে যে শিক্ষা ও যে পনথা অবলম্বন করিতে ইচ্ছা কর অভিভাবককে তাহার জ্ঞাপন।

৩। অনুবাদ নিম্নোদ্ধৃত রচনার ভাবার্থ লিখ। অবিকল অনুবাদ অনাবশ্যক।

(ক) Do you know what slavery means? Suppose a gentleman taken by a Barbary corsair—set to field work; chained and flogged to it from dawn to eve. Need he be a slave therefore? By no means; he is but a hardly treated prisoner. There is some work which the Barbary corsair will not be able to make him do, such work as a Christian gentleman may not do, that he will not, though he die for it. ... ... He is not a whit more slave for that. But suppose he takes the pirate's pay, and stretches his back at piratical oars, for due salary -¬how then? Suppose for fitting price he betrays his fellow prisoners, and takes up the scourge instead of enduring it—become the smiter instead of the smitten, at the African's bidding—how then? Of all the sheepish notions in our English public "mind", I think the simplest is that slavery is neutralized when you are well paid for it! Whereas it is precisely the fact of its being paid for, which makes it complete. A man who has been sold by another may be but half a slave or none; but the man who has sold himself! He is the accurately Finished Bondsman.

অথবা, নিম্নোদ্ধৃত রচনার ভাবার্থ লিখ। অবিকল অনুবাদ অনাবশ্যক। –

(খ) The peasant has become more of an individual, with less sense of his duty to his community and fellows. United action by the village has become more rare. In the old days a village would combine to build a bridge, a road, a well, a monastery. They hardly ever do so now. The majority cannot impose its will on the minority as it used to do. The young men are under less command; they are more selfish, each for himself, and let the community go hang. Hence the community suffers and the individual also. All morality and all strength depend on combinations; the higher the organism, the better the morality and the greater the strength. With the loosening of this comes weakness, a deterioration of mutual understanding and a lower ethical standard. Both these are noticeable to all who knew the villager twenty years ago. ...

The people are not able to retain all that was good in their old system and at the same time accept the new. They think that they are antagonistic. Japan, however, knows they are not so. ... The conflict of the old and new is seen continually. Yet must the village system still endure, as without it there would be only chaos. It is one real and living organism that exists, that belongs to the people and which they understand. I am sure they will not let it go entirely.
৪। নিম্নোদ্ধৃত (ক) ও (খ) দুইটি কাব্যাংশের মধ্যে যেটি ইচ্ছা গদ্যে প্রকাশ কর। গদ্য রচনারীতির প্রয়োজনানুসারে কিঞ্চিৎ পরিবর্তন ও নূতন যোজনা অসঙ্গত হইবে না। –

(ক) (কুরুক্ষেত্রে অভিমন্যুর মৃত দেহ)

