প্রধান মেনু খুলুন

為*○ করুণা ভূমিকা গ্রামের মধ্যে অনপেকুমারের ন্যায় ধনবান আর কেহই ছিল না। অতিথিশালানিমাণ, দেবালয়প্রতিষ্ঠা, পাকরিণীখনন প্রভৃতি নানা সৎকমে তিনি ধনব্যয় করিতেন। তাহার সিন্ধক-পাণ টাকা ছিল, দেশবিখ্যাত যশ ছিল ও রুপবতী কন্যা ছিল। সমস্ত যৌবনকাল ধন উপাজন করিয়া অনুপ বদ্ধ বয়সে বিশ্রাম করিতেছিলেন। এখন কেবল তাঁহার একমাত্র ভাবনা ছিল যে, কন্যার বিবাহ দিবেন কোথায়। সৎপাত্র পান নাই ও বন্ধ বয়সের একমাত্র আশ্রয়স্থল কন্যাকে পরগহে পাঠাইতে ইচ্ছা নাই— তত্তজন্যও আজ কাল করিয়া আর তাঁহার দহিতার বিবাহ হইতেছে না। সঙ্গিনী-অভাবে কর্ণার কিছলমাত্র কষ্ট হইত না। সে এমন কাল্পনিক ছিল, কল্পনার স্বপেন সে সমস্ত দিন-রাত্রি এমন সুখে কাটাইয়া দিত যে, মহেতেমারও তাহাকে কষ্ট অনুভব করিতে হয় নাই। তাহার একটি পাখি ছিল, সেই পাখিটি হাতে করিয়া অন্তঃপরের পকেরিণীর পাড়ে কল্পনার রাজ্য নিমাণ করিত। কাঠবিড়ালির পশ্চাতে পশ্চাতে ছাটাছুটি করিয়া, জলে ফল ভাসাইয়া, মাটির শিব গড়িয়া, সকাল হইতে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাটাইয়া দিত। এক-একটি গাছকে আপনার সঙ্গিনী ভগ্নী কন্যা বা পত্র কল্পনা করিয়া তাহাদের সত্য-সতাই সেইরাপ যত্ন করিত, তাহাদিগকে খাবার আনিয়া দিত মালা পরাইয়া দিত, নানা প্রকার আদর করিত এবং তাদের পাতা শকাইলে, ফলে ঝরিয়া পড়িলে, অতিশয় ব্যথিত হইত। সন্ধ্যাবেলা পিতার নিকট যা-কিছ গলপ শনিত, বাগানে পাখিটিকে তাহাই শনানো হইত। এইরপে কর্ণা তাহার জীবনের প্রত্যুষকাল অতিশয় সনখে আরম্ভ করিয়াছিল। তাহার পিতা ও প্রতিবাসীরা মনে করিতেন যে, চিরকালই বুঝি ইহার এইরপে কাটিয়া যাইবে । কিছ দিন পরে কর্ণার একটি সঙ্গী মিলিল। অনপের অনাগত কোনো একটি বন্ধ ব্ৰাহ্মণ মরিবার সময় তাঁহার অনাথ পত্র নরেন্দ্রকে অনপেকুমারের হতে সপিয়া যান। নরেন্দ্র অনপের বাটীতে থাকিয়া বিদ্যাভ্যাস করিত, পত্রহীন অনুপ নরেন্দ্রকে অতিশয় স্নেহ করিতেন। নরেন্দ্রের মুখশ্ৰী বড়ো প্রীতিজনক ছিল না কিন্তু সে কাহারও সহিত মিশিত না, খেলিত না ও কথা কহিত না বলিয়া, ভালোমানষে বলিয়া তাহার বড়োই সংখ্যাতি হইয়াছিল। পল্লীময় রাষ্ট্র হইয়াছিল যে, নরেন্দ্রের মতো শান্ত শিষ্ট সবোধ বালক আর নাই এবং পাড়ায় এমন বন্ধ ছিল না যে তাহার বাড়ির ছেলেদের প্রত্যেক কাজেই নরেন্দ্রের উদাহরণ উত্থাপন না করিত। কিন্তু আমি তখনই বলিয়াছিলাম ষে, নরেন্দ্র, তুমি বড়ো ভালো ছেলে নও। কে জানে নরেন্দ্রের মুখশ্ৰী আমার কোনোমতে ভালো লাগিত না। আসল কথা এই অমন বাল্যবদ্ধ গভীর সবোধ শান্ত বালক আমার ভালো লাগে না। অনপেকুমারের পথাপিত পাঠশালায় রঘুনাথ সাবভৌম নামে এক গরমহাশয় ছিলেন। তিনি নরেন্দ্রকে অপরিমিত ভালোবাসিতেন, নরেন্দ্রকে প্রায় আপনার বাড়িতে লইয়া যাইতেন এবং অনপের নিকট তাহার যথেষ্ট প্রশংসা করিতেন। ১২8 গল্পগুচ্ছ এই নরেন্দ্রই কর্ণার সঙ্গী। কর্ণা নরেন্দ্রের সহিত সেই পকেরিণীর পাড়ে গিয়া কাদার ঘর নিমাণ করিত, ফলের মালা গাঁথিত এবং পিতার কাছে যে-সকল গল্প শুনিয়াছিল তাহাই নরেন্দ্রকে শনাইত, কালপনিক বালিকার যত কল্পনা সব নরেন্দ্রের উপর ন্যস্ত হইল। কর্ণা নরেন্দ্রকে এত ভালোবাসিত যে কিছুক্ষণ তাহাকে না দেখিতে পাইলে ভালো থাকিত না, নরেন্দ্র পাঠশালে গেলে সে সেই পাখিটি হাতে করিয়া গহ্বারে দাঁড়াইয়া অপেক্ষা করিত, দর হইতে নরেন্দ্রকে দেখিলে তাড়াতাড়ি তাহার হাত ধরিয়া সেই পাকরিণীর পাড়ে সেই নারিকেল গাছের তলায় আসিত, ও তাহার কল্পনারচিত কত কী অস্তুত কথা শনাইত। নরেন্দ্র রুমে কিছু বড়ো হইলে কলিকাতায় ইংরাজি বিদ্যালয়ে প্রেরিত হইল। কলিকাতার বাতাস লাগিয়া পল্লীগ্রামের বালকের কতকগুলি উৎকট রোগ জন্মিল। শনিয়াছি স্কুলের বেতন ও পুস্তকাদি ক্লয় করিবার ব্যয় যাহাকিছ পাইত তাহাতে নরেন্দ্রের তামাকের খরচটা বেশ চলিত। প্রতি শনিবারে দেশে যাইবার নিয়ম আছে। কিন্তু নরেন্দ্র তাহার সঙ্গীদের মখে শুনিল যে, শনিবারে যদি কলিকাতা ছাড়িয়া যাওয়া হয় তবে গলায় দড়ি দিয়া মরাটাই বা কী মন্দ ! বালক বাটীতে গিয়া অনপেকে বাঝাইয়া দিল যে, সপ্তাহের মধ্যে দই দিন বাড়িতে থাকিলে সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইতে পারিবে না। অনুপ নরেন্দ্রের বিদ্যাভাসে অনুরাগ দেখিয়া মনে-মনে ঠিক দিয়া রাখিলেন যে, বড়ো হইলে সে ডিপটি মাজিস্টর হইবে। তখন দই-এক মাস অন্তর নরেন্দ্র বাড়িতে আসিত। কিন্তু এ আর সে নরেন্দ্র নহে। পানের পিকে ওঠাধর পলাবিত করিয়া, মাথায় চাদর বাধিয়া, দই পাশেবা দই সঙ্গীর গলা জড়াইয়া ধরিয়া, কনস্টেবলদের ভীতিজনক যে নরেন্দ্র প্রদোষে কলিকাতার গলিতে গলিতে মারামারি খ:জিয়া বেড়াইত, গাড়িতে ভদ্রলোক দেখিলে কদলীর অনুকরণে বদ্ধ অঙ্গষ্ঠে প্রদর্শন করিত, নিরীহ পান্থ বেচারিদিগের দেহে ধালি নিক্ষেপ করিয়া নিদোষীর মতো আকাশের দিকে তাকাইয়া থাকিত, এ সে নরেন্দ্র নহে— অতি নিরীহ, আসিয়াই অনপকে ঢীপ করিয়া প্রণাম করে। কোনো কথা জিজ্ঞাসা করিলে মদ বরে, নতমখে, অতি দীনভাবে উত্তর দেয় এবং যে পথে অনপে সবাদা যাতায়াত করেন সেইখানে একটি ওয়েবস্টার ডিকসনারী বা তৎসদশ অন্য কোনো দীঘকায় পুস্তক খালিয়া বসিয়া থাকে। নরেন্দ্র বহুদিনের পর বাড়ি আসিলে কর্ণা আনন্দে উৎফুল্ল হইয়া উঠিত। নরেন্দ্রকে ডাকিয়া লইয়া কত কী গল্প শনাইত। বালিকা গল্প শনাইতে যত উৎসক শনিতে তত নহে। কাহারও কাছে কোনো নতন কথা শুনিলেই যতক্ষণ না নরেন্দ্রকে শনাইতে পাইত, ততক্ষণ উহা তাহার নিকট বোঝা-স্বরপ হইয়া থাকিত। কিন্তু কর্ণার এইরুপ ছেলেমানমষিতে নরেন্দ্রের বড়োই হাসি পাইত, কখনো কখনো সে বিরক্ত হইয়া পলাইবার উদ্যোগ করিত। নরেন্দ্র সঙ্গীদের নিকটে কর্ণার কথাপ্রসঙ্গে নানাবিধ উপহাস করিত। 喝 নরেন্দ্র বাড়ি আসিলে পণ্ডিতমহাশয় সবাপেক্ষা অধিক ব্যগ্র হইয়া পড়েন। এমনকি, সেদিন সন্ধ্যার সময়েও গহ হইতে নিগত হইয়া বাঁশঝাড়ময় পল্লীপথ দিয়া রাম-নাম জপিতে জপিতে নরেন্দ্রের সহিত সাক্ষাৎ করিতে যাইতেন, নরেন্দ্রকে বাড়িতে নিমন্ত্রণ করিয়া লইয়া নানাবিধ কুশলসংবাদ লইতেন। এই পণ্ডিতের কথা শুনিয়া করশ্যে ৯২৫ দই-একজন সঙ্গী নরেন্দ্রকে তাঁহার টিকি কাটিতে পরামর্শ দিয়াছিল, এ বিষয় লইয়া গম্ভীর ভাবে অনেক পরামর্শ ও অনেক ষড়যন্ত্র চলিয়াছিল, কিন্তু দেশে নরেন্দের তেমন দোদণ্ড প্রতাপ ছিল না বলিয়া পণ্ডিতমহাশয়ের টিকিট নিবিঘের ছিল । এই রাপে দেশে আদর ও বিদেশে আমোদ পাইয়া নরেন্দ্র বাড়িতে লাগিল । নরেন্দুের বাল্যকাল অতীত হইল । অন্যপ এখন অতিশয় বদ্ধ, চক্ষে দেখিতে পান না, শয্যা হইতে উঠিতে পারেন না, এক মহেতেও কর্ণাকে কাছ-ছাড়া করিতেন না। অনপের জীবনের দিন ফরাইয়া আসিয়াছে; তিনি নরেন্দুকে কলিকাতা হইতে ডাকাইয়া আনিয়াছেন, অন্তিম কালে নরেন্দ্র ও পন্ডিতমহাশয়কে ডাকাইয়া তাঁহাদের হস্তে কন্যাকে সমপণ করিয়া গেলেন। অনপের মৃত্যুর পর সাবভৌম মহাশয় নিজে পৌরোহিত্য করিয়া নরেন্দ্রের সহিত কর্ণার বিবাহ দিলেন। প্রথম পরিচ্ছেদ আমি যাহা মনে করিয়াছিলাম তাহাই হইয়াছে। নরেন্দ্র যে কিরপে লোক তাহা এত দিনে পাড়ার লোকেরা টের পাইল, আর হতভাগিনী কর্ণাকে যে কষ্ট পাইতে হইবে তাহা এত দিনে তাহারা বুঝিতে পারিল। কিন্তু পণ্ডিতমহাশয় দায়ের কোনোটাই বুঝিলেন না। কর্ণা আজকাল কিছ মনের কন্টে আছে। মনের উল্লাসে বিজন কাননে সে খেলা করিবে, বক্ষে করিয়া লইয়া পাখির সঙ্গে কত কী কথা কহিবে, কোলের উপর রাশি রাশি ফল রাখিয়া পা-দটি ছড়াইয়া আপন মনে গন গন করিয়া গান গাইতে গাইতে মালা গাঁথিবে, যাহাকে ভালোবাসে তাহার মুখের পানে চাহিয়া চাহিয়া অসফট আহাদে বিহবল ও অসফট ভাবে ভোর হইয়া যাইবে—সেই বালিকা বড়ো কষ্ট পাইয়াছে। তাহার মনের মতো কিছুই হয় না। অভাগিনী যে নরেন্দ্রকে এত ভালোবাসে— যাহাকে দেখিলে খেলা ভুলিয়া যায়, মালা ফেলিয়া দেয়, পাখি রাখিয়া দিয়া ছটিয়া আসে, সে কেন কর্ণাকে দেখিলে যেন বিরক্ত হয়। কর্ণা হাসিতে হাসিতে ছটিয়া গিয়া তাহাকে কী বলিতে আসে, সে কেন ক্রকুচিত করিয়া মাখ ভার করিয়া থাকে। কর্ণা তাহাকে কাছে বসিতে কত মিনতি করে, সে কেন কোনো ছল করিয়া চলিয়া যায়। নরেন্দ্র তাহার সহিত এমন নিজীবিভাবে এমন নীরসভাবে কথাবাতা কষ, সকল কথায় এমন বিরক্তভাবে উত্তর দেয়, সকল কাজে এমন প্রভূভাবে আদেশ করে যে, বালিকার খেলা ঘুরিয়া যায় ও মালা গাঁথা সাঙ্গ হয় ববি – বালিকার আর বুঝি পাখির সহিত গান গাওয়া হইয়া উঠে না! মলে কথাটা এই, নরেন্দ্র ও কর্ণায় কখনোই বনিতে পারে না। দইজনে দই বিভিন্ন উপাদানে নিমিত। নরেন্দ্র কর্ণার সেই ভালোবাসার কত কী অসংলগ্ন কথার মধ্যে কিছুই মিষ্টতা পাইত না, তাহার সেই প্রেমে-মাখানো অতৃপ্ত স্থির দটিমধ্যে ঢলঢল লাবণ্য দেখিতে পাইত না, তাহার সেই উচ্ছসিত নিঝরিণীর ন্যায অধীর সৌন্দয্যের মিন্টতা নরেন্দ্র কিছুই বুঝিত না। কিন্তু সরলা কর্ণা, সে অত কী বুঝিবে! সে ছেলেবেলা হইতেই নরেন্সের গণ ছাড়া দোষের কথা কিছুই শনে s ミや গল্পগুচ্ছ নাই। কিন্তু কর্ণার একি দায় হইল। তাহার কেমন কিছুতেই আশ মিটে না, সে আশ মিটাইয়া নরেন্দুকে দেখিতে পায় না, সে আশ মিটাইয়া মনের সকল কথা নরেন্দ্রকে বলিতে পারে না— সে সকল কথাই বলে অথচ মনে করে যেন কোনো কথাই বলা হইল না। একদিন নরেন্দ্রকে বেশ পরিবতন করিতে দেখিয়া কর্ণা জিজ্ঞাসা করিল, “কোথায় যাইতেছ।" নরেন্দ্র কহিলেন, "কলিকাতায়।” কর্ণা। কলিকাতায় কেন যাইবে। নরেন্দ্র ভ্ৰকুঞ্চিত করিয়া দেয়ালের দিকে মুখ ফিরাইয়া কহিল, "কাজ না থাকিলে কখনো যাইতাম না।” একটা বিড়ালশাবক ছটিয়া গেল। কর্ণা তাহাকে ধরিতে গেল, অনেকক্ষণ ছটাছটি করিয়া ধরিতে পারিল না। অবশেষে ঘরে ছটিয়া আসিয়া নরেন্দ্রের কাঁধে হাত রাখিয়া কহিল, "আজ যদি তোমাকে কলিকাতায় যাইতে না দিই?” নরেন্দ্র কাঁধ হইতে হাত ফেলিয়া দিয়া কহিল, "সরো, দেখো দেখি, আর একট হলেই ডিক্যানটারটি ভাঙিয়া ফেলিতে আর-কি।” কর্ণা। দেখো, তুমি কলিকাতায় যাইয়ো না। পণ্ডিতমহাশয় তোমাকে যাইতে দিতে নিষেধ করেন। নরেন্দ্র কিছুই উত্তর না দিয়া শিস দিতে দিতে চুল অাঁচড়াইতে লাগিলেন। কর্ণা ছটিয়া ঘর হইতে বাহির হইয়া গেল ও এক শিশি এসেন্স আনিয়া নরেন্দ্রের চাদরে খানিকটা ঢালিয়া দিল । নরেন্দ্র কলিকাতায় চলিয়া গেলেন। কর্ণা দই একবার বারণ করিল, কিছু হাঁ হ: না দিয়া লক্ষেী ঠুংরি গাইতে গাইতে নরেন্দ্র প্রস্থান করিলেন। যতক্ষণ নরেন্দ্রকে দেখা যায় কর্ণা চাহিয়া রহিল। নরেন্দ্র চলিয়া গেলে পর সে বালিশে মুখ লুকাইয়া কাঁদিল। কিয়ৎক্ষণ কাঁদিয়া মনের বেগ শান্ত হইতেই চোখের জল মলছিয়া ফেলিয়া পাখিটি হাতে করিয়া লইয়া অন্তঃপুরের বাগানে মালা গাঁথিতে বসিল । বালিকা স্বভাবতঃ এমন প্রফুল্লহাদয় যে, বিষাদ অধিকক্ষণ তাহার মনে তিঠিতে পারে না। হাসির লাবণ্যে তাহার বিশাল নের দটি এমন মগ্ন যে রোদনের সময়ও অশ্রর রেখা ভেদ করিয়া হাসির কিরণ জনলিতে থাকে। যাহা হউক, কর্ণার চপল ব্যবহারে পাড়ার মেয়েমহলে বেহায়া বলিয়া তাহার বড়োই অখ্যাতি জলিময়াছিল— বড়োধাড়ি মেয়ের অতটা বাড়াবাড়ি তাহাদের ভালো লাগিত না। এ-সকল নিন্দার কথা কর্ণা বাড়ির পরাতন দাসী ভবির কাছে সব শানিতে পাইত। কিন্তু তাহাতে তাহার আইল গেল কী ? সে তেমনি ছাটাছটি করিত, সে ভবির গলা ধরিয়া তেমনি করিয়াই হাসিত, সে পাখির কাছে মুখ নাড়িয়া তেমনি করিয়াই গল্প করিত। কিন্তু এই প্রফুল্ল হাদয় একবার যদি বিষাদের আঘাতে ভাঙিয়া যায়, এই হাস্যময় অজ্ঞান শিশর মতো চিন্তাশনো সরল মুখশ্রী একবার যদি দুঃখের অন্ধকারে মলিন হইয়া যায়, তবে বোধ হয় বালিকা আহত লতাটির ন্যায় জন্মের মতো মিরমাণ ও অবসন্ন হইয়া পড়ে, বর্ষার সলিলসেকে—বসন্তের বায়বেীজনে আর বোধ হয় সে মাথা করণো SRa তুলিতে পারে না। নরেন্দ্র অনপের যে অর্থ পাইয়াছিলেন, তাহাতে পল্লিগ্রামে বেশ সুখে স্বচ্ছদে থাকিতে পারিতেন। অনপের জীবদ্দশায় খেতের ধান, পর্কুেরের মাছ ও বাগানের শাকসবজি ফলমলে দৈনিক আহারব্যয় যৎসামান্য ছিল। ঘটা করিয়া দাগোৎসব সম্পন্ন হইত, নিয়মিত পজা-অৰ্চনা দানধ্যান ও আতিথ্যের ব্যয় ভিন্ন আর কোনো ব্যরই ছিল না। অনপের মৃত্যুর পর অতিথিশালাটি বাবচিখানা হইয়া দাঁড়াইল। ব্রাহ্মণগলার জবালায় গোটা চারেক দরোয়ান রাখিতে হইল, তাহারা প্রত্যেক ভট্টাচাবকে রীতিমত অধচন্দ্রের ব্যবস্থা করিত এবং প্রত্যেক ভট্টাচাৰ্য বিধিমতে নরেন্দ্রকে উচ্ছিন্ন যাইবার ব্যবস্থা করিয়া যাইত। নরেন্দ্র গ্রামে নিজ ব্যয়ে একটি ডিসপেনসরি স্থাপন করিলেন। শনিয়াছি নহিলে সেখানে ব্রান্ডি কিনিবার অন্য কোনো সুবিধা ছিল না। গবনমেন্টের সস্তা দোকান হইতে রায়বাহাদরের খেলানা কিনিবার জন্য ঘোড়দৌড়ের চাঁদা-পুস্তকে হাজার টাকা সই করিয়াছিলেন এবং এমন আরও অনেক সৎকাষ" করিয়াছিলেন যাহা লইয়া অমতবাজারের একজন পরপ্রেরক ভারি ধমধাম করিয়া এক পত্র লেখে। তাহার প্রতিবাদ ও তাহার পুনঃপ্রতিবাদের সময় অমলেক অপবাদ দেওয়া যে ভদ্রলোকের অকতব্য ইহা লইয়া অনেক তক বিতক হয় । নরেন্দ্রকে পল্লীর লোকেরা জাতিচু্যত করিল, কিন্তু নরেন্দ্র সে দিকে কটাক্ষপাতও করিলেন না। নরেন্দ্রের একজন সমাজসংস্কারক বন্ধ তাঁহার মিরাল করেজ’ লইয়া সভায় তুমলে আন্দোলন করিলেন। নরেন্দ্র বাগবাজারে এক বাড়ি ভাড়া করিয়াছেন ও কাশীপুরে এক বাগান কয় করিয়াছেন। একদিন বাগবাজারের বাড়িতে সকালে বসিয়া নরেন্দ্র চা খাইতেছেন। নরেন্দ্রের সকাল ও আমাদের সকালে অনেক তফাত, সেদিন শনিবারে কুঠি যাইবার সময় দেখিয়া আসিলাম, নরেন্দ্রের নাক ডাকিতেছে। দুইটার সময় ফিরিয়া আসিবার কালে দেখি চোখ রগড়াইতেছেন, তখনও আন্তরিক ইচ্ছা আর-এক ঘন্ম দেন । যাহাই হউক নরেন্দ্র চা খাইতেছেন এমন সময়ে সমাজসংস্কারক গদাধরবাব, কবিতাকুসমেমঞ্জরী-প্রণেতা কবিবর স্বরপেচন্দ্রবাব, আসিয়া উপস্থিত হইলেন। প্রথম অভ্যর্থনা সমাপ্ত হইলে সকলে চেয়ারে উপবিষ্ট হইলেন। নানাবিধ কথোপকথনের পর গদাধরবাব কহিলেন, "দেখনে মশায়, আমাদের দেশের স্ত্রীলোকদের দশা বড়ো শোচনীয়।” এই সময়ে নরেন্দ্র শোচনীয় শব্দের অর্থ জিজ্ঞাসা করিলেন, স্বরপেচন্দ্রবাব কহিলেন— deplorable' । নরেন্দ্রের পক্ষে উভয় কথাই সমান ছিল, কিন্তু নরেন্দ্র এই প্রতিশব্দটি শনিয়া শোচনীয় শব্দের অর্থটা যেন জল বঝিয়া গেলেন। গদাধরবাব কহিলেন, "এখন আমাদিগের উচিত তাহাদের অন্তঃপরের প্রাচীর ভাঙিয়া দেওয়া ।” অমনি নরেন্দ্র গম্ভীর ভাবে কহিলেন, “কিন্তু এটা কতদরে হতে পারে তাই দেখা যাক। তেমন সুবিধা পাইলে অন্তঃপুরের প্রাচীর অনেক সময় ভাঙিয়া ফেলিতে ইচ্ছা করে বটে, কিন্তু পলিসের লোকেরা তাহাতে বড়োই আপত্তি করিবে। ভাঙিয়া ফেলা দরে থাক একবার আমি অতঃপরের প্রাচীর লঙ্ঘন করিতে গিয়াছিলাম, ম্যাজিলেট তাতে আমার উপর বড়ো সন্তুষ্ট হয় নাই।” 也0 ১২৮ গল্পগুচ্ছ অনেক তকের পর গদাধর ও বরপে মিলিয়া নরেন্দ্রকে বঝাইয়া দিল যে, সত্যসত্যই অন্তঃপরের প্রাচীর ভাঙিয়া ফেলিবার প্রস্তাব হইতেছে না—তাহার তাৎপর্য এই যে, স্মীলোকদের অতঃপর হইতে মন্ত করিয়া দেওয়া। গদাধরবাব কহিলেন, “কত বিধবা একাদশীর যন্ত্রণায় রোদন করিতেছে, কত কুলীনপত্নী স্বামী জীবিত-সত্ত্বেও বৈধব্যজালা সহ্য করিতেছে।" * শবরপবাক কহিলেন, “এ বিষয়ে আমার অনেক কবিতা আছে, কাগজওয়ালারা তার বড়ো ভালো সমালোচনা করেছে। দেখো নরেন্দ্রবাব, শরৎকালের জ্যোৎসনারাত্রে কখনও ছাতে শায়েছ ? চাঁদ যখন ঢলঢল হাসি ঢালতে ঢালতে আকাশে ভেসে যায় তখন তাকে দেখেছ ? আবার সেই হাস্যময় চাঁদকে যখন ঘোর অন্ধকারে মেঘে আচ্ছন্ন করে ফেলে তখন মনের মধ্যে কেমন একটা কষ্ট উপস্থিত হয়, তা কি কখনো সহ্য করেছ। তা যদি করে থাকো তবে বলো দেখি সীলাকের কন্ট দেখলে সেইরাপ कषग्ने श्श कि ना ।” নরেন্দ্রের সম্মখে এতগুলি প্রশন একে একে খাড়া হইল, নরেন্দ্র ভাবিয়া আকুল। অনেক ক্ষণের পর কহিলেন, “আমার এ বিষয়ে কিছুমার সন্দেহ নাই।" গদাধরবাব কহিলেন, “এখন কথা হচ্ছে যে, সীলোকদের কষ্টমোচনে আমরা যদি দন্টান্ত না দেখাই তবে কে দেখাইবে। এসো, আজ থেকেই এ বিষয়ের চেষ্টা করা যাক।” নরেন্দ্রের তাহাতে কোনো আপত্তি ছিল না। তিনি মনে-মনে কেবল ভাবিতে লাগিলেন এখন কাহার অন্তঃপরের প্রাচীর ভাঙিতে হইবে। গদাধরবাব কহিলেন, “স্মরণ থাকতে পারে মোহিনী নামে এক বিধবার কথা সেদিন বলেছিলাম, আমাদের প্রথম পরীক্ষা তাহার উপর দিয়াই চলক। এ বিষয়ে যা-কিছয় বাধা আছে তা আলোচনা করে দেখা যাক। যেমন এক-একটা পোষা পাখি শঙ্খলমুক্ত হলেও স্বাধীনতা পেতে চায় না, তেমনি সেই বিধবাটিও স্বাধীনতার সহস্র উপায় থাকিতেও অন্তঃপরের কারাগার হইতে মন্ত হইতে চায় না। সতরাং আমাদের প্রথম কতব্য তাহাকে স্বাধীনতার সমিষ্ট আসবাদ জানাইয়া দেওয়া।" নরেন্দ্র কহিলেন সকল দিক ভাবিয়া দেখিলে এ বিষয়ে কাহারও কোনো প্রকার আপত্তি থাকিতে পারে না। সে বিধবার ভরণপোষণ বাসস্থান ইত্যাদি সমুদয় বন্দোবস্তের ভার নরেন্দ্র নিজস্কন্ধে লইতে স্বীকৃত হইলেন। ক্ৰমে ত্রিভঙ্গচন্দ্র বিশ্বম্ভর ও জন্মেজয়বাব আসিলেন, ক্ৰমে সন্ধ্যাও হইল, প্লেট আসিল, বোতল আসিল। গদাধরবাব সাঁশিক্ষা বিষয়ে অনেক বস্তৃতা দিয়া ও স্বরপবাব জ্যোৎস্নারান্ত্রির বিষয়ে নানাবিধ কবিতাময় উদাহরণ প্রয়োগ করিয়া শইয়া পড়িলেন, ত্রিভঙ্গচন্দ্র ও বিশ্ববঙ্গভরবাব খলিত বরে গান জড়িয়া দিলেন, নরেন্দ্র ও জন্মেজয় কাহাকে যে গালাগালি দিতে লাগিলেন বঝো গেল না। করণো పిశిషి ष्तिष्ठौङ्ग •ब्रिाहम মহেন্দু মহেন্দু এত দিন বেশ ভালো ছিল। ইস্কুলে ছাত্রবৃত্তি পাইয়াছে, কলেজে এলে, বি. এ. পাস করিয়াছে, মেডিকাল কলেজে তিন চার বৎসর পড়িয়াছে, আর কিছ দিন পড়িলেই পাস হইত—কিন্তু বিবাহ হওয়ার পর হইতেই অমন হইয়া গেল কেন। আমাদের সঙ্গে আর দেখা করিতে আসে না, আমরা গেলে ভালো করিয়া কথা কয় না— এ-সব তো ভালো লক্ষণ নয়। সহসা এরপে পরিবতন যে কেন হইল আমরা ভিতরে ভিতরে তাহার সন্ধান লইয়াছি। মল কথাটা এই কন্যাকতাদিগের নিকট হইতে অথ লইয়া মহেন্দ্রের পিতা যে কন্যার সহিত পত্রের বিবাহ দেন তাহা মহেন্দ্রের বড়ো মনোনীত হয় নাই। মনোনীত না হইবারই কথা বটে। তাহার নাম রজনী ছিল, বৰ্ণও রজনীর ন্যায় অন্ধকার; তাহার গঠনও যে কিছু উৎকৃষ্ট ছিল তাহা নয়; কিন্তু মুখ দেখিলে তাহাকে অতিশয় ভালো মানুষ বলিয়া বোধ হয়। বেচারি কখনও কাহারও কাছে আদর পায় নাই, পিত্রালয়ে অতিশয় উপেক্ষিত হইয়াছিল। বিশেষত তাহার রাপের দোষে বর পাওয়া যাইতেছে না বলিয়া যাহার তাহার কাছে তাহাকে নিগ্রহ সহিতে হইত। কখনও কাহারও সহিত মুখ তুলিয়া কথা কহিতে সাহস করে নাই। একদিন আয়না খলিয়া কপালে টিপ পরিতেছিল বলিয়া কত লোকে কত রকম ঠাট্টা বিদ্রুপ করিয়াছিল; সেই অবধি উপহাসের ভয়ে বেচারি কখনও আয়নাও খালে নাই, কখনও বেশভূষাও করে নাই। স্বামী-আলয়ে আসিল । সেখানে স্বামীর নিকট হইতে এক মহত্যের নিমিত্তও আদর পাইল না, বিবাহরাত্রের পরদিন হইতে মহেন্দ্র তাহার কাছে শইত না। এ দিকে মহেন্দু এমন বিশ্বান, এমন মদস্বেভাব, এমন সদবেন্ধ ছিল, এমন আমোদদায়ক সহচর ছিল, এমন সহদেয় লোক ছিল যে, সেও সকলকে ভালোবাসিত, তাহাকেও সকলে ভালোবাসিত। রজনীর কপাল-দোষে সে মহেন্দ্রও বিগড়াইয়া গেল। মহেন্দু পিতাকে কখনও অভক্তি করে নাই, কিন্তু