কত দিবা কত বিভাবরী
কত নদী নদে লক্ষ স্রোতের
          মাঝখানে এক পথ ধরি ,
          কত ঘাটে ঘাটে লাগায়ে ,
          কত সারিগান জাগায়ে ,
কত অঘ্রানে নব নব ধানে
          কতবার কত বোঝা ভরি
          কর্ণধার হে কর্ণধার ,
          বেচে কিনে কত স্বর্ণভার
কোন্‌ গ্রামে আজ সাধিতে কী কাজ
   বাঁধিয়া ধরিলে তব তরী ।
  
          হেথা বিকিকিনি কার হাটে ।
কেন এত ত্বরা লইয়া পসরা ,
          ছুটে চলে এরা কোন্‌ বাটে ।
          শুন গো থাকিয়া থাকিয়া
          বোঝা লয়ে যায় হাঁকিয়া ,
সে করুণ স্বরে মন কী যে করে —
          কী ভেবে আমার দিন কাটে ।
          কর্ণধার হে কর্ণধার ,
          বেচে কিনে লও স্বর্ণভার —
হেথা কারা রয় লহো পরিচয় ,
          কারা আসে যায় এই ঘাটে ।
  
          যেথা হতে যাই , যাই কেঁদে ।
এমনটি আর পাব কি আবার
          সরে না যে মন সেই খেদে ।
          সে - সব কাঁদন ভুলালে ,
          কী দোলায় প্রাণ দুলালে ।
হোথা যারা তীরে আনমনে ফিরে
          আমি তাহাদের মরি সেধে ।
          কর্ণধার হে কর্ণধার ,
          বেচে কিনে লও স্বর্ণভার ।
এই হাটে নামি দেখে লব আমি —
          এক বেলা তরী রাখো বেঁধে ।
  
          গান ধর তুমি কোন্‌ সুরে ।
মনে পড়ে যায় দূর হতে এনু ,
          যেতে হবে পুন কোন্‌ দূরে ।
          শুনে মনে পড়ে , দুজনে
          খেলেছি সজনে বিজনে ,
সে যে কত দেশ নাহি তার শেষ —
          সে যে কতকাল এনু ঘুরে ।
          কর্ণধার হে কর্ণধার ,
          বেচে কিনে লও স্বর্ণভার ।
বাজিয়াছে শাঁখ , পড়িয়াছে ডাক
          সে কোন্‌ অচেনা রাজপুরে ।