দেখিলেন কুরুক্ষেত্র শোকের সাগর ।

শবচক্র মহাবেলা ; প্রশস্ত

প্রাঙ্গণ ব্যাপিয়া পাণ্ডবসৈন্য , ঊর্মির মতন

উদ্বেলিত মহাশোকে , কাঁদে অধোমুখে ,-

গুণহীন ধনু , পৃষ্ঠে শরহীন তূণ ।

রথী মহারথিগণ বসিয়া ভূতলে

কাঁদিতেছে অধোমুখে , যেন আভাহীন

সিক্ত রত্নরাজি পড়ি রত্নাকরতলে ।

বাণবিদ্ধমীন-মত পাণ্ডব সকল

করিতেছে গড়াগড়ি পড়িয়া ভূতলে ।

মূর্চ্ছিত বিরাটপতি ; স্তম্ভিত প্রাঙ্গণ ।

কেন্দ্রস্থলে অভিমন্যু , শরের শয্যায় ,—

সিদ্ধকাম মহাশিশু! ক্ষত কলেবর

রক্তজবাসমাবৃত ; সস্মিত বদন

মায়ের পবিত্র অঙ্কে করিয়া স্থাপিত ,

— সন্ধ্যাকাশে যেন স্থির নক্ষত্র উজ্জ্বল —

নিদ্রা যাইতেছে সুখে । বক্ষে সুলোচনা

মূর্চ্ছিতা ; মূর্চ্ছিতা পদে পড়িয়া উত্তরা ,

সহকার-সহ ছিন্না ব্রততীর মত ।

কেবল দুইটি নেত্র শুষ্ক , বিস্ফারিত ,

এই মহাশোকক্ষেত্রে ; কেবল অচল

এই মহাশোকক্ষেত্রে একটি হৃদয় ;-

সেই নেত্র , সেই বুক , মাতা সুভদ্রার ।

চাপি মৃত পুত্রমুখ মায়ের হৃদয়ে

দুই করে , বিস্ফারিত নেত্রে প্রীতিময় ,

যোগস্থা জননী চাহি আকাশের পানে ,-

আদর্শবীরত্ববক্ষে প্রীতির প্রতিমা!
(খ) (কালকেতুর নিকট ভাঁড়ুদত্তের আগমন)

ভেট লয়া কাঁচকলা , পশ্চাতে ভাঁড়ুর শালা

    আগে ভাঁড়ুদত্তের পয়ান ।

ফোঁটা-কাটা মহাদম্ভ ছিড়া জোড়া কোঁচা লম্ব

    শ্রবণে কলম খরশাণ ।।

প্রণাম করিয়া বীরে ভাঁড়ু নিবেদন করে

    সম্বন্ধ পাতায়া খুড়া খুড়া ।

ছিঁড়া কম্বলে বসি , মুখে মন্দ মন্দ হাসি ,

    ঘন ঘন দেয় বাহু নাড়া ।।

আইলাম বড়ই আশে বসিতে তোমার দেশে

    আগে ডাকিবে ভাঁড়ু দত্তে ।

যতেক কায়স্থ দেখ ভাঁড়ুর পশ্চাতে লেখ

    কুলে শীলে বিচারে মহত্ত্বে ।।

কহি যে আপন তত ্ত্ব আমি দত্ত বালীর দত্ত

    তিন কূলে আমার মিলন ।

ঘোষ বসুর কন্যা দুই জায়া মোর ধন্যা

    মিত্রে কৈনু কন্যা সমর্পণ ।

গঙ্গার দুকূল কাছে যতেক কায়স্থ আছে

    মোর ঘরে করয়ে ভোজন ।

পট্টবস্ত্র অলঙ্কার দিয়া করি ব্যবহার ,

    কেহ নাহি করয়ে বন্ধন ।।



Fifth Standard Examination, 1907
BENGALI
Full Marks 50
Paper set by Babu Rabindra Nath Tagore
Examiners—Babu Kshirod Prosad Vidyabinode M.A.
Babu Amulya Charan Vidyabhusan.

১ । “ রাম রাজপদে প্রতিষ্ঠিত হইলেন এবং অপ্রতিহতপ্রভাবে রাজ্যশাসন ও অপত্যনির্বিশেষে প্রজাপালন করিতে লাগিলেন। ”

সমস্ত সমাসগুলি ভাঙিয়া উল্লিখিত বাক্যটিকে লিখ । — অথবা –

সমাস ব্যবহার দ্বারা ও সর্ব্বপ্রকারে নিম্নলিখিত বাক্যটিকে সংহত কর–

যাঁহার হৃদয় সরল , যাঁহার আচার শুদ্ধ , পতিই যাঁহার প্রাণ এমন স্ত্রীলোককে , কোনো অপরাধ করেন নাই জানিয়াও , যখন আমি অনায়াসে বিসর্জ্জন দিতে উদ্যত হইয়াছি তখন এমন কে আছে যে আমা অপেক্ষা মহাপাতকী ।

২ । সীতার বনবাস গ্র ন্থে বর্ণিত ঘটনাটিকে অল্প কয়েক ছত্রের মধ্যে লিখ ।

অথবা –

পুরাণে গঙ্গার উৎপত্তিসম্বন্ধে যে প্রবাদ আছে , তাহার সহিত কবি হেমচন্দ্রের বর্ণনার কি প্রভেদ দেখাইয়া দাও ।

৩ । অনুবাদ কর –

These old Greeks learnt from all the nations round. From the Phoenicians they learnt shipbuilding; and from the Assyrians they learnt painting and carving, and building in wood and stone; and from the Egyptians they learnt astronomy, and many things which you would not understand. Therefore God rewarded these Greeks, and made them wiser than the people who taught them in everything they learnt; for he loves to see men and children open-hearted, and willing to be taught; and to him who uses what he has got, He gives more and more day by day. So these Greeks grew wise and powerful, and wrote poems which will live till the world's end. And they learnt to carve statues, and build temples, which are still among the wonders of the world; and many other wondrous things God taught them, for which we are wiser this day.