বিবাহের পরদিনেই পিতাকে যাহা বলিবার নয় তাহাই বলিয়া তিরস্কার করিয়াছে। পিতা ভাবিলেন—তাঁহারই বুঝিবার ভুল, কলেজে পড়িলেই ছেলেরা যে অবাধ্য হইয়া যাইবে ইহা তো কথাই আছে। রজনীর সমুদয় বক্তান্ত শনিয়া আমার অতিশয় কষ্ট হইয়াছিল। আমি মহেন্দুকে গিয়া বঝাইলাম। আমি বলিলাম, রজনীর ইহাতে কী দোষ আছে। তাহার কুরপের জন্য সে কিছু দোষী নহে, দ্বিতীয়তঃ তাহার বিবাহের জন্য তোমার পিতাই দোষী। তবে বিনা অপরাধে বেচারিকে কেন কন্ট দাও।” মহেন্দ্র কিছুই বুঝিল না বা আমাকেও বুঝাইল না, কেবল বলিল তাহার অবস্থায় যদি পড়িতাম তবে আমিও ঐরাপ ব্যবহার করিতাম। এ কথা যে মহেন্দ্র অতি ভুল বঝিয়াছিল তাহা বঝাইবার কোনো প্রয়োজন নাই, কারণ আমার সহিত গল্পের অতি অলপই সম্প্রবন্ধ আছে। *. o: এ সময়ে মহেন্দ্রের কলেজ ছাড়িয়া দেওয়াটা ভালো হয় নাই। পোড়ো জমিতে কাঁটাগাছ জন্মায়, অব্যবহত লোঁহে মরিচা পড়ে, মহেন্দ্র এমন অবস্থায় কাজকর্ম HHo গল্পগুচ্ছ ছাড়িয়া বসিয়া থাকিলে অনেক কুফল ঘটিবার সম্পভাবনা। আমি আপনি মহেঞ্জের কাছে গেলাম, সকল কথা বঝোইয়া বলিলাম, মহেন্দু বিরক্ত হইল, আমি আস্তে আস্তে চলিয়া আসিলাম । একটা কিছর আমোদ নহিলে কি মানুষে বাঁচতে পারে। মহেন্দ্র যেরপ কৃতবিদ্য, লেখাপড়ায় সে তো অনেক আমোদ পাইতে পারে। কিন্তু পরীক্ষা দিয়া দিয়া বইগলার উপর মহেন্দ্রের এমন একটা অরচি জন্মিয়াছে যে, কলেজ হইতে টাটকা বাহির হইয়াই আর-একটা কিছল নতন আমোদ পাইলেই তাহার পক্ষে ভালো হইত। মহেন্দু এখন একট-আধটা করিয়া শেরী খায়। কিন্তু তাহাতে কী হানি হইল। কিন্তু হইল বৈকি। মহেন্দুও তাহা বুঝিত— এক-একবার বড়ো ভয় হইত, এক-একবার অনন্তাপ করিত, এক-একবার প্রতিজ্ঞা করিত, আবার এক-একদিন খাইয়াও ফেলিত এবং খাইবার পক্ষে নানাবিধ যুক্তিও ঠিক করিত। ক্ৰমে ক্লমে মহেন্দু অধোগতির গহবরে এক-এক সোপান করিয়া নাবিতে লাগিলেন। মদ্যটা মহেন্দ্রের এখন খাব অভ্যন্ত হইয়াছে। আমি কখনও জানিতাম না এমন-সকল সামান্য বিষয় হইতে এমন গরতের ব্যাপার ঘটিতে পারে। আমি বনেও ভাবি নাই যে সেই ভালো মানুষ মহেন্দু, স্কুলে যে ধীরে ধীরে কথা কহিত, মদ মদ হাসিত, অতি সন্তপণে চলাফিরা করিত, সে আজ মাতাল হইয়া অমন যা-তা বকিতে থাকিবে, সে অমন বদ্ধ পিতার মাখের উপর উত্তর-প্রত্যুত্তর করিবে। সবাপেক্ষা অসম্ভব মনে করিতাম যে, ছেলেবেলা আমার সঙ্গে মহেন্দ্রের এত ভাব ছিল, সে আজ আমাকে দেখিলেই বিরক্ত হইবে, আমাকে দেখিলেই ভয় করিবে যে বুঝি ঐ আবার লেকচার দিতে আসিয়াছে'। কিন্তু আমি আর তাহাকে কিছর বাবাইতে যাইতাম না। কাজ কী। কথা মানিবে না যখন, কেবল বিরক্ত হইবে মাত্র, তখন তাহাকে বাঝাইয়া আর কী করিব। কিন্তু তাহাও বলি, মহেন্দ্র হাজার মাতাল হউক তাহার অন্য কোনো দোষ ছিল না, আপনার ঘরে বসিয়াই মাতাল হইত, কখনও ঘরের বাহির হইত না। কিন্তু অলপ দিন হইল মহেন্দ্রের চাকর শম্ভু আসিয়া আমাকে কহিল যে, বাব বিকাল হইলে বাহির হইয়া যান আর অনেক রাত্রি হইলে বাড়ি ফিরিয়া আসেন। এই কথা শুনিয়া আমার বড়ো কষ্ট হইল, খোঁজ লইলাম, দেখিলাম দষ্যে কিছ: নয়—মহেন্দু তাহাদের বাগানের ঘাটে বসিয়া থাকে। কিন্তু তাহার কারণ কী। এখনও তো বিশেষ কিছর সন্ধান পাই নাই। সংস্কারক মহাশয় যে বিধবা মোহিনীর কথা বলিতেছিলেন, সে মহেন্দ্রের বাড়ির পাশেই থাকিত। মহেন্দ্রের বাড়িও আসিত, মহেন্দুও রোগ বিপদে সাহায্য করিতে তাহাদের বাড়ি যাইত। মোহিনীকে দেখিতে বেশ ভালো ছিল— কেমন উজৰল চক্ষ, কেমন প্রফুল্ল ওঠাধর, সমস্ত মাথের মধ্যে কেমন একটি মিন্ট ভাব ছিল, তাহা বলিবার নয়। যাহা হউক, মোহিনীকে স্বাধীনতার আলোকে আনিবার জন্য নানাবিধ ষড়যন্ত্র চলিতেছে। মোহিনীকে একাদশী করিতে হয়, মোহিনী মাছ খাইতে পায় না, মোহিনীর প্রতি সমাজের এই-সকল অন্যায় অত্যাচার দেখিয়া গদাধরবাব অত্যন্ত কাতর আছেন। বরপবাব মোহিনীর উদ্দেশে নানা সংবাদ পরে ও মাসিক পত্রিকায় नानाविथ czzधब्र कर्गवङा लिथिग्ना एफर्मजळजन, छाहाब्र म८था श्राभाद्रमब्र दार्जा नभाछाद করুণা כיסא ও দেশাচারকে অনেক গালি দিলেন ও অবশেষে সমস্ত মানবজাতির উপর বিষম ক্ৰোধ প্রকাশ করিলেন। তিনি নিজে বড়ো বিষম হইয়া গেলেন ও সমস্ত দিন রারি অনেক নিশ্বাস ফেলিতে লাগিলেন। নরেন্দ্রের কাশীপ্রস্থ বাগানের পাশেই মোহিনীর বাড়ি। যে ঘাটে মোহিনী জল আনিতে যাইত, নরেন্দ্র সেখানে দিন কতক আনাগোনা করিতে লাগিলেন । এই-সকল দেখিয়া মোহিনী বড়ো ভালো বুঝিল না, সে আর সে ঘাটে জল আনিতে যাইত না। সে তখন হইতে মহেন্দ্রের বাগানের ঘাটে জল তুলিতে ও স্নান করিতে যাইত। তৃতীয় পরিচ্ছেদ মোহিনীর ও মহেন্দের মনের কথা “এমন করিলে পারিয়া উঠা যায় না। মহেন্দের বাড়ি ছাড়িয়া দিলাম— ভাবিলাম দর হোক গে, ও দিকে আর মন দিব না। মহেন্দ্র আমাদের বাড়িতে আসিলে আমি রান্নাঘরে গিয়া লুকাইতাম, কিন্তু আজকাল মহেন্দু আবার ঘাটে গিয়া বসিয়া থাকে, কী দায়েই পড়িলাম, তাহার জন্য জল আনা বন্ধ হইবে নাকি। আচ্ছা, নাহয় ঘাটেই বসিয়া থাকিল, কিন্তু আমন করিয়া তাকাইয়া থাকে কেন। লোকে কী বলিবে। আমার বড়ো লজ্জা করে। মনে করি ঘাটে আর যাইব না, কিন্তু না যাইয়া কী করি। আর কেনই বা না যাইব । সত্য কথা বলিতেছি, মহেন্দুকে দেখিলে আমার নানান ভাবনা আইসে, কিন্তু সে-সব ভাবনা ভুলিতেও ইচ্ছা করে না। বিকাল বেলা একবার যদি মহেন্দুকে দেখিতে পাই তাহাতে হানি কী। হানি হয় হউক গে, আমি তো না দেখিয়া বাঁচিব না। কিন্তু মহেন্দুকে জানিতে দিব না যে তাহাকে ভালোবাসি, তাহা হইলে সে আমার প্রতি যাহা খুশি তাহাই করিবে। আর এ-সকল ভালোবাসাবাসির কথা রাণী হওয়াও কিছ নয়—এই তো গেল মোহিনীর মনের কথা। মহেন্দু ভাবে— ‘আমি তো রোজ ঘাটে বসিয়া থাকি, কিন্তু মোহিনী তো একদিনও আমার দিকে ফিরিয়া চায় না। আমি যে দিকে থাকি, সে দিক দিয়াও যায় না, আমাকে দেখিলে শশব্যস্তে ঘোমটা টানিয়া দেয়, পথে আমাকে দেখিলে প্রান্তভাগে সরিয়া যায়, মোহিনীর বাড়িতে গেলে কোথায় পলাইয়া যায়—এমন করিলে বড়ো কষ্ট হয়। আগে জানিতাম মোহিনী আমাকে ভালোবাসে। ভালো না বাসকে, যত্ন করে। কিন্তু আজকাল অমন করে কেন। এ কথা মোহিনীকে জিজ্ঞাসা করিতে হইবে। জিজ্ঞাসা করিতে কী দোষ আছে। মোহিনীকে তো আমি কত কথা জিজ্ঞাসা করিয়াছি। মোহিনীর বাড়ির সকলে আমাকে এত ভালোবাসে যে, মোহিনীর সহিত কথাবাত কহিলে কেহ তো কিছল মনে করে না।’ ५कमिन विकाट्ल ८भाझिनौ छल छूलिटऊ श्रानिल । भरश्न्छ rयधन घाळ यनिग्ना थाकिठ, उर्भान यनिग्ना श्राटछ् । वाशाटन उवाब्र एकश् त्व्नाक नाई। ८भाश्निौ खज छूजिम्ना uD DS BBD DBBB BBB BBBB BBBB BDDDS BBDDS BDDD BBD শনিতে পাইল না, চলিয়া গেল। মহেন্দ্র ফিরিয়া আর ডাকতে সাহস করিল না। ఫినిషా গল্পগুচ্ছ আর-একদিন মোহিনী বাড়ি ফিরিয়া যাইতেছে, মহেন্দ্র সম্মখে গিয়া দাঁড়াইলেন ; মোহিনী তাড়াতাড়ি ঘোমটা টানিয়া দিল। মহেন্দু ধীরে ধীরে ঘমান্তললাট হইয়া কত কথা কহিল, কত কথা বধিয়া গেল, কোনো কথাই ভালো করিয়া বঝোইয়া বলিতে পারিল না। মোহিনী শশব্যস্তে কহিল, "সরিয়া যান, আমি জল লইয়া যাইতেছি।" সেই দিন মহেন্দু বাড়ি গিয়াই একটা কী সামান্য কথা লইয়া পিতার সহিত ঝগড়া করিল, নির্দোষী রজনীকে অকারণ অনেক ক্ষণ ধরিয়া তিরস্কার করিল, শম্ভু চাকরটাকে দুই-তিন বার মারিতে উদ্যত হইল ও মদের মাত্রা আরো খানিকটা বাড়াইল। কিছ দিনের মধ্যে গদাধরের সহিত মহেন্দ্রের আলাপ হইল, তাহার দিন চারেক পরে বরপবাবরে সহিত সখ্যতা জন্মিল, তাহার সপ্তাহ খানেক পরে নরেন্দ্রের সহিত পরিচয় হইল ও মাসেকের মধ্যে মহেন্দ্র নরেন্দ্রের সভায় সন্ধ্যাগমে নিত্য অতিথিরপে হাজির হইতে লাগিল। চতুথ পরিচ্ছেদ পণ্ডিতমহাশয়ের দ্বিতীয় পক্ষের বিবাহ পবে রঘুনাথ সাবভৌম মহাশয়ের একটি টোল ছিল। অথর্ণভাবে অলপ দিনেই টোলটি উঠিয়া যায়। গ্রামের বধিক জমিদার অনপেকুমার যে পাঠশালা পথাপন করেন, অলপ বেতনে তিনি তাহার গরমহাশয়ের পদে নিযন্ত হন কিন্তু গরেমহাশয়ের পদে আসীন হইয়া তাঁহার শান্তপ্রকৃতির কিছুমাত্র বৈলক্ষণ্য হয় নাই। পন্ডিতমহাশয় বলিতেন, তাঁহার বয়স সবে চল্লিশ বৎসর। এই প্রমাণের উপর নিভার করিয়া শপথ করিয়া বলা যায় তাহার বয়স আটচল্লিশ বৎসরের নান নয়। সাধারণ পণ্ডিতদের সহিত তাঁহার আর কোনো বিষয় মিল ছিল না— তিনি খুব টসটসে রসিক পর্ষ ছিলেন না বা খটখটে ঘট-পট-বাগীশ ছিলেন না, দলাদলির চক্ৰান্ত করিতেন না, শাস্যের বিচার লইয়া বিবাদে লিপ্ত থাকিতেন না, বিদায়আদায়ের কোনো আশাই রাখিতেন না। কেবল মিল ছিল প্রশস্ত উদরটিতে, নস্যের ডিবাটিতে, ক্ষুদ্র টিকিটিতে ও শমশ্রবিহীন মুখে। পাঠশালার বালকেরা প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা তাঁহার বাড়িতেই পড়িয়া থাকিত। এই বালকদের জন্য তাঁহার অনেক সন্দেশ খরচ হইত ; সন্দেশের লোভ পাইয়া বালকেরা ছিনা জোঁকের মতো তাঁহার বাড়ির মাটি কামড়াইয়া পড়িয়া থাকিত। পণ্ডিতমহাশয় বড়োই ভালোমানুষ ছিলেন এবং দষ্ট বালকেরা তাঁহার উপর বড়োই অত্যাচার করিত। পণ্ডিতমহাশয়ের নিদ্রাটি এমন অভ্যস্ত ছিল যে, তিনি শাইলেই ঘমোইতেন, বসিলেই ঢালিতেন ও দাঁড়াইলেই হাই তুলিতেন। এই সংবিধা পাইয়া বালকেরা তাঁহার নস্যের ডিবা, চটিজতা ও চশমার ঠঙিটি চুরি করিয়া লইত। একে তো পণ্ডিতমহাশয় অতিশয় আলগা লোক তাহাতে পাঠশালার দৃষ্ট বালকেরা তাঁহার বাটীতে কিছমাত্র শঙ্খলা রাখিত না। পাঠশালায় যাইবার সময় কোনোমতে তাঁহার চটিজতা খুজিয়া পাইতেন না, অবশেষে শান্যপদেই যাইতেন। একদিন সকালে উঠিয়া দৈবাৎ দেখিতে পাইলেন করণো షిరిలి তাঁহার শয়নগহে বোলতায় চাক করিয়াছে, ভয়ে বিব্রত হইয়া সে ঘরই পরিত্যাগ করিলেন ; সে ঘরে তিন পরিবার বোলতায় তিনটি চাক বধিল, ইন্দরে গত করিল, মাকড়সা প্রাসাদ নির্মাণ করিল এবং লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র পিপীলিকা সার বধিয়া গহময় রাজপথ বসাইয়া দিল। বালীর পক্ষে ঋষ্যমুখ পবত যেরপে, পণ্ডিতমহাশয়ের পক্ষে এই ঘরটি সেইরাপ হইয়া পড়িয়াছিল। পাঠশালায় গমনে অনিচ্ছক কোনো বালক যদি সেই গহে লুকাইত তবে আর পণ্ডিতমহাশয় তাহাকে ধরিতে পারিতেন ना | গাহের এইরুপ আলগা অবস্থা দেখিয়া পণ্ডিতমহাশয় অনেক দিন হইতে একটি গহিণীর চিন্তায় আছেন। পবেকার গহিণীটি বড়ো প্রচণ্ড সীলোক ছিলেন । নিরীহপ্রকৃতি সাবভৌম মহাশয় দিল্লীশ্ববরের ন্যায় তাঁহার আজ্ঞা পালন করিতেন। সী নিকটে থাকিলে অন্য সত্ৰীলোক দেখিয়া চক্ষ মদিয়া থাকিতেন। একবার একটি অস্টমবষীয়া বালিকার দিকে চাহিয়াছিলেন বলিয়া তাহার পত্নী সেই বালিকাটির মত পিতৃপিতামহ প্রপিতামহের নামোল্লেখ করিয়া যথেষ্ট গালি বৰণ করেন ও সাবভৌম মহাশয়ের মুখের নিকট হাত নাড়িয়া উচ্চৈঃস্বরে বলিলেন, “তুমি মরো, তুমি মরো, তুমি মরো' পণ্ডিতমহাশয় মরণকে বড়ো ভয় করিতেন, মরণের কথা শুনিয়া তাঁহার বকে ধড়াস ধড়াস করিতে লাগিল। সন্ত্রীর মৃত্যুর পর দৈনিক গালি না পাইয়া অভ্যাসদোষে দিনকতক বড়ো কষ্ট অনুভব করিতেন। যাহা হউক, অনেক কারণে পণ্ডিতমহাশয় বিবাহের চেষ্টায় আছেন। পণ্ডিতমহাশয়ের একটা কেমন অভ্যাস ছিল যে, তিনি সহস্র মিস্টানের লোভ পাইলেও কাহারও বিবাহসভায় উপস্থিত থাকিতেন না। কাহারও বিবাহের সংবাদ শুনিলে সমস্ত দিন মন খারাপ হইয়া থাকিত। পণ্ডিতমহাশয়ের এক ভট্টাচাৰ্যবন্ধ ছিলেন ; তাঁহার মনে ধারণা ছিল যে তিনি বড়োই রসিক, যে ব্যক্তি তাঁহার কথা শুনিয়া না হাসিত তাহার উপরে তিনি আন্তরিক চটিয়া যাহঁতেন। এই রসিক বন্ধ মাঝে মাঝে আসিয়া ভট্টাচাযীয় ভঙ্গি ও স্বরে সাবভৌম মহাশয়কে কহিতেন, “ওহে ভায়া, শাস্ত্রে আছে— যাবন বিন্দতে জায়াং তাবদদ্ধোভবেৎ পমান। যন্ন বালৈঃ পরিবতং মশানমিব তদগহম । কিন্তু তোমাতে তদবৈপরীতাই লক্ষিত হচ্ছে। কারণ কিনা, যখন তোমার ব্রাহ্মণী বিদ্যমান ছিলেন তখন তুমি ভয়ে আশঙ্কায় অধোক হয়ে গিয়েছিলে, সন্ত্রীবিয়োগের পর আবার দেখতে দেখতে শরীর বিগণ হয়ে উঠল। অপরন্তু শাস্ত্রে যে লিখছে বালকের বারা পরিবত না হইলে গহ মশানসমান হয়, কিন্তু বালককর্তৃক পরিবত হওয়া প্রযন্তেই তোমার গহ শমশানসমান হয়েছে।” এই বলিয়া সমীপপথ সকলকে চোখ টিপিতেন ও সকলে উচ্চৈঃস্বরে হাসিলে পর তিনি সন্তোষের সহিত মহেরেমহেব নস্য লইতেন। i . . . . ও পারের একটি মেয়ের সঙ্গে সাবভৌম মহাশয়ের সম্বন্ধ হইয়াছে। এ কয়দিন পণ্ডিতমহাশয় বড়ো মনের সফতিতে আছেন। পাঠশালার ছাঁট হইয়াছে। আজ మ98 গল্পগুচ্ছ নরেন্দ্রের নিকট হইতে এক জোড়া ফল মোজা, জরির পোশাক ও পাগড়ি চাহিয়া আনিলেন। পাড়ার দন্ট লোকেরা এই-সকল বেশ পরাইয়া তাঁহাকে সঙ সাজাইয়া দিল। ক্ষুদ্রপরিসর পাগড়িটি পণ্ডিতমহাশয়ের বিশাল মস্তকের টিকির অংশটুকু অধিকার করিয়া রহিল মাত্র, চার পাঁচটা বোতাম ছিাড়িয়া কন্টে-সন্টে পণ্ডিতমহাশয়ের উদরের বেড়ে চাপকান কুলাইল। অনেক ক্ষণের পর বেশভূষা সমাপ্ত হইলে পর সাবভৌম মহাশয় দপণে একবার মুখ দেখিলেন। জরির পোশাকের চাকচিক্য দেখিয়া তাঁহার মন বড়ো তৃপ্ত হইল। কিন্তু সেই ঢলঢলে জনতা পরিয়া, আটি সটি চাপকান গায়ে দিয়া চলিতেও পারেন না, নড়িতেও পারেন না, জড়ভরতের মতো এক পথানে বসিয়াই রহিলেন। মাথা একটা নিচু করিলেই মনে হইতেছে পাগড়ি বুঝি খসিয়া পড়িবে। ঘাড়-বেদনা হইয়া উঠিল, তথাপি যথাসাধ্য মাথা উচু করিয়া রাখিলেন। ঘণ্টাখানেক এইরুপ বেশে থাকিয়া তাঁহার মাথা ধরিয়া উঠিল, মাখ শুকাইয়া গেল, অনগাল ঘম প্রবাহিত হইতে লাগিল, প্রাণ কণ্ঠাগত হইল। পল্লীর ভদ্রলোকেরা আসিয়া অনেক বুঝাইয়া-সবাইয়া তাঁহার বেশ পরিবতন कच्नाइँठा । ভট্টাচাৰ্য মহাশয় তাঁহার অব্যবস্থিত গহ পরিক্ত ও সজিত করিবার নিমিত্ত নানা খোসামোদ করিয়া নিধিরাম ভট্টকে আহবান করিয়াছেন। এই নিধিরামের উপর পণ্ডিতমহাশয়ের অতিরিক্ত ভক্তি ছিল। তিনি বলিতেন, গাহথ্যি ব্যাপার সচাররপে সম্পন্ন করিতে নিধি তাঁহার পরাতন গৃহিণীর সমান, মকদ্দমার নানাবিধ জটিল তকে সে স্বয়ং মেজেস্টোর সায়েবকেও ঘোল পান করাইতে পারে এবং সকল বিষয়ের সংবাদ রাখিতে ও চতুরতাপবাক সকল কাজ সম্পন্ন করিতে সে কালেজের ছেলেদের সমানই হউক বা কিছু কমই হউক। চতুরতাভিমানী লোকেরা আপনার অভাব লইয়া গব করিয়া থাকে। যে ব্যক্তি গাহপথ্য ব্যবস্থার চতুরতা জানাইতে চায় সে আপনার দারিদ্র্য লইয়া গব করে, অর্থাৎ ‘অর্থের অভাব সত্ত্বেও কেমন সচোররপে সংসারের শঙ্খলা সম্পাদন করিতেছি । নিধি তাঁহার মুখতা লইয়া গব করিতেন। গল্পবাগীশ লোক মাত্রেই পণ্ডিতমহাশয়ের প্রতি বড়ো অনকেল। কারণ, নীরবে সকল প্রকারের গল্প শুনিয়া যাইতে ও বিশ্বাস করিতে পল্লীতে পণ্ডিতমহাশয়ের মতো আর কেহই ছিল না। এই গণে বশীভূত হইয়া নিধি মাসের মধ্যে প্রায় দুই শত বার করিয়া তাঁহার এক বিবাহের গল্প শনাইতেন। গল্পের ডালপালা ছটিয়া-ছাটিয়া দিলে সারমর্ম এইরুপ দাঁড়ায়— নিধিরাম ভট্ট বর্ণপরিচয় পর্যন্ত শিখিয়াই লেখাপড়ায় দাঁড়ি দিয়াছিলেন, কিন্তু চালাকির জোরে বিদ্যার অভাব পরেণ করিতেন। নিধির বিবাহ করিবার ইচ্ছা হইয়াছে, কিন্তু এমন বশর পথিবীতে নাই যে নিধির মতো গোমুখকে জানিয়া শনিয়া কন্যা সম্প্রদান করে। অনেক কৌশলে ও পরিশ্রমে পাত্রী স্থির হইল। আজ জামাতাকে পরীক্ষা করিতে আসিয়াছে। অন্বিতীয় চতুর নিধি দাদার সহিত পরামর্শ করিয়া একটি পালকি আনাইল এবং চাপকান ও শামলা পরিয়া গুটিকতক কাগজের তাড়া হাতে করিয়া কন্যা-কতাদিগের সম্মুখেই পালকিতে চড়িলেন। দাদা কহিলেন, ও নিধি, আজ যে তোমাকে দেখতে এয়েচেন। নিধি কহিলেন, ‘না দাদা, আজ সাহেব সকাল-সকাল আসবে, ঢের কাজ ঢের লেখাপড়া আছে, আজ আর হচ্ছে না।’ কন্যা কর্ণা SO4 কতারা জানিয়া গেল যে, নিধি কাজ কম করে, লেখাপড়াও জানে। তাহার পরদিনেই বিবাহ হইয়া গেল। নিধি ইহার মধ্যে একটি কথা চাপিয়া যায়, আমরা সেটি সন্ধান পাইয়াছি—পাড়ার একটি এনট্রেনস ক্লাসের ছাত্র তাহাকে বলিয়া দিয়াছিল যে, যদি তোমাকে জিজ্ঞাসা করে কোন কলেজে পড়, তবে বলিয়ো বিশপস কলেজে। দৈবক্রমে বিবাহসভায় ঐ প্রশন করায় নিধি গভীর ভাবে উত্তর দিয়াছিল বিষাক্ত কালেজে। ভাগ্যে কন্যাকতারা নিধির মখে তাকে রসিকতা মনে করে, তাই সে যাত্রায় সে মানে মানে রক্ষা পায় । নিধি আসিয়াই মহা গোলযোগ বাধাইয়া দিলেন। ‘ওরে ও— ‘ওরে তা”—এ ঘরে একবার, ও ঘরে একবার—এটা ওলটাইয়া, ওটা পালটাইয়া— দই-একটা বাসন ভাঙিয়া, দই-একটা পুথি ছিড়িয়া—পাড়া-সদ্ধ তোলপাড় করিয়া তুলিলেন। কোনো কাজই করিতেছেন না অথচ মহা গোল, মহা ব্যস্ত। চটিজতা চট চট করিয়া এ ঘর ও ঘর, এ বাড়ি ও বাড়ি, এ পাড়া ও পাড়া করিতেছেন—কোনোখানেই দাঁড়াইতেছেন না, উধনশবাসে ইহাকে দু-একটি উহাকে দই-একটি কথা বলিয়া আবার সট সট করিয়া গরমহাশয়ের বাড়ি প্রবেশ করিতেছেন। ফলটা এই সন্ধ্যার সময় গিয়া দেখিব— সাবভৌমমহাশয়ের বাড়ি যে-কে-সেই, তবে পাবে এক দিনে যাহা পরিস্কৃত হইত এখন এক সপ্তাহেও তাহা হইবে না। যাহা হউক, গহ পরিকার করিতে গিয়া একটি গরে্তর ব্যাপার ঘটিয়াছিল— ঝাঁটার আঘাতে, লোকজনের কোলাহলে, তিন-ঘর বোলতা বিদ্রোহী হইয়া উঠিল। নিধিরামের নাক মুখ ফলিয়া উঠিল— চটি জতা ফেলিয়া, টিকি উড়াইয়া, কোঁচার কাপড়ে পা জড়াইতে জড়াইতে, চৌকাটে হ:চুট খাইতে খাইতে, পণ্ডিতমহাশয়কে গালি দিতে দিতে গহ পরিত্যাগ করিলেন। এক সপ্তাহ ধরিয়া বাড়ির ঘরে ঘরে বিশৃঙ্খল বোলতার দল উড়িয়া বেড়াইত। বেচারি পণ্ডিতমহাশয় দশ দিন আর অরক্ষিত গহে বোলতার ভয়ে প্রবেশ করেন নাই, প্রতিবাসীর বাটীতে আশ্রয় লইয়াছিলেন। পরে গহে ফিরিয়া আসিলেন ও যাইবার সময় ঘটি ঘড়া ইত্যাদি যে-সকল দ্রব্য বাড়িতে দেখিয়া গিয়াছিলেন, আসিবার সময় তাহা আর দেখিতে পাইলেন না। আদ্য বিবাহ হইবে। পণ্ডিতমহাশয় কাল সমস্ত রাত স্বপ্ন দেখিয়াছেন। বহলকালের পরানো সেই ঝাঁটাগাছটি স্বপ্নে দেখিতে পাইয়াছিলেন, এটি তাঁহার শুভ লক্ষণ বলিয়া মনে হইল। হাসিতে হাসিতে প্রত্যুষেই শয্যা হইতে গারোখান করিয়াছেন। চেলীর জোড় পরিয়া চন্দনচচিত কলেবরে ভাবে ভোর হইয়া বসিয়া আছেন। থাকিয়া থাকিয়া সহসা পণ্ডিতমহাশয়ের মনে একটি দভাবনার উদয় হইল। তিনি ভাবিলেন, সকলই তো হইল, এখন নৌকায় উঠিবেন কী করিয়া। অনেক ক্ষণ ধরিয়া ভাবিতে লাগিলেন ; বিশ-বাইশ ছিলিম তাম্নকট ভস্ম হইলে ও দই-এক ডিবা নস্য ফরাইয়া গেলে পর একটা সদ্যপায় নিধারিত হইল। তিনি ঠিক করিলেন যে নিধিরামকে সঙ্গে লইবেন। তাঁহার বিশ্বাস ছিল নিধিরাম সঙ্গে থাকিলে নৌকা ডুবিবার কোনো সম্পভাবনাই নাই। নিধির অন্বেষণে চলিলেন। সেদিনকার দর্ঘটনার পরে নিধি আর পণ্ডিতমহাশয়ের বাড়িমাখা হইব না বলিয়া স্থির করিয়াছিল, অনেক খোশামোদে স্বীকৃত হইল। এইবার নৌকায় উঠিতে হইবে। সাবভৌমমহাশয় তীরে দাঁড়াইয়া নস্য লইতে লাগিলেন। আমাদের নিধিরামও নৌকাকে বড়ো কম ভয় ఏరి ట్ర গল্পগুচ্ছ করিতেন না, যদি কন্যাকতাঁদের বাড়িতে আহারের প্রলোভন না থাকিত তাহা হইলে প্রাণাতেও নৌকায় উঠিতেন না। অনেক কন্টে পাঁচ-ছয়-জন মাঝিতে ধরাধরি করিয়া তাহাদিগকে কোনোক্ৰমে তো নৌকায় তুলিল। নৌকা ছাড়িয়া দিল। নৌকা যতই নড়েচড়ে পণ্ডিতমহাশয় ততই ছটফট করেন, পণ্ডিতমহাশয় যতই ছটফট করেন নৌকা ততই টলমল করে ; মহা হাঙ্গাম, মাঝিরা বিরত, পণ্ডিতমহাশয় চীৎকার করিতে আরম্ভ করিলেন ও মাঝিদিগকে বিশেষ করিয়া অনুরোধ করিলেন