প্রধান মেনু খুলুন


હ૬૭ গল্পগুচ্ছ গুপ্তধন অমাবস্যার নিশীথরাত্রি। মৃত্যুঞ্জয় তাত্রিক মতে তাহাদের বহনকালের গহদেবতা জয়কালীর পজায় বসিয়াছে। পজা সমাধা করিয়া যখন উঠিল, তখন নিকটস্থ আমবাগান হইতে প্রত্যুষের প্রথম কাক ডাকিল। মৃত্যুঞ্জয় পশ্চাতে ফিরিয়া চাহিয়া দেখিল, মন্দিরের বার রন্ধ রহিয়াছে। তখন সে একবার দেবীর চরণতলে মস্তক ঠেকাইয়া তাঁহার আসন সরাইয়া দিল। সেই আসনের নীচে হইতে একটি কাঁঠালকাঠের বাক্স বাহির হইল। পৈতায় চাবি বাঁধা ছিল। সেই চাবি লাগাইয়া মৃত্যুঞ্জয় বাক্সটি খলিল। খলিবামাত্রই চমকিয়া উঠিয়া মাথায় করাঘাত করিল। মৃত্যুঞ্জয়ের অন্দরের বাগান প্রাচীর দিয়া ঘেরা। সেই বাগানের এক প্রান্তে বড়ো বড়ো গাছের ছায়ার অন্ধকারে এই ছোটো মন্দিরটি। মন্দিরে জয়কালীর মতি ছাড়া আর-কিছুই নাই; তাহার প্রবেশদ্বার একটিমাত্র। মৃত্যুঞ্জয় বাক্সটি লইয়া অনেকক্ষণ নাড়াচাড়া করিয়া দেখিল। মৃত্যুঞ্জয় বাক্সটি খলিবার প্বে তাহা বন্ধই ছিল— কেহ তাহা ভাঙে নাই। মৃত্যুঞ্জয় দশবার করিয়া প্রতিমার চারি দিকে ঘুরিয়া হাতড়াইয়া দেখিল—কিছুই পাইল না। পাগলের মতো হইয়া মন্দিরের বার খলিয়া ফেলিল— তখন ভোরের আলো ফুটিতেছে। মন্দিরের চারি দিকে মৃত্যুঞ্জয় ঘুরিয়া ঘরিয়া ব্যথা আশবাসে খ:জিয়া বেড়াইতে লাগিল। সকালবেলাকার আলোক যখন পরিসফটে হইয়া উঠিল, তখন সে বাহিরের চণ্ডীমন্ডপে আসিয়া মাথায় হাত দিয়া বসিয়া ভাবিতে লাগিল । সমস্ত রাত্রি অনিদ্রার পর ক্লান্তশরীরে একটা তল্লা আসিয়াছে, এমন সময়ে হঠাৎ চমকিয়া উঠিয়া শুনিল, “জয় হোক বাবা।” সম্মখে প্রাঙ্গণে এক জটাজুটধারী সন্ন্যাসী । মৃত্যুঞ্জয় ভক্তিভরে তাঁহাকে প্রণাম করিল। সন্ন্যাসী তাহার মাথায় হাত দিয়া আশীবাদ করিয়া কহিলেন, “বাবা, তুমি মনের মধ্যে ব্যথা শোক করিতেছ।" শনিয়া মৃত্যুঞ্জয় আশ্চর্য হইয়া উঠিল; কহিল, “আপনি অত্যামী, নহিলে আমার শোক কেমন করিয়া বুঝিলেন । আমি তো কাহাকেও কিছু বলি নাই।” সন্ন্যাসী কহিলেন, “বৎস, আমি বলিতেছি, তোমার যাহা হারাইয়াছে সেজন্য তুমি আনন্দ করো, শোক করিয়ো না।” মৃত্যুঞ্জয় তাঁহার দই পা জড়াইয়া ধরিয়া কহিল, “আপনি তবে তো সমস্তই জানিয়াছেন—কেমন করিয়া হারাইয়াছে, কোথায় গেলে ফিরিয়া পাইব, তাহা না বলিলে আমি আপনার চরণ ছাড়িব না।” সন্ন্যাসী কহিলেন, “আমি যদি তোমার অমঙ্গল কামনা করিতাম তবে বলিতাম। কিন্তু, ভগবতী দয়া করিয়া যাহা হরণ করিয়াছেন সেজন্য শোক করিয়ো না।” মৃত্যুঞ্জয় সন্ন্যাসীকে প্রসন্ন করিবার জন্য সমস্ত দিন বিবিধ উপচারে তাঁহার সেবা করিল। পরদিন প্রত্যুষে নিজের গোহাল হইতে লোটা ভরিয়া সফেন দধি দহিয়া লইয়া আসিয়া দেখিল, সন্ন্যাসী নাই। গুপ্তধন ®8ጓ:: মৃত্যুঞ্জয় যখন শিশু ছিল, যখন তাহার পিতামহ হরিহর একদিন এই চণ্ডীমণ্ডপে বসিয়া