৪ । ( ক) (খ) (গ) ও (ঘ) চিহ্নিত প্রশ্নগুলির মধ্যে যে কোনো দুইটির উত্তর লিখ । –

(ক) “ পড়ে থাকে দূরগত জীর্ণ অভিলাষ যত ছিন্ন পতাকার মত ভগ্ন দুর্গপ্রাকারে । ”

মনের কিরূপ ভাব অবলম্বন করিয়া উক্ত উপমাটি ব্যবহার করা হইয়াছে । অথবা –

হাস্‌রে শরৎচাঁদ কিরণ বিস্তারি । পথে মাঠে কি বাহার চেয়ে দেখ একবার পদব্রজে পথিকের সারি । এই বর্ণনাটি ফলাইয়া লিখ ।

(খ) পল্লীগ্রামে অন্ধকার রাত্রিতে ঝড়বৃষ্টি হইতেছিল ; বিধবা স্ত্রীলোকের রুগ্ন ছেলেটির জন্য ডাক্তার ডাকিবার কোনো লোক নাই জানিয়া অবিনাশ ভীতস্বভাব হইলেও ভয় সম্বরণ করিয়া ডাক্তারের বাড়ী গেল ।

এই ঘটনাটিকে বর্ণনা করিয়া লিখ ।

অথবা –

কলিকাতার অথবা পরিচিত কোনো গ্রাম বা সহরের কোনো একটি পথের কিয়দংশ যথাযথরূপে বর্ণনা কর ।

(গ) মনে কর একশো টাকা লাভ করিয়াছ , এই টাকা লইয়া কি করিতে চাও , তাহা বন্ধুকে জানাইয়া লিখ ।

অথবা –

তোমার পাঠ্যবিষয়গুলির মধ্যে কোন্‌ কোন্‌টা তোমার বিশেষ ভাবে ভাল লাগে বা লাগে না , তাহার আলোচনা করিয়া পত্র লিখ ।

(ঘ) কবি হেমচন্দ্রের যে কবিতা তোমার সর্ব্বাপেক্ষা ভাল লাগিয়াছে , তাহার ভাষা , ছন্দ ও

কবিত্ব বিচার কর । ( ‘ কবিতাবলী ' দেখিয়া লিখিতে পার)

৫ । নিম্নোদ্ধৃত অংশ সরল ভাষায় লিখ –
তদনন্তর মুনিশ্রেষ্ঠ বাল্মীকি সীতাসহিত জনবৃন্দমধ্যে প্রবিষ্ট হইয়া রামকে এইরূপ বলিতে লাগিলেন , “ হে দাশরথে , ধ র্ম চারিণী এই সীতা লোকাপবাদহেতু আমার আশ্রমসমীপে পরিত্যক্তা হইয়াছিলেন । এই অপাপা পতিপরায়ণা তোমার নিকট প্রত্যয় প্রদান করিবেন । ” রাম বাল্মীকিকর্ত্তৃক এইরূপ কথিত হইয়া এবং সেই দেববর্ণিনী জানকীকে দেখিয়া , কৃতাঞ্জলিপূর্ব্বক , জনগণের সমক্ষে এইরূপ বলিতে লাগিলেন , “ হে ধর্ম ”, আপনি যাহা বলিতেছেন তাহাই সত্য । আপনার পবিত্র বাক্যেই আমার প্রত্যয় হইতেছে । এই জানকীকে আমি পবিত্রা মনে জানিয়াও শুদ্ধ লোকাপবাদভয়ে ত্যাগ করিয়াছি । কিন্তু আপনি আমাকে ক্ষমা করিবেন , সীতাশপথ-দর্শন-জন্য কৌতূহলাক্রান্ত হইয়া সকলে সমাগত হইয়াছেন । ” তখন কাষায়বস্ত্রপরিধানা সীতা সকলকে সমাগত দেখিয়া অধোমুখী অধোদৃষ্টি এবং কৃতাঞ্জলি হইয়া এইরূপ কহিতে লাগিলেন , “ আমি রাম ভিন্ন জানি না , আমার এই বাক্য যদি সত্য হয় , তবে পৃথিবীদেবী আমাকে বিবর প্রদান করুন! ” বৈদেহী এইরূপ শপথ করিলে দিব্য সিংহাসন সহসা রসাতল হইতে আবির্ভূত হইল এবং সেই স্থলে পৃথিবীদেবী সীতাকে দুই বাহু-দ্বারা গ্রহণ করিলেন । সিংহাসনারূঢ়া সীতাকে রসাতলে প্রবেশ করিতে দেখিয়া তদুপরি স্বর্গ হইতে পুষ্পবৃষ্টি হইতে লাগিল ।