যে, যদিই পাড়ি দিতে হইল তবে যেন ধার-ধার দিয়া দেওয়া হয়। নিধিরামের মখে কথাটি নাই। তিনি এমন অবস্থায় আছেন যে, একটা বাতাস উঠিলে বা একটা মেঘ দেখা দিলেই নৌকার মাসতুলটা লইয়া জলে ঝাঁপাইয়া পড়িবেন। পণ্ডিতমহাশয় আকুল ভাবে নিধির মুখের দিকে চাহিয়া আছেন। দই-এক জায়গায় তরঙ্গবেগে নৌকা একটন টলমল করিল, নিধি লাফাইয়া উঠিল, পণ্ডিতমহাশয় নিধিকে জড়াইয়া ধরিলেন। তখনও তাঁহার বিশ্বাস ছিল নিধিকে আশ্রয় করিয়া থাকিলে প্রাণহানির কোনো সম্ভাবনা নাই। নিধি সাবভৌমমহাশয়ের বাহপাশ ছাড়াইবার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করিতে লাগিলেন, পণ্ডিতমহাশয় ততই প্রাণপণে আটিয়া ধরিতে লাগিলেন। শীর্ণকায় নিধি দারণ নিপেষণে রন্ধশ্বাস হইয়া যায় আর-কি, রোষে বিরক্তিতে যন্ত্রণায় চীৎকার করিতে লাগিল। এইরুপ গোলযোগ করিতে করিতে নৌকা তীরে লাগিল । মাঝিরা এরপে নৌকাযারা আর কখনও দেখে নাই। তাহারা হাঁপ ছাড়িয়া বাঁচিল, কণঠাগতপ্রাণ নিধি নিশ্বাস লইয়া বাঁচিলেন, পন্ডিতমহাশয় এক ঘটি জল খাইয় বাঁচিলেন। বিবাহের সন্ধ্যা উপস্থিত। পণ্ডিতমহাশয় টিকিসত্তে শিরে টোপর পরিয়া গদির উপর বসিয়া আছেন। অনাহারে, নৌকার পরিশ্রমে ও অভ্যাসদোষে দারণে ঢালিতেছেন। মাথার উপর হইতে মাঝে মাঝে টোপর খসিয়া পড়িতেছে। পাশ্ববতীর্ণ নিধি মাঝে মাঝে এক-একটি গ:তা মারিতেছে ; সে এমন গীতা যে তাহাতে মত ব্যক্তিরও চৈতন্য হয়, সেই গতা খাইয়া পণ্ডিতমহাশয় আবার ধড়ফড়িয়া উঠিতেছেন ও শিরচু্যত টোপরটি মাথায় পরিয়া মাথা চুলকাইতে চুলকাইতে চারি দিক অবলোকন করিতেছেন, সভাময় চোখ-টেপাটেপি করিয়া হাসি চলিতেছে। লগন উপস্থিত হইল, বিবাহের অনুষ্ঠান আরম্ভ হইল। পণ্ডিতমহাশয় দেখিলেন, পরোহিতটি তাঁহারই টোলআউট শিষ্য। শিষ্য মহা লজায় পড়িয়া গেল। পণ্ডিতমহাশয় কানে কানে কহিলেন, তাহাতে আর লজা কী! এবং লক্ষজা করিবার যে কোনো প্রয়োজন নাই এ কথা তিনি স্কন্দ ও কলিকপরাণ হইতে উদাহরণ প্রয়োগ করিয়া প্রমাণ করিলেন। সাবভৌমমহাশয় বিবাহ-আসনে উপবিট হইলেন। পরোহিত মন্ত্র বলিবার সময় একটা ভুল করিল। সংস্কৃতে ভুল পণ্ডিতমহাশয়ের সহ্য হইল না, অমনি মগধবোধ ও পাণিনি হইতে গণ্ডা আটেক সত্র আওড়াইয়া ও তাহা ব্যাখ্যা করিয়া পরোহিতের ভ্রম সংশোধন করিয়া দিলেন। পরোহিত অপ্রস্তুত হইয়া ও ভেবাচেকা খাইয়া আরও কতকগুলি ভুল করিল। পণ্ডিতমহাশয় দেখিলেন যে, তিনি টোলে তাহাকে যাহা শিখাইয়াছিলেন পরোহিত বাবাজি চাল-কলার সহিত তাহা নিঃশেষে হজম করিয়াছেন। বিবাহ হইয়া গেল। উঠিবার সময় সাবভৌমমহাশয় কিরাপ বেগতিকে পায়ে পা জড়াইয়া তাঁহার বশরের ঘাড়ে পড়িয়া গেলেন, উভয়ে বিবাহসভায় ভূমিসাং হইলেন কর্ণা ఉరిశి বরের কাপড় ছিড়িয়া গেল, টোপর ভাঙিয়া গেল। বশরের শলবেদনা ছিল, সলেকায় ভট্টাচাৰ্য মহাশয় তাহার উদর চাপিয়া পড়াতে তিনি বিষম চীৎকার করিয়া উঠিলেন। সাত-আট জন ধরাধরি করিয়া উভয়কে তুলিল, সভাসদ্ধ লোক হাসিতে লাগিল, পণ্ডিতমহাশয় মমাস্তিক অপ্রস্তুত হইলেন ও দই-একটি কী কথা বলিলেন তাহার অর্থ বুঝা গেল না। একবার দৈবাৎ অপ্রস্তুত হইলে পদে পদে অপ্রস্তুত হইতেই হইবে। অন্তঃপরে গিয়া গোলেমালে পণ্ডিতমহাশয় তাহার শাশুড়ির পা মাড়াইয়া দিলেন, তাহার শাশুড়ি নাঃ—কিছ হয় নাই বলিলেন ও অন্দরে গিয়া সিক্ত বস্ত্রখণ্ড তাঁহার পায়ের আঙলে বধিয়া আসিলেন। আহার করিবার সময় দৈবক্রমে গলায় জল বাধিয়া গেল, আধঘণ্টা ধরিয়া কাশিতে কাশিতে নেত্র আশ্রজেলে ভরিয়া গেল। বাসর-ঘরে বসিয়া আছেন, এমন সময়ে একটা আরসালা আসিয়া তাঁহার গায়ে উড়িয়া বসিল। অমনি লাফাইয়া ঝাঁপাইয়া, হাত পা ছড়াইয়া, মুখ বিকটাকার করিয়া তাহার শালীদের ঘাড়ের উপর গিয়া পড়িলেন। আবার দুইটি-চারিটি কান-মলা খাইয়া ঠিক স্থানে আসিয়া বসিলেন। একটা কথা ভুলিয়া গিয়াছি, সী-আচার করিবার সময় পণ্ডিতমহাশয় এমন উপষপেরি হাঁচিতে লাগিলেন যে চারি দিকের মেয়েরা বিরত হইয়া পড়িল। বাসর-ঘরের বিপদ হইতে কী করিয়া উদ্ধার হইবেন এ বিষয়ে পণ্ডিতমহাশয় অনেক ভাবিয়াছিলেন ; সহসা নিধিকে মনে পড়িয়াছিল, কিন্তু নিধির বাসর-ঘরে যাইবার কোনো উপায় ছিল না। যাহা হউক, ভালোমানৰে বেচারি অতিশয় গোলে পড়িয়াছিলেন। শনিয়াছি দটি-একটি কী কথার উত্তর দিতে গিয়া সমতি ও বেদান্তসত্রের ব্যাখ্যা করিয়াছিলেন। এবং যখন তাঁহাকে গান করিতে অনুরোধ করে, অনেক পীড়াপীড়ির পর গাহিয়াছিলেন কোথায় তারিণী মা গো বিপদে তারহ সতে'। এই তিনি মনের সঙ্গে গাহিয়াছিলেন তাহাতে আর সন্দেহ নাই। ভট্টাচায"মহাশয় রাগিণীর দিকে বড়ো একটা নজর করেন নাই, যে সরে তিনি পতি পড়িতেন সেই সরেই গানটি গাহিয়াছিলেন। যাহা হউক, অনেক কষ্টে বিবাহब्राटाि उउिवाश्ठि झट्टेळन । পঞ্চম পরিচ্ছেদ মহেন্দ্র নরেন্দ্রদের দলে মিশিয়াছে বটে, কিন্তু এখনও মহেন্দ্রের আচার-ব্যবহারে এমন একটি মহত্ত্ব জড়িত ছিল যে, নরেন্দ্র তাহার সহিত ভালো করিয়া কথা কহিতে সাহস করিত না। এমন-কি সে থাকিলে নরেন্দ্র কেমন একটা অসুখ অনুভব করিত, সে চলিয়া গেলে কেমন একটা শান্তিলাভ করিত। অলক্ষিতভাবে নরেন্দ্রের মন মহেন্দ্রের ८भार्गश्नौशालग्न नमानऊ श्रॅग्नाछिल । সময় মদম্বরে কথা কহে, আবার অধিক লোকজন থাকিলে মলেই কথা কহে না। সে কাহারও কথায় সায় দিতে হইলে হাঁ বলিত বটে, কিন্তু সায় দিবার ইচ্ছা না থাকিলে হাঁও বলিত না, নাও বলিত না। এ মহেন্দ্র নরেদের মনের উপর যে অমন আধিপত্য স্থাপন করিবে তাহা কিছ আশ্চবের বিষয় বটে। মহেদের সহিত গদাধরের বড়ো ভাব হইয়াছিল । ঘরে বসিয়া উভয়ে মিলিয়া >○しs গল্পগুচ্ছ দেশাচারের বিরুদ্ধে নিদারণে কালপনিক সংগ্রাম করিতেন। স্বাধীনবিবাহ বিধবাবিবাহ প্রভৃতি প্রসঙ্গে মহেন্দু সংস্কারকমহাশয়ের সহিত উৎসাহের সহিত যোগ দিতেন, কিন্তু বহুবিবাহনিবারণ-প্রসঙ্গে তাঁহার তেমন উৎসাহ থাকিত না। এ ভাবের তাৎপর্য যদিও গদাধরবাব বুঝিতে পারেন নাই, কিন্তু আমরা এক রকম বকিয়া লইয়াছি। গদাধর ও স্বরপের সঙ্গে মহেন্দ্রের যেমন বনিয়া গিয়াছিল, এমন নরেন্দ্র ও তাহার দলবলের সহিত হয় নাই। মহেন্দু ইহাদের নিকট ক্রমে তাহার দই-একটি করিয়া মনের কথা বলিতে লাগিল, অবশেষে মোহিনীর সহিত প্রণয়ের কথাটাও অবশিষ্ট রহিল না। এই প্রণয়ের কথাটা শুনিয়া বরপবাব অত্যন্ত উন্মত্ত হইয়া উঠিলেন। তিনি ভাবিলেন মহেন্দু তাঁহার প্রণয়ের অন্যায় প্রতিদ্বন্দ্বী হইয়াছেন; অনেক দুঃখ করিয়া অনেক কবিতা লিখিলেন এবং আপনাকে একজন উপন্যাসনাটকের নায়ক কল্পনা করিয়া মনে-মনে একটা তৃপ্ত হইলেন। গদাধর কোনো প্রকারে মোহিনীর পারিবারিক অধীনতাশঙ্খল ভগন করিয়া তাহাকে মন্ত বায়তে আনয়ন করিবার জন্য মহেন্দ্রকে অনুরোধ করিলেন। তিনি কহেন, গহ হইতে আমাদের স্বাধীনতা শিক্ষা করা উচিত, প্রথমে পারিবারিক অধীনতা হইতে মুক্তিলাভ করিতে শিখিলে ক্রমশ আমরা স্বাধীনতাপথে অগ্রসর EFTS vtfHA | SKAifs -MÆ GATA :Charity begins at home t GERfA গহ হইতে স্বাধীনতার শর। সংস্কারকমহাশয় নিজে বাল্যকাল হইতেই ইহার দষ্টান্ত দেখাইয়া আসিতেছেন। বারো বৎসর বয়সে পিতার সহিত বিবাদ করিয়া তিনি গহ হইতে নিরদেশ হন, ষোলো বৎসর বয়সে শিক্ষকের সহিত বিবাদ করিয়া ক্লাস ছাড়িয়া চলিয়া আসেন, কুড়ি বৎসর বয়সে তাঁহার সন্ত্রীর সহিত মনান্তর হয় এবং তাঁহাকে তাঁহার বাপের বাড়ি পাঠাইয়া নিশিচন্ত হন এবং এইরপে স্বাধীনতার সোপানে সোপানে উঠিয়া সম্প্রতি ত্রিশ বৎসর বয়সে নিজে সমস্ত কুসংস্কার ও প্রেজুডিসের অধীনতা হইতে মুক্ত হইয়া অসভ্য বঙ্গদেশের নিদয় দেশাচারসমুহকে বস্তৃতার ঝটিকায় ভাঙিয়া ফেলিবার চেষ্টায় আছেন। কিন্তু গদাধরের সহিত মহেন্দ্রের মতের ঐক্য হইল না, এমন-কি মহেন্দু মনে-মনে একটা অসন্তুষ্ট হইল। গদাধর আর অধিক কিছু বলিল না ; ভাবিল, “আরও দিনকতক যাক, তাহার পরে পনরায় এই কথা তুলিব।’ আরও দিনকতক গেল, মহেন্দ্র এখন নরেন্দ্রদের দলে সম্পর্ণেরপে যোগ দিয়াছে। মহেন্দ্রের মনে আর মনুষ্যত্বের কিছুমাত্র অবশিষ্ট নাই। গদাধর আর-একবার পবে"কার কথা পাড়িল, মহেন্দ্রের তাহাতে কোনো আপত্তি হইল না। মহেন্দ্রের নামে কলঙ্ক ক্রমে রাষ্ট্ৰ হইতে লাগিল। কিন্তু মহেন্দ্রের হৃদয়ে এতটুকু লোকলজ্জা আবশিষ্ট ছিল না যে, এই অপবাদে তাহার মন তিলমাত্র ব্যথিত হইতে পারে। 海 মহেন্দ্রের ভগিনী পিতা ও অন্যান্য আত্মীয়েরা ইহাতে কিছু কাট পাইল বটে, কিন্তু হতভাগিনী রজনীর হৃদয়ে যেমন আঘাত লাগিল এমন আর কাহারও নয়। যখন মহেন্দু মদ খাইয়া এলোমেলো বকিতে থাকে তখন রজনীর কী মমান্তিক ইচ্ছা হয় যে, আর কেহ সেখানে না আসে। যখন মহেন্দু মাতাল অবস্থায় টলিতে টলিতে করপো Sళిషి আইসে রজনী তাহাকে কোনো কমে ঘরের মধ্যে লইয়া গিয়া দরজা বন্ধ করিয়া দেয়, তখন তাহার কতই-না ভয় হয় পাছে আর কেহ দেখিতে পায়। অভাগিনী মহেন্দুকে কোনো কথা বলিতে, পরামর্শ দিতে বা বারণ করিতে সাহস করিত না, তাহার যতদর সাধ্য কোনোমতে মহেন্দ্রের দোষ আর কাহাকেও দেখিতে দিত না। মহেন্দ্রের অসমবত অবস্থায় রজনীর ইচ্ছা করিত তাহাকে বকে দিয়া ঢাকিয়া রাখে, যেন আর কেহ দেখিতে না পায় । কেহ তাহার সাক্ষাতে মহেন্দ্রের নিন্দা করিলে সে তাহার প্রতিবাদ করিতে সাহস করিত না, অন্তরালে গিয়া কদন করা ভিন্ন তাহার আর কোনো উপায় ছিল না। সে তাহার মহেন্দ্রের জন্য দেবতার কাছে কত প্রার্থনা করিয়াছে, কিন্তু মহেন্দ্র তাহার মত্ত অবস্থায় রজনীর মরণ ভিন্ন কিছই প্রার্থনা করে নাই। রজনী মনে-মনে কহিত, রজনীর মরিতে কতক্ষণ, কিন্তু রজনী মরিলে তোমাকে কে দেখিবে ।’ একদিন রাত্রি দুইটার সময় টলিতে টলিতে মহেন্দ্র ঘরে আসিয়া ভূমিতলে শুইয়া পড়িল। রজনী জাগিয়া জানালায় বসিয়া ছিল, সে তাড়াতাড়ি কাছে আসিয়া বসিল । মহেন্দু তখন অচৈতন্য। রজনী ভয়ে ভয়ে ধীরে ধীরে কতক্ষণের পর মহেন্দ্রের মাথা কোলে তুলিয়া লইল। আর কখনো সে মহেন্দ্রের মাথা কোলে রাখে নাই; সাহসে বকে বধিয়া আজ রাখিল। একটি পাখা লইয়া ধীরে ধীরে বাতাস করিতে লাগিল। ভোরের সময় মহেন্দু জাগিয়া উঠিল; পাখা দরে ছড়িয়া ফেলিয়া কহিল, এখানে কী করিতেছ। ঘুমাও গে না ! রজনী ভয়ে থতমত খাইয়া উঠিয়া গেল। মহেন্দু আবার ঘনমাইয়া পড়িল। প্রভাতের রৌদ্র মন্ত বাতায়ন দিয়া মহেন্দ্রের মাখের উপর পড়িল, রজনী আস্তে আস্তে জানালা বন্ধ করিয়া দিল । রজনী মহেন্দুকে যত্ন করিত, কিন্তু প্রকাশ্যভাবে করিতে সাহস করিত না। সে গোপনে মহেন্দ্রের খাবার গছোইয়া দিত, বিছানা বিছাইয়া দিত এবং সে অলপ বলপ যাহা-কিছ মাসহারা পাইত তাহা মহেন্দ্রের খাদ্য ও অন্যান্য আবশ্যকীয় দ্রব্য কিনিতেই ব্যয় করিত, কিন্তু এ-সকল কথা কেহ জানিতে পাইত না । গ্রামের বালিকারা, প্রতিবেশিনীরা, এত লোক থাকিতে নিদোষী রজনীরই প্রতি কাযে, দোষারোপ করিত, এমন-কি বাড়ির দাসীরাও মাঝে মাঝে তাহাকে দই-এক কথা শনাইতে কটি করিত না, কিন্তু রজনী তাহাতে একটি কথাও কহিত না— যদি কহিতে পারিত তবে অত কথা শুনিতেও হইত না। রাত্রি প্রায় দই প্রহর হইবে। মেঘ করিয়াছে, একট বাতাস নাই, গাছে গাছে পাতায় পাতায় হাজার হাজার জোনাকি পোকা মিট মিট করিতেছে। মোহিনীদের বাড়িতে একটি মানুষ আর জাগিয়া নাই, এমন সময়ে তাহাদের খিড়কির দরজা খালিয়া দইজন তাহাদের বাগানে প্রবেশ করিল। একজন বক্ষতলে দাঁড়াইয়া রহিল আর একজন গহে প্রবেশ করিল। যিনি বক্ষতলে দাঁড়াইয়া রহিলেন তিনি গদাধর, যিনি গহে প্রবেশ করিলেন তিনি মহেন্দ্র। দুই জনেরই অবস্থা বড়ো ভালো নহে, গদাধরের এমন বস্তৃতা করিবার ইচ্ছা হইতেছে যে তাহা বলিবার নহে, এবং মহেন্দ্রের পথের মধ্যে এমন শয়ন করিবার ইচ্ছা হইতেছে যে কী বলিব। ঘোরতর বটি পড়িতে আরম্ভ হইল, গদাধর দাঁড়াইয়া ভিজিতে লাগিলেন। পরোপকারের জন্য কী কষ্ট না షిరిO গল্পগুচ্ছ সহ্য করা যায়, এমন-কি, এখনই যদি বঞ্জ পড়ে গদাধর তাহা মাথায় করিয়া লইতে প্রস্তুত আছেন। কিন্তু এই কথাটা অনেক ক্ষণ ভাবিয়া দেখিলেন যে, এখনই তাহাতে তিনি প্রস্তুত নহেন; বাঁচিয়া থাকিলে পথিবীর অনেক উপকার করিতে পারবেন। বাটিবঞ্জের সময় বক্ষতলে দাঁড়ানো ভালো নয় জানিয়া একটি ফাঁকা জায়গায় গিয়া বসিলেন, বান্টি বিগণে বেগে পড়িতে লাগিল। এদিকে মহেন্দু পা টিপিয়া টিপিয়া মোহিনীর ঘরের দিকে চলিল, যতই সাবধান হইয়া চলে ততই খস খস শব্দ হয়। ঘরের সম্মখে গিয়া আস্তে আস্তে দরজায় ধাক্কা মারিল, ভিতর হইতে দিদিমা বলিয়া উঠিলেন, “মোহিনী ! দেখ তো বিড়াল বুঝি !” দিদিমার গলা শনিয়া মহেন্দ্র তাড়াতাড়ি সরিবার চেষ্টা দেখিলেন। সরিতে গিয়া একরাশি হড়ি-কলসীর উপর গিয়া পড়িলেন। হাঁড়ির উপর কলসী পড়িল, কলসীর উপর হাঁড়ি পড়িল এবং কলসী হাঁড়ি উভয়ের উপর মহেন্দু পড়িল । হাঁড়িতে কলসীতে, থালায় ঘটিতে দারণে ঝন ঝন শব্দ বাধাইয়া দিল এবং কলসী হইতে ঘড় ঘড় শব্দে জল গড়াইতে লাগিল। বাড়ির ঘরে ঘরে কী হইল ‘কী হইল’ শব্দ উপস্থিত হইল। মা উঠিলেন, পিসি উঠিলেন, দিদি উঠিলেন, খোকা কাঁদিয়া উঠিল, দিদিমা বিছানায় পড়িয়া পড়িয়া উচ্চৈঃস্বরে পোড়ারমখা বিড়ালের মরণ প্রার্থনা করিতে লাগিলেন— মোহিনী প্রদীপ হতে বাহিরে আসিল। দেখিল মহেন্দ্র; তাড়াতাড়ি কাছে গিয়া কহিল, “পালাও ! পালাও !” মহেন্দু পলাইবার উদ্যোগ করিল ও মোহিনী তাড়াতাড়ি প্রদীপ নিভাইয়া ফেলিল। দিদিমা চক্ষে কম দেখিতেন বটে, কিন্তু কানে বড়ো ঠিক ছিলেন। মোহিনীর কথা শুনিতে পাইলেন, তাড়াতাড়ি ঘর হইতে বাহির হইয়া আসিয়া কহিলেন, “কাহাকে পলাইতে বলিতেছিস মোহিনী।” দিদিমা অন্ধকারে কিছুই দেখিতে পাইলেন না, কিন্তু পলায়নের ধাপ ধাপ শব্দ শুনিতে পাইলেন। দেখিতে দেখিতে বাড়িসন্ধ লোক জমা হইল। মহেন্দ্র তো অন্য পথ দিয়া পলায়ন করিল। এ দিকে গদাধর বাগানে বসিয়া ভিজিতেছেন, অনেক ক্ষণ বসিয়া বসিয়া একটা তন্দ্রা আসিতেই শুইয়া পড়িলেন। ঘমাইয়া ঘামাইয়া স্বপ্ন দেখিতে লাগিলেন যেন তিনি বস্তৃতা করিতেছেন, আর হাততালির ধবনিতে সভা প্রতিধৰনিত হইয়া উঠিতেছে, সভায় গবনর জেনেরাল উপস্থিত ছিলেন, তিনি বস্তৃতা-অন্তে পরম তুষ্ট হইয়া আপনি উঠিয়া শেকহ্যান্ড করিতে যাইতেছেন, এমন সময় তাঁহার পঠে দারণ এক লাঠির আঘাত লাগিল। ধড়ফড়িয়া উঠিলেন; একজন তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিল, “এখানে কী করিতেছিস । কে তুই।” গদাধর জড়িত স্বরে কহিলেন, “দেশ ও সমাজ –সংস্কারের জন্য প্রাণ দেওয়া সকল মনষ্যেরই কতব্য। ডাল ও ভাত সঞ্চয় করাই যাহাদের জীবনের উদ্দেশ্য, তাহারা গলায় দাঁড় দিয়া মরিলেও পৃথিবীর কোনো অনিষ্ট হয় না। দেশनश्रृंगप्नव्र घना ब्राौच नाडॆ, विा नारॆ, आश्नाव्र वाक् िनाडॆ, श्रीब्रह्म बाएि नां, जलि সময়ে সবাই কোনো বাধা মানিবে না, কোনো বিঘা মানিবে না—কেবল ঐ উদ্দেশ্যসাধনের জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করিৰে। যে না করে সে পশম, সে পশ, সে পশ ! কর্ণা SBS অতএব”— আর অধিক অগ্রসর হইতে হইল না; প্রহারের চোটে তাঁহার এমন অবস্থা হইল যে, আর অপেক্ষণ থাকিলে শরীর-সংস্কারের আবশ্যকতা হইত। অতিশয় বাড়াবাড়ি দেখিয়া গদাধর বস্তৃতা-ছন্দ পরিত্যাগ করিয়া গোঙানিচ্ছন্দে তাঁহার মত পিতা, মাতা, কনেস্টেবল, পলিস ও দেশের লোককে ডাকাডাকি আরম্ভ করিলেন। তাহারা বুঝিল যে, অধিক গোলযোগ করিলে তাহাদেরই বাড়ির নিন্দা হইবে, এইজন্য আস্তে আস্তে তাঁহাকে বিদায় করিয়া দিল। মোহিনীর উপরে তাহার বাড়িসন্ধ লোকের বড়োই সন্দেহ হইল। রাত্রে কে আসিয়াছিল এবং কাহাকে সে পলাইতে কহিল, এই কথা বাহির করিয়া লইবার জন্য তাহার প্রতি দারণ নিগ্রহ আরম্ভ হইল, কিন্তু সে কোনোমতে কহিল না। কিন্তু এ কথা চাপা থাকিবার নহে। মহেন্দু পলাইবার সময় তাহার চাদর ও জনতা ফেলিয়া আসিয়াছিল, তাহাতে সকলে বুঝিতে পারিল যে মহেন্দ্রেরই এই কাজ। এই তো পাড়াময় ঢী ঢৗ পড়িয়া গেল। পাকুরের ঘাটে, গ্রামের পথে, ঘরের দাওয়ায়, বন্ধদের চণ্ডীমণ্ডপে এই এক কথারই আলোচনা হইতে লাগিল। মোহিনীর ঘর হইতে বাহির হওয়া দায় হইল, সকলেই তাহার পানে কটাক্ষ করিয়া কথা কয়। না কহিলেও মনে হয় তাহারই কথা হইতেছে। পথে কাহারও হাস্যমুখ দেখিলে তাহার মনে হইত তাহাকে লক্ষ্য করিয়াই হাসি তামাসা চলিতেছে। অথচ মোহিনীর ইহাতে কোনো দোষ ছিল না। ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ মহেন্দ্র যখন বাড়ি আসিয়া পৌছিলেন তখনও অনেক রাত আছে। নেশা অনেক ক্ষণ ছটিয়া গেছে। মহেন্দ্রের মনে এক্ষণে দারণ অনন্তাপ উপস্থিত হইয়াছে। ঘাণায় লঙ্গজায় বিরক্তিতে মিয়মাণ হইয়া শুইয়া পড়িল। একে একে কত কী কথা মনে পড়িতে লাগিল; শৈশবের এক-একটি সমতি বজ্রের ন্যায় তাঁহার হাদয়ে বিদ্ধ হইতে লাগিল। যৌবনের নবোন্মেষের সময় ভবিষ্যৎ-জীবনের কী মধ্যময় চিত্র তাঁহার হাদয়ে অঙ্কিত ছিল—কত মহান আশা, কত উদার কল্পনা তাঁহার উদ্দীপ্ত হৃদয়ের শিরায় শিরায় জড়িত বিজড়িত ছিল। যৌবনের সখেবনে তিনি মনে করিয়াছিলেন যে, তাঁহার নাম মাতৃভূমির ইতিহাসে গৌরবের অক্ষয় অক্ষরে লিখিত থাকিবে, তাঁহার জীবন তাঁহার স্বদেশীয় ভ্রাতাদের আদশ স্বরুপ হইবে এবং ভবিষ্যৎকাল আদরে তাঁহার যশ বক্ষে পোষণ করিতে থাকিবে। কিন্তু সে হৃদয়ের, সে আশার, সে কল্পনার আজ কণী পরিণাম হইল। তাঁহার যশ কলঙ্কিত হইয়াছে, চরিত্র সম্পর্ণে নষ্ট হইয়াছে, হাদয় দারণ বিকৃত হইয়া গিয়াছে। কালি হইতে তাঁহাকে দেখিলে গ্রামের কুলবধাগণ সংকোচে সরিয়া যাইবে, বন্ধরো লজায় নতশির হইবে, শত্রদের অধর ঘণার হাস্যে কুটিল হইবে, বন্ধেরা তাঁহার শৈশবের এই অনপেক্ষিত পরিণামে দুঃখ করবে, যবেকেরা অন্তরালে তাঁহার নামে তাঁর উপহাস বিদ্রুপ করিবে— সবাপেক্ষা, তিনি যে নিরপরাধিনী বিধবার পবিত্র নামে কলঙ্ক আরোপ করিলেন তাহার আর মাখ রাখিবার স্থান থাকিবে না। মহেন্দ্র মৰ্মভেদী কন্টে শয্যায় পড়িয়া જે8ર গল্পগুচ্ছ বালকের ন্যায় কাঁদিতে লাগিল। মহেন্দ্রের রোদন দেখিয়া রজনীর কী কষ্ট হইতে লাগিল, রজনীই তাহা জানে। মনে-মনে কহিল, তোমার কী হইয়াছে বলো, যদি আমার প্রাণ দিলেও তাহান্ন প্রতিকার হয় তবে আমি তাহাও দিব। রজনী আর থাকিতে পারিল না, ধীরে ধীরে ভয়ে ভয়ে মহেন্দ্রের কাছে আসিয়া বসিল। কত বার মনে করিল যে, পারে ধরিয়া জিজ্ঞাসা করিবে যে, কী হইয়াছে। কিন্তু সাহস করিয়া পারিল না, মাখের কথা মুখেই রহিয়া গেল। মহেন্দু মনের আবেগে তাড়াতাড়ি শয্যা হইতে উঠিয়া গেল। রজনী ভাবিল সে কাছে আসাতেই বুঝি মহেন্দু চলিয়া গেল। আর থাকিতে পারিল না; কাতর স্বরে কহিল, "আমি চলিয়া যাইতেছি, তুমি শোও!” । মহেন্দ্র তাহার কিছই উত্তর না দিয়া অন্যমনে চলিয়া গেল। ধীরে ধীরে বাতায়নে গিয়া বসিল। তখন মেঘমন্তে চতুথীর চন্দ্রমা জ্যোৎস্না বিকীর্ণ করিতেছেন। বাতায়নের নিম্নে পঙ্করিণী। পাকরিণীর ধারের পরপরসংলগ্ন অন্ধকার নারিকেলকুঞ্জের মস্তকে অসফট জ্যোৎস্নার রজতরেখা পড়িয়াছে। অসফট জ্যোৎস্নায় পাকরিণীতীরের ছায়াময় অন্ধকার গভীরতর দেখাইতেছে। জ্যোৎস্নাময় গ্রাম যতদরে দেখা যাইতেছে, এমন শান্ত, এমন পবিত্র, এমন ঘনমন্ত যে মনে হয় এখানে পাপ তাপ নাই, দুঃখ যন্ত্রণা নাই—এক স্নেহহাস্যময় জননীর কোলে যেন কতকগুলি শিশু এক সঙ্গে ঘুমাইয়া রহিয়াছে। মহেন্দ্রের মন ঘোর উদাস হইয়া গিয়াছে। সে ভাবিল, সকলেই কেমন ঘমোইতেছে, কাহারও কোনো দুঃখ নাই, কষ্ট নাই। কাল সকালে আবার নিশিচন্তভাবে উঠিবে, আপনার আপনার কাজকমকরিবে। কেহ এমন কাজ করে নাই যাহাতে পথিবী বিদীর্ণ হইলে সে মুখ লুকাইয়া বাঁচে, এমন কাজ করে নাই যাহাতে প্রতি মহেনতে তীব্রতম অনন্তাপে তাহার মর্মে মমে শেল বিন্ধ হয়। আমিও যদি এইরুপ নিশ্চিতভাবে ঘমোইতে পারিতাম, নিশিচন্তভাবে জাগিতে পারিতাম ! আমার যদি মনের মতো বিবাহ হইত, গহন্থের মতো বিনা দুঃখে সংসারযাত্রা নিবাহ করিতে পারিতাম, সাঁকে কত ভালোবাসিতাম, সংসারের কত উপকার করিতাম ! কেমন সহজে দিনের পর রাত্রি, রাত্রের পর দিন কাটিয়া যাইত, সমস্ত রাত্রি জাগিয়া ও সমস্ত দিন ঘুমাইয়া এই বিরন্তিময় জীবন বহন করিতে হইত না। আহা— কেমন জ্যোংনা, কেমন রাত্রি, কেমন পথিবী ! অাঁধার নারিকেলব্যক্ষগুলি মাথায় একটা একটু জ্যোৎস্না মাখিয়া অত্যন্ত গভীরভাবে পরপরের মুখ-চাওয়া-চাওয়ি করিয়া আছে; যেন তাহাদের বকের ভিতর কী একটি কথা লকোনো রহিয়াছে। তাহাদের অাঁধার ছায়া অাঁধার পকেরিণীর জলের মধ্যে निaिउ ।।' মহেন্দু কতক্ষণ দেখিতে লাগিল, দেখিয়া দেখিয়া নিশ্বাস ফেলিয়া ভাবিল— আমার ভাগ্যে পথিবী ভালো করিয়া ভোগ করা হইল না।’ মহেন্দু সেই রাত্রেই গহত্যাগ করিতে মনপথ করিল, ভাবিল পথিবীতে যাহাকে ভালোবাসিয়াছে সকলকেই ভুলিয়া যাইবে । ভাবিল সে এ পর্যন্ত পথিবীর কোনো উপকার করিতে পারে নাই, কিন্তু এখন হইতে পরোপকারের জন্য তাহার স্বাধীন জীবন উৎসগা করিবে। কিন্তু গহে রজনীকে একাকিনী ফেলিয়া গেলে সে কর্ণা 為8○ নিরপরাধিনী যে কাট পাইবে, তাহার প্রায়শ্চিত্ত কিসে হইবে। এ কথা ভাবিলে অনেক कण छाया थाइँङ, कन्छू भएश्८न्छन्न छावाङ इँझ झद्देब्न मा–छाीदठन ना । মহেন্দ্র তাহার নিজ দোষের স্বত-কিছ, অপবাদ-যন্ত্রণা সমুদয় অভাগিনী রজনীকে সহিতে দিয়া গহ হইতে বহিগত হইল। বায় সতভিত, গ্রামপথ অধিার করিয়া দুই ধারে বক্ষশ্রেণী প্ৰস্তৰখ-গম্ভীর-বিষমভাবে দাঁড়াইয়া আছে। সেই অধিার পথ দিয়া ঝটিকাময়ী নিশাঁখিনীতে বায়তাড়িত ক্ষুদ্র একখানি মেঘখণ্ডের ন্যায় মহেন্দু যে দিকে ইচ্ছা চলিতে লাগিলেন । রজনী ভাবিল যে, সে কাছে আসাতেই বুঝি মহেন্দ্র অন্যত্র চলিয়া গেল। বাতায়নে বসিয়া জ্যোৎস্নাসপেত পঙ্কেরিণীর জলের পানে চাহিয়া চাহিয়া কাঁদিতে লাগিল । সপ্তম পরিচ্ছেদ কর্ণা ভাবে এ কী দায় হইল, নরেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসে না কেন । অধীর হইয়া বাড়ির পরোতন চাকরানি ভবির কাছে গিয়া জিজ্ঞাসা করিল, নরেন্দ্র কেন আসিতেছেন না । সে হাসিয়া কহিল, সে তাহার কী জানে । কর্ণা কহিল "না, তুই জানিস ।" ভবি কহিল, "ওমা, আমি কী করিয়া বলিব।" কর্ণা কোনো কথায় কৰ্ণপাত করিল না । ভবির বলিতেই হইবে নরেন্দ্র কেন আসিতেছে না। কিন্তু অনেক পীড়াপীড়িতেও ভবির কাছে বিশেষ কোনো উত্তর পাইল না। কর্ণা অতিশয় বিরক্ত হইয়া কাঁদিয়া ফেলিল ও প্রতিজ্ঞা করিল যে, যদি মঙ্গলবারের মধ্যে নরেন্দ্র না আসেন তবে তাহার যতগুলি পর্তুল আছে সব জলে ফেলিয়া দিবে। ভবি বুঝাইয়া দিল যে, পতুল ভাঙিয়া ফেলিলেই যে নরেন্দ্রের আসিবার বিশেষ কোনো সুবিধা হইবে তাহা নহে, কিন্তু তাহার কথা শুনে কে। না আসিলে ভাঙিয়া ফেলিবেই ফেলিবে । বাস্তবিক নরেন্দ্র অনেক দিন দেশে আসে নাই। কিন্তু পাড়ার লোকেরা বচিয়াছে, কারণ আজকাল নরেন্দ্র যখনই দেশে আসে তখনই গোটা দুই-তিন কুকুর এবং তদপেক্ষা বিরক্তিজনক গোটা দই-চার সঙ্গী তাহার সঙ্গে থাকে। তাহারা দইতিন দিনের মধ্যে পাড়াসন্ধে বিৱত করিয়া তুলে। আমাদের পণ্ডিতমহাশয় এই কুকুরগুলা দেখিলে বড়োই ব্যতিব্যস্ত হইয়া পড়িতেন। যাহা হউক, পণ্ডিতমহাশয়ের বিবাহের কথাটা লইয়া পাড়ায় বড়ো হাসিতামাসা চলিতেছে। কিন্তু ভট্টাচাৰ্য মহাশয় বিশ বাইশ ছিলিম তামাকের ধয়ায়, গোটাকতক নস্যের টিপে এবং নবগহিণীর অভিমানকুঞ্চিত ভ্ৰমেঘনিক্ষিণত দই-একটি বিদাতালোকের আঘাতে সকল কথা তুড়ি দিয়া উড়াইয়া দেন। নিধিরাম ব্যতীত পণ্ডিতমহাশয়কে বাটী হইতে কেহ বাহির করিতে পারিত না। পণ্ডিতমহাশয় আজকাল । একখানি দপণ ক্ৰয় করিয়াছেন, চশমাটি সোনা দিয়া বাঁধাইয়াছেন, দরদেশ হইতে সক্ষমশত্র উপবীত আনয়ন করিয়াছেন। তাঁহার পত্নী কাতায়নী পাড়ার মেয়েদের কাছে গল্প করিয়াছে যে, মিনসা নাকি আজকাল মদ হাসি হাসিয়া উদরে হাত 的S $88 গল্পগছে বলাইতে বলাইতে রসিকতা করিতে প্রাণপণে চেষ্টা করেন। কিন্তু পণ্ডিতমহাশয়ের নামে পাবে কখনও এরপ কথা উঠে নাই। আমরা পণ্ডিতমহাশয়ের রসিকতার ৰে দুই-একটা নিদশন পাইয়াছি তাহার মমাথ বঝো আমাদের সাধ্য নহে। তাছার মধ্যে প্রকৃতি, পরষ, মহৎ, অহংকার, প্রমা, অবিদ্যা, রাজতে সপভ্রম, পবতোৰহিমান ধমাং ইত্যাদি নানাবিধ দাশনিক হাঙ্গামা আছে। পণ্ডিতমহাশয়ের বেদান্তসত্র ও সাংখ্যের উপর মাকড়সায় জাল বিস্তার করিয়াছে, আজকাল জয়দেবের গীতগোবিন্দ লইয়া পণ্ডিতমহাশয় ভাবে ভরপরে হইয়া আছেন। এই তো গেল পণ্ডিতমহাশয়ের অবস্থা । আর আমাদের কাত্যায়নী ঠাকুরানীটি দিন কতক আসিয়াই পাড়ার মেয়েমহল একেবারে সরগরম করিয়া তুলিয়াছেন। তাঁহার মতো গল্পগজেব করিতে পাড়ায় আর কাহারও সামথ্য নাই। হাত-পা নাড়িয়া চোখ-মাখ ঘরাইয়া চতুদশ ভুবনের সংবাদ দিতেন। একজন তাঁহার নিকট কলিকাতা শহরটা কণী প্রকার তাহারই সংবাদ লইতে গিয়াছিলেন। তিনি তাহাকে বুঝাইয়া দেন যে, সেখানে বড়ো বড়ো মাঠ, সায়েবরা চাষ করে, রাস্তার দ ধার সিপাহি শান্তিরি গোরার পাহারা, ঘরে ঘরে গোর কাটে ইত্যাদি । আরও অনেক সংবাদ দিয়াছিলেন, সকল কথা আবার মনেও নাই। কাত্যায়নীর পতিভক্তি অতিরিক্ত ছিল এবং এই পতিভক্তি-সংক্রান্ত নিন্দার কথা তাঁহার কাছে যত শুনিতে পাইব এমন আর কাহারও কাছে নয়। পাড়ার সকল মেয়ের নাড়ীনক্ষত্র পষত অবগত ছিলেন। তাঁহার আর-একটি স্বভাব ছিল যে, তিনি ঘণ্টায় ঘণ্টায় সকলকে মনে করাইয়া দিতেন যে, মিছামিছি পরের চর্চা তাঁর কোনোমতে । ভালো লাগে না আর বিন্দ, হারার মা ও বোসেদের বাড়ির বড়োবউ যেমন বিশ্ব- ' নিন্দকে এমন আর কেহ নয়। কিন্তু তাহাও বলি, কাত্যায়নী ঠাকুরানীকে দেখিতে মন্দ ছিল না—তবে চলিবার, বলিবার, চাহিবার ভাবগলি কেমন এক প্রকারের। তা হউক গে, আমন এক-একজনের স্বাভাবিক হইয়া থাকে। অস্টম পরিচ্ছেদ নরেন্দ্রের অনেকগুলি দোষ জটিয়াছে সত্য, কিন্তু করলোকে সে-সকল কথা কে বলে বলো দেখি। সে বেচারি কেমন বিশ্ববঙ্গতচিত্তে স্বপন দেখিতেছে, তাহার সে সবগম ভাঙাইবার প্রয়োজন কী। কিন্তু সে অত শত বঝেও না, অত কথায় কানও দেয় না। কিন্তু রাত দিন শুনিতে শুনিতে দই-একটা কথা মনে লাগিয়া যায় বৈকি। কর্ণার অমন প্রফুল্ল মাখ, সেও দই-একবার মলিন হইয়া যায়-নয় তো কী! কিন্তু নরেন্দুকে পাইলেই সে সকল কথা ভুলিয়া যায়, জিজ্ঞাসা করিতে মনেই থাকে না, অবসরই পায় না। তাহার অন্যান্য এত কথা কহিবার আছে যে, তাহাই ফরাইয়া উঠিতে *ाटब्र ना, रङा, ठामा कथा ! किग्डू कग्नदशाब्र ¢ छाब आब्र अश्विक मिन थाकिट्व ना छाश বলিয়া রাখিতেছি। নরেন্দ্র যেরপে অন্যায় আরম্ভ করিয়াছে তাহা আর বলিবার নহে। নরেন্দ্র এখন আর কলিকাতায় বড়ো একটা যাতায়াত করে না। কর্ণাকে ভালোবাসিয়া যে যায় না, সে প্রম যেন কাহারও না হয়। কলিকাতায় সে যথেষ্ট ঋণ করিয়াছে, পাওনাদারদের ভরে সে কলিকাতা ছাড়িয়া পলাইয়াছে। . * করপো । эвв দিনে দিনে কর্ণার মখ মলিন হইয়া আসিতেছে। নরেন্দ্র যখন কলিকাতার थाकिछ इिल छारणा । कच्षिण घन्छे द5ाcथव्र नाभट्न थाकिरल काशाकट्टे वा मा छिना যায় ? নয়েদের স্বভাব কর্ণার নিকট ক্ৰমে ক্ৰমে প্রকাশ পাইতে লাগিল। কয়লার কিছুই তাহার ভালো লাগিত না। সবাদাই খিটখিট, সর্বদাই বিরক্ত। এক মহতও ভালো মুখে কথা কহিতে জানে না— অধীরা কর্ণা যখন হবে উৎফুল্ল হইয়া তাহার নিকট আসে, তখন সে সহসা এমন বিরক্ত হইয়া উঠে যে কর্ণার মন একেবারে দমিয়া যায়। নরেন্দ্র সব দাই এমন রটে থাকে যে কর্ণা তাহাকে সকল কথা বলিতে সাহস করে না, সকল সময় তাহার কাছে বাইতে ভয় করে, পাছে সে বিরক্ত হইয়া তিরস্কার করিয়া উঠে। তদভিন্ন সন্ধ্যাবেলা তাহার নিকট কাহারও ঘোষিবার জো ছিল না, সে মাতাল হইয়া যাহা ইচ্ছা তাই করিত। স্নাহা হউক, কর্ণার মুখ দিনে দিনে भलिन श्ब्रा श्रानिळऊ लाशिल । अलौक कठंनना वा नाभाना अछिधान वाडौठ श्रमा কোনো কারণে কর্ণার চক্ষে প্রায় জল দেখি নাই— এইবার ঐ অভাগিনী আন্তরিক মনের কন্টে কাঁদিল। ছেলেবেলা হইতেই সে কখনও অনাদর উপেক্ষা সহ্য করে নাই, আজ আদর করিয়া তাহার অভিমানের আশ্রম মছাইবার আর কেহই নাই। অভিমানের প্রতিদানে তাহাকে এখন বিরক্তি সহ্য করিতে হয়। যাহা হউক, কর্ণা আর বড়ো একটা খেলা করে না, বেড়ায় না, সেই পাখিটি লইয়া অন্তঃপরের বাগানে বসিয়া থাকে। নরেন্দ্র মাঝে মাঝে কলিকাতায় গেলে দেখিয়াছি এক-একদিন কর্ণা সমস্ত জ্যোৎস্নারাত্রি বাগানের সেই বাঁধা ঘাটটির উপরে শ্যইয়া আছে, কত কী ভাবিতেছে জানি না— কুমে তাহার নিদ্রাহীন নেরের সম্মখে দিয়া সমস্ত রান্ত্রি প্রভাত হইয়া গিয়াছে। নবম পরিচ্ছেদ নরেন্দ্র যেমন অর্থ ব্যয় করিতে লাগিল, তেমনি ঋণও সঞ্চয় করিতে লাগিল। সে নিজে এক পয়সাও সঞ্চয় করিতে পারে নাই, টাকার উপর তাহার তেমন মায়াও জন্মে নাই, তবে এক— পরিবারের মুখ চাহিয়া লোকে অর্থ সঞ্চয়ের চেষ্টা করে, তা নরেন্দ্রের সে-সকল খেয়ালই আসে নাই। একট-আধটা করিয়া যথেষ্ট ঋণ সঞ্চিত হইল। অবশেষে এমন হইয়া দাঁড়াইয়াছে যে, ঘর হইতে দুটা-একটা জিনিস বন্ধক রাখিবার প্রয়োজন হইল । কর্ণার শরীর অসন্থে হইয়াছে। অনর্থক কতকগলো অনিয়ম করিয়া তাহার পীড়া উপস্থিত হইয়াছে। নরেন্দ্র কহিল সে দিবারায় এক পীড়া লইয়া লাগিয়া থাকিতে পারে না ; তাই বিরক্ত হইয়া কলিকাতায় চলিয়া গেল। এ দিকে কর্ণার তত্ত্বাবধান করে কে তাহার ঠিক নাই ; পণ্ডিতমহাশয় যথাসাধ্য করতে লাগিলেন, কিন্তু তাহাতেই বা কী হইবে। কর্ণা কোনো প্রকার ঔষধ খাইতে চায় না, কোনো নিয়ম পালন করে না। কর্ণায় পীড়া বিলক্ষণ বাড়িয়া উঠিল পণ্ডিতমহাশয় মহা বিব্রত হইয়া নরেন্দ্রকে আসিবার জন্য এক চিঠি লিখিলোঁ। নরেন্দ্র আসিল, কিন্তু কর্ণার পীড়াবন্ধির সংবাদ পাইয়া নয়, কলিকাতায় ীিয়া তাহার এত খণবন্ধি হইয়াছে যে চারি দিক হইতে পাওনাদারেরা তাহার নামে নালিশ আরম্ভ করিয়াছে, 38ఆ গল্পগুচ্ছ नष्ठिक छारणा नम्र नाथब्रा नखन्छ cनथान इद्देण्ङ जब्रिग्ना नप्लिज । নরেন্থের এবার কিছ ভয় হইয়াছে, দেশে ফিরিয়া আসিয়া ঘরে স্বার স্বন্ধে করিয়া বসিয়া আছে। এবং মদের পাত্রের মধ্যে মনের সমুদয় আশঙ্কা ডুবাইয়া রাখিবার চেষ্টা कर्गब्रटठरस्य । चाब्र काशन्त्र नरण्त्र ८मथा करब्र नाई, कधा करए नाएँ, डाशब्र प्न घब्राप्लेष्ठ कभशब्रeि atषण कब्रिवाब्र जा नाई। नरब्रन्छ त्यब्रन ब्रदणले ७ वञ्चन कथाब्र कथाम्न বিরক্ত হইয়া উঠিতেছে, চাকর-বাকরেরা তাহার কাছে ঘে"বিতেও সাহস করে না । পীড়িতা করলো খাদ্যাদি গছোইয়া ধীরে ধীরে সে ঘরে প্রবেশ করিল ; নরেন্দ্র মহা রক্ষে হইয়া তাহাকে জিজ্ঞাসা করিল যে, কে তাহাকে সে ঘরে আসিতে কহিল। এ কথার উত্তর আর কী হইতে পারে। তাহার পরে পিশাচ যাহা করিল তাহা কলপনা করিতেও কষ্ট বোধ হয়— পীড়িতা করশোকে এমন নিষ্ঠর পদাঘাত করে যে, সে সেইখানেই মাছিত হইয়া পড়িল। নরেন্দ্র সে ঘর হইতে অন্যত্র চলিয়া গেল। অলপ দিনের মধ্যে করশোর এমন আকার পরিবতন হইয়া গিয়াছে যে, তাহাকে দেখিলে সহসা চিনিতে পারা যায় না। তাহার সে শীর্ণ বিবণ বিষম মন্থখানি দেখিলে এমন মায়া হয় যে, কী বলিব! নরেন্দ্র এবার তাহার উপর যত দরে অত্যাচার করিবার তাহা করিতে আরম্ভ করিয়াছে। সরলা সমস্তই নীরবে সহ্য করিতেছে, একটি কথা কহে নাই, নরেন্দের নিকটে এক মহেতের জন্য রোদনও করে নাই। ७कमिन टकवठा छठान्ठ कथ नाईय़ा अरनक क्रण नहब्रटन्छब्र भट्टषव्र नाप्न काश्ब्रिा काङ्ग्निा छिडळाना कब्रिग्नाझिल, “वाघि उाभाग्न कौ कर्गब्रग्नाछि ।” নরেন্দ্র তাহার উত্তর না দিয়া অন্যর চলিয়া যায়। দশম পরিচ্ছেদ একবার ঋণের আবত-মধ্যে পড়িলে আর রক্ষা নাই। যখনই কেহ নালিশের ভয় দেখাইত, নরেন্দ্র তখনই তাড়াতাড়ি অন্যের নিকট হইতে অপরিমিত সদে ঋণ করিয়া পরিশোধ করিত। এইরপে আসল অপেক্ষা সদ বাড়িয়া উঠিল। নরেন্দ্র এবার অত্যন্ত বিরত হইয়া পড়িল। নালিশ দায়ের হইল, সমনও বাহির হইল। একদিন প্রাতঃকালে শুভ মহেনতে নরেন্দের নিদ্রা ভঙ্গ হইল ও ধীরে ধীরে শ্ৰীঘরে বাস করিতে চলিলেন। ८वकाब्रि कब्रह्णा ना थाeब्रा, ना माGब्रा, काँौमग्ना-काफ़ेिब्रा ७ीकाकाव्र कब्रिग्ना मिल । কী করিতে হয় কিছুই জানে না, অধীর হইয়া বেড়াইতে লাগিল। পণ্ডিতমহাশয় এ কুসংবাদ শুনিয়া অত্যন্ত ব্যস্ত হইয়া পড়িলেন। কিন্তু কী করিতে হইবে সে বিষয়ে তাঁর করলো অপেক্ষা অধিক জানিবার কথা নহে। অনেক ভাবিয়া-চিন্তিয়া নিধিকে छाकिब्रा नाठादेय्लन ; निषि छिनिननष्ठ विक्लग्न कब्रिग्ना थाब्र ऋषिट्ठ गब्राधण मिण । এখন বিক্রয় করে কে। সে স্বয়ং তাহার ভার লইল। কর্ণার অলংকার অল্পই ছিল— ऋबहे नत्त्वन्छ ठाशब्र अधिकारण बन्थक निम्नारह ७ विङग्न कब्रिब्राटह, बाश-कष्ट्र অবশিষ্ট ছিল সমস্ত আনিয়া দিল। নিধি সেই সমদের অলংকার ও অন্যান্য গাহপথ্য দ্রব্য অধিকাংশ নিজে যৎসামান্য মলো, কোনো কোনোটা বা বিনা মলেই গ্রহণ काव्रण ● चर्याभक बिक्वग्न कब्रिज ।। **ि७ठभशालब्र ८डा काँीमण्ठ बनिटनन, छान्न करक করগো 384 कब्रदना अक्षौब्र एऐब्रा ऐठेिण । बिढमा कब्रिब्रा बादा-किह्द नाeब्रा ८गज ठादार छनन्छिछDDDD DDDD DDD DDDD DDDDD DD DBSBDD DBB BBBB BBBS করিয়া দিলেন। নরেন্দ্র কারাগার হইতে মত হইল, কিন্তু ৰণ হইতে মন্ত হইল না। छमछिम्ब ५३ घणेनाग्न ठाशन्न किङ्दधाद्य णिचकाe एहेण ना । प्य ब्रकम कब्रिब्रादे श्छेक-ना ८कन, ७थन भन नाश्रण डाहाब्र आब्र छटल ना । कन्नदनाब्र टछि किञ्चदधाद्य जनग्न एग्न नाहैं, कब्रह्मणा गाइब्थिा छवानि ८कन अभन कर्गव्रब्रा विक्लग्न कब्रिज ठाशदे जदेब्रा नद्वग्नन्छ कब्रट्नाटक যথেষ্ট পীড়ন করিয়াছে। গদাধর ও স্বরুপ এখানে আসিয়াও জটিয়াছে। সেবারকার প্রহারের পরও গদাধরের অন্তঃপারসংস্কার-প্রিয়তা কিছুমাত্র কমে নাই, বরং বন্ধি পাইয়াছে। যেখানেই যাউক-না কেন সেখানেই তাহার ঐ চিন্তা, নরেন্দ্রের দেশেও তাঁহার সেই উদ্দেশ্যেই আগমন। ইচ্ছা আছে এখানেও দই-একটি সং উদাহরণ রাখিয়া বাইবেন। পবেপরিচিত বন্ধদের পাইয়া নরেন্দ্র বিলক্ষণ আমোদ করিতে লাগিলেন। স্বরপ ও গদাধরের নিকট আরও অনেক ঋণ করিলেন। তাহারা জানিত না যে নরেন্দ্র লক্ষীভ্ৰষ্ট হইয়াছে, সতরাং বিশ্ববন্তচিত্তে কিঞ্চিৎ সদের আশা করিয়া ধার দিল । গদাধরের হতে এইবার একটি কাজ পড়িয়াছে। নরেন্দ্রের মখে সে কাতায়নী ঠাকুরানীর সমদের বক্তান্ত শনিতে পাইয়াছে, শনিয়া সে মহা জনলিয়া উঠিয়াছে। বিবাহিত সত্ৰী-পরিষের মধ্যে এত বয়সের তারতম্য কোনো হদয়সম্পন্ন মনয্যে সহ্য করিতে পারে না—বিশেষতঃ সমাজসংস্কারই যাহাদের জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য, সমাজের এ-সকল অন্যায় অবিচার কোনো মতেই সহ্য করিতে পারে না। ইহা সংশোধনের জন্য, এ প্রকার অন্যায়রপে বিবাহিত সীলোকদিগের কষ্ট নিবারণের জন্য সংস্কারকদিগের সকল প্রকার ত্যাগ স্বীকার করা কতব্য, এবং আমাদের কাত্যায়নী দেবীর উদ্ধারের জন্য গদাধর সকল প্রকার ত্যাগ স্বীকার করিতেই প্রস্তুত আছেন। আর, যখন স্বরপেবাব তাঁহার ক্ষুদ্র কবিতাবলী পন্তেকাকারে মল্লিত করেন, তাহার মধ্যে রাহনগ্রাসে চন্দ্র’ নামে একটি কবিতা পাঠ করিয়াছিলাম। তাহাতে, যে বিধাতা কুসমে কীট, চন্দ্রে কলঙ্ক, কোকিলে কুরপে দিয়াছেন, তাঁহাকে যথেষ্ট निन्ना कब्रिग्ना ७ीकीछे विवाश्वणfना लिथिउ हिल ; आभग्ना प्लान्टन नन्थान जहैब्रा श्रानिम्नाङ्ञिाध त्य, उाझा काउाझनौ ठाकूज्ञानौटकहे जका कीब्रज्ञा जिथिठ इम्न । आनक সমালোচক নাকি তাহাতে আশ্রসেম্বরণ করিতে পারেন নাই। একাদশ পরিচ্ছেদ সমস্ত দিন মেঘ-মেঘ করিয়া আছে, বিন্দ-বিন্দর ব্যষ্টি পড়িতেছে, বাদলার আr বাতাস বহিতেছে। আজ কর্ণা মন্দিরে মহাদেবের পজা করিতে গিয়াছে। কাঁদরাकाफ़ेिब्रा थाषमा कव्रिण-एक्न उाशक जाद्र श्रषिक मिन अबन कन्छेदछाग काँक्रड मा इन्न ; ७यान्न ठाशन्न दव जन्ठान इऐट्य टन हवन ऋद्य झल्न, कना ना इम्न ; माग्नौजरन्अब्र बन्णषा प्वन आग्न सिकइ खाण मा कम्ब्र। कब्रक्षा धाथमा कौब्रज-ठाशब्र धब्रष इलेक, ज्राश श्ऐन नछान्द्र व्यक्राधरङ अकप्टेक जेष खाण कौऋठ भाऐरव । ఏBly গল্পগুচ্ছ এই ধরখের সময় নরেদের এক পত্র জন্মিল। অথের অনটনে সমস্ত খরচপত্র छजिप्व कौ कब्रिग्ना छाशञ्च ठेिक माहे। नळद्रटन्छब्र •एव“कान्न काल किष्टदधाद्य विगफ़ाग्न নাই। সেই সন্ধ্যাকালে গদাধর ও বরপের সহিত বসিয়া তেমনি মদটি খাওয়া আছে— তেমনি ঘড়িটি, ঘড়ির চেনটি, ফিনফিনে ধতিটি এসেনসটুকু, আতরটকু, সমস্তই আছে—কেবল নাই অথ। কর্ণার গাহস্থিাপটতা কিছমাত্র নাই ; তাহার সকলই উলটাপালটা, গোলমাল। গছাইয়া কী করিয়া খরচপত্র করিতে হয় তাহার কিছুই জানে না, হিসাবপত্রের কোনো সম্পপকাই নাই, কী করিতে যে কী করে তাহার ঠিক নাই। কর্ণা যে কী গোলে পড়িয়াছে তাহা সেই জানে। নরেন্দ্র তাহাকে কোনো সাহায্য করে না, কেবল মাঝে মাঝে গালাগালি দেয় মাত্র— নিজে যে কী দরকার, কী অদরকার, কী করিতে হইবে, কী না করিতে হইবে, তাহার কিছুই ভাবিয়া পায় না। কর্ণা রাত দিন ছেলেটি লইয়া থাকে বটে, কিন্তু কী করিয়া সন্তান পালন করিতে श्न उाश्ानि किय बलि खान ! ভবি বলিয়া বাড়ির যে পরাতন দাসী ছিল সে কর্ণার এই দদশায় বড়ো কট পাইতেছে। কর্ণাকে সে নিজহস্তে মানষে করিয়াছে, এইজন্য তাহাকে সে অত্যন্ত ভালোবাসে। নরেন্দ্রের অন্যায়াচরণ দেখিয়া সে মাঝে মাঝে নরেন্দ্রকে খবে মখেনাড়া দিয়া আসিত, হাত মুখ নাড়িয়া যাহা না বলিবার তাহা বলিয়া আসিত। নরেন্দ্র মহা রাষ্ট হইয়া কহিত, “তুই বাড়ি হইতে দরে হইয়া যা !" সে কাঁহত, “তোমার মতো পিশাচের হতে কর্ণাকে সমপণ করিয়া কোন প্রাণে চলিয়া যাই ?” অবশেষে নরেন্দ্র উঠিয়া দুই-চারিটি পদাঘাত করিলে পরে সে গর গর করিয়া বকিতে বকিতে কখনও বা কাঁদিতে কাঁদিতে সেখান হইতে চলিয়া যাইত। করিতে দিত না। কর্ণার এই অসময়ে সে যাহা করিবার তাহা করিয়াছে। ভবির আর কেহ ছিল না। যাহা-কিছল অর্থ সঞ্চয় করিয়াছিল, সমস্ত কর্ণার জন্য ব্যয় করিত। কর্ণা যখন একলা পড়িয়া পড়িয়া কাদিত তখন সে তাহাকে সাত্বনা দিবার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করিত। কর্ণাও ভবিকে বড়ো ভালোবাসিত ; যখন মনের কন্টের । উচ্ছাস চাপিয়া রাখিতে পারিত না, তখন দই হতে ভবির গলা জড়াইয়া ধরিয়া তাহার মাখের পানে চাহিয়া এমন কাঁদিয়া উঠিত যে, ভবিও আর অগ্রস-বরণ করিতে পারিত না; সে শিশর মতো কাঁদিয়া একাকার করিয়া দিত। ভর্বি না থাকিলে কর্ণা ও নরেন্দের কী হইত বলিতে পারি না। স্বাদশ পরিচ্ছেদ স্বয়পরাব কছেন যে, পথিবী তহিকে ক্ৰমাগতই জবালাতন করিয়া আসিয়াছে, এই निभिस 'भानदषक छिनि निभाछ खान करञ्जन । किन्छू आभद्रा बळम:ब्र छानि जाशटङ সংগ্রবে আসিয়াছেন তাহাকেই অবশেষে এমন গেলে ফেলিয়াছেন যে, কী বলিব। न्वब्रेणदायः नबना अयम कौवशीद्वन्चाग्न धन्न्न थाल्कन त्य, अठ्मक छाकाष्ठाकट्ठ७ কশো పిఠిపి ठाँदाग्न छेसब्र नाeब्रा वाग्न ना ७ नएना ‘स्रा'ि