তামাক খাইতেছিল, তখন এমনি করিয়াই একটি সন্ন্যাসী ‘জয় হোক বাবা’ বলিয়া এই প্রাঙ্গণে আসিয়া দাঁড়াইয়াছিলেন । হরিহর সেই সন্ন্যাসীকে কয়েকদিন বাড়িতে রাখিয়া বিধিমতো সেবার বারা সন্তুষ্ট করিল। বিদায়কালে সন্ন্যাসী যখন জিজ্ঞাসা করিলেন “বৎস, তুমি কী চাও", হরিহর কহিল, “বাবা, যদি সন্তুষ্ট হইয়া থাকেন তবে আমার অবস্থাটা একবার শনেন। এক কালে এই গ্রামে আমরা সকলের চেয়ে বধিষ্ণ ছিলাম। আমার প্রপিতামহ দরে হইতে কুলীন আনাইয়া তাঁহার এক কন্যার বিবাহ দিয়াছিলেন। তাঁহার সেই দৌহিরবংশ আমাদিগকেই ফাঁকি দিয়া আজকাল এই গ্রামে বড়োলোক হইয়া উঠিয়াছে । আমাদের এখন অবস্থা ভালো নয়, কাজেই ইহাদের অহংকার সহ্য করিয়া থাকি। কিন্তু, আর সহ্য হয় না। কী করিলে আবার আমাদের বংশ বড়ো হইয়া উঠিবে সেই উপায় বলিয়া দিন, সেই আশীবাদ করন।” সন্ন্যাসী ঈষৎ হাসিয়া কহিলেন, “বাবা, ছোটো হইয়া সখে থাকো। বড়ো হইবার চেন্টায় শ্রেয় দেখি না।" কিন্তু, হরিহর তব ছাড়িল না, বংশকে বড়ো করিবার জন্য সে সমস্ত স্বীকার করিতে রাজি আছে। তখন সন্ন্যাসী তাঁহার ঝলি হইতে কাপড়ে-মোড়া একটি তুলট কাগজের লিখন বাহির করিলেন। কাগজখানি দীঘ, কোষ্ঠীপত্রের মতো গটানো। সন্ন্যাসী সেটি মেজের উপরে খলিয়া ধরিলেন। হরিহর দেখিল, তাহাতে নানাপ্রকার চক্লে নানা সাংকেতিক চিহ্ন অাঁকা, আর, সকলের নিনে একটি প্রকাণ্ড ছড়া লেখা আছে তাহার আরম্ভটা এইরপ— পায়ে ধরে সাধা । রা নাহি দেয় রাধা। শেষে দিল রা, পাগোল ছাড়ো পা। তেতুল বটের কোলে দক্ষিণে যাও চলে ৷ ঈশানকোণে ঈশানী, কহে দিলাম নিশানী। ইত্যাদি। হরিহর কহিল, “বাবা, কিছই তো বুঝিলাম না।" সন্ন্যাসী কহিলেন, “কাছে রাখিয়া দাও, দেবীর পজা করো। তাঁহার প্রসাদে তোমার বংশে কেহ না কেহ এই লিখন বুঝিতে পরিবে। তখন সে এমন ঐশ্বৰ্য পাইবে জগতে যাহার তুলনা নাই।” হরিহর মিনতি করিয়া কহিল, “বাবা কি বুঝাইয়া দিবেন না।” সন্ন্যাসী কহিলেন, “না। সাধনা বারা বঝিতে হইবে।” এমন সময় হরিহরের ছোটো ভাই শংকর আসিয়া উপস্থিত হইল। তাহাকে দেখিরা হরিহর তাড়াতাড়ি লিখনটি লুকাইবার চেষ্টা করিল। সন্ন্যাসী হাসিয়া কহিলেন, &8Ꮜ গল্পগুচ্ছ “বড়ো হইবার পথের দুঃখ এখন হইতেই শরে হইল। কিন্তু গোপন করিবার দরকার নাই। কারণ, ইহার রহস্য কেবল একজনমায়ই ভেদ করিতে পারিবে, হাজার চেষ্টা করিলেও অার-কেহ তাহা পারিবে না। তোমাদের মধ্যে সেই লোকটি যে কে, তাহা কেহ জানে না। অতএৰ ইহা সকলের সম্মখেই নিভয়ে খলিয়া রাখিতে পার।” সন্ন্যাসী চলিয়া গেলেন। কিন্তু, হরিহর এ কাগজটি লুকাইয়া না রাখিয়া থাকিতে পারিল না। পাছে আন্ন-কেহ ইহা হইতে লাভবান হয়, পাছে তাহার ছোটো ভাই শংকর ইহার ফলভোগ করিতে পারে, এই আশঙ্কায় হরিহর এই কাগজটি একটি কাঁঠালকাঠের বাক্সে বন্ধ করিরা তাহাদের গহদেবতা জয়কালীর