অথবা , নিম্নলিখিত কাব্যাংশ গদ্য করিয়া লিখ –

বিলাপ করেন রাম লক্ষ্মণের আগে ,

ভুলিতে না পারি সীতা সদা মনে জাগে ।

রাজ্যচ্যুত আমাকে দেখিয়া চিন্তান্বিতা

হরিলেন পৃথিবী কী আপন দুহিতা ?

রাজ্যহীন যদ্যপি হয়েছি আমি বটে

রাজলক্ষী তথাপি ছিলেন সন্নিকটে ।

আমার সে রাজলক্ষ্মী হারাইল বনে ,

কৈকেয়ীর মনোভীষ্ট সিদ্ধ এতদিনে ।

সৌদামিনী যেমন লুকায় জলধরে

লুকাইল তেমন জানকী বনান্তরে ।

কনকলতার প্রায় জনকদুহিতা

বনে ছিল কে করিল তারে উৎপাটিতা ।

দিবাকর নিশাকর , দীপ্ত তারাগণ

দিবানিশি করিতেছে তমো নিবারণ ,

তারা না হরিতে পারে তিমির আমার -

এক সীতা বিহনে সকল অন্ধকার ।।

উল্লিখিত কবিতার তৃতীয় ছত্রে চিন্তান্বিতা শব্দটি কাহার বিশেষণ ?

Seventh Standard Examination, 1907
BENGALI
Full Marks 50
Paper set by Babu Rabindra Nath Tagore
Examiner—Babu Kshirod Prasad Vidyabinode, M.A.
১। (ক) (খ) (গ) ও (ঘ) চিহ্নিত প্রশ্নচারিটির মধ্যে যে কোনো দুইটির উত্তর লিখ।—

(ক) “ কি সুন্দর মালা আজি পরিয়াছ গলে

প্রচেতঃ! হা ধিক্‌ ওহে জলদলপতি!

এই কি সাজে তোমারে , অলঙ্ঘ্য , অজেয়

তুমি ? হায় , এই কি হে তোমার ভূষণ

রত্নাকর ? কোন্‌ গুণে কহ , দেব , শুনি ,

কোন্‌ গুণে দাশরথি কিনেছে তোমারে ?

প্রভঞ্জনবৈরী তুমি , প্রভঞ্জনসম

ভীম পরাক্রমে! কহ এ নিগড় তবে

পর তুমি কোন্‌ পাপে ? অধম ভালুকে

শৃঙ্খলিয়া যাদুকর খেলে তারে লয়ে ;

কেশরীর রাজপদ কার সাধ্য বাঁধে

বীতংসে ? এই যে লঙ্কা হৈমবতী পুরী

শোভে তব বক্ষঃস্থলে , হে নীলাম্বুস্বামী ,

কৌস্তভরতন যথা মাধবের বুকে ,

কেন হে নি র্দ য় এবে তুমি এর প্রতি ?