बाँजब्रा छर्धाकब्रा छेळन i एब्रट्टा अझनक नभ८ग्न ८काळनान्तिच्कब्रिणौब्र बाँथा घाट बृनिम्ना स्राकाळणब्र मिट्क क्राझिल्ला स्राप्छन, अथक যে সম্মখে পশ্চাতে পাবে মানৰ আছে তাহা টেরও পান নাই, অথবা বাহারা দাঁড়াইয়া আছে তাহারা টের পায় নাই যে তিনি টের পাইতেছেন। ঘরে বসিয়া আছেন uाभन नभळग्न एग्नाडा थांकिग्ना थार्गकग्ना वाश्रिव्र छजिब्रा यान । छिछाना कब्रिटल वळलन, জানালার ভিতর দিয়া তিনি এক খণ্ড মেঘ দেখিতে পাইয়াছিলেন, তেমন সন্দের মেঘ কখনও দেখেন নাই। কখনও কখনও তিনি যেখানে বসিয়া থাকেন, ভুলিয়া দই-এক খণ্ড তাঁহার কবিতা-লিখা কাগজ ফেলিয়া যান, নিকটস্থ কেহ সে কাগজ তাঁহার হাতে फूणिग्ना भिट्ज ठिन ७ ! ७ कक्काई नष्क्ष् बाणग्ना प्लेकुब्रा प्लुब्रा कब्रम्रा इप्लिग्ना ফেলেন। বোধ হয় তাঁহার কাছে তাহার আর একখানা নকল থাকে। কিন্তু লোকে বলে যে, না, অনেক বড়ো বড়ো কবির ঐরপে অভ্যাস আছে। মনের ভুল এমন আর কাহারও দেখি নাই। কাগজপত্র কোথায় যে কী ফেলেন তাহার ঠিক নাই, এইরূপ: কাগজপত্র যে কত হারাইয়া ফেলিয়াছেন তাহা কে বলিতে পারে। কিন্তু সখের বিষয়, ঘড়ি টাকা বা অন্য কোনো বহমাল্য দ্রব্য কখনও হারান নাই। স্বয়পবাবরে আরএকটি রোগ আছে, তিনি যে-কোনো কবিতা লিখেন তাহার উপরে বন্ধনীচিহ্নের भद्रथा ‘दिछन कानटन' वा 'शङौग्न निशौ८थ लिथिठ’ बलिग्ना जिथा थाळक। किन्छू आञि বেশ জানি যে, তাহা তাঁহার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সন্তানগণ-বারা পরিবত গহে দিবা বিপ্রহরের সময় লিখিত হইয়াছে। যাহা হউক, আমাদের বরপবাব বড়ো প্রেমিক वालि । उिनि यउ भौघ्र ८टाटभ बाँथा नटफ़न ७ऊ ठाब्र कठ्ठ नग्न ; ईशष्ठ छिनि७ कच्छे পান আর অনেককেই কন্ট দেন। স্বরাপবাল দিবারাত্রি নরেন্দ্রের বাড়িতে আছেন। মাঝে মাঝে আড়ালে আবডালে কর্ণাকে দেখিতে পান, কিন্তু তাহাতে বড়ো গোলযোগ বাধিয়াছে। তাঁহার মন অত্যন্ত খারাপ হইয়া গিয়াছে, ঘন ঘন দীর্ঘনিশ্বাস পড়িতেছে ও রাত্রে ঘমে হইতেছে না। তিনি ঘোর উনবিংশ শুতাব্দীতে জমিয়াছেন—সতরাং এখন তাঁহাকে কোকিলেও ঠোকরায় না, চন্দ্রকিরণও দগধ করে না বটে, কিন্তু হইলে হয় কাঁ— পথিবী তাঁহার চক্ষে অরণ্য, মশান হইয়া গিয়াছে। ফলে শকাইতেছে আবার ফটিতেছে, সর্ষে অস্ত যাইতেছে আবার উঠিতেছে, দিবস আসিতেছে ও বাইতেছে, মানষে শাইতেছে ও খাইতেছে, সকলই যেমন ছিল তেমনি আছে, কিন্তু হায়! তাঁহার शमाझ आब्र शाब्ठि नाट्टे, एमटश् वल नाई, नब्रट्न निष्ठा नाट्टे, शमञ्ज नदथ नाहै-७क कथाम्न, शाक्ष्ाटङ याझा इब्न ठाशरङ आग्न ठाश माहे ! ज्यन्त्रण कण्ठकार्याण कवज्रा লিখিয়া ফেলিল, তাহাতে যাহা লিখিবার সমস্তই লিখিল। তাহাতে ইঙ্গিতে कब्रुणाच्न नाप्न श्रृंबन्ठ गाँौंथल्ला निज। अव१ जधन्ठ ठिक ठाक कर्णब्रम्ला भवान्थ-माञक কাগজে পাঠাইয়া দিল। I է পরিচ্ছেদ مني هد তয়োদশ +. fk u BBBS D DDD D DDD BB BBB कब्रिग्ना चानिटठाइ रन नळब्र भाषा कथम७ नरक नाऐ, औदेवाब्र नाफारश् । व्यञcनवापदं δGΟ গল্পগুচ্ছ তাহার অভ্যাসানসোরে ইচ্ছাপবেক বা দৈবক্রমেই হউক, এক খণ্ড কাগজ ঘরে ফেলিয়া গিয়াছেন, নিধি সে কাগজটি কুড়াইয়া পাইয়াছে। সে কাগজটিতে গুটিদয়েক কবিতা লিখা আছে। অন্য লোক হইলে সে কবিতাগুলির সরল অথটি বঝিয়া পড়িত ও নিশ্চিন্ত থাকিত, কিন্তু বন্ধিমান নিধি সেরাপ লোকই নহে। যদি বা তাহার কোনো গঢ় অর্থ না থাকিত তথাপি নিধি তাহা বাহির করিতে পারিত। তব ইহাতে তো কিছ ছিল। নিধির সে কবিতাগলি বড়ো ভালো ঠেকিল না। ট্যাকে গজিয়া রাখিল ও ভাবিল ইহার নিগঢ়ে তাহাকে জানিতে হইবে। অমন বন্ধিমান লোকের কাছে কিছুই ঢাকা থাকে না, ইঙ্গিতে সকলই বুঝিয়া লইল। চতুরতাভিমানী লোকেরা নিজবধির উপর অসন্দিগধরাপে নিভীর করিয়া এক-এক সময়ে যেমন সবনাশ ঘটায়, এমন আর কেহই নহে। দিদি, কেমন আছ দেখিতে আসিয়াছি বলিয়া নিধি করণার নিকট গিয়া উপস্থিত হইল। নিধি ছেলেবেলা হইতেই অনপের অন্তঃপরে যাইত ও কর্ণার মাকে মা বলিয়া ডাকিত। নিধি এখন মাঝে মাঝে প্রায়ই কর্ণা কেমন আছে দেখিতে আইসে। একদিন নরেন্দ্র কলিকাতায় গিয়াছে। নরেন্দ্র কবে কলিকাতা হইতে ফিরিয়া আসিবে, কর্ণা বরপবাবর নিকট ভবিকে জানিয়া আসিতে কহিল। নিধি আড়াল হইতে শুনিতে পাইল, মনে মনে কহিল, হ:হঃ– বঝিয়াছি, এত লোক থাকিতে স্বরপবাবকে জিজ্ঞাসা করিতে পাঠানো কেন । গদাধরবাবকে জিজ্ঞাসা করিলেও তো চলিত।’ একদিন কর্ণা ভবিকে কী কথা বলিতেছিল, দর হইতে নিধি শানিতে পাইল না, কিন্তু মনে হইল কর্ণা যেন একবার বরপবাবু বলিয়াছিল—আর-একটি প্রমাণ জটিল। আর একদিন নরেন্দ্র স্বরুপ ও গদাধর বাগানে বসিয়াছিল, কর্ণা সহসা জানালা দিয়া সেই দিক পানে চাহিয়া গেল, নিধি স্পষ্ট বুঝিতে পারিল যে, কর্ণা স্বরপেরই দিকে চাহিয়াছিল। নিধি এই তো তিনটি অকাট্য প্রমাণ পাইয়াছে, ইহা অন্য লোকের নিকট যাহাই হউক কিন্তু নিধির নিকট ইহা সমস্তই পরিকার প্রমাণ। শুদ্ধ ইহাই যথেষ্ট নহে, কর্ণা যে দিনে দিনে শীর্ণ বিষয় রাগণ হইয়া যাইতেছে, নিধি পাট বুঝিতে পারিল তাহার কারণ আর কিছুই নয়— স্বরপের তাবনা ! এখন বরাপের নিকট কথা আদায় করিতে হইবে, এই ভাবিয়া নিধি ধীরে ধীরে তাহার নিকট গিয়া উপস্থিত হইল। হঠাৎ গিয়া কহিল, “করণো তো, ভাই, তোমার জন্য একেবারে পাগল।” त्र्वब्रट्न ७८कवाळव्र छर्धाकझा छैठेिल । श्राशयाळम छैरकश्ञ शकँझा छिछाना कब्रिज, “झुध कौ कब्रिग्ना छानिटल।” निर्माक्ष धान-प्रदन कर्णाश्व्न, श्:-झदै, आधि उाञाटनग्न छिउच्नकाच्न कथा कौ कोब्रम्ना সন্ধান পাইলাম ভাবিয়া ভয় পাইতেছ? পাইবে বৈকি, কিন্তু নিধিরামের কাছে কিছুই ७एाइँटङ •ाम्न ना।' कश्डिन, “छानिजाम, अिक व्रकध्र कब्रिम्ना ।” বলিয়া চোখ টিপিতে টিপিতে চলিয়া গেল। তাহার পরদিন গিয়া আবার স্বরপকে কহিল, “করণার সহিত তুমি যে গোপনে গোপনে দেখা সাক্ষাৎ করিতেছ ईश नाङ्गन्छ बन ग़ैग्न नानाग्न ।” d .. করগো ఉ&సి স্বরুপ কহিল, “সেকি ! কর্ণার সহিত একবারও তো আমার দেখাসাক্ষাৎ কথাबाउ" इच्न नाइँ ।” নিধি মনে-মনে কহিল, ‘নিশ্চয় দেখাসাক্ষাৎ হইয়াছিল, নাহলে এত করিয়া তড়িাইবার চেষ্টা করিবে কেন। ইহাও একটি প্রমাণ হইল, কিন্তু আবার স্বরুপ যদি বলিত যে "হাঁ দেখা সাক্ষাৎ হইয়াছিল’ তবে তাহাও একটি প্রমাণ হইত। যাহা হউক, নিধির মনে আর সন্দেহ রহিল না। এমন একটি নিগঢ়ে বাতা নিধি আপনার বন্ধিকৌশলে জানিতে পারিয়াছে, এ কথা কি সে আর গোপনে রাখে। তাহার বন্ধির পরিচয় লোকে না পাইলে আর হইল কী। ‘তুমি যাহা মনে করিতেছ তাহা নয়, আমি ভিতরকার কথা সকল জানি’— চতুরতাভিমানী লোকেরা ইহা বাঝাইতে পারিলে বড়োই সন্তুষ্ট হয়। নিধির কাছে যদি বল যে, "রামহরিবাব বড়ো সংলোক অমনি নিধি চমকিয়া উঠিয়া জিজ্ঞাসা করিবে, কী বলিতেছ। কে সৎলোক। রামহরি বাবা ? ও—এমন করিয়া বলিবে যে তুমি মনে করিবে, এ ব্যকি রামহরিবাবর ভিতরকার কী একটা দোষ জানে। পীড়াপীড়ি করিয়া জিজ্ঞাসা করিলে কহিবে, সে অনেক কথা। নিধি সম্প্রতি যে গন্তে খবর পাইয়াছে তাহা পরামর্শ দিবার ছলে নরেন্দ্রকে বলিবে, এইরুপ মনে-মনে স্থির করিল। চতুদশ পরিচ্ছেদ কয় দিন ধরিয়া ছোটো ছেলেটির পীড়া হইয়াছে। তাহা হইবে না তো কী। কিছরই তো নিয়ম নাই। কর্ণা ডাক্তার ডাকাইয়া আনিল, ডাক্তার আসিয়া কহিল পীড়া শক্ত হইয়াছে। কর্ণা তো দিন রাত্রি তাহাকে কোলে করিয়া বসিয়া রহিল। পীড়া বাড়িতে লাগিল, কর্ণা কাঁদিয়া কাঁদিয়া সারা হইল। গ্রামের নেটিব ডাক্তার কপালীচরণবাব পীড়ার তত্ত্বাবধান করিতেছেন, তাঁহাকে ফি দিবার সময় তিনি কহিলেন, “থাক, থাক, পীড়া অগ্রে সারকে। পণ্ডিতমহাশয় বুঝিলেন, নরেন্দ্রদের দরবস্থা শুনিয়া দয়াদ্র ডাক্তারটি বুঝি ফি লইতে রাজি নহেন। দই বেলা তাঁহাকে ডাকাইয়া আনিলেন, তিনিও অম্লানবদনে আসিলেন। নরেন্দ্র এক্ষণে বাড়িতে নাই। ও পাড়ার পিতৃমাতৃহীন নাবালক জমিদারটি বসিয়াছেন। তাঁহারই সকন্ধে চাপিয়া নরেন্দ্র দিব্য আরামে আমোদ করিতেছেন এবং গদাধর ও বরপকে তাঁহারই হতে গচ্ছিত রাখিয়া নিশ্চিত হইবার চেষ্টা করিতেছেন। কিন্তু গদাধর ও বরপকে যে শীঘ্ন তাঁহার সকধ হইতে নড়াইবেন, তাহার জো নাই—গদাধরের একটি উদ্দেশ্য আছে, স্বরপেরও এক উদ্দেশ্য আছে। ছেলেটির পীড়া অত্যন্ত বাড়িয়া উঠিয়াছে। ডাক্তার ডাকিতে একজন লোক পাঠানো হইল। ডাক্তারটি তাহার হস্ত দিয়া, তাঁহার দ্য বেলার যাতায়াতের দরুন যাহা পাওনা আছে সমস্ত হিসাব সমেত এক বিল পাঠাইয়া দিলেন। ছেলেটি অবশ হইয়া পড়িয়াছে করণা তাহাকে কোলে করিয়া তাহার মাখের পানে চাহিয়া আছে। সকল কমে নিপুণ নিধি মাঝে মাঝে তাহার নাড়ি দেখিতেছে, কহিল নাড়ি অতিশয় ক্ষীণ হইয়া আসিয়াছে। আকুলহদয়ে সকলেই ডাক্তারের জন্য প্রতীক্ষা করিতেছে, S&షా গল্পগুচ্ছ এমন সময় বিল লইয়া সেই লোকটি ফিরিয়া আসিল। সকলেই সমস্বরে জিজ্ঞাসা করিল, ‘ডাক্তার কই ? সে সেই বিল হাজির করিল। সকলেই তো অবাক। মুখ চোখ শুকাইয়া পণ্ডিতমহাশয় তো ঘামিতে লাগিলেন ; নিধির হাত ধরিয়া কহিলেন, “७१थन छैvान्न कौ।" নিধি কহিল, “টাকার জোগাড় করা হউক।” সহসা টাকা কোথায় পাওয়া যাইবে। এ দিকে পীড়ার অবস্থা ভালো নহে, বত কালবিলম্বব হয় ততই খারাপ হইবে। মহা গোলযোগ পড়িয়া গেল, কর্ণা বেচারি কাঁদতে লাগিল। পণ্ডিতমহাশয় বিরত হইয়া বাড়ি ফিরিয়া আসিলেন, হাতে যাহাकिशद झिल श्रानिळलन । काष्ठाग्ननौ ठाकूब्रानौग्नेि छैोका वाश्ब्रि कब्रिग्ना निवाब्र नभन्न অনেক আপত্তি করিয়াছিলেন। পণ্ডিতমহাশয় বিস্তর কাকুতি মিনতি করিয়া তবে টাকা বাহির করেন। ভবি তাহার শেষ সম্প্রবল বাহির করিয়া দিল। অনেক কটে অবশেষে ডাক্তার আসিয়া উপস্থিত হইলেন। তখন রোগীর মন্মষের অকথা। ডাক্তারটি অঞ্চলান বদনে কহিলেন, “ছেলে বাঁচিবে না।” এমন সময় টলিতে টলিতে নরেন্দ্র ঘরে আসিয়া প্রবেশ করিলেন। ঘরে ঢকিয়া ঘরে যে কিসের গোলমাল কিছুই ভালো করিয়া বুঝিতে পারিল না। কিছুক্ষপ শন্যনেত্রে পণ্ডিতমহাশয়ের দিকে চাহিয়া রহিল, অবশেষে কী বিড় বিড় করিয়া বাঁকরা পণ্ডিতমহাশয়কে জড়াইয়া ধরিয়া মারিতে আরম্ভ করিল— পণ্ডিতমহাশয়ও মহা গোলযোগে পড়িয়া গেলেন। ডাক্তার ছাড়াইতে গেলেন, তাঁহার হাতে এমন একটি কামড় দিল যে রক্ত পড়িতে লাগিল। এইরুপ গোলযোগ করিয়া সেইখানে শাইয়া পড়িল । ক্ৰমে শিশরে মুখ নীল হইয়া আসিল। কর্ণা সমস্ত গোলমালে অধ-হতজ্ঞান হইয়া বালিশে ঠেস দিয়া পড়িয়াছে। ক্লমে শিশুর মৃত্যু হইল, কিন্তু দলবল কর্ণা তখন একেবারে অজ্ঞান হইয়া পড়িয়াছে। পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ আহা, বিষন্ন কর্ণাকে দেখিলে এমন কষ্ট হয় যে, ইচ্ছা করে প্রাণ দিয়াও তাহার মনের যন্ত্রণা দরে করি। কতদিন তাহাকে আর হাসিতে দেখি নাই। ভালো করিয়া আহার করে না, স্নান করে না, ঘমোয় না ; মলিন, বিবণ, মিরমাণ, শীর্ণ ; জ্যোতিহীন চক্ষ বসিয়া গিয়াছে ; মুখশ্রী এমন দীন করণ হইয়া গিয়াছে যে, দেখিলে মনে হয় না যে এ বালিকা কখনও হাসিতে জানিত। ভবির হতে যাহা-কিছল অর্থ ছিল সমস্ত প্রায় ফরাইয়া গিয়াছে, কী করিয়া সংসার চলিবে তাহার কিছুই ঠিক নাই। পণ্ডিতমহাশয়ের সাহায্যে কোনোমতে দিন চলিতেছে । নিধি সবরপের উল্লেখ করিয়া নরেন্দ্রকে জিজ্ঞাসা করিল, “সে বাবটি কী করে বলিতে পারো ।” নরেন্দ্র। কেন বলো দেখি । i নিধি। ও লোকটিকে আমার তো বড়ো ভালো ঠেকে না। নরেন্দ্র। কেন, কী হইয়াছে। J করণো b69 নিধি। না, কিছই হয় নাই, তবে কিনা- সে কথা থাক-বাবটির বাড়ি কোথায় । নরেন্দ্র। কলিকাতা । In নিধি। আমিও তাহাই ঠাওরাইয়াছিলাম, নাহলে এমন স্বভাব হইবে কেন । নরেন্দ্র। কেন, কী হইয়াছে, বলোই-না। নিধি। আমি সে কথা বলিতে চাহি না। কিন্তু উহাকে বাড়ি হইতে বাহির করিয়া দেও। o 驟 নরেন্দ্র অধীর হইয়া উঠিয়া কহিল, কী কথা বলিতেই হইবে। নিধি কহিল, “যাহা হইয়া গিয়াছে তাহার আর চারা নাই, কিন্তু সাবধান থাকিয়ো, ও লোকটি আর যেন বাড়ির ভিতরের দিকে না যায়।” নরেন্দ্র। সেকি কথা, বরপে তো বাড়ির ভিতরে যায় নাই। নিধি। সে কি তোমাকে বলিয়া গিয়াছে। নরেন্দ্র অবাক হইয়া নিধির মুখের দিকে চাহিয়া রহিল। নিধি কহিল, “আমি তো ভাই, আমার কাজ করিলাম, এখন তোমার যাহা কতব্য হয় করো।” নরেন্দ্র ভাবিল, এ-সকল তো বড়ো ভালো লক্ষণ নয়। স্বরুপ কয়দিন ধরিয়া ভাবিয়াছে যে, কর্ণা তাহার জন্য একেবারে পাগল এ কথা নিধি সহসা তাহাকে কেন কহিল। বঝিল, নিশ্চয় কর্ণা তাহাকে দিয়া বলিয়া পাঠাইয়াছে। বরপ ভাবিল, তবে আমিও তাহার প্রেমে পাগল এ কথাও তো তাহাকে জানানো উচিত। স্থির করিল, সুবিধা পাইলে নিজে গিয়া জানাইবে। জ্যোৎস্না রাত্রি। ছেলেবেলা কর্ণা যেখানে দিন-রাত্র খেলা করিয়া বেড়াইত সেই বাগানের ঘাটের উপর সে শ্যইয়া আছে, অতি ধীরে ধীরে বাতাসটি গারে লাগিতেছে। সেই জ্যোৎস্নারারির সঙ্গে, সেই মদ বাতাসটির সঙ্গো, সেই নারিকেলবনটির সঙ্গে তাহার ছেলেবেলাকার কথা এমন জড়িত ছিল, যেন তাহারা তার ছেলেবেলাকারই একটি অংশ। সেই দিনকার কথাগুলি, মশানে বায়-উচ্ছাসের ন্যায় কর্ণার প্রাণের ভিতর গিয়া হল হন করিতে লাগিল। যন্ত্রণায় কর্ণার বকে ফাটিয়া, বকের বাঁধন যেন ছিড়িয়া আশ্রর স্রোত উচ্ছসিত হইয়া উঠিল। বাগানের আর দুইজন লোক লুকাইয়া আছে, নরেন্দ্র ও স্বরুপ। নরেন্দ্র চুপিচুপি স্বরপের পশ্চাৎ পশ্চাৎ আসিয়াছে, দেখিবে বরাপ কী করে। कब्रह्मणा नहना हर्माषण ७कछन एलाक आनिष्ठरछ। 5र्धाकझा ऎठिंज, जिखाना করিল, “কেও।” त्र्वब्रन कश्णि, “आभि न्वद्भनफ़न्छ। निथिरक किल्ला ट्य कथा बाजन्ना नाठारना झईझाझिल उठाशा कि ऋाग्नथ नाई।” է: করলো তাড়াতাড়ি ঘোমটা টানিয়া চলিয়া যাইতেছে, এমন সময়ে নরেন্দ্র আর না থাকিতে পারিয়া বাহির হইয়া পড়িল। কর্ণা তাড়াতাজি অতঃপরে প্রবেশ করিল। নরেন্দ্র ভাবিল তাহাকে দেখিতে পাইয়াই কর্ণা ভয়ে পলাইয়া গেল বীৰ। । ఏ&8 গল্পগুচ্ছ ষোড়শ পরিচ্ছেদ नटङ्गन्ध्र कर्णाश्त्न, “क्ष्ठछाशनि, बाङ्ख्नि श्झेम्ला बा !” কর্ণা কিছই কহিল না। "এখনই দরে হইয়া যা!” কর্ণা নরেন্দ্রের মুখের দিকে চাহিয়া রহিল। নরেন্দ্র মহা রাষ্ট হইল, অগ্রসর হইয়া কঠোর ভাবে কর্ণার হস্ত ধরিল। কর্ণা কহিল, “কোথায় যাইব ।” নরেন্দ্র কর্ণার কেশগুচ্ছ ধরিয়া নিষ্ঠর ভাবে প্রহার করিতে লাগিল; কহিল, এখনই দরে হইয়া যা।” ভবি ছটিয়া আসিয়া কহিল, “কোথায় দরে হইয়া যাইবে।” এবং স্মরণ করাইয়া দিল যে, ইহা তাহার পিতার বাটী নহে। নরেন্দ্র তাহাকে উচ্চতম স্বরে কহিল, “তুই কী করিতে আইলি।” ভবি মাঝে পড়িয়া করশোকে ছাড়াইয়া লইল ও কহিল, “আমার প্রাণ থাকিতে কেমন তুমি কর্ণাকে অনপের বাটী হইতে বাহির করিতে পারো দেখি !" নরেন্দ্র ভবিকে যতদরে প্রহার করিবার করিল ও অবশেষে শাসাইয়া গেল যে, “পলিসে খবর পাঠাইয়া দিই গে।” ভাব কহিল, “ইহা তো আর মগের মলেকে নহে।” নরেন্দ্র চলিয়া গেলে পর কর্ণা ভবির গলা জড়াইয়া ধরিয়া কাঁদতে কাঁদিতে কহিল, “ভবি, আমাকে রাস্তা দেখাইয়া দে, আমি চলিয়া যাই।” ভবি কর্ণাকে বনকে টানিয়া লইয়া কহিল, "সেকি মা, কোথায় যাইবে। আমি যতদিন বাঁচিয়া আছি ততদিন আর তোমাকে কোনো ভাবনা ভাবিতে হইবে না।” বলিতে বলিতে ভবি কাঁদিয়া ফেলিল। কর্ণা আর একটি কথা বলিতে পারিল না, তাহার বিছানার উপর ঝাঁপাইয়া পড়িল, বাহতে মুখ ঢাকিয়া কাঁদতে লাগিল । সমস্ত দিন কর্ণা কিছু খাইল না, ভবি আসিয়া কত সাধ্যসাধনা করিল, কিন্তু কোনোমতে তাহাকে খাওয়াইতে পারিল না। . সমস্ত দিন তো কোনো প্রকারে কাটিয়া গেল। সন্ধ্যা হইল, পল্লীর কুটীরে কুটীরে সন্ধ্যার প্রদীপ জবালা হইয়াছে, পাজার বাড়িতে শঙ্খ ঘণ্টা বাজিতেছে। সমস্ত দিন কর্ণা তাহার সেই শয্যাতেই পড়িয়া আছে, রারি হইলে পর সে ধীরে ধীরে উঠিয়া অন্তঃপরের সেই বাগানটিতে চলিয়া গেল। সেখানে কতক্ষণ ধরিয়া বসিয়া রহিল, রাত্রি আরও গভীরতর হইয়া আসিয়াছে। পথিবীকে ঘমে পাড়াইয়া নিশীথের বায় অতি ধীর পদক্ষেপে চলিয়া যাইতেছে: এমন শান্ত ঘনমন্ত গ্রাম যে মনে হয় না, এ গ্রামে এমন কেহ আছে যে এমন রাত্রে মমভেদী যন্ত্রণায় অধীর झद्देम्रा बन्नणटक ठाइदान कर्गब्राज्ररह ! কর্ণার বিজন ভাবনায় সহসা ব্যাঘাত পড়িল। কর্ণা সহসা দেখিল নরেন্দ্র DBBBS BD BB BBB BBD DuD DDDS DBBD DDD DDD DDBBS व्वट्ज़ काइल, “श्राधि फेहाँटक धष्ठि घटग्न थछिब्रा बफ़ादेरठाइ, छैन किना यागारन चानिम्ना बनिग्ना आटइन ! आछ ब्राळ ट्य वटफ़ा यागाटन स्रानिम्ना बना झईब्राह्छ ? স্বরপে তো এখানে নাই।” o করুণা 266; কর্ণা মনে করিল এইবার উত্তর দিবে, নিরপরাধিনীর উপর কেন নরেদের এইরুপ সংশয় হইল—জিজ্ঞাসা করিবে—কিন্তু কী কথা বলিবে কিছুই ভাবিয়া পাইল না। নরেন্দ্রের ভাব দেখিয়া সে ভয়ে আকুল হইয়া একটি কথাও বলিতে পারিল না । নরেন্দ্র কহিল, “আয়, বাড়িতে আর এক মহেতেও থাকিতে পাইবি না।” কর্ণা একটি কথাও কহিল না, কিসের অলক্ষিত আকর্ষণে যেন সে অগ্রসর হইতে লাগিল। একবার সে মনে করিল বলিবে ‘ভবির সহিত দেখা করিয়া বাই', কিন্তু একটি কথাও বলিতে পারিল না। গহের বার পর্যন্ত গিয়া পেপছিল, ব্যাকুল হাদয়ে দেখিল সম্মখে দিগন্তপ্রসারিত মাঠে জনপ্রাণী নাই। মনে করিল— সে নরেন্দ্রের পায়ে ধরিয়া বলিবে তাহার বড়ো ভয় হইতেছে, সে বাইতে পারবে ना, टन नथ घाल्ले किछ्दई छिटन ना । किन्छू भदथ कथा नब्रिल ना । शौ८ब्र शौ८व्र व्याळब्रब्र বাহিরে গেল। নরেন্দ্ৰ কহিল, “কালি সকালে তোকে যদি গ্রামের মধ্যে দেখিতে পাই তবে পলিসের লোক ডাকাইয়া বাহির করিয়া দিব।” թ: বার রন্ধ হইল, ভিতর হইতে নরেন্দ্র তালা বন্ধ করিল। কর্ণার মাথা ঘুরিতে লাগিল, কর্ণা আর দাঁড়াইতে পারিল না, অবসন্ন হইয়া প্রাচীরের উপর পড়িয়া গেল। কত ক্ষণের পর উঠিল। মনে করিল, ভবির সহিত একবার দেখা হইল না ? কতক্ষণ পর্যন্ত শান্য নয়নে বাড়ির দিকে চাহিয়া রহিল। প্রাচীরের বাহির হইয়া দেখিল— তাহার সেই বাগানের গাছপালা নীরবে দাঁড়াইয়া আছে। দেখিল—দ্বিতীয় তলের যে গহে তাহার পিতা থাকিতেন, যে গহে সে তাহার পিতার সহিত কতদিন খেলা করিয়াছে, সে গাহের বার সম্পণে উলমন্ত, ভিতরে একটি ভন্ন খাট পড়িয়া আছে, তাহার সম্মখে নিস্তেজ একটি প্রদীপ জলিতেছে। কত ক্ষণের পর নিশ্বাস ফেলিয়া কর্ণা ফিরিয়া দাঁড়াইল। গ্রামের পথে চলিতে আরম্ভ করিল। কতক দরে গিয়া আর একবার ফিরিয়া চাহিল, দেখিল সেই বিজন কক্ষে একটিমাত্র মন্মষে প্রদীপ জলিতেছে। ছেলেবেলা যাহারা কর্ণাকে সাথে খেলা করিতে দেখিয়াছে তাহারা সকলেই আপন কুটীরে নিশ্চিত হইয়া ঘুমাইতেছে। তাহাদের সেই কুটীরের সম্মখে দিয়া ধীরে ধীরে কর্ণা চলিয়া গেল। আর একবার ফিরিয়া চাহিল, দেখিল তাহার পিতার কক্ষে এখনও সেই প্রদীপটি জবলিতেছে । সেই গভীর নীরব নিশীথে অসংখ্য তারকা নিমেষহীন স্থির নেরে নিনে চাহিয়া দেখিল—দিগন্তপ্রসারিত জনশন্য অন্ধকার মাঠের মধ্য দিয়া একটি রমণী একাকিনী চলিয়া যাইতেছে। সপ্তদশ পরিচ্ছেদ পণ্ডিতমহাশয় সকালে উঠিয়া দেখিলেন কাত্যায়নী ঠাকুরানী গহে নাই। ভাবিলেন গহিণী বুঝি পাড়ার কোনো মেয়েমহলে গলপ ফাঁদতে গিয়াছেন। অনেক বেলা হইল, তথাপি তাঁহার দেখা নাই। তা, মাঝে মাঝে প্রায়ই তিনি এরপ করিয়া थात्कन । किन्छू त्रा-छठधक्ष्ाणङ्ग आब्र प्र्याणकण न्थच्न थाकिरङ ऋब्रिट्जन मा, एक्षाटन పె64, গল্পগুচ্ছ বেখানে ঠাকুরানীর বাইবার