আসনতলে লুকাইয়া রাখিল। প্রত্যেক অমাবস্যায় নিশাঁখরাত্রে দেবীর পজা সারিয়া সে একবার করিয়া সেই কাগজটি খালিয়া দেখিত, ৰদি দেৰী প্রসন্ন হইয়া তাহাকে অথ" বুঝিবার শক্তি দেন। শংকর কিছুদিন হইতে হরিহরকে মিনতি করিতে লাগিল, “দাদা, আমাকে সেই কাগজটা একবার ভালো করিয়া দেখিতে দাও-না।” হরিহর কহিল, “দর পাগল, সে কাগজ কি আছে। বেটা ভণ্ড সন্ন্যাসী কাগজে কতকগলো হিজিবিজি কাটিয়া আমাকে ফাঁকি দিয়া গেল—আমি সে পড়াইয়া ফেলিয়াছি।” শংকর চুপ করিয়া রহিল। হঠাৎ একদিন শংকরকে ঘরে দেখিতে পাওয়া গেল না। তাহার পর হইতে সে নিরদেশ। হরিহরের অন্য সমস্ত কাজকম নষ্ট হইল—গতে ঐশ্বৰোঁর ধ্যান একমাহত সে ছাড়িতে পারিল না। মৃত্যুকাল উপস্থিত হইলে সে তাহার বড়ো ছেলে শ্যামাপদকে এই সন্ন্যাসীদত্ত কাগজখানি দিয়া গেল। এই কাগজ পাইয়া শ্যামাপদ চাকরি ছাড়িয়া দিল। জয়কালীর পজায় আর একান্তমনে এই লিখনপাঠের চচায় তাহার জীবনটা যে কোন দিক দিয়া কাটিয়া গেল তাহা বুঝিতে পারিল না। মৃত্যুঞ্জয় শ্যামাপদর বড়ো ছেলে। পিতার মৃত্যুর পরে সে এই সন্ন্যাসীদত্ত গুপ্তলিখনের অধিকারী হইয়াছে। তাহার অবস্থা উত্তরোত্তর মতই হীন হইয়া আসিতে লাগিল, ততই অধিকতর আগ্রহের সহিত ঐ কাগজখানির প্রতি তাহার সমস্ত চিত্ত নিবিষ্ট হইল। এমন সময় গত অমাবস্যারাত্রে পজার পর লিখনখানি আর দেখিতে পাইল না—সন্ন্যাসীও কোথায় অন্তধান করিল। মৃত্যুঞ্জয় কহিল, “এই সন্ন্যাসীকে ছাড়া হইবে না। সমস্ত সন্ধান ইহার কাছ হইতেই মিলিবে।” এই বলিয়া সে ঘর ছাড়িরা সন্ন্যাসীকে খুজিতে বাহির হইল। এক বৎসর পথে পথে কাটিয়া গেল । গ্রামের নাম ধারাগোল। সেখানে মৃত্যুঞ্জয় মদির দোকানে বসিয়া তামাক খাইতেছিল আর অন্যমনস্ক হইরা নানা কথা ভাবিতেছিল। কিছু দরে মাঠের ধার দিরা একজন গুপ্তধন 6.82 সন্ন্যাসী চলিয়া গেল। প্রথমটা মৃত্যুঞ্জয়ের মনোযোগ আকৃষ্ট হইল না। একট পরে হঠাৎ তাহার মনে হইল, যে লোকটা চলিয়া গেল এই তো সেই সন্ন্যাসী! তাড়াতাড়ি হ:কাটা রাখিয়া মদিকে সচকিত করিয়া এক দৌড়ে সে দোকান হইতে বাহির হইয়া গেল। কিন্তু, সে সন্ন্যাসাঁকে দেখা গেল না। তখন সন্ধ্যা অন্ধকার হইয়া আসিয়াছে। অপরিচিত স্থানে কোথায় যে সন্ন্যাসীর সন্ধান করিতে যাইবে, তাহা সে ঠিক করিতে পারিল না। দোকানে ফিরিয়া আসিয়া মদিকে জিজ্ঞাসা করিল, “ঐ-যে মস্ত বন দেখা যাইতেছে ওখানে কী আছে।” মদি কহিল, "এককালে ঐ বন শহর ছিল, কিন্তু অগসত্য মনির শাপে ওখানকার রাজা প্রজা সমস্তই মড়কে মরিয়াছে । লোকে বলে, ওখানে অনেক ধনরত্ন আজও খুজিলে পাওয়া যায়; কিন্তু দিনদুপরেও ঐ বনে সাহস করিয়া কেহ যাইতে পারে না। যে গেছে সে আর ফেরে নাই ।” মৃত্যুঞ্জয়ের মন চঞ্চল হইয়া উঠিল। সমস্ত রাত্রি মদির দোকানে মাদরের উপর পড়িয়া মশার জালায় সবাঙ্গ চাপড়াইতে লাগিল আর ঐ বনের কথা, সন্ন্যাসীর কথা, সেই হারানো লিখনের কথা ভাবিতে থাকিল। বার বার পড়িয়া সেই লিখনটি মৃত্যুঞ্জয়ের প্রায় কন্ঠস্থ হইয়া গিয়াছিল, তাই এই অনিদ্রাবস্থায় কেবলই তাহার মাথায় ঘুরিতে जा*िाळा-- পায়ে ধরে সাধা ! - রা নাহি দেয় রাধা ॥ 