উঠ , বলি , বীরবলে এ জাঙাল ভাঙি ,

দূর কর অপবাদ ; জুড়াও এ জ্বালা ,

ডুবায়ে অতল জলে এ প্রবল রিপু ।

রেখো না গো তব ভালে এ কলঙ্করেখা ,

হে বারীন্দ্র , তব পদে এ মম মিনতি । ”

উল্লিখিত কাব্যাংশকে গদ্য কর। যতদূর সম্ভব সংস্কৃত শব্দ পরিত্যাগ করিয়া ভাষা সরল করিতে হইবে।

(খ) অনিন্দ্য , পেলব , ক্ষুদ্র অবয়ব ;

অনিন্দ্যসুন্দর কোমল আস্য ;

ক্ষুদ্রকণ্ঠে তোর কলকণ্ঠরব ;

ক্ষুদ্রদন্তে তোর মোহন হাস্য ;
কচি বাহু দুটি প্রসারিয়া , ছুটি '

আসিস্‌ , ঝাঁপিয়া আমার বক্ষে ;

ক্ষুদ্র মুষ্টি তোর ক্ষুদ্র করপুটে ;

দুষ্ট দৃষ্টি তোর উজ্জ্বল চক্ষে ;

ক্ষুদ্র দুটি এই চরণবিক্ষেপে ,

কক্ষ হতে কক্ষান্তরে প্রলম্ফ ;

ধরিয়া আমার অঙ্গুলিটি চেপে ,

সোপান হইতে সোপানে ঝম্প ।

উহ্য শব্দগুলির পূরণ করিয়া উল্লিখিত কাব্যাংশটিকে গদ্যে লিখ। (গ) যথাসম্ভবরূপে সংস্কৃত শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ ব্যবহার করিয়া নিম্নলিখিত গদ্যকে সরল কর— “ সূর্য্যমুখী পূর্ণচন্দ্রতুল্য তপ্তকাঞ্চনবর্ণা। তাঁহার চক্ষু সুন্দর বটে, কিন্তু কুন্দ যে প্রকৃতির চক্ষু স্বপ্নে দেখিয়াছিলেন, এ সে চক্ষু নহে। সূর্য্যমুখীর চক্ষু সুদীর্ঘ, অলকস্পর্শী ভ্রুযুগসমাশ্রিত, কমনীয় বঙ্কিম পল্লবরেখার মধ্যস্থ, স্থূলকৃষ্ণতারাসনাথ, উজ্জ্বল অথচ মন্দগতিবিশিষ্ট। স্বপ্নদৃষ্টা শ্যামাঙ্গীর চক্ষুর এরূপ অলৌকিক মনোহারিত্ব ছিল না। সূর্য্যমুখীর অবয়বও সেরূপ নহে। স্বপ্নদৃষ্টা খর্ব্বাকৃতি, সূর্য্যমুখীর আকার কিঞ্চিৎ দীর্ঘ, বাতান্দোলিতলতার ন্যায় সৌন্দর্যভরে দুলিতেছে।” (ঘ) চারুপাঠের যে কোনো গদ্যপ্রবন্ধের মর্ম্ম সরল ভাষায় সংক্ষেপে লিখ। ২। মধুসূদন তাঁহার কাব্যের ভাষায় কোনো নূতন প্রথা প্রবর্তন করিতে চেষ্টা করিয়াছেন কিনা? যদি করিয়া থাকেন, তাহার উদ্দেশ্য কি এবং সে প্রথা পরবর্ত্তী কাব্যে প্রচলিত হইয়াছে কিনা? ৩। মেঘনাদবধ ও বৃত্রসংহারের ছন্দ, ভাষা, ও কাব্যরীতির তুলনা করিয়া আলোচনা কর। (গ্রন্থ দেখিয়া লিখিতে হইবে।) অথবা– মেঘনাদবধ বা বৃত্রসংহারের যে অংশ তোমার বিশেষ ভাল লাগিয়াছে, সেই অংশের সৌন্দর্য্য বিচার কর। (গ্রন্থ দেখিয়া লিখিতে হইবে।) অথবা -অক্ষয়কুমারের সহিত বিদ্যাসাগরের রচনাসম্বন্ধে কি পার্থক্য তাহা আলোচনা কর। ৪। নিম্নলিখিত বিষয়টিকে বাংলায় ব্যাখ্যা করিয়া লিখ—

There is a time in every man's education when he arrives at the conviction that imitation is suicide; that though the wide universe is full of good, no kernel of nourishing corn can come to him but through his toil bestowed on that plot of ground which is given to him to till.