সম্ভাবনা ছিল খোজ লইতে গেলেন। মেয়েরা চোখটেপটিপি করিয়া হাসিতে লাগিল; কহিল, মিনসা এক দণ্ড আর কাত্যায়নীপিসিকে ছাড়িয়া থাকিতে পারে না! কোথায় গিয়াছে বুঝি, তাই খুজিতে বাহির হইয়াছেন। কিন্তু পরষ মানুষের অতটা ভালো দেখায় না। তাহার মানে, তাঁহাদের স্বামীরা অতটা করেন না, কিন্তু যদি করিতেন তবে বড়ো সখের হইত। যেখানে কাত্যায়নীর যাইবার সম্পভাবনা ছিল সেখানে তো পণ্ডিতমহাশয় খুজিয়া পাইলেন না, যেখানে সম্ভাবনা ছিল না সেখানেও খুজিতে গেলেন—সেখানেও পাইলেন না। এই তো পণ্ডিতমহাশয় ব্যাকুল হইয়া মহেরেমহে নস্য লইতে লাগিলেন। উধৰ বাসে নিধিদের বাড়ি গিয়া পড়িলেন। নিধি জিজ্ঞাসা করিল, ঘোষেদের বাড়ি দেখিয়াছেন ? মিত্রদের বাড়ি দেখিয়াছেন ? দত্তদের বাড়ি খোঁজ লইয়াছেন ? এইরপে মনুখন্জে চাটজে বাড়জে ইত্যাদি যত বাড়ি জানিত প্রায় সকলগুলিরই উল্লেখ করিল, কিন্তু সকল-তাতেই অমঙ্গল উত্তর পাইয়া কিয়ৎক্ষণের জন্য ভূবিতে লাগিল। অবশেষে নিধি নিজে নরেন্দ্রের বাড়ি গিয়া উপস্থিত হইল। শনা গহ যেন হাঁ-হাঁ করিতেছে। বিষন্ন বাড়ির চারি দিক যেন কেমন অন্ধকার হইয়া আছে, একটা কথা কহিলে দশটা প্রতিধৰনি যেন ধমক দিয়া উঠিতেছে। একটা চাকর রন্ধ বারের সম্মুখে সোপানের উপর পড়িয়া পড়িয়া ঘমাইতেছিল, নিধি তাহাকে জাগাইয়া জিজ্ঞাসা করিল, “গদাধরবাব কোথায়।” সে কহিল, “কাল রাত্রে কোথায় চলিয়া গিয়াছেন, আজও আসেন নাই— বোধহয় কলিকাতায় গিয়া থাকিবেন।” নিধি ফিরিয়া আসিয়া পণ্ডিতমহাশয়কে কহিল, “যদি খুজিতে হয় তো কলকাতায় গিয়া খোঁজো গে।” পণ্ডিতমহাশয় তো এ কথার ভাবই বুঝিতে পারিলেন না। নিধি কহিল, “গদাধর নামে একটি বাব আসিয়াছেন, দেখিয়াছ ?” পণ্ডিতমহাশয় শান্যগভ একটি হাঁ দিয়া গেলেন। নিধি কহিল, "সেই ভদ্রলোকটির সঙ্গে কাত্যায়নীপিসি কলিকাতা ভ্রমণ করিতে গিয়াছেন।” পণ্ডিতমহাশয়ের মুখ শুকাইয়া গেল, কিন্তু তিনি এ কথা কোনোরুমেই বিশ্বাস করিতে চাহিলেন না। তিনি কহিলেন, তিনি নন্দীদের বাড়ি ভালো করিয়া দেখেন নাই, সেখানেই নিশ্চয় আছেন। এই বলিয়া নন্দী আদি করিয়া আর-একবার সমস্ত বাড়ি অন্বেষণ করিয়া আসিলেন, কোথাও সন্ধান পাইলেন না। লানবদনে বাড়িতে शिीव्रझा उन्नाजिएजन । निधि कश्ठिा, “आधि एडा ऋबई बजिब्राछिटाञ त्य, ७ब्रुण घाँप्नेहव।” কিন্তু তিনি পাবে কোনোদিন এ সম্বন্ধে কোনো কথা বলেন নাই। যে নিজে গিয়াছেন এমন নহে, যত-কিছ গহনাপত্র টাকাকড়ি ছিল তাহার সমস্ত লইয়া গিয়াছেন। বার রন্থে করিয়া পণ্ডিতমহাশয় সমস্ত দিন কাঁদিলেন। निथि कौशल, “४ नयन्ङई नदब्रटन्छब्र बङ्गवळणद्य शैब्राप्छ्, ठाशब्र मारभ नालिण कब्रा নিধি এরপে একটা কাজ হাতে পাইলেই বীচয়া যায়। পণ্ডিতমহাশয় কছিলেন, কর্ণা । ** वाश ठाँशाब्र छाcगा झ्णि इथैग्नाटइ, ठाई वलिग्ना ठिान नट्ब्रटन्छब्र नात्र नाजिण कब्रिटङ পারেন না । * '. নিধিকে লইয়া পণ্ডিতমহাশয় কলিকাতায় আসিলেন। একদিন দই প্রহরের রৌদ্রে পণ্ডিতমহাশয়ের প্রান্ত পথল দেহ কালীঘাটের ভিড়ের তরঙ্গে হাবডুব খাইতেছে, এমন সময়ে সম্মখে একটি সেকেনড ক্লাসের গাড়ি আসিয়া দাঁড়াইল । পণ্ডিতমহাশয়ের মন্দির দেখা হইয়াছে, কালীঘাট হইতে চলিয়া যাইবেন তাহার চোটা করিতেছেন। গাড়ি দেখিয়া তাহা অধিকার করিবার আশয়ে কোনো প্রকারে ভিড় ঠেলিয়া-ঠালিয়া সেই দিকে উপস্থিত হইলেন। দেখিলেন গাড়ি হইতে প্রথমে একটি বাব ও তাঁহার পরে একটি রমণী হাসিতে হাসিতে, পান চিবাইতে চিবাইতে, গাড়ি হইতে নামিলেন ও হেলিতে-দলিতে মন্দিরাভিমুখে চলিলেন। পণ্ডিতমহাশয় সে রমণীকে দেখিয়া অবাক হইয়া গেলেন । সে রমণীটি তাঁহারই কাত্যায়নী ঠাকুরানী ! তাড়াতাড়ি ছটিয়া তাহার পাবে আসিয়া উপস্থিত হইলেন—কাত্যায়নী তাঁহার উচ্চতম স্বরে কহিলেন, “কে রে মিনাসে। গায়ের উপর আসিয়া পড়িস যে ! মরণ ठाव्र-र्गक !” এইরুপ অনেকক্ষণ ধরিয়া নানা গালাগালি বর্ষণ করিয়া অবশেষে পণ্ডিতমহাশয় তাঁহার চোখের মাতা খাইয়াছেন কি না ও বড়ো বয়সে এরপে অসদাচরণ করিতে লজা করেন কি না জিজ্ঞাসা করিলেন। পণ্ডিতমহাশয় দুইটি প্রশেনর কোনোটির উত্তর না দিয়া হাঁ করিয়া দড়িাইয়া রহিলেন, তাঁহার মাথা ঘুরিতে লাগিল, মনে হইল যেন এখনি মাছিত হইয়া পড়িবেন। কাত্যায়নীর সঙ্গে যে বাব ছিলেন তিনি ছটিয়া আসিয়া তাঁহার স্টীকের বাড়ি পণ্ডিতমহাশয়কে দই একটা গোঁজামারিয়া ও বিজাতীয় ভাষায় যথেষ্ট মিস্ট সভাষণ করিয়া, ইংরাজি অধসফট স্বরে ‘পাহারাওয়ালা পাহারাওয়ালা’ করিয়া ডাকাডাকি করিতে লাগিলেন। d পাহারাওয়ালা আসিল ও পণ্ডিতমহাশয়কে ঘিরিয়া দশ সহস্ৰ লোক জমা হইল । বাব কহিলেন, এই লোকটি তাঁহার পকেট হইতে টাকা তুলিয়া লইয়াছে । পণ্ডিতমহাশয় ভয়ে আকুল হইলেন ও কাঁদো-কাঁদো স্বরে কহিলেন, “না বাবা, আমি লই নাই। তবে তোমার ভ্রম হইয়া থাকিবে, আর কেহ লইয়া থাকিবে ।” লাগিল— পণ্ডিতমহাশয় থতমত খাইয়া কাঁদিয়া ফেলিলেন। তাঁহার ট্যাঁকে যত টাকা তবে এই লও। আমি ব্রাহ্মণের ছেলে, তোমার পায়ে পড়িতেছি—আমাকে রক্ষা করো।” ইহাতে তাঁহার দোষ অধিকতর সপ্রমাণ হইল, পাহারাওয়ালা তাঁহার হাত ধরিল। এমন সময়ে নিধি চোখ মাখ রাঙাইয়া ভিড় ঠেলিয়া আসিয়া উপস্থিত হইল।। নিধির এক-সট চাপর্কন পেন্টলেন ছিল, কলিকাতায় সে চাপকান-পেল্টলেন ব্যতীত । घब्र इङ्ग्रेटउ बाइब्र इदेउ ना। झाश्रकान-प्•ान्छे जन-भद्रा मांश आजिल्ला बथन गथ्र्डौब्र त्र्वन कश्लि एकान शान्न छ ? उथन अर्धान फ्राब्रि निकं न्ठथ श्ब्रा दशल । निथि •रकछे इदेउ ७क प्रेका काणज ७ ८णनभिज बाइब्र कब्रक्षा भाशब्राखब्रालाहक छिछाना ఏ& ty গল্পগুচ্ছ করিল তাহার নম্বর কত ও সে কোন থানায় থাকে, এবং উত্তর না পাইতে পাইতে সম্মুখস্থ ছ্যাকরা গাড়ির কোচম্যানকে জিজ্ঞাসা করিল, “লালদিঘির এন্ড্রসোহেবের বাড়ি জানো ?” পাহারাওয়ালা ভাবিল না জানি এন্ড্রসোহেব কে হইবে ও দাড়ি চুলকাইতে চুলকাইতে বাব বাবা করিতে লাগিল। নিধি তৎক্ষণাৎ ফিরিয়া দাঁড়াইয়া সেই বাবটিকে জিজ্ঞাসা করিল, “মহাশয়, আপনার বাড়ি কোথায়। নাম কী।” বাবটি গোলমালে সট করিয়া সরিয়া পড়িলেন এবং সে পাহারাওয়ালাটিও অধিক উচ্চবাচ্য না করিয়া ভিড়ের মধ্যে মিশিয়া পড়িল। ভিড় চুকিয়া গেল, নিধি ধরাধরি করিয়া পণ্ডিতমহাশয়কে একটি গাড়িতে লইয়া গিয়া তুলিল এবং সেই রাত্রেই দেশে যাত্রা করিল। বেচারি পণ্ডিতমহাশয় লাজায় দুঃখে কম্পে বালকের ন্যায় কাঁদিতে লাগিলেন। নিধি কহিল, কাত্যায়নীর নামে গহনা ও টাকা-চুরির নালিশ করা যাক। পণ্ডিত মহাশয় কোনোমতে সক্ষমত হইলেন না। k দেশে ফিরিয়া আসিয়া পণ্ডিতমহাশয় কর্ণার সমুদয় বক্তান্ত শুনিলেন। তিনি কহিলেন, “এ গ্রামে থাকিয়া আর কী করিব। শান্য গৃহ ত্যাগ করে কাশী চলিলাম। বিশ্বেশ্ববরের চরণে এ প্রাণ বিসজন করিব।” এই বলিয়া পণ্ডিতমহাশয় ঘর দয়ার সমস্ত বিক্রয় করিয়া কাশী চলিলেন । পাড়ার সমস্ত বালকেরা তাঁহাকে ঘিরিয়া দাঁড়াইল, অশ্রুপর্ণনয়নে তিনি সকলকে আদর করিলেন। এমন একটি বালক ছিল না যে তাঁহার মুখের পানে চাহিয়া কাঁদিয়া ফেলে নাই । এইরুপে কাঁদিতে কাঁদিতে পণ্ডিতমহাশয় গ্রাম ত্যাগ করিয়া চলিয়া গেলেন। অনেক লোক দেখিয়াছি কিন্তু তেমন ভালোমানুষ আর দেখিলাম না। নরেন্দ্রের বাড়িঘর সমস্ত নিলামে বিক্রীত হইয়া গিয়াছে। নরেন্দ্র গ্রাম ত্যাগ করিয়া কলিকাতায় চলিয়া গিয়াছে । কোথায় আছে কে জানে। অল্টাদশ পরিচ্ছেদ মহেন্দু চলিয়া গেলে রজনী মনে করিল, ‘আমিই বুঝি মহেন্দ্রের চলিয়া যাইবার কারণ " মহেন্দ্রের মাতা মনে করিলেন যে, রজনী বুঝি মহেন্দ্রের উপর কোনো ককশ ব্যবহার করিয়াছে; আসিয়া কহিলেন, “পোড়ারমুখী ভালো এক ডাকিনীকে ঘরে আনিয়াছিলাম!” l রজনীর অবশর আসিয়া কহিলেন, “রাক্ষসী, তুই এ সংসার ছারখার করিয়া ग्निर्गुळ !” 喻 রজনীর ননদ আসিয়া কহিলেন, “হতভাগিনীর সহিত দাদার কী কুক্ষণেই বিবাহ झद्देशाङ्किठन !” রজনী একটি কথাও বলিল না। রজনীর নিজেরই যে আপনার প্রতি দারণ ঘণা জন্মিয়াছিল, সেই ঘাপার যন্ত্রণায় সে মনে করিল—বঝি ইহার একটি কথাও করপো పాటs অন্যায় নহে। সে মনে করিল, যে তিরস্কার তাহাকে করা হইতেছে সে তিরস্কার বুঝি তাহার যথার্থই পাওয়া উচিত। রজনী কাহাকেও কিছু বলিল না, একবার কাঁদিলও না। এ কয়দিন তাহার খেী অতিশয় গম্ভীর— অতিশয় শাত-যেন মনে-মনে কী একটি সংকল্প করিয়াছে, মনে-মনে কী একটি প্রতিজ্ঞা বধিয়াছে। এই দুই মাস হইল মহেন্দ্র বিদেশে গিয়াছে— এই দুই মাস ধরিয়া রজনী যেন কী একটা ভাবিতেছিল, এত দিনে সে ভাবনা যেন শেষ হইল, তাই রজনীর মখে অতি গম্ভীর অতি শান্ত দেখাইতেছে । সন্ধ্যা হইলে ধীরে ধীরে সে মোহিনীর বাড়িতে গেল। মোহিনীর সহিত দেখা হইল, থতমত খাইয়া দড়িাইল । যেন কী কথা বলিতে গিয়াছিল, বলিতে পারিল না, বলিতে সাহস করিল না। মোহিনী অতি স্নেহের সহিত জিজ্ঞাসা করিল, “কী রজনী। কি বলিতে আসিয়াছিস ।” রজনী ভয়ে ভয়ে ধীরে ধীরে কহিল, "দিদি, আমার একটি কথা রাখতে হবে ।" মোহিনী আগ্রহের সঙ্গে কহিল, “কণী কথা বলো ৷” রজনী কতবার না বলি না বলি’ করিয়া অনেক পীড়াপীড়ির পর আস্তে আস্তে কহিল মোহিনীকে একটি চিঠি লিখিতে হইবে। কাহাকে লিখিতে হইবে । মহেন্দুকে ; কী লিখিতে হইবে । না, তিনি বাড়িতে ফিরিয়া আসন, তাহাকে আর অধিক দিন যন্ত্রণা ভোগ করিতে হবে না। রজনী তাহার দিদির বাড়িতে থাকিবে । বলিতে বলিতে রজনী কাঁদিয়া ফেলিল । উনবিংশ পরিচ্ছেদ জ্যৈষ্ঠ মাসের মধ্যাহ্ন। রৌদ্র ঝাঁ ঝাঁ করিতেছে। রাশি রাশি ধলি উড়াইয়া গ্রামের পথ দিয়া মাঝে মাঝে দই-একটা গোরুর গাড়ি মন্থর গমনে যাইতেছে। দই-একজন মাত্র পথিক নিভৃত পথে হন হন করিয়া চলিয়াছে। সতৰধ মধ্যাহ্নে কেবল একটি গ্রাম্য বাঁশির স্বর শনা যাইতেছে, বোধ হয় কোনো রাখাল মাঠে গোর ছাড়িয়া দিয়া গাছের ছায়ায় বসিয়া বাজাইতেছে । করুণা সমস্ত রাত চলিয়া চলিয়া শ্রান্ত হইয়া গাছের তলায় পড়িয়া আছে । করুণা-যে কোনো কুটীরে আতিথ্য লইবে, কাহারও কাছে কোনো প্রার্থনা করিবে, সে সবভাবেরই নয়। কী করিলে কি হইবে, কণী বলিতে হয়, কী কহিতে হয়, তাহার কিছল যদি ভাবিয়া পায়। লোক দেখিলে সে ভয়ে আকুল হইয়া পড়ে। এক-একজন করিয়া পথিক চলিয়া যাইতেছে, কর্ণার ভয় হইতেছে— ‘এইবার এই বুঝি আমার কাছে আসিবে, ইহার বুঝি কোনো দুরভিসন্ধি আছে! বেলা প্রায় তিন প্রহর হইবে, এখনও পর্যন্ত কর্ণা কিছু আহার করে নাই। পথশ্রমে, ধলোয়, অনিদ্রায়, অনাহারে, ভাবনায় কর্ণা এক দিনের মধ্যে এমন পরিবতিত হইয়া গিয়াছে, এমন বিষম বিবণ মলিন শীর্ণ হইয়া গিয়াছে যে দেখিলে সহসা চিনা যায় না । ঐ একজন পথিক আসিতেছে। দেখিয়া ভালো মনে হইল না। কর্ণার দিকে তার ভারি নজর—বিদ্যাসন্দরের মালিনী-মাসীর সপকের একটা গান ধরিল— কিন্তু এই জ্যৈষ্ঠ মাসের বিপ্রহর রসিকতা করিবার ভালো অবসর নয় বৰিয়া সে 한 놀 సిటO গল্পগুচ্ছ তো গান গাইতে গাইতে পিছন ফিরিয়া চাহিতে চাহিতে চলিয়া গেল। আর-একজন, আর-একজন, আর-একজন– এইরুপ এক এক করিয়া কত পথিক চলিয়া গেল। এ পর্যন্ত কর্ণা ভদ্র পথিক একজনও দেখিতে পায় নাই। কিন্তু কী সবনাশ । ওই একজন প্যাণ্টলন-চাপকান-ধারী আসিতেছে। অনেক সময়ে ভদ্রলোকদের (ভদ্র কথা সাধারণ অথে যেরপে ব্যবহত হয়) যত ভয় হয় এত আর কাহাদেরও নয়। ঐ দেখো, কর্ণা যে গাছের তলায় বসিয়াছিল সেই দিকেই আসিতেছে। কর্ণা তো ভয়ে আকুল, মাটির দিকে চাহিয়া থরথর কপিতে লাগিল। পথিকটি তো, বলা নয় কহা নয়, অতি শান্ত ভাবে আসিয়া, সেই গাছের তলাটিতে আসিয়া বসিল কেন। বসিতে কি আর জায়গা ছিল না। পথের ধারে কি আর গাছ ছিল না। পথিকটি স্বরুপবাব। স্বরুপবাবর সীলোকদিগের প্রতি যে একটা স্বাভাবিক টান ছিল তাহারই আকর্ষণ এড়াইতে না পারিয়া গাছের তলায় আসিয়া বসিয়াছিলেন । তিনি জানিতেন না যে করণকে সেখানে দেখিতে পাইবেন। কিন্তু যখন কর্ণাকে দেখিলেন, চিনিলেন। তখন তাঁহার বিস্ময়ের ও আনন্দের অবধি রহিল না। কর্ণা দেখে নাই পথিকটি কে। সে ভয়ে বিহবল হইয়া পড়িয়াছে সেখান হইতে উঠিয়া যাইবে-যাইবে মনে করিতেছে, কিন্তু পারিতেছে না। কিছুক্ষণ তো বিস্ময় ও আনন্দের তোড় সামলাইতে গেল, তার পর স্বরুপ অতি মধরে গদগদ বরে কহিলেন, “কর্ণা !” কর্ণা এই সম্বোধন শনিয়া একেবারে চমকিয়া উঠিল, পথিকের দিকে চাহিল, দেখিল স্বরুপবাবু! তাহার চেয়ে একটা সাপ যদি দেখিত কর্ণা কম ভয় পাইত । করণো কিছুই উত্তর দিল না। সবরপে অনেক কথা বলিতে লাগিল, এ কয় রাত্রি সে কর্ণার জন্যে কত কষ্ট পাইয়াছিল তাহার সমস্ত বর্ণনা করিল। সেই সখেরাত্রে তাহাদের প্রেমালাপের যখন সবে সত্রপাত হইয়াছিল, এমন সময়ে ভঙ্গ হওয়াতে অনেক দুঃখ করিল। সে অতি হতভাগ্য, বিধাতা তাহাকে চিরজীবন দুঃখী করিবার জন্যই বুঝি সন্টি করিয়াছেন—তাহার কোনো আশাই সফল হয় না। অবশেষে, কর্ণা নরেন্দ্রের বাড়ি হইতে যে বাহির হইয়া আসিয়াছে, ইহা লইয়া অনেক আনন্দ প্রকাশ করিল। কহিল— আরও ভালোই হইয়াছে, তাহাদের দুইজনের যে প্রেম, যে সবগীয় প্রেম, তাহা নিম্পকণ্টকে ভোগ করিতে পারিবে। আরও এমন অনেক কথা বলিল, তাহা যদি লিখিয়া লওয়া যাইত তাহা হইলে অনেক বড়ো বড়ো নভেলের রাজপত ক্ষত্রিয় বা অন্যান্য মহা মহা নায়কের মুখে স্বচ্ছন্দে বসানো ষাইত। কিন্তু কর্ণা তাহার রসাবাদন করিতে পারে নাই। স্বরপ এলাহাবাদে যাইবে, তাই স্টেশনে যাইতেছিল। পথের মধ্যে এই সকল ঘটনা। বরপ প্রস্তাব করিল কর্ণা তাহার সঙ্গে পশ্চিমে চলকে, তাহা হইলে আর কোনো ভাবনা ভাবিতে হবে না। কর্ণা কাল রাত্রি হইতে ভাবিতেছিল কোথায় যাইবে, কী করবে। কিছুই ভাবিয়া পায় নাই। আজিকার দিন তো প্রায় যায়-বায়— রালি আসিবে, তখন কী করিবে, কত প্রকার লোক পথ দিয়া যাওয়া-আসা করিতেছে, এই-সকল নানান ভাবনার সময় এ প্রস্তাবটা কর্ণার মন্দ লাগিল না। ছেলেবেলা হইতে যে চিরকাল গাহের বাহিরে কখনও যায় নাই, সে এই অনাবত পথিবীর দটি কী করিয়া সহিবে సి ఆ ఇ গল্পগুচ্ছ করুণা চলিল। উভয়ে স্টেশনে গিয়া উপস্থিত হইল। গাড়ি ছাড়িতে এখনও দেরি আছে। জিনিসপত্র পটালি-বেচিকা লইয়া যান্ত্রিগণ মহা কোলাহল করিতেছে। কানে-কলম-গোঁজা রেলওয়ে ক্লাকগণ ভারি উচু চালে ব্যস্তভাবে ইতস্ততঃ ফর ফর করিয়া বেড়াইতেছেন। পান সোডাওয়াটার নানাপ্রকার মিস্টান্নের বোঝা লইয়া ফেরিওয়ালারা আগামী গাড়ির জন্য অপেক্ষা করিতেছে। এইরুপ তো অবস্থা। এমন সময়ে একৃজন পরিষে কর্ণার পাশে সেই বেঞ্চে আসিয়া বসিল। করণো উঠিয়া যাইবে-যাইবে করিতেছে, এমন সময়ে তাহার পাশবপথ পরিষে বিসময়ের স্বরে কহিয়া উঠিল, “মা, তুমি ষে এখানে!” কর্ণা পণ্ডিতমহাশয়ের সবর শনিয়া চমকিয়া উঠিল। অনেকক্ষণ কিছু বলিতে পারিল না। অনেকক্ষণ নিজল নয়নে চাহিয়া চাহিয়া, কাঁদিয়া ফেলিল। কাঁদিতে কাঁদিতে কহিল, “সাবভৌমমহাশয়, আমার ভাগ্যে কী ছিল!” পণ্ডিতমহাশয় তো আর অশ্র সম্বরণ করিতে পারেন না। গদগদ স্বরে কহিলেন, “মা, যাহা হইবার তাহা হইয়াছে, তাহার জন্য আর ভাবিয়ো না । আমি প্রয়াগে যাইতেছি, আমার সঙ্গে আইস। পথিবীতে আর আমার কেহই নাই—যে কয়টা দিন বাঁচিয়া আছি ততদিন আমার কাছে থাকো, ততদিন আর তোমার কোনো ভাবনা নাই।” - কর্ণা অধীর উচ্ছাসে কাঁদিতে লাগিল। এমন সময়ে নিধি আসিয়া উপস্থিত হইল। নিধি পন্ডিতমহাশয়ের খরচে কাশী দশন করিতে আসিয়াছেন। পন্ডিতমহাশয় তত্তজন্য নিধির কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ আছেন। তিনি বলেন, নিধির ঋণ তিনি এ জন্মে শোধ করিতে পরিবেন না। কর্ণাকে দেখিয়া একেবারে চমকিয়া উঠিল ; কহিল, “ভট্টাচাৰ্যমহাশয়, একটা কথা আছে।” পণ্ডিতমহাশয় শশবাস্তে উঠিয়া গেলেন। নিধি কহিল, “ঐ বাবটিকে দেখিতেছেন ?” পণ্ডিতমহাশয় চাহিয়া দেখিলেন। দেখিলেন--স্বরুপ। নিধি কহিল, “দেখিলেন! কর্ণার ব্যবহারটা একবার দেখিলেন ! ছি-ছি, সবগীয় কতার নামটা একেবারে ডুবাইল !" পণ্ডিতমহাশয় অনেকক্ষণ হাঁ করিয়া দড়িাইয়া রহিলেন, অবশেষে হত উলটাইয়া আস্তে আস্তে কহিলেন— “সিয়াশ্চরিত্রং পরষস্য ভাগ্যং দেবা না জানতি কুতো মনুষ্যাঃ।" নিধি কহিল, “আহা, নরেন্দ্র এমন ভালো লোক ছিল। ওই রাক্ষসীই তো তাহাকে নস্ট করিয়াছে।” নরেন্দ্র যে ভালো লোক ছিল সে বিষয়ে পণ্ডিতমহাশয়ের সংশয় ছিল না, এখন যে খারাপ হইয়া গিয়াছে তাহারও প্রমাণ পাইয়াছেন, কিন্তু এতক্ষণে কেন যে খারাপ হইয়া গিয়াছে তাহার কারণটা জানিতে পারিলেন। পণ্ডিতমহাশয়ের সন্ত্ৰীজাতির উপর দারণ ঘণা জন্মাইল। পণ্ডিতমহাশয় ভাবিলেন, আর না-ক্ষ্মীলোকেই তাঁহার সবনাশ করিয়াছে, সন্ত্রীজাতিকে আর বিশ্বাস করিবেন না। কর্ণা ఫిఆరి নিধি লাল হইয়া কহিল, “দেখন দেখি, মহাশয়, পাপাচরণ করিবার আর কি স্থান নাই। এই কাশীতে!” এ কথা পণ্ডিতমহাশয় এতক্ষণ ভাবেন নাই। শনিয়া তিনি কিয়ৎক্ষণ একদটে অবাক হইয়া নিধির মুখের পানে চাহিয়া রহিলেন ; ভাবিলেন, ‘সত্যই তো f একটা ঘণ্টা বাজিল, মহা ছাটাছটি চোচামেচি পড়িয়া গেল। পণ্ডিতমহাশয় বেঞ্চের কাছে বেচিকা ফেলিয়া আসিয়াছিলেন, তাড়াতাড়ি লইতে গেলেন। এমন সময় বরপ তাড়াতাড়ি কর্ণাকে ডাকিতে আসিল—পণ্ডিতমহাশয়কে দেখিয়া সট করিয়া সরিয়া পড়িল। কর্ণা কাতরস্বরে পণ্ডিতমহাশয়কে কহিল, “সাবভৌমমহাশয়, আমাকে ফেলিয়া যাইবেন না।” পণ্ডিতমহাশয় কহিলেন, “মা, অনেক প্রতারণা সহিয়াছি—মনে করিয়াছি বান্ধবয়সে আর কোনো দিকে মন দিব না— দেবসেবায় কয়েকটি দিন কাটাইয়া দিব।” কর্ণা কাঁদিতে কাঁদিতে পণ্ডিতমহাশয়ের পা জড়াইয়া ধরিল; কহিল, “আমাকে ছাড়িয়া যাইবেন না— আমাকে ছাড়িয়া যাইবেন না।” পণ্ডিতমহাশয়ের নেত্রে অশ্র পরিয়া আসিল ; ভাবিলেন, “যাহা অদস্টে আছে হইবে— ইহাকে তো ছাড়িয়া যাইতে পারিব না।’ নিধি ছটিয়া আসিয়া মহা একটা ধমক দিয়া কহিল, “এখানে হাঁ করিয়া. দাঁড়াইয়া থাকিলে কী হইবে। গাড়ি যে চলিয়া যায়!” এই বলিয়া পণ্ডিতমহাশয়ের হাত ধরিয়া হড় হড়া করিয়া টানিয়া একটা গাড়ির মধ্যে পরিয়া দিল। কর্ণা অন্ধকার দেখিতে লাগিল। মাথা ঘুরিয়া মুখচক্ষ বিবৰ্ণ হইয়া সেইখানে মছিত হইয়া পড়িল। স্বরপের দেখাসাক্ষাৎ নাই, সে গোলেমালে অনেক ক্ষণ হইল গাড়িতে উঠিয়া পড়িয়াছে। অগ্নিময় অঙ্কুশের তাপে আতনাদ করিয়া লৌহময় গজ হন হন করিয়া অগ্রসর হইল। স্টেশনে আর বড়ো লোক নাই। একবিংশ পরিচ্ছেদ এই সময়ে মহেন্দ্রের নিকট হইতে যে-সকল পত্র পাইয়াছিলাম, তাহার একখানি নিনে উদ্ধত করিয়া দিলাম— ভাই ! যে কন্টে, যে লজ্জায়, যে আত্মগলানির যন্ত্রণায় পাগল হইয়া দেশ পরিত্যাগ করিলাম তাহা তোমার কাছে গোপন করি নাই। সেই অাঁধার রাত্রে বিজন পথ দিয়া যখন যাইতেছিলাম— কোনো কারণ নাই, কোনো উদ্দেশ্য নাই, কোনো গম্য স্থান নাই—তখন কেন যাইতেছি, কোথায় যাইতেছি কিছুই ভাবি নাই। মনে করিয়াছিলাম এ পথের যেন অন্ত নাই, এমনি করিয়াই যেন আমাকে চিরজীবন চলিতে হইবে— চলিয়া, চলিয়া, চলিয়া তব পথ ফরাইবে না— রাত্রি পোহাইবে না। মনের ভিতর কেমন এক প্রকার ঔদাসের অন্ধকার বিরাজ করিতেছিল, তাহা বলিবার নহে। কিন্তু রাত্রের অন্ধকার যত হ্রাস হইয়া আমিতে লাগিল, দিনের কোলাহল যতই জাগ্রত হইয়া উঠিতে লাগিল, ততই আমার মনের আবেগ কমিয়া আসিল। তখন ভালো করিয়া সমস্ত ভাবিবার সময় আসিল । কিন্তু তখনও দেশে ফিরিবার షి ఆ8 গল্পগুচ্ছ জন্য এক তিলও ইচ্ছা হয় নি। কত দেশ দেখিলাম, কত স্থানে ভ্রমণ করিলাম, কত দিন কত মাস চলিয়া গেল, কিন্তু কী দেখিলাম কী করিলাম কিছল যদি মনে আছে ! চোকের উপর কত পবত নদী অরণ্য মন্দির আটালিকা গ্রাম উঠিত, কিন্তু সে সকল যেন কী। কিছুই নয়। যেন সবনের মতো, যেন মায়ার মতো, যেন মেঘের পবত-অরণ্যের মতো। চোখের উপর পড়িত তাই দেখিতাম, আর কিছুই নহে। এইরুপ করিয়া ষে কত দিন গেল তাহা বলিতে পারি না— আমার মনে হইয়াছিল এক বৎসর হইবে, কিন্তু পরে গণনা করিয়া দেখিলাম চার মাস। ক্ৰমে ক্ৰমে আমার মন শান্ত হইয়া আসিয়াছে। এখন ভবিষ্যৎ ও অতীত ভাবিবার অবসর পাইলাম। আমি এখন লাহোরে আসিয়াছি। এখানকার একজন বাঙালিবাবর বাড়িতে আশ্রয় লইলাম, ও অলপ অলপ করিয়া ডাক্তারি করিতে আরম্ভ করিলাম। এখন আমার মন্দ আর হইতেছে না। কিন্তু আয়ের জন্য ভাবি না ভাই, আমার হদয়ে যে নতন মনস্তাপ উত্থিত হইয়াছে তাহাতে যে আমাকে কী অস্থির করিয়া তুলিয়াছে বলিতে পারি না। আমার নিজের উপর যে কী ঘণা হইয়াছে তাহা কী করিয়া প্রকাশ করিব । যখন দেশে ছিলাম তখন রজনীর জন্যে এক দিনও ভাবি নাই, যখন দেশ ছাড়িয়া আসিলাম তখনও এক মহোতের জন্য রজনীর ভাবনা মনে উদিত হয় নাই, কিন্তু দেশ হইতে যত দরে গিয়াছি—যত দিন চলিয়া গিয়াছে— হতভাগিনী রজনীর কথা ততই মনে পড়িয়াছে—আপনাকে ততই মনে পড়িয়াছে—আপনাকে ততই নিঠর পিশাচ বলিয়া মনে হইয়াছে। আমার ইচ্ছা করে এখনই দেশে ফিরিয়া যাই, তাহাকে যত্ন করি, তাহাকে ভালোবাসি, তাহার নিকট ক্ষমা প্রাথনা করি। সে হয়তো এতদিনে আমার কলঙ্কের কথা শুনিয়াছে। আমি তাহার কাছে কী বলিয়া দাঁড়াইব । না ভাই, আমি তাহা পারিব না।... মহেন্দু আমি দেখিতেছি, যে-সকল বাহ্য কারণে মহেন্দুের রজনীর উপর বিরাগ ছিল, সেসকল কারণ হইতে দরে থাকিয়া মহেন্দু একটা ভাবিবার অবসর পাইয়াছে। যতই তাহার আপনার নিষ্ঠরাচরণ মনে উদিত হইয়াছে ততই রজনীর উপর মমতা তাহার দঢ়মলে হইয়াছে। মহেন্দ্র এখন ভাবিয়াই পাইতেছে না তাহাকে কেন ভালোবাসে নাই—এমন মদ, কোমল স্নিগ্ধ স্বভাব, তাহাকে ভালোবাসে না এমন পিশাচ আছে! কেন, তাহাকে দেখিতেই বা কী মন্দ! মন্দ ? কেন, অমন সন্দের স্নেহপণ চক্ষ। অমন কোমল ভাবব্যঞ্জক মুখশ্ৰী ! ভাব লইয়া রপে, না, বর্ণ লইয়া? রজনীর যাহা-কিছল ভালো তাহাই মহেন্দ্রের মনে পড়িতে লাগিল, আর তাহার যাহা-কিছর মন্দ তাহাও মহেন্দু ভালো বলিয়া দাঁড় করাইতে চেষ্টা করিতে লাগিল। ক্লমে রজনীকে যতই ভালো বলিয়া ব্যঝিল, আপনাকে ততই পিশাচ বলিয়া মনে হইল। মহেন্দ্রের সেখানে বিলক্ষণ পসার হইয়াছে। মাসে প্রায় দুই শত টাকা উপাজান করিত। কিন্তু প্রায় সমস্তই রজনীর কাছে পাঠাইয়া দিত, নিজের জন্য এত অলপ টাকা রাখিয়া দিত যে, আমি ভাবিয়া পাই না কী করিয়া তাহার খরচ চলিত। অনেক দিন হইয়া গেছে মহেন্দ্রের বাড়ি আসিতে বড়োই ইচ্ছা হয়, কিন্তু সকল কথা মনে উঠিলে আর ফিরিয়া আসিতে পা সরে না। মহেন্দ্র একটা চিঠি করুণা à 496; পাইয়াছে, পাইয়া অবধি বড়োই অস্থির হইয়া পড়িয়াছে। ইহা সেই মোহিনীর চিঠি। চিঠির শেষ ভাগে লিখা আছে— ‘আপনি যদি রজনীকে নিতান্তই দেখিতে না পারেন, যদি রজনী এখানে আছে বলিয়া আপনি নিতান্তই আসিতে না চান তবে আপনার আশঙ্কা করিবার বিশেষ কোনো কারণ নাই, সে তাহার দিদির বাড়ি চলিয়া যাইবে । রজমী লিখিতে জানে না বলিয়া আমি তাহার হইয়া লিখিয়া দিলাম । সে লিখিতে জানিলেও হয়তো আপনাকে লিখিতে সাহস করিত না।’ ইহার মদন তিরস্কার মহেন্দ্রের মমের মধ্যে বিদ্ধ হইয়াছে। সে স্থির করিয়াছে, দেশে ফিরিয়া যাইবে । 恶 , -83. রজনীর শরীর দিনে দিনে ক্ষীণ হইয়া যাইতেছে। মুখ বিবণ ও বিষন্নতর হইতেছে। ५वर्गमनं मन्क्षाट्वजा न बिाश्निंौद्ा १ाजा क्षब्रिह्मा वजिज, “ििम, खाद्म उवाचि वञ्चािम्नि বচিব না।” মোহিনী কহিল, "সেকি রজনী, ও কথা বলিতে নাই।” ब्रख्झनौ वर्गलव्न, “झौं झिनि, आश्रि छानि, उप्रान्त्र उप्राधि एवस्ता लिन वाँझद ना । बीम এর মধ্যে তিনি না আসেন তবে তাঁকে এই টাকাগুলি দিয়ো। তিনি আমাকে মাসে জমাইয়া রাখিয়াছি।” মোহিনী অতিশয় নেহের সহিত রজনীর মুখ তাহার বকে টানিয়া লইয়া বলিল, “চুপ কর, ও-সব কথা বলিস নে।” মোহিনী অনেক কটে আশ্রসেস্বরণ করিয়া মনে-মনে কহিল, মা ভগবতি, আমি যদি এর দুঃখের কারণ হয়ে থাকি, তবে আমার তাতে কোনো দোষ নাই।’ হাত-অবসর পাইলেই রজনীর শাশুড়ি রজনীকে লইয়া পড়িতেন, নানা জন্তুর সহিত তাহার রাপের তুলনা করিতেন, আর বলিতেন যে বিবাহের সম্প্রবন্ধ হওয়া অবধিই তিনি জানিতেন যে এইরুপ একটা দীঘটনা হইবে—তবে জানিয়া শনিয়া কেন যে বিবাহ দিলেন সে কথা উত্থাপন করিতেন না। রজনী না থাকিলে মহেন্দুবিয়োগে তাঁহার মাতার অধিকতর কষ্ট হইত, তাহার আর সন্দেহ নাই। এই-বে মাঝে মাঝে মন খালিয়া তিরস্কার করিতে পান, ইহাতে তাঁহার মন অনেকটা ভালো আছে। মহেন্দ্রের মাতার স্বভাব যত দরে জানি তাহাতে তো এক-একবার তামার মনে হয়—এই-যে তিরস্কার করিবার তিনি সংযোগ পাইয়াছেন ইহাতে বোধ হয় মহেন্দ্রের বিয়োগও তিনি ভাগ্য বলিয়া মানেন। মহেন্দ্রের অবস্থান-কালে, রজনী যেদিন কোনো দোষ না করিত সেদিন মহেন্দ্রের মাতা মহা মশকিলে পড়িয়া যাইতেন। অবশেষে ভাবিয়া ভাবিয়া দুই বৎসরের পরানো কথা লইয়া তাহার মাখের কাছে হাত নাড়িয়া আসিতেন। কিন্তু এই ঘটনার পর তাঁহার তিরস্কারের সবাদাই মজত রহিয়াছে, অবসর পাইলেই হয়। । n ইতিমধ্যে মহেন্দ্রের মা মহেন্দুকে এক লোভনীর পর পাঠাইয়া দিয়াছেন। তাহাতে তাঁহার বাবাকে তিনি নিশ্চিন্ত হইতে কহিয়াছেন ও সংবাদ দিয়াছেন যে, তাঁহার अना धकप्लेि नदन्मघ्नौ रुमा अन्दनन्थान कब्रा शाईटउद्वह ।। ७थे किठिं नाएँझ धरश्रव्छब्र আপনার উপর দ্বিগুণ লজা উপস্থিত হইয়াছে—তৰে সকলেই মনে করিয়াছে ぬぐりも গলপগুচ্ছ আমি রাপের কাঙাল। রজনী দেখিতে ভালো নয় বলিয়াই আমি তাহার উপর নিষ্ঠরাচরণ করিয়াছি ? লোকের কাছে মুখ দেখাইব কোন লজায়।’ কিন্তু রজনীর আজকাল অলপ তিরস্কারই অত্যন্ত মনে লাগে, আগেকার অপেক্ষাও সে কেমন ভীত হইয়া পড়িয়াছে। তাহার শরীর যতই খারাপ হইতেছে ততই সে ভয়ে প্রস্ত ও তিরস্কারে অধিকতর ব্যথিত হইয়া পড়িতেছে, ক্ৰমাগত তিরস্কার শনিয়া শুনিয়া আপনাকে সত্য-সতাই দোষী বলিয়া দঢ় বিশ্বাস হইয়াছে। মোহিনী প্রত্যহ সন্ধ্যাবেলা তাহার কাছে আসিত— প্রত্যহ তাহাকে যথাসাধ্য যত্ন করিত ও প্রত্যহ দেখিত সে দিনে দিনে অধিকতর দ্রবল হইয়া পড়িতেছে। একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহমাদ ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দু যে গহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কট পাইতেছে এ আত্মপ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল-- যে কারণেই হউক, মহেন্দু যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল। বাবিংশ পরিচ্ছেদ কাশীর স্টেশনে করুণা-সংক্রান্ত যে-সমস্ত ঘটনা ঘটিতেছিল, একজন ভদ্রলোক তাহা সমস্ত পর্যবেক্ষণ করিতেছিলেন। বরপকে দেখিয়া তিনি কেমন লজিত ও সংকুচিত হইয়া সরিয়া গিয়াছিলেন। যখন দেখিলেন সকলে চলিয়া গেল এবং কর্ণা মছিত হইয়া পড়িল তখন তিনি তাহাকে একটা গাড়িতে তুলিয়া তাঁহার বাসাবাড়িতে লইয়া যান—তাঁহার কোথায় যাইবার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু যাওয়া হইল না। কর্ণার মুখ দেখিয়া, এমন কে আছে যে তাহাকে দোষী বলিয়া সন্দেহ করিতে পারে ? মহেন্দ্রও তাহাকে সন্দেহ করে নাই। বলিতে ভুলিয়া গিয়াছিলাম— সেই ভদ্রলোকটি মহেন্দু। লাহোর হইতে আসিবার সময় একবার কাশীতে আসিয়াছিলেন। কলিকাতার ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করিতেছিলেন, এমন সময়ে এই-সমস্ত ঘটনা ঘটে। কর্ণা চেতনা পাইলে মহেন্দ্র তাহাকে তাঁহার সমস্ত বক্তাত জিজ্ঞাসা করিলেন। মহেন্দ্রের মখে এমন দয়ার ভাব প্রকাশ পাইতেছিল যে, কর্ণা শীঘ্রই সাহস পাইল। কাঁদিতে কাঁদিতে তাহার সমস্ত বাত্তান্ত তাঁহাকে কহিল এবং ঠিক সে যেমন করিয়া ভবিকে জিজ্ঞাসা করিত তেমন করিয়া মহেন্দুকে জিজ্ঞাসা করিল, কেন নরেন্দ্র তাহার উপর অমন রাগ করিল। মহেন্দ্র বালিকার সে প্রশেনর উত্তর দিতে পারিল না— কিন্তু এই প্রশন শুনিয়া তাহার চক্ষে জল আসিয়াছিল। নরেন্দ্রকে মহেন্দ্র বেশ চেনে, সে সমস্ত ঘটনা বেশ বুঝিতে পারিল। পণ্ডিতমহাশয় যে কেন তাহাকে অমন করিয়া ফেলিয়া গেলেন তাহাও কর্ণা ভাবিয়া পাইতেছিল না, অনেক ক্ষণ ভাবিয়া ভাবিয়া তাহাও মহেন্দুকে জিজ্ঞাসা করিল। মহেন্দ্র তাহার যথার্থ কারণ যাহা বুঝিয়াছিলেন তাহা গোপন করিয়া নানারপে বকোইয়া দিলেন। এখন করশোকে লইয়া যে কী করিবে মহেন্দু তাহাই ভাবিতে লাগিল। অবশেষে न्थिब्र एट्टेल ठाशरमव्र बाफ़िर७ई लट्टेग्ना व&८व । धरएन्छ कब्रह्णाब्र निकल्ले ठाशव्र बाप्लिग्न কর্ণা >心Q বর্ণনা করিল। কহিল— তাহাদের বাড়ির সামনেই একটি প্রাচীর-দেওয়া বাগান আছে, বাগানের মধ্যে একটি ক্ষুদ্র পকেরিণী আছে, পঙ্কেরিণীর উপরে একটি বাঁধানো শানের ঘাট। কহিল— তাহাদের বাড়িতে গেলে কর্ণা তাহার একটি দিদি পাইবে, তেমন স্নেহশালিনী—তেমন কোমলহৃদয়া— তেমন ক্ষমাশীলা (আরও অসংখ্য বিশেষণ প্রয়োগ করিয়াছিল) দিদি কেহই কখনও পায় নাই। কর্ণা আমনি তাড়াতাড়ি জিজ্ঞাসা করিল সেখানে কি ভবির দেখা পাইবে ! মহেন্দ্র ভবির সন্ধান করিবে বলিয়া স্বীকৃত হইলেন। জিজ্ঞাসা করিলেন কর্ণা তাঁহাকে ভ্রাতার মতো দেখিবে কি না, কর্ণার তাহাতে কোনো আপত্তি ছিল না। যাহা হউক, এত দিন পরে কর্ণার মুখ প্রফুল্ল দেখিলাম, এতদিন পরে সে তব আশ্রয় পাইল। কিন্তু বারবার কর্ণা মহেন্দুকে পণ্ডিতমহাশয়ের তাহার উপর রাগ করিবার কারণ জিজ্ঞাসা করিয়াছে । অবশেষে তাহারা যাইবার জন্য প্রস্তুত হইল। কাশী পরিত্যাগ করিয়া চলিল। কে কী বলিবে, কে কী করিবে, কখন কী হইবে—এই-সমস্ত ভাবিতে ভাবিতে ও যদি কেহ কিছল বলে তবে তাহার কী উত্তর দিবে, যদি কেহ কিছু করে তবে তাহার কী প্রতিবিধান করিবে, যদি কখনও কিছল হয় তবে সে অবস্থায় কিরাপ ব্যবহার করিবে—এই-সমস্ত ঠিক করিতে করিতে মহেন্দ্র গ্রামের রাস্তায় গিয়া পৌছিল। লড়জায় মিয়মাণ হইয়া, সংকোচে অভিভূত হইয়া, পথিকদিগের চক্ষন এড়াইয়া ও কোনোমতে পথ পার হইয়া গাহের বারে গিয়া উপস্থিত হইল । কতবার সাত-পাঁচ করিয়া পরে প্রবেশ করিল। দাদাবাবকে দেখিয়াই ঝি ঝাঁটা রাখিয়া ছটিয়া বড়োমা’কে খবর দিতে গেল। বড়োমা তখন রজনীর সমন্খে বসিয়া রজনীর রাপের ব্যাখ্যান করিতেছিলেন, এমন সময়ে খবর পাইলেন যে আর-একটি নতন বধ লইয়া তাঁহার বাবা' ঘরে আসিয়াছেন। মহেন্দ্রের ও কর্ণার সহিত সকলের সাক্ষাৎ হইল, যখন সকলে মিলিয়া উলম দিবার উদযোগ করিতেছেন এমন সময়ে মহেন্দু তাঁহাদিগকে করুণা-সংক্রান্ত সমস্ত ব্যাপার খলিয়া বলিল। সে-সমস্ত বাত্তান্ত মহেন্দ্রের মাতার বড়ো ভালো লাগে নাই। মহেন্দ্রের সমন্খে কিছু বলিলেন না, কিন্তু সেই রাত্ৰে মহেন্দ্রের পিতার সহিত তাঁহার ভারি একটা পরামর্শ হইয়া গিয়াছিল ও অবশেষে রজনী পোড়ারমখাঁই যে এই-সমস্ত বিপত্তির কারণ তাহা অবধারিত হইয়া গিয়াছিল। এই কথাটা লইয়া মহেন্দ্রের পিতার অতিরিক্ত আনা-দয়েকের তামাকু ব্যয় হইয়াছিল ও দুই-চারিজন বন্ধ বিজ্ঞ প্রতিবাসীদিগের মাথা ঘুরিয়া গিয়াছিল, কিন্তু আর অধিক কিছর मदधfप्लेना शम्न नाझे । রজনী তাহার দিদির বাড়ি যাইবার সমস্তই বন্দোবস্ত করিয়াছিল, তাঁহার শবশর শাশুড়িরা এই বন্দোবস্তে যথেষ্ট সাহায্য করিয়াছিলেন, কিন্তু রজনী বড়ো দবে’ল বলিয়া এখনও সমাধা হইয়া উঠে নাই। এই খবরটি আসিয়াই মহেন্দু তাঁহার মাতার নিকট হইতে শুনিতে পাইলেন। আশ্চর্যের স্বরে কহিলেন, “দিদির বাড়ি याश्ट्व, ऊाव्र अथ* कौ । उप्राभि आनिलाभ उप्राग्न अर्धान मिर्गमन्न बाज़ि याद्देरथ !" মহেন্দ্রের মাও অবাক, মহেন্দ্রের পিতা কিছুক্ষণ অবাক হইয়া চাহিয়া রহিলেন— পরে ঠাণ্ড হইতে চশমা বাহির করিয়া পরিলেন এবং মহেন্দুকে দেখিতে লাগিলেন— ぬやb গল্পগুচ্ছ যেন তিনি মিলাইয়া দেখিতে চান যে এ মহেন্দ্রের সহিত পবেকার মহেন্দ্রের কোনো আদল আছে কি না ! এ মহেন্দু ঝ:টা মহেন্দু কি না! মহেন্দ্র অধিক বাক্যব্যয় না করিয়া তৎক্ষণাৎ রজনীর ঘরে চলিয়া গেলেন ও কতা গহিণীতে মিলিয়া ফস ফস করিয়া মহাপরামশ করিতে লাগিলেন। রজনী মহেন্দুকে দেখিয়া মহা শশব্যস্ত হইয়া পড়িল, কেমন অপ্রস্তুত হইয়া গেল। সে মনে করিতে লাগিল, মহেন্দ্র তাহাকে দেখিয়া কি বিরক্ত হইয়া উঠিয়াছে ! তাহার তাড়াতাড়ি বলিবার ইচ্ছা হইল যে, “আমি এখনই যাইতেছি, আমার সমস্তই প্রস্তুত হইয়াছে।’ যখন সে এই গোলমালে পড়িয়া কী করিবে ভাবিয়া পাইতেছে না, তখন মহেন্দু ধীরে ধীরে তাহার পাশেব গিয়া বসিল । কণী ভাগ্য! বিষম বরে জিজ্ঞাসা করিল, “তুমি নাকি আজই দিদির বাড়ি যাবে। কেন রজনী।” আর কি উত্তর দিবার জো আছে —“আমি তোমার কাছে অনেক অপরাধ করিয়াছি, আমি তোমাকে কট দিয়াছি, কিন্তু তাহা কি ক্ষমা করিবে না।” ওকি মহেন্দু! অমন করিয়া বলিয়ো না, রজনীর বকে ফাটিয়া যাইতেছে। —“বলো, তাহা কি ক্ষমা করিবে না।” রজনীর উত্তর দিবার কি ক্ষমতা আছে। সে পণে উচ্ছাসে কাদিয়া উঠিল। মহেন্দু তাহার হাত ধরিয়া বলিল, "একবার বলো ক্ষমা করিলে।” রজনী ভাবিল—সেকি কথা ! মহেন্দু কেন ক্ষমা চাহিতেছেন। সে জানিত তাহারই সমস্ত দোষ, সেই মহেন্দ্রের নিকট অপরাধী, কেননা তাহার জন্যই মহেন্দ্র এত কষ্ট সহ্য করিয়াছেন, গহ ত্যাগ করিয়া কত বৎসর বিদেশে কাল যাপন করিয়াছেন, সে কোথায় মহেন্দ্রের নিকট ক্ষমা চাহিবে— তাহা না হইয়া একি বিপরীত ! ক্ষমা চাহিবে কী, সে নিজেই ক্ষমা চাহিতে সাহস করে নাই। সে কি ক্ষমার যোগ্য। মহেন্দু রজনীর দলবল মস্তক কোলে তুলিয়া লইল । রজনী ভাবিল, এই সময়ে যদি মরি তবে কী সুখে মরি!' তাহার কেমন সংকোচ বোধ হইতে লাগিল, মহেন্দ্রের ক্লোড় তাহার নিকট যেন ভিখারীর নিকট সিংহাসন। মহেন্দ্র তাহাকে কত কী কথা বলিল, সে-সকল কথার উত্তর দিতে পারিল না। সে ভাবিল এ মধর স্বপন চিরস্থায়ী নহে—এই মহেতে মরিতে পাইলে কী সখী হই! কিন্তু এ অবস্থা কতক্ষণ রহিবে! রজনীর এ সংকোচ শীঘ্র দরে হইল। রজনী তাহার কোলে মাথা রাখিয়া কতক্ষণ কত কী কথা কহিল-কত আশ্রজেল, কত কথা, কত হাসি, সে বলিবার নহে। * মহেন্দ্র যখন উঠিয়া যাইতে চাহিল তখন রজনী তাহাকে আর-একটা বসিয়া থাকিতে অনুরোধ করিল, যাহা আর কখনও করিতে সাহস করে নাই। রজনীর একি পরিবতন ! যে সখে সে কখনও আশা করে নাই, আপনাকে যে সুখ পাইবার যোগ্য বলিয়া মনে করে নাই, সেই সােথ সহসা পাইয়াছে—আহাদে তাহার বকে ফাটিয়া যাইতেছিল- সে কী করিবে ভাবিয়া পাইতেছিল না। সেই সন্ধ্যাবেলাই সে মোহিনীর বাড়িতে গেল, তাড়াতাড়ি তাহার গলা জড়াইয়া DBD DDBB BBBS BBBD DDBB DDDSBD DDDDS DD BBB S সে মনে করিল মহেন্দ্র না জানি আবার কী অন্যায়াচরণ করিয়াছে। রজনী তাহাকে সকল কথা বলিতে লাগিল—শুনিয়া মোহিনীও আহাদে করণো వీts কাঁদিতে লাগিল। রজনীর দই-এক মাসের মধ্যে যে কোনো ব্যাধি বা দর্বেলতা হইয়াছিল তাহার কোনো চিহ্ন পাওয়া গেল না। আর কখনও রজনীর ঘরকন্নার কাজে এত উৎসাহ কেহ দেখে নাই— শাশুড়ি মহা উগ্রভাবে কহিলেন, “হয়েছে, হয়েছে, ঢের হয়েছে, আর গিন্নিপনা করে কাজ নেই, দ্য দিন উপোস করে আছেন, সবে আজ ভাত খেয়েছেন, ওঁর গিন্নিপনা দেখে আর বাঁচ নে।” এইখানে একটা কথা বলা আবশ্যক— রজনী যে দুদিন উপোস করিয়াছিল সে দুদিন কাজ করিতে পারে নি বলিয়া তাহার শাশুড়ি মহা বস্তৃতা দিয়াছিলেন ও ভবিষ্যতে যখনই রজনীর দোষের অভাব পড়িবে সেই দই দিনের কথা লইয়া আবার বস্তৃতা যে দিবেন ইহাও নিশ্চিত, এ বিষয়ে কোনো পাঠকের সন্দেহ উপস্থিত না হয়। দেখিতে দেখিতে কর্ণার সহিত রজনীর মহা ভাব হইয়া গেল। দুই জনের ফস ফসে করিয়া মহা মনের কথা পড়িয়া গেল—তাহাদের কথা আর ফরায় না। তাহাদের স্বামীদের কত দিনকার সামান্য যত্ন, সামান্য আদরটুকু তাহারা মনের মধ্যে গাঁথিয়া রাখিয়াছে—তাহাই কত মহান ঘটনার মতো বলাবলি করিত। কিন্তু এ বিষয়ে তো দুই জনেরই ভাণ্ডার অতি সামান্য, তবে কী যে কথা হইত তাহারাই জানে। হয়তো সে-সব কথা লিখিলে পাঠকেরা তাহার গাভীষ বঝিতে পারিবেন না, হয়তো হাসিবেন, হয়তো মনে করিবেন এ-সব কোনো কাজেরই কথা নয়। কিন্তু সে বালিকারা যে-সকল কথা লইয়া অতি গল্পতভাবে অতি সাবধানে আন্দোলন করিয়াছে তাহাই লইয়া যে সকলে হাসিবে, সকল কথা তুচ্ছভাবে উড়াইয়া দিবে তাহা মনে করিলে কষ্ট হয়। কিন্তু কর্ণার সঙ্গে রজনী পারিয়া উঠে না— সে এক কথা সাতবার করিয়া বলিয়া, সব কথা একেবারে বলিতে চেষ্টা করিয়া, কোনো কথাই ভালো করিয়া বুঝাইতে না পারিয়া, রজনীর এক প্রকার মুখ বন্ধ করিয়া রাখিয়াছিল। তাহারই কথা ফরায় নাই তো কেমন করে সে রজনীর কথা শুনিবে! তাহার কি একটা-আধটা কথা। তাহার পাখির কথা, তাহার ভবির কথা, তাহার কাঠবিড়ালির গল্প— সে কবে কী স্বপন দেখিয়াছিল—তাহার পিতার নিকট দই রাজার কী গল্প শনিয়াছিল— এ সমস্ত কথা তাহার বলা আবশ্যক। আবার বলিতে বলিতে যখন হাসি পাইত তখন তাহাই বা থামায় কে। আর, কেন যে হাসি পাইল তাহাই বা বঝে কাহার সাধ্য। রজনী-বেচারির বড়ো বেশি কথা বলিবার ছিল না, কিন্তু বেশি কথা নীরবে শনিবার এমন আর উপযুক্ত পাত্র নাই। রজনী কিছুতেই বিরক্ত হইত না, তবে এক-এক সময়ে অন্যমনস্ক হইত বটে—তা, তাহাতে কর্ণার কী ক্ষতি। কর্ণার বলা লইয়া বিষয়। কর্ণাকে লইয়া মহেন্দ্রের মাতা বড়ো ভাবিত আছেন। তাঁহাঁর বয়স বড়ো কম নহে, পঞ্চান্ন বৎসর– এই পঞ্চান্ন বৎসরের অভিজ্ঞতায় তিনি ভদ্রলোকের ঘরে এমন বেহায়া মেয়ে কখনও দেখেন নাই, আবার তাঁহার প্রতিবেশিনীরা তাহদের বাপের বয়সেও এমন মেয়ে কখনও দেখে নাই বলিয়া পাট স্বীকার করিয়া গেল । মহেঞ্জেয় পিতা তামাকু খাইতে খাইতে কহিতেন যে, ছেলেমেয়েরা সবাই খাস্টান হইয়া উঠিল । মহেন্দ্রের মাতা কহিতেন সে কথা মিছা নয়। মহেন্দ্রের মাতা মাঝে মাঝে রজনীকে > & O গল্পগুচ্ছ সম্বোধন করিয়া কর্ণার দিকে কটাক্ষপাত করিয়া কহিতেন, ‘আজ বাগানে বড়ো গলা বাহির করা হইতেছিল ! লাজা করে না r কিন্তু তাহাতে কর্ণা কিছই সাবধান হয় নাই। কিন্তু এ তো কর্ণার শান্ত অবস্থা, কর্ণা যখন মনের সাথে তাহার পিতৃভবনে থাকিত তখন যদি এই পঞ্চান্ন বৎসরের অভিজ্ঞ গহিণী তাহাকে দেখিতেন তবে কী করিতেন বলিতে পারি না। আবার এক-একবার যখন বিষন্ন ভাব কর্ণার মনে আসিত তখন তাহার মতি" সম্পণে বিপরীত। আর তাহার কথা নাই, হাসি নাই, গল্প নাই, সে এক জায়গায় চুপ করিয়া বসিয়া থাকিবে- রজনী পাশে বসিয়া লক্ষী দিদি আমার বলিয়া কত সাধাসাধি করিলে উত্তর নাই। কর্ণা প্রায় মাঝে মাঝে এমনি বিষন্ন হইত, কতক্ষণ ধরিয়া কাঁদিয়া কাঁদিয়া তবে সে শান্ত হইত। একদিন কাঁদিতে কাঁদিতে মহেন্দ্রকে জিজ্ঞাসা করিল, "নরেন্দ্র কোথায় ।” মহেন্দু কহিল, “আমি তো জানি না।” কর্ণা কহিল, "কেন জান না।” কেন জানে না সে কথা মহেন্দু ঠিক করিয়া বলিতে পারিল না, তবে নরেন্দ্রের সন্ধান করিতে স্বীকার করিল। কিন্তু নরেন্দ্রের অধিক সন্ধান করিতে হইল না। নরেন্দ্র কেমন করিয়া তাহার সন্ধান পাইয়াছে। একদিন কর্ণা যখন রজনীর নিকট দুই রাজার গল্প করিতে ভারি ব্যস্ত ছিল, এমন সময়ে ডাকে তাহার নামে একখানি চিঠি আসিল । এ পযন্তও তাহার বয়সে সে কখনও নিজের নামের চিঠি দেখে নাই। এ চিঠি পাইয়া করণোর মহা আহাদ হইল, সে জানিত চিঠি পাওয়া এক মহা কাণ্ড, রাজা--রাজড়াদেরই অধিকার। আসত চিঠি ছিড়িয়া খালিতে তাহার কেমন মায়া হইতে লাগিল, আগে সকলকে দেখাইয়া অনেক অনিচ্ছার সহিত লেফাফা খলিল, চিঠি পড়িল, চিঠি পড়িয়া তাহার মুখ শাখাইয়া গেল, থর থর করিয়া কাঁপিতে কপিতে চিঠি মহেন্দ্রকে मिळ् । নরেন্দ্র লিখিতেছেন— ‘তিন শত টাকা আমার প্রয়োজন, না পাইলে আমার সবনাশ, না পাইলে আমি আত্মহত্যা করিয়া মরিব । ইতি।’ কর্ণা কাঁদিয়া উঠিল। কর্ণা মহেন্দুকে জিজ্ঞাসা করিল, “কী হবে।” মহেন্দু কহিল কোনো ভাবনা নাই, এখনি টাকা লইয়া সে যাইতেছে। নরেন্দ্রের ঠিকানা চিঠিতে লিখা ছিল, সেই ঠিকানা-উদ্দেশ্যে মহেন্দু চলিল। 曼 রয়োবিংশ পরিচ্ছেদ মহেন্দু দেশে আসিয়া অবধি মোহিনীর বড়ো খোঁজ-খপর পাওয়া যায় না। মহেন্দ্র তো তাহার কোনো কারণ খংজিয়া পায় না—‘একদিন কী অপরাধ করিয়াছিলাম তাহার জন্য কি দুই জনের এ জন্মের মতো ছাড়াহাড়ি হইবে ? সে মনে করিল হয়তো মোহিনী রাগ করিয়াছে, হয়তো মোহিনী তাহাকে ভালোবাসে না। পাঠকেরা শুনিলে বোধ হয় সন্তুষ্ট হইবেন না যে, মহেন্দু এখনও মোহিনীকে ভালোবাসে। কিন্তু মহেন্দ্রের সে ভালোবাসার পক্ষে যে যজি কত, তাহা শুনিলে কাহারও আর কর্ণা ՖԳs কথা কহিবার জো থাকিবে না। সে বলে, “মানুষকে ভালোবাসিতে দোষ কী। আমি তো মোহিনীকে তেমন ভালোবাসি না, আমি তাহাকে ভগিনীর মতো, বন্ধর মতো ভালোবাসি— আমি কখনও তাহার অধিক তাহাকে ভালোবাসি না।’ এই কথা এত বিশেষ করিয়া ও এত বার বার বলিত যে তাহাতেই বুঝা যাইত তদপেক্ষাও অধিক ভালোবাসে। সে আপনার মনকে ভ্রান্ত করিতে চেষ্টা করিত, সতরাং ঐ এক কথা তাহাকে বার বার বিশেষ করিয়া বলিতে হইত। ঐ এক কথা বার বার বলিয়া তাহার মনকে বিশ্ববাস করাইতে চাহিত, তাহার মন এক-একবার অলপ-অলপ বিশ্বাস করিত। সে বলিত, আপনার ভগিনীর মতো, বন্ধর মতো যদি মোহিনী মাঝে মাঝে আমাদের বাড়িতে আসে তাহাতে দোষ কণী । বরং না আসিলেই দোষ। কেন, মোহিনী তো আর-সকলের সঙ্গেই দেখা করিতে পারে, তবে আমার সঙ্গে দেখা করিতে পরিবে না কেন। যেন সত্য-সতাই আমাদের মধ্যে কোনো সমাজবিরদ্ধে ভাব আছে—কিন্তু তাহা তো নাই, নিশ্চয় তাহা নাই, তাহা থাকা অসম্পভব । আমি রজনীকে প্রেমের ভাবে ভালোবাসি, সকলের অপেক্ষা ভালোবাসি— আমি মোহিনীকে কেবল ভগিনীর মতো ভালোবাসি।” মহেন্দ্র এইরুপে মনের মধ্যে সকল কথা তোলাপাড়া করিত। এমন-কি, রজনীকেও তাহার এই-সকল যুক্তি বঝোইয়াছিল। রজনীর বুঝিতে কিছুই গোল বাধে নাই, সে বেশ স্পষ্টই বুঝিয়াছিল। সে নিজে গিয়া মোহিনীকে ঐ-সমস্ত কথা বুঝাইল, মোহিনী বিশেষ কিছুই উত্তর দিল না। মনে-মনে কহিল, সকলের মন জানি না, কিন্তু আমার নিজের মনের উপর আমার বিশ্বাস নাই।’ মোহিনী ভাবিল— আর না, আর এখানে থাকা শ্রেয় নহে । মোহিনী কাশী যাইবার সমসত বন্দোবসত করিল, বাড়ির লোকেরা তাহাতে অসম্মত হইল না। কাশী যাইবার সময় কর্ণা ও রজনীর সহিত একবার দেখা করিল। কর্ণা কহিল, “তুমি কাশী যাইতেছ, যদি আমাদের পণ্ডিতমহাশয়ের সঙ্গে দেখা হয় তবে তাঁহাকে বলিয়ো আমি ভালো আছি।” কর্ণা জানিত যে, পণ্ডিতমহাশয় নিশ্চয় তাহার কুশলসংবাদ পাইবার জন্য আকুল আছেন। কর্ণা যাহা মনে করিয়াছিল তাহা মিথ্যা নহে। নিধির পীড়াপীড়িতে রেলের গাড়িতে চড়িয়া পণ্ডিতমহাশয়ের এমন অনুতাপ হইয়াছিল যে অনেকবার তিনি চীৎকার করিয়া গাড়ি থামাইতে অনুরোধ করিয়াছিলেন। গাড়োয়ান যখন কিছুতেই ব্রাহ্মণের দোহাই মানিল না, তখন তিনি ক্ষান্ত হন। কিন্তু বার বার কাতরস্বরে নিধিকে বলিতে লাগিলেন কাজটা ভালো হইল না’। দুই-চার-বার এইরুপ বলিতেই নিধি মহা বিরক্ত হইয়া বিলক্ষণ একটি ধমক দিয়া উঠিল। পণ্ডিতমহাশয় নিধিকে আর-কিছয় বলিতে সাহস করিলেন না ; কিন্তু গাড়ির কোণে বসিয়া এক ডিবা নস্য সমস্ত নিঃশেষ করিয়াছিলেন ও তাঁহার চাদরের এক অংশ আশ্রজেলে সক্ষপণেরপে ভিজাইয়া ফেলিয়াছিলেন। কেবল গাড়িতে নয়, যেখানে গিয়াছেন নিধিকে বার বার ঐ এক কথা বলিয়া বিরক্ত করিয়াছেন। কাশীতে ফিরিয়া আসিয়া যখন কর্ণাকে দেখিতে পাইলেন না, তখন তাঁহার আর অনন্তাপের পরিসীমা রহিল না। নিধিকে ঐ এক কথা বলিয়া এমন বিরক্ত করিয়া তুলিয়াছিলেন যে, সে একদিন কলিকাতায় ফিরিয়া যাইবার সমস্ত উদ্যোগ করিয়াছিল। t # sa : গল্পগুচ্ছ মোহিনী কহিল, “তোমাদের পণ্ডিতমহাশয়কে তো আমি চিনি না, যদি চিনাশনা হয়, তবে বলিব।" কর্ণা একেবারে অবাক হইয়া গেল। পণ্ডিতমহাশয়কে চিনে না ? সে জানিত পণ্ডিতমহাশয়কে সকলেই চিনে। সে মোহিনীকে বিশেষ করিয়া বঝোইয়া দিল কোন পণ্ডিতমহাশয়ের কথা কহিতেছে, কিন্তু তাহাতেও যখন মোহিনী পণ্ডিতমহাশয়কে চিনিল না তখন কর্ণা নিরাশ ও অবাক হইয়া গেল। কাঁদিতে কাঁদিতে রজনীর কাছে বিদায় লইয়া মোহিনী কাশী চলিয়া গেল । চতুবিংশ পরিচ্ছেদ বৰ্ষা কাল। দই দিন ধরিয়া বাদলার বিরাম নাই। সন্ধ্যা হইয়া আসিয়াছে, কলিকাতার রাস্তায় ছাতির অরণ্য পড়িয়া গিয়াছে। সসংকোচ পথিকদের সবাঙ্গে কাদা বষণ করিতে করিতে গাড়ি ছয়টিতেছে। মহেন্দ্র নরেন্দ্রের সন্ধানে বাহির হইয়াছেন। বড়ো রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করাইয়া একটি অতি সংকীর্ণ অন্ধকার গলির মধ্যে প্রবেশ করিলেন। দুটা-একটা খোলার ঘর ভাঙিয়া-চরিয়া পড়িতেছে ও তাহার দই প্রৌঢ়া অধিবাসিনী অনেক ক্ষণ ধরিয়া বকাবকি করিয়া অবশেষে চুলাটুলি করিবার বন্দোবস্ত করিতেছে। ভাঙা হাঁড়ি, পচা ভাত, আমের অটি ও পৃথিবীর আবর্জনা গলির যেখানে সেখানে রাশীকৃত রহিয়াছে। একটি দগন্ধ পাকরিণীর তীরে আস্তাবল-রক্ষকের মহিলারা অচিল ভরিয়া তাঁহাদের আহারের জন্য উদ্ভিজ্জ সঞ্চয় করিতেছেন। হাচট খাইতে খাইতে—কখনও বা এক-হাঁট কাদায়, কখনও বা এক-হাঁট ঘোলা জলে জনতা ও পেণ্টলনটাকে পেন্সন দিবার কলপনা করিতে করিতে—সবাঙ্গে কাদামাখা দুই-চারিটা কুকুরের নিকট হইতে অশ্রান্ত তিরস্কার শমনিতে শুনিতে মহেন্দ্র গোবর-আচ্ছাদিত একটি অতি মন্মষে বাটীতে গিয়া পেপছিলেন। বারে আঘাত করিলেন, জীণ শীর্ণ বার বিরক্ত রোগীর মতো মদ আতনাদ করিতে করিতে খালিয়া গেল। নরেন্দ্র গহে ছিলেন, কিন্তু বৎসর-কয়েকের মধ্যে পলিসের কনস্টেবল ছাড়া নরেন্দ্রের গহে আর-কোনো অতিথি আসে নাই— এই জন্য বার খলিবার শব্দ শুনিয়াই নরেন্দ্র অন্তধান করিয়াছেন। দুবার খালিয়াই মহেন্দ্র আবর্জনা ও দগন্ধ -ময় এক প্রাঙ্গণে পদাপণ করিলেন। সে প্রাঙ্গণের এক পাশে একটা কপ আছে সে কাপের কাছে কতকগলো আমের অটি হইতে ছোটো ছোটো চারা উঠিয়াছে। সে কাপের উপরে একটা পেয়ারা গাছ ঝ:কিয়া পড়িয়াছে। প্রাঙ্গণ পার হইয়া সংকুচিত মহেন্দ্র গহে প্রবেশ করিলেন। এমন নিন ও এমন স্যাংসে'তে ঘর বঝি মহেন্দ্র আর কখনও দেখে নাই, ঘর হইতে এক প্রকার ভিজা ভাপসা গন্ধ বাহির হইতেছে। ব্যষ্টির আক্ৰমণ হইতে রক্ষা পাইবার জন্য ভগ্ন জানালায় একটা ছিন্ন দরমার আচ্ছাদন রহিয়াছে। সে গাহের দেয়ালে ষে এক কালে বালি ছিল, সে পাড়ায় এইরুপ একটা প্রবাদ আছে মাত্র। এক জায়গায় ইটের মধ্যে একটি গতে খানিকটা তামাক গোঁজা আছে। গহসজার মধ্যে একখানি ᎼᎸ8 গল্পগুচ্ছ মহেন্দু যেরপে ভালো মানুষ, অধিক গোলযোগ করা তাঁহার কম নয়। বকবিকি করিতে আরম্ভ করিলে তাহার আর অন্ত হইবে না জানিয়া মহেন্দু প্রস্তাব করিলেন– নরেন্দ্র যদি তাঁহার কু-অভ্যাসগুলি পরিত্যাগ করেন তবে তিনি তাঁহার সাহায্য করিবেন । নরেন্দ্র আকাশ হইতে পড়িল ; কহিল, “কু-অভ্যাস কী মশায়! নন্তন কু-অভ্যাস তো আমার কিছই হয় নাই, আমার যা অভ্যাস আছে সে তো আপনি সমস্ত জানেন ।” এই কথায় ভালোমানুষ মহেন্দ্র কিছল অপ্রস্তুত হইয়া পড়িল, সে তেমন ভালো উত্তর দিতে পারিল না। নরেন্দ্র প্বে এত কথা কহিতে জানিত না, বিশেষ মহেন্দ্রের কাছে কেমন একটা সংকোচ অনুভব করিত— সম্প্রতি দেখিতেছি সে ভারি কথা কাটাকাটি করিতে শিখিয়াছে। তাহার স্বভাব আশচয বদল হইয়া গিয়াছে। মহেন্দ্র শীঘ্র শীঘ্ৰ তাহার সহিত মীমাংসা করিয়া লইয়া তাহাকে টাকা দিলেন ও কহিলেন, ভবিষ্যতে নরেন্দ্ৰ যেন তাঁহার সত্রীকে অন্যায় ভয় দেখাইয়া চিঠি না লেখেন। মহেন্দু সেই আদ্র বাৎপময় ঘর হইতে বাহির হইয়া বাঁচিলেন ও পথের মধ্যে একটা ডাক্তারখানা হইতে একশিশি কুইনাইন কিনিয়া লইয়া যাইবেন বলিয়া নিশ্চয় করিলেন। বারের নিকট দাসীটি বসিয়াছিল, সে মহেন্দুকে দেখিয়া অতি মধরে দুই-তিনটি হাস্য ও কটাক্ষ বষণ করিল ও মনে-মনে ঠিক দিয়া রাখিল— সেই কটাক্ষের প্রভাবে, মলয়সমীরণে, চন্দ্রীকরণে মহেন্দু বাসায় গিয়া মরিয়া থাকিবে । ക * পঞ্চবিংশ পরিচ্ছেদ আজকাল রজনী ভারি গিন্নি হইয়াছে। এখন তাহার হাতে টাকাকড়ি আসে। পাড়ার অধিকাংশ বন্ধা ও প্রৌঢ়া গহিণীরা রজনীর শাশুড়ির সঙ্গ পরিত্যাগ করিয়া শিঙ ভাঙিয়া রজনীর দলে মিশিয়াছেন। তাঁহারা ঘণ্টাখানেক ধরিয়া রজনীর কাছে দেশের লোকের নিন্দা করিয়া, উঠিয়া যাইবার সময় হাই তুলিতে তুলিতে পনশ্চ নিবেদনের মধ্যে আবশ্যকমত টাকাটা-সিকিটা ধার করিয়া লইতেন এবং রজনীর স্বামীর, রজনীর উচ্চ বংশের ও চোখের জল মাছিতে মুছিতে রজনীর মত লক্ষীস্বভাবা মাতার প্রশংসা করিয়া শীঘ্র সে ধারগুলি শুধিতে না হয় এমন বন্দোবস্ত করিয়া যাইতেন। কিন্তু এই পিসি-মাসি শ্রেণীর মধ্যে কর্ণার দানাম আর ঘুচিল না। ঘুচিবে কিরাপে বলো। মাসি যখন সন্তোষজনকরপে ভূমিকাটি শেষ করিয়া রজনীর কাছে কাজের কথা পাড়িবার উপক্ৰম করিতেছেন, এমন সময়ে হয়তো কর্ণা কোথা হইতে তাড়াতাড়ি আসিয়া রজনীকে টানিয়া লইয়া বাগানে চলিল। মাঝে মাঝে তাঁহারা কর্ণার ব্যবহার দেখিয়া তাহাকে জিজ্ঞাসা করিতেন, “তুমি কেমন-ধারা গা ?’ সে যে কেমন-ধারা কর্ণা তাহার কোনো হিসাব দিতে চেষ্টা করিত না। কোনো পিসির বিশেষ কথা, বিশেষ অঙ্গভঙ্গি বা বিশেষ মুখশ্ৰী দেখিলে এক-এক সময় তাহার এমন হাসি পাইত যে, সে সামলাইয়া উঠা দায় হইত, সে রজনীর গলা ধরিয়া মহা शनिग्न कळल्लाल छूजिउ-ब्रछनौ-नदन्थ विद्वष्ठ इईब्रा ऍठेिठ । ठाश शफ़ा ब्रछनौब्र গিৰিপনা দেখিয়া সে এক-এক সময়ে হাসিয়া আর বাঁচিত না। কর_ণা SQ6 কিছুদিন হইতে মহেন্দু দেখিতেছেন বাড়িটা যেন শান্ত হইয়াছে। করপোর আমোদ আহমাদ থামিয়াছে। কিন্তু সে শান্তি প্রাথনীয় নহে—হাস্যময়ী বালিকা হাসিয়া খেলিয়া লাড়ির সবত্র যেন উৎসবময় করিয়া রাখিত— সে এক দিনের জন্য নীরব হইলে বাড়িটা যেন শন্য-শান্য ঠেকিত, কী যেন অভাব বোধ হইত। কয়দিন হইতে কর্ণা এমন বিষম হইয়া গিয়াছিল—সে এক জায়গায় চুপ করিয়া বসিয়া থাকিত, কাদিত, কিছুতেই প্রবোধ মানিত না। কর্ণা যখন এইরুপ বিষয় হইয়া থাকে তখন রজনীর বড়ো কষ্ট হয়— সে বালিকার হাসি আহাদ না দেখিতে পাইলে সমস্ত দিন তাহার কেমন কোনো কাজই হয় না। নরেন্দ্রের বাড়ি যাইবে বলিয়া কর্ণা মহেন্দুকে ভারি ধরিয়া পড়িয়াছে। মহেন্দু বলিল, সে বাড়ি অনেক দরে। কর্ণা বলিল, তা হোক ! মহেন্দ্ৰ কহিল, সে বাড়ি বড়ো খারাপ। কর্ণা কহিল, তা হোক! মহেন্দু কহিল, সে বাড়িতে থাকিবার জায়গা নাই। কর্ণা উত্তর দিল, তা হোক! সকল আপত্তির বিরুধে এই তা হোক শুনিয়া মহেন্দু ভাবিলেন, নরেন্দ্রকে একটি ভালো বাড়িতে আনাইবেন ও সেইখানে কর্ণাকে লইয়া যাইবেন । নরেন্দ্রের সন্ধানে চলিলেন। বাড়িভাড়া দিবার সময় হইয়াছে বলিয়াই হউক বা মহেন্দু তাঁহার বাড়ির ঠিকানা জানিতে পারিয়াছে বলিয়াই হউক, নরেন্দ্র সে বাড়ি হইতে উঠিয়া গিয়াছেন । মহেন্দু তাঁহার ব্যথা অন্বেষণ করিলেন, পাইলেন না। এই বাতা শুনিয়া অবধি করণার আর হাসি নাই। বিশেষ অবস্থায়, বিশেষ সময়ে, সহসা এক-একটা কথা শুনিলে যেমন বনকে আঘাত লাগে, কর্ণার তেমনি আঘাত লাগিয়াছে। কেন, এত দিনেও কি কর্ণার সহিয়া যায় নাই। নরেন্দ্র কর্ণার উপর কত শত দব্যেবহার করিয়াছে, আর আজ তাহার এক পথানান্তর সংবাদ পাইয়াই কি তাহার এত লাগিল। কে জানে, কর্ণার বড়ো লাগিয়াছে। বোধ হয় ক্ৰমাগত জালাতন হইয়া হইয়া তাহার হদয় কেমন জীণ হইয়া গিয়াছিল, আজ এই একটি সামান্য আঘাতেই ভাঙিয়া পড়িল । বোধ হয় এবার বেচারি কর্ণা বড়োই আশা করিয়াছিল যে, বুঝি নরেন্দ্রের সহিত আবার দেখা-সাক্ষাৎ হইবে। তাহাতে নিরাশ হইয়া সে পথিবীর সমুদয় বিষয়ে নিরাশ হইয়াছে, হয়তো এই এক নিরাশা হইতেই তাহার বিশ্বাস হইয়াছে তাহার আর কিছুতেই সুখ হইবে না। করুণার মন একেবারে ভাঙিয়া পড়িল— যে ভাবনা কর্ণার মতো বালিকার মনে আসা প্রায় অসম্পভব, সেই মরণের ভাবনা তাহার মনে হইল। তাহার মনে হইল এ সংসারে সে কেমন শ্রান্ত অবসন্ন হইয়া পড়িয়াছে, সে আর পারিয়া ওঠে না, এখন তাহার মরণ হইলে বাঁচে। এখন আর অধিক লোকজন তাহার কাছে আসিলে তাহার কেমন কষ্ট হয়। সে মনে করে, “আমাকে এইখানে একলা রাখিয়া দিক, আপনার মনে একলা পড়িয়া থাকিয়া মরি। সে সকল লোকের নানা জিজ্ঞাসার উত্তর দিয়া উঠিতে আর পারে না। সে সকল বিষয়েই কেমন বিরক্ত উদাসীন হইয়া পড়িয়াছে। রজনী বেচার কত কাঁদিয়া তাহাকে কত সাধ্য সাধনা করিয়াছে, কিন্তু এই আহত লতাটি জন্মের মতো মিয়মাণ হইয়া পড়িয়াছে—বষার সলিলসেকে বসন্তের বায়বীজনে, আর সে মাথা তুলিতে পারবে না। ჯყ ტ షిణ ఆ গলপগুচ্ছ কিন্তু একি সংবাদ! মহেন্দ্র নরেন্দ্রের সন্ধান আবার পাইয়াছে শনিতেছি। মহেন্দ্র কর্ণা ও নরেন্দ্রের জন্য একটি ভালো বাড়ি ভাড়া করিয়াছে। নরেন্দ্র মহেন্দ্রের ব্যয়ে সে বাড়িতে বাস করিতে সহজেই স্বীকৃত হইয়াছে। কিন্তু একবার মন ভঙিয়া গেলে তাহাতে আর সফতি হওয়া সহজ নহে—করণা এই সংবাদ শনিল, কিন্তু তাহার অবসন্ন মন আর তেমন জাগিয়া উঠিল না। কর্ণা মহেন্দুদের বাড়ি হইতে বিদায় হইল— যাইবার দিন রজনী কর্ণার গলা জড়াইয়া ধরিয়া কতই কাঁদিতে লাগিল। কর্ণা চলিয়া গেলে সে বাড়ি যেন কেমন শান্য-শান্য হইয়া গেল। সেই-যে কর্ণা গেল, আর সে ফিরিল না। সে বাড়িতে সেই অবধি করুণার সেই সমধর হাসির ধৰনি এক দিনের জন্যও আর শনা গেল না। ষড়বিংশ পরিচ্ছেদ পীড়িত অবস্থায় কর্ণা নরেন্দ্রের নিকট আসিল । মহেন্দু প্রায় মাঝে মাঝে করণোকে দেখিতে আসিতেন ; কর্ণা কখনও খারাপ থাকিত, কখনও ভালো থাকিত। এমনি করিয়া দিন চলিয়া যাইতেছে। নরেন্দ্র কর্ণাকে মনে মনে ঘণা করিত, কেবল মহেন্দ্রের ভয়ে এখনও তাহার উপর কোনো অসদ্ব্যবহার করিতে আরম্ভ করে নাই। কিন্তু নরেন্দ্র প্রায় বাড়িতে থাকিত না— দই-একদিন বাদে যে অবস্থায় বাড়িতে আসিত, তখন কর্ণার কাছে না আসিলেই ভালো হইত। তাহার অবতমানে পীড়িতা কর্ণাকে দেখিবার কেহ লোক নাই। কেবল সেই দাসীটি মাঝে মাঝে আসিয়া বিরক্তির স্বরে কহিত, “তোমার কি ব্যামো কিছুতেই সারবে না গা। কী যন্ত্রণা !” নরেন্দ্রের উপর এই দাসীটির মহা আধিপত্য ছিল। নরেন্দ্র যখন মাঝে মাঝে বাড়ি হইতে চলিয়া যাইত, তখন ইহার যত ঈষা হইত এত আর কাহারও নয় । এমন-কি নরেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিলে তাহাকে মাঝে মাঝে ঝাঁটাইতে ক্ৰটি করিত না। মাঝে মাঝে নরেন্দ্রের উপর ইহার অভিমানই বা দেখে কে। কর্ণার উপরেও মারিত। মাঝে মাঝে নরেন্দ্রের সহিত ইহার মহা মারামারি বাধিয়া যাইত— দুজনেই দজেনের উপর গালাগালি ও কিল চাপড় বর্ষণ করিয়া কুর ক্ষেত্র বাধাইয়া দিত। কিন্তু এইরপে জনশ্রুতি আছে, নরেন্দ্র তাহার বিপদের দিনে ইহার সাহায্যে দিনযাপন করিতেন। নরেন্দুের ব্যবহার কমেই সকতি পাইতে লাগিল। যখন-তখন আসিয়া মাতলামি कब्रिउ, ट्नई मानौग्नि नौशद्ध छाब्रि कशज्जा वाशाश्झा मिऊ । कद्र:शा ५३-नभन्ठहे দেখিতে পাইভ, কিন্তু তাহার কেমন এক প্রকারের ভাব হইয়াছে—সে মনে করে বাহা হইতেছে হউক, যাহা যাইতেছে চলিয়া যাক! দাসীটা মাঝে মাঝে নরেন্দ্রের উপর রাগিয়া কর্ণার নিকট গর গর করিয়া মুখ নাড়িয়া যাইত; কর্ণা চুপ করিয়া থাকিভ কিছুই উত্তর দিত না। নরেন্দ্র আবশ্যকমত গহসজ্জা বিক্রয় করিতে লাগিল। অবশেষে তাহাতেও কিছর হইল না— অর্থসাহায্য চাহিয়া মহেন্দুকে একখানা চিঠি লিখিবার জন্য কর্ণাকে পীড়াপীড়ি করিতে আরম্ভ করিল। করগো ' কর্ণা বেচারি কোথায় একটা নিশ্চিত হইতে চায়, কোথায় সে মনে করিতেছে যে বাহা করে কর্ক—আমাকে একটা একেলা থাকিতে দিক, না, তাহাকে লইয়াই এই-সমস্ত হাঙ্গাম! সে কী করে, মাঝে মাঝে লিখিয়া দিত। কিন্তু বার বার এমন কী করিয়া লিখিবে। মহেন্দ্রের নিকট হইতে বার বার অর্থ চাহিতে তাহার কেমন কষ্ট হইত, তভিন্ন সে জানিত অথ পাইলেই নরেন্দ্র তাহা দশকমে ব্যয় করিবে মাত্র । একদিন সন্ধ্যার সময় নরেন্দ্র আসিয়া মহেন্দুকে চিঠি লিখিবার জন্য করশোকে পীড়াপীড়ি করিতে লাগিল। কর্ণা কাঁদিতে কাঁদিতে কহিল, “পায়ে পড়ি, আমাকে আর চিঠি লিখিতে বলিয়ো না।” সেই সময় সেই দাসীটি আসিয়া পড়িল, সেও নরেন্দ্রের সঙ্গে যোগ দিল— কহিল, “তুমি অমন একগয়ে মেয়ে কেন গা! টাকা না থাকলে গিলবে কী।” নরেন্দ্র কন্ধভাবে কহিল, “লিখিতেই হইবে।” কর্ণা নরেন্দ্রের পা জড়াইয়া ধরিয়া কহিল, “ক্ষমা করো, আমি লিখিতে পারিব না।” “লিখিবি না ? হতভাগিনী, লিখিবি না ?” ক্ৰোধে রক্তবণ হইয়া নরেন্দ্র কর্ণাকে প্রহার করিতে লাগিল। এমন সময় সহসা বার খলিয়া পণ্ডিতমহাশয় প্রবেশ করিলেন ; তিনি তাড়াতাড়ি গিয়া নরেন্দ্রকে ছাড়াইয়া দিলেন, দেখিলেন দলবল কর্ণা মছিত হইয়া পড়িয়াছে। সপ্তবিংশ পরিচ্ছেদ পবেই বলিয়াছি, পণ্ডিতমহাশয় নিধির টানাটানিতে গাড়িতে উঠিলেন বটে, কিন্তু তাঁহার মন কখনোই ভালো ছিল না। তিনি প্রায়ই মাঝে মাঝে মনে করিতেন, তাঁহার স্নেহভাগিনী কর্ণার দশা হী হইল! এইরুপ অনন্তাপে যখন কট পাইতেছিলেন এমন সময়ে দৈবক্রমে মোহিনীর সহিত সত্য-সত্যই তাঁহার সাক্ষাৎ হয় । তাহার নিকট কর্ণার সমস্ত সংবাদ পাইয়া আর থাকিতে পারিলেন না, তাড়াতাড়ি কলিকাতায় আসিলেন। প্রথমে মহেন্দ্রের কাছে গেলেন, সেখানে নরেন্দ্রের বাড়ির সন্ধান লইলেন— বাড়িতে আসিয়াই নরেন্দ্রের ঐ নিষ্ঠর অত্যাচার দেখিতে পাইলেন। সেই মছার পর হইতে কর্ণার বার বার মাছা হইতে লাগিল। পণ্ডিতমহাশয় মহা অধীর হইয়া উঠিলেন। তিনি যে কী করিবেন কিছুই ভাবিয়া পাইলেন না। এই সময়ে তিনি নিধির অভাব অত্যন্ত অনুভব করিতে লাগিলেন। অনেক ভাবিয়া-চিন্তিয়া তিনি তাড়াতাড়ি মহেন্দুকে ডাকিতে গেলেন। মহেন্দ্র ও রজনী উভয়েই আসিল। মহেন্দু যথাসাধ্য চিকিৎসা করিতে লাগিলেন। কর্ণা মাঝে মাঝে রজনীর হাত ধরিয়া অতি ক্ষীণ স্বরে কথা কহিত; পণ্ডিতমহাশয় যখন অনন্তপতহৃদয়ে কর্ণার নিকট আপনাকে ধিক্কার দিতেন, যখন কাঁদিতে কাঁদিতে বলিতেন, মা, আমি তোকে অনেক কট দিয়াছি, তখন কর্ণা আশ্রপেণনেয়ে অতি ধীরস্বরে ᎼᎸ Ꮜ গল্পগুচ্ছ তাঁহাকে বারণ করিত। কেহ যদি জিজ্ঞাসা করিত নরেন্দ্রকে ডাকিয়া দিবে ? সে কহিত, “কাজ নাই।" সে জানিত নরেন্দ্র কেবল বিরক্ত হইবে মাত্র। আজ রাত্রে কর্ণার পীড়া বড়ো বাড়িয়াছে। শিয়রে বসিয়া রজনী কাঁদিতেছে। আর পণ্ডিতমহাশয় কিছুতেই ঘরের মধ্যে স্থির থাকিতে না পারিয়া বাহিরে গিয়া শিশর ন্যায় অধীর উচ্ছাসে কাঁদিতেছেন। নরেন্দ্র গহে নাই। আজ কর্ণা একবার নরেন্দ্রকে ডাকিয়া আনিবার জন্য মহেন্দুকে অনুরোধ করিল। নরেন্দ্র যখন গহে আসিলেন, তাঁহার চক্ষ লাল, মুখ ফলিয়াছে, কেশ ও বস্ত্র বিশৃঙ্খল। হতবন্ধিপ্রায় নরেন্দ্রকে কর্ণার শষ্যার পাবে সকলে বসাইয়া দিল। কর্ণা কম্পিত হতে নরেন্দ্রের হাত ধরিল, কিন্তু কিছু কহিল না। আশ্বিন ১২৮৪ - ভাদ্র ১২৮৫