畿 শেষে দিল রা, পাগোল ছাড়ো পা ৷ মাথা গরম হইয়া উঠিল—কোনোমতেই এই কটা ছত্র সে মন হইতে দরে করিতে পারিল না। অবশেষে ভোরের বেলায় যখন তাহার তন্দ্ৰা আসিল তখন সবপেন এই চারি ছত্রের অর্থ অতি সহজে তাহার নিকট প্রকাশ হইল। ‘রা নাহি দেয় রাধা অতএব BBB BS D BBB B BBBDS eBB DDB BS BBB BB BBSBBB ছাড়ো পা’, ‘পাগোল’-এর ‘পা’ ছাড়িলে গোল’ বাকি রহিল— অতএব সমস্তটা মিলিয়া হইল ধারাগোল—এ জায়গাটার নাম তো ধারাগোলই বটে। সবন ভাঙিয়া মৃত্যুঞ্জয় লাফাইয়া উঠিল। সমস্ত দিন বনের মধ্যে ফিরিয়া সন্ধ্যাবেলায় বহন কন্টে পথ খুজিয়া অনাহারে মতপ্রায় অবস্থায় মৃত্যুঞ্জয় গ্রামে ফিরিল। পরদিন চাদরে চি’ড়া বাঁধিয়া পনবার সে বনের মধ্যে যাত্রা করিল। অপরাহ্লে একটা দিঘির ধারে আসিয়া উপস্থিত হইল। দিঘির মাঝখানটা পরিকার জল, আর পাড়ের গায়ে গায়ে চারি দিকে পৰ্ম্ম আর কুমাদের বন। পাথরে বাঁধানো ঘাট ভাঙিয়াछूब्रिग्ना नष्क्लिग्नाटक, ट्नईथाट्न छरल क्लिफ़ा छिबाहेब्रा थाईब्रार्मािचब्र क्राब्रिमिक धर्माचन कब्रिम्ला भथिहउ व्लास्थिाठा । मिथिव्र *भिय नाफुिग्न थारम्ठ एठा९ भङ्काछद्र थभक्मिा मौफ़ाईल । रमषिण, ७कल्ले ●● • 6:60 গল্পগুচ্ছ তেতুলগাছকে বেস্টন করিয়া প্রকাণ্ড বটগাছ উঠিয়াছে। তৎক্ষণাৎ তাহার মনে পড়িল— তেতুল বটের কোলে দক্ষিণে যাও চলে ৷ দক্ষিণে কিছু দরে যাইতেই ঘন জঙ্গলের মধ্যে আসিয়া পড়িল। সেখানে সে বেতঝাড় ভেদ করিয়া চলা একেবারে অসাধ্য। যাহা হউক, মৃত্যুঞ্জয় ঠিক করিল, এই গাছটাকে কোনোমতে হারাইলে চলিবে না। এই গাছের কাছে ফিরিয়া আসিবার সময় গাছের অন্তরাল দিয়া অনতি দরে একটা মন্দিরের চড়া দেখা গেল। সেই দিকের প্রতি লক্ষ করিয়া মৃত্যুঞ্জয় এক ভাঙা মন্দিরের কাছে আসিয়া উপস্থিত হইল। দেখিল, নিকটে একটা চুল্লি, পোড়া কাঠ আর ছাই পড়িয়া আছে। অতি সাবধানে মৃত্যুঞ্জয় ভগ্নাবার মন্দিরের মধ্যে উকি মারিল। সেখানে কোনো লোক নাই, প্রতিমা নাই, কেবল একটি কমবল কমণ্ডল আর গেরয়া উত্তরীয় পড়িয়া আছে। তখন সন্ধ্যা আসন্ন হইয়া আসিয়াছে; গ্রাম বহন দরে, অন্ধকারে বনের মধ্যে পথ সন্ধান করিয়া যাইতে পারিবে কি না, তাই এই মন্দিরে মনুষ্যবসতির লক্ষণ দেখিয়া মৃত্যুঞ্জয় খুশি হইল। মন্দির হইতে একটি বহৎ প্রস্তরখণ্ড ভাঙিয়া বারের কাছে পড়িয়া ছিল; সেই পাথরের উপরে বসিয়া নতশিরে ভাবিতে ভাবিতে মৃত্যুঞ্জয় হঠাৎ পাথরের গায়ে কী যেন লেখা দেখিতে পাইল। ঝাকিয়া পড়িয়া দেখিল একটি চকু অাঁকা, তাহার মধ্যে কতক পাট কতক লঙ্তেপ্রায়-ভাবে