৫। অনুবাদ কর। বাংলা ভাষায় রীতিরক্ষার জন্য যেটুকু পরিবর্তন আবশ্যক তৎপ্রতি দৃষ্টি রাখিতে হইবে। –

a) The characteristic of heroism is its persistency. All men have wandering impulses, fits, and starts of generosity. But when you have chosen your part, abide by it, and do not weakly try to reconcile yourself with the world. The heroic cannot be the common, nor the common heroic. Yet we have the weakness to expect the sympathy of people in those actions whose excellence is that they outrun sympathy, and appeal to a tardy justice. If you would serve your brother, because it is fit for you to serve him, do not take back your words when you find that prudent people do not commend you. Adhere to your own act, and congratulate yourself if you have done something strange and extravagant and broken the monotony of a decorous age.

অথবা –

(b) We are lovers of the beautiful, yet simple in our tastes, and we cultivate the mind without loss of manliness. Wealth we employ, not for talk and ostentation, but when there is a
real use for it. To avow proverty with us is no disgrace : the true disgrace is in doing nothing to avoid it. An Athenian citizen does not neglect the state because he takes care of his own house-hold; and even those of us who are engaged in business have a very fair idea of politics. We alone regard a man who takes no interest in public affairs, not as a harmless, but as a useless character. The great impediment to action is, in our opinion, not discussion, but the want of that knowledge which is gained by discussion preparatory to action. For we have a peculiar power of thinking before we act and of acting too, whereas other men are courageous from ignorance but hesitate upon reflection.
৬। সাধারণতঃ এ দেশে যেরূপ নিয়মে ছাত্রগণকে পরীক্ষা দিতে হয়, তাহার কোনো পরিবর্ত্তন প্রার্থনীয় কি না, ছাত্রগণ কি পরিমাণ জ্ঞানলাভ করিয়াছে এরূপ উপায়ে তাহার যথার্থ পরীক্ষা হয় কি না, তৎসম্বন্ধে আলোচনা কর।

অথবা –

মফঃস্বলের ছাত্রগণকে কলিকাতায় মেসে থাকিতে হইলে সুবিধা-অসুবিধা বিঘ্ন-বিপদ কি ঘটে তাহার বিচার কর। অথবা –

মোল্লাদের চেষ্টায় সম্প্রতি পারস্যদেশে রাষ্ট্রকার্য্য চালনার জন্য প্রজাদের প্রতিনিধি-সভা স্থাপিত হইয়াছে, তৎসম্বন্ধে নিম্নলিখিত আলোচনা পাঠ করিয়া আমাদের দেশের অবস্থার সহিত তুলনা কর–

The question is whether the whole nation can now transform itself with something of Japan's spirit. The persians are an intellectual people, full of charm and brilliant qualities, but imitation brings them unusual dangers. Instead of their own beautiful carpets, they turn out rugs representing motors or lions in aniline dyes. Instead of their own beautiful music, they listen to comic operas on musical boxes and gramophones. Will their last experiment in borrowing from Europe be as uncritical? There is reason to hope, not. The very influence of the priests in the movement seems to show that it is determined stand for nationality against the predominance of outside interference. We cannot doubt that it is part of that strange movement throughout the east which is borrowing European methods to oppose European exploitation.

৭। নিম্নলিখিত কোনো একটি বিষয় আলোচনা করিয়া বন্ধুকে পত্র লিখ– (ক) যে পল্লীতে বাস কর তাহার উন্নতির জন্য ছুটীর সময় তুমি কি করিতে ইচ্ছা কর। (খ) শিক্ষার কাল অতীত হইলে নিজের স্বভাব ও সাধ্য-অনুসারে দেশের হিতসাধনের জন্য তুমি কি কাজে কিরূপে প্রবৃত্ত হইতে চাও।

আদর্শ প্রশ্ন