নিম্নলিখিত সাংকেতিক অক্ষর লেখা আছে-- 惠 প্ৰক্ৰিংষ্ট 冷 ఢః é <δο •g} 号 沙 S)ა | ა | W ද් ෆ්‍ර ද්‍රි to () £ এই চক্ৰটি মৃত্যুঞ্জয়ের সুপরিচিত। কত অমাবস্যারাত্রে পজাগহে সুগন্ধ ধাপের ধ্যমে ঘতদীপালোকে তুলট কাগজে অঙ্কিত এই চক্ৰচিহ্নের উপরে ঝকিয়া পড়িয়া রহস্য ভেদ করিবার জন্য একাগ্রমনে সে দেবীর প্রসাদ যাচঞা করিয়াছে। আজ অভীষ্টসিদ্ধির অত্যন্ত সন্নিকটে আসিয়া তাহার সবাঙ্গ যেন কাঁপতে লাগিল। পাছে তীরে আসিয়া তরী ডোবে, পাছে সামান্য একটা ভুলে তাহার সমস্ত নষ্ট হইয়া যায়, পাছে সেই সন্ন্যাসী পাবে আসিয়া সমস্ত উদ্ধার করিয়া লইয়া গিয়া থাকে, এই আশঙ্কায় তাহর বকের মধ্যে তোলপাড় করিতে লাগিল । এখন যে তাহার কী কতব্য তাহা সে ভাবিয়া পাইল না। তাহার মনে হইল, সে হয়তো তাহার ঐশ্বযভাণ্ডারের ঠিক উপরেই বসিয়া আছে, অথচ কিছুই জানিতে পাইতেছে না। বসিয়া বসিয়া সে কালীনাম জপ করিতে লাগিল; সন্ধ্যার অন্ধকার নিবিড় হইয়া আসিল; ঝিল্লির ধর্মনিতে বনভূমি মুখর হইয়া উঠিল। গুপ্তধন r - to 6 o' ● # এমন সময় কিছদর ঘন বনের মধ্যে অনির দীপ্তি দেখা গেল। মৃত্যুঞ্জয় তাহার প্রস্তরাসন ছাড়িয়া উঠিয়া পড়িল, আর সেই শিখা লক্ষ্য করিয়া চলিতে লাগিল । বহ কটে কিছদরে গিয়া একটা অশথ গাছের গড়ির অন্তরাল হইতে পষ্ট দেখিতে পাইল, তাহার সেই পরিচিত সন্ন্যাসী অগ্নির আলোকে সেই তুলটের লিখন মেলিয়া একটা কাঠি দিয়া ছাইয়ের উপরে একমনে অঙ্গক কষিতেছে। মৃত্যুঞ্জয়ের ঘরের সেই পৈতৃক তুলটের লিখন! আরে ভন্ড, চোর! এইজন্যই সে মৃত্যুঞ্জয়কে শোক করিতে নিষেধ করিয়াছিল বটে ! সন্ন্যাসী একবার করিয়া অঙ্ক কষিতেছে, আর, একটা মাপকাঠি লইয়া জমি মাপিতেছে—কিয়দদর মাপিয়া হতাশ হইয়া ঘাড় নাড়িয়া পনবার আসিয়া অঙ্ক কষিতে প্রবত্ত হইতেছে। এমনি করিয়া রাত্রি যখন অবসানপ্রায়, যখন নিশান্তের শীতবায়তে বনস্পতির অগ্রশাখার পল্লবগলি মমরিত হইয়া উঠিল, তখন সন্ন্যাসী সেই লিখনপত্র গটাইয়া লইয়া চলিয়া গেল। মৃত্যুঞ্জয় কী করিবে ভাবিয়া পাইল না। ইহা সে নিশ্চয় বুঝিতে পারিল যে, সন্ন্যাসীর সাহায্য ব্যতীত এই লিখনের রহস্য ভেদ করা তাহার সাধ্য হইবে না। লব্ধে সন্ন্যাসী যে মৃত্যুঞ্জয়কে সাহায্য করবে না, তাহাও নিশ্চিত। অতএব গোপনে সন্ন্যাসীর প্রতি দটি রাখা ছাড়া অন্য উপায় নাই। কিন্তু, দিনের বেলায় গ্রামে না গেলে তাহার আহার মিলিবে না; অতএব অন্তত কাল সকালে একবার গ্রামে যাওয়া আবশ্যক । ভোরের দিকে অন্ধকার একটা ফিকা হইবামাত্র সে গাছ হইতে নামিয়া পড়িল । যেখানে সন্ন্যাসী ছাইয়ের মধ্যে অাঁক কষিতেছিল সেখানে ভালো করিয়া দেখিল, কিছুই বঝিল না। চতুদিকে ঘুরিয়া দেখিল, অন্য বনখণ্ডের সঙ্গে কোনো প্রভেদ নাই। বনতলের অন্ধকার কমে যখন ক্ষীণ হইয়া আসিল তখন মাতুঙ্গয় অতি সাবধানে চারি দিক দেখিতে দেখিতে গ্রামের উদ্দেশে চলিল। তাহার ভয় ছিল পাছে সন্ন্যাসী তাহাকে দেখিতে পায়। যে দোকানে মৃত্যুঞ্জয় আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছিল তাহার নিকটে একটি কায়স্থগহিণী ৱত-উদযাপন করিয়া সেদিন ব্রাহ্মণভোজন করাইতে প্রবত্ত ছিল। সেইখানে আজ মৃত্যুঞ্জয়ের আহার জটিয়া গেল। কয়দিন আহারের কন্টের পর আজ তাহার ভোজনটি গরতের হইয়া উঠিল। সেই গরভোজনের পর যেমন তামাকটি খাইয়া দোকানের মাদরটিতে একবার গড়াইয়া লইবার ইচ্ছা করিল অমনি গত রাত্রির অনিদ্রাকাতর মৃত্যুঞ্জয় ঘমে আচ্ছন্ন হইয়া পড়িল । মৃত্যুঞ্জয় স্থির করিয়াছিল, আজ সকাল-সকাল আহারাদি করিয়া যথেষ্ট বেলা থাকিতে বাহির হইবে। ঠিক তাহার উলটা হইল। যখন তাহার নিদ্রাভঙ্গ হইল তখন সন্য অস্ত গিয়াছে। তব মতু্যঞ্জয় দমিল না। অন্ধকারেই বনের মধ্যে সে প্রবেশ করিল। দেখিতে দেখিতে রাত্রি ঘনীভূত হইয়া আসিল। গাছের ছায়ার মধ্যে দটি আর চলে না, জঙ্গলের মধ্যে পথ অবরখ হইয়া যায়। মৃত্যুঞ্জয় যে কোন দিকে কোথায় বাইতেছে তাহা কিছুই ঠাহর পাইল না। রাত্রি যখন অবসান হইল তখন দেখিল সমস্ত ○ &、 গল্পগুচ্ছ রাত্রি সে বনের প্রান্তে একই জায়গায় ঘুরিয়া ঘুরিয়া বেড়াইয়াছে। কাকের দল কা-কা শব্দে গ্রামের দিকে উড়িল। এই শব্দ মৃত্যুঞ্জয়ের কানে ব্যঙ্গপািণ’ ধিক্কারবাক্যের মতো শনাইল । 朝 গণনায় বারবার ভুল আর সেই ভুল সংশোধন করিতে করিতে অবশেষে সন্ন্যাসী সরগের পথ আবিস্কার করিয়াছেন। সরঙ্গের মধ্যে মশাল লইয়া তিনি প্রবেশ করিলেন। বাঁধানো ভিত্তির গায়ে স্যাংলা পড়িয়াছে— মাঝে-মাঝে এক-এক জায়গায় জল চুইয়া পড়িতেছে। স্থানে স্থানে কতকগলা ভেক গায়ে গায়ে স্তপোকার হইয়া নিদ্রা দিতেছে। এই পিছল পথ দিয়া কিছদর বাইতেই সন্ন্যাসী দেখিলেন, সমখে দেয়াল উঠিয়াছে, পথ অবরুদ্ধ। কিছই কঝিতে পারিলেন না। দেয়ালের সবর লৌহদণ্ড দিয়া সবলে আঘাত করিয়া দেখিলেন, কোথাও ফাঁকা আওয়াজ দিতেছে না, কোথাও রঞ্জ নাই, এই পথটার যে এইখানেই শেষ তাহা নিঃসন্দেহ । আবার সেই কাগজ খলিয়া, মাথায় হাত দিয়া বসিয়া ভাবিতে লাগিলেন। সে রাল্লি এমনি করিয়া কাটিয়া গেল । পরদিন পনবার গণনা সারিয়া সরঙ্গে প্রবেশ করিলেন। সেদিন গুপ্তসংকেত অনসরণপবেক একটি বিশেষ পথান হইতে পাথর খসাইয়া এক শাখাপথ আবিস্কার করিলেন। সেই পথে চলিতে চলিতে আবার এক জায়গায় পথ অবরুদ্ধ হইয়া গেল। অবশেষে পঞ্চম রাত্রে সরগের মধ্যে প্রবেশ করিয়া সন্ন্যাসী বলিয়া উঠিলেন, “আজ আমি পথ পাইয়াছি, আজ আর আমার কোনোমতেই ভুল হইবে না।" পথ অত্যন্ত জটিল; তাহার শাখাপ্রশাখার অন্ত নাই—কোথাও এত সংকীর্ণ যে গড়ি মারিয়া যাইতে হয়। বহ যত্নে মশাল ধরিয়া চলিতে চলিতে সন্ন্যাসী একটা গোলাকার ঘরের মতো জায়গায় আসিয়া পৌছিলেন। সেই ঘরের মাঝখানে একটা বহৎ ইন্দারা। মশালের আলোকে সন্ন্যাসী তাহার তল দেখিতে পাইলেন না। ঘরের ছাদ হইতে একটা মোটা প্রকাণ্ড লৌহশখল ইদারার মধ্যে নামিয়া গেছে। সন্ন্যাসী প্রাণপণ বলে ঠেলিয়া এই শঙ্খলটাকে অলপ একটুখানি নাড়াইবামার ঠং করিয়া একটা শব্দ ইন্দারার গহবর হইতে উত্থিত হইয়া ঘরময় প্রতিধৰনিত হইতে লাগিল। সন্ন্যাসী উচ্চৈঃস্বরে বলিয়া উঠিলেন, “পাইয়াছি।” যেমন বলা অমনি সেই ঘরের ভাঙা ভিত্তি হইতে একটা পাথর গড়াইয়া পড়িল, আর সেই সঙ্গে আর-একটি কী সচেতন পদার্থ ধপ করিয়া পড়িয়া চীৎকার করিয়া উঠিল। সন্ন্যাসী এই অকস্মাৎ শব্দে চমকিয়া উঠিতেই তাঁহার হাত হইতে মশাল পড়িয়া নিবিয়া গেল। ● সন্ন্যাসী জিজ্ঞাসা করিলেন, “তুমি কে।” কোনো উত্তর পাইলেন না। তখন অন্ধকারে शरफ़ाईरठ शिग्ना ठाँशब्र शरठ ७:कर्णी भानवञ्च एमए प्zकिल । ठाशरक नाफा भिन्ना গুপ্তধন 鑫g粤 জিজ্ঞাসা করিলেন, “কে তুমি।” কোনো উত্তর পাইলেন না । লোকটা অচেতন হইয়া গেছে। তখন চকমকি ঠকিয়া ঠাকিয়া সন্ন্যাসী অনেক কটে মশাল ধরাইলেন। ইতিমধ্যে সেই লোকটাও সংজ্ঞাপ্রাপ্ত হইল, আর উঠিবার চেষ্টা করিয়া বেদনায় আতনাদ করিয়া উঠিল । সন্ন্যাসী কহিলেন, "এ কী, মৃত্যুঞ্জয় যে ! তোমার এ মতি হইল কেন।” মৃত্যুঞ্জয় কহিল, “বাবা, মাপ করো। ভগবান আমাকে শাসিত দিয়াছেন। তোমাকে পাথর ছড়িয়া মারিতে গিয়া সামলাইতে পারি নাই—পিছলে পাথরসন্ধ আমি পড়িয়া গেছি। পাটা নিশ্চয় ভাঙিয়া গেছে।” সন্ন্যাসী কহিলেন, “আমাকে মারিয়া তোমার কী লাভ হইত।” মৃত্যুঞ্জয় কহিল, “লাভের কথা তুমি জিজ্ঞাসা করিতেছ! তুমি কিসের লোভে আমার পজাম্বর হইতে লিখনখানি চুরি করিয়া এই সরগের মধ্যে ঘরিয়া বেড়াইতেছ। তুমি চোর, তুমি ভণ্ড! আমার পিতামহকে যে সন্ন্যাসী ঐ লিখনখানি দিয়াছিলেন তিনি বলিয়াছিলেন, আমাদেরই বংশের কেহ এই লিখনের সংকেত বৰিতে পারিবে । এই গনপত ঐশ্বয আমাদেরই বংশের প্রাপ্য। তাই আমি এ কয়দিন না-খাইয়া নাঘমাইয়া ছায়ার মতো তোমার পশ্চাতে ফিরিয়াছি। আজ যখন তুমি বলিয়া উঠিলে পাইয়াছি তখন আমি আর থাকিতে পারিলাম না। আমি তোমার পশ্চাতে আসিয়া ঐ গতাঁটার ভিতরে লুকাইয়া বসিয়া ছিলাম। ওখান হইতে একটা পাথর খসাইয়া তোমাকে মারিতে গেলাম, কিন্তু শরীর দািবল, জায়গাটাও অত্যন্ত পিছল—তাই পড়িয়া গেছি—এখন তুমি আমাকে মারিয়া ফেলো সেও ভালো— আমি যক্ষ হইয়া এই ধন আগলাইব—কিন্তু তুমি ইহা লইতে পারবে না-কোনোমতেই না। যদি লইতে চেষ্টা কর, আমি ব্রাহ্মণ, তোমাকে অভিশাপ দিয়া এই কাপের মধ্যে ঝাঁপ দিয়া পড়িয়া আত্মহত্যা করিব। এ ধন তোমার ব্রহ্মরক্ত গোরক্ত -তুল্য হইবে—এ ধন তুমি কোনোদিন সুখে ভোগ করিতে পারিবে না। আমাদের পিতা-পিতামহ এই ধনের উপরে সমস্ত মন রাখিয়া মরিয়াছেন– এই ধনের ধ্যান করিতে করিতে আমরা দরিদ্র হইয়াছি— এই ধনের সন্ধানে আমি বাড়িতে অনাথা সী ও শিশসন্তান ফেলিয়া আহারনিদ্রা ছাড়িয়া লক্ষীছাড়া পাগলের মতো মাঠে ঘাটে ঘুরিয়া বেড়াইতেছি—এ ধন তুমি আমার চোখের সম্মখে কখনো লইতে পারবে না।” bř সন্ন্যাসী কহিলেন, “মৃত্যুঞ্জয়, তবে শোনো । সমস্ত কথা তোমাকে বলি –তুমি জান, তোমার পিতামহের এক কনিষ্ঠ সহোদর ছিল, তার নাম ছিল শংকর।” भग्नुअङ्ग कर्णाश्ब्ण, “झौ, उनि निबन्धन्मण झद्देशा बाश्च्नि झ्द्देम्ला शब्राट्छ्न।” সন্ন্যাসী কহিলেন, “আমি সেই শংকর।” মৃত্যুঞ্জয় হতাশ হইয়া দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিল। এতক্ষণ এই গতে ধনের উপর তাহার ষে একমাত্র দাবি সে সাব্যস্ত করিয়া বসিয়াছিল, তাহারই বংশের আত্মীয় चमानिज्ञा न लादि नष्प्ले कर्गद्भग्ना निळन । 选总8 গল্পগুচ্ছ শংকর কহিলেন, “দাদা সন্ন্যাসীর নিকট হইতে লিখন পাইয়া অবধি আমার কাছে তাহা বিধিমতে লুকাইবার চেষ্টা করিতেছিলেন। কিন্তু তিনি যতই গোপন করিতে লাগিলেন আমার ঔৎসক্যে ততই বাড়িয়া উঠিল। তিনি দেবীর আসনের নীচে বাক্সের মধ্যে ঐ লিখনখানি লুকাইয়া রাখিয়াছিলেন, আমি তাহার সন্ধান পাইলাম, আর দ্বিতীয় চাবি বানাইয়া প্রতিদিন অলপ অলপ করিয়া সমস্ত কাগজখানা নকল করিতে লাগিলাম। যেদিন নকল শেষ হইল সেইদিনই আমি এই ধনের সন্ধানে ঘর ছাড়িয়া বাহির হইলাম। আমারও ঘরে অনাথা সত্রী এবং একটি শিশসন্তান ছিল। আজ তাহারা কেহ বাঁচিয়া নাই। “কত দেশ-দেশান্তরে ভ্রমণ করিয়াছি তাহা বিস্তারিত বর্ণনার প্রয়োজন নাই । সন্ন্যাসীদত্ত এই লিখন নিশ্চয় কোনো সন্ন্যাসী আমাকে বুঝাইয়া দিতে পরিবেন, এই মনে করিয়া অনেক সন্ন্যাসীর আমি সেবা করিয়াছি। অনেক ভণ্ড সন্ন্যাসী আমার ঐ কাগজের সন্ধান পাইয়া তাহা হরণ করিবারও চেন্টা করিয়াছে। এইরপে কত বৎসরের পর বৎসর কাটিয়াছে, আমার মনে এক মহত্যের জন্যও সুখ ছিল না, শান্তি ছিল না। “অবশেষে পর্বজন্মাজিত পণ্যের বলে কুমায়ন পবতে বাবা স্বর্যপানন্দ স্বামীর সঙ্গ পাইলাম। তিনি আমাকে কহিলেন, ‘বাবা, তৃষ্ণা দরে করো, তাহা হইলেই বিশ্বব্যাপী অক্ষয় সম্পদ আপনি তোমাকে ধরা দিবে।’ আর ধরণীর শ্যামলতা আমার কাছে রাজসম্পদ হইয়া উঠিল। একদিন পবতের শিলাতলে শীতের সায়াহ্নে পরমহংস-বাবার ধনিতে আগন জনলিতেছিল—সেই আগনে আমার কাগজখানা সমপণ করিলাম। বাবা ঈষৎ একট হাসিলেন। সে হাসির অথ তখন বুঝি নাই, আজ বঝিয়াছি। তিনি নিশ্চয় মনে-মনে বলিয়াছিলেন, কাগজখানা ছাই করিয়া ফেলা সহজ, কিন্তু বাসনা এত সহজে ভস্মসাৎ হয় না। "কাগজখানার যখন কোনো চিহ্ন রহিল মা তখন আমার মনের চারি দিক হইতে একটা নাগপাশ-বন্ধন যেন সম্পণেরপে খলিয়া গেল। মন্তির অপব আনন্দে আমার চিত্ত পরিপণ হইয়া উঠিল। আমি মনে করিলাম, এখন হইতে আমার আর-কোনো ভয় নাই— আমি জগতে কিছুই চাহি না। “ইহার অনতিকাল পরে পরমহংস-বাবার সঙ্গ হইতে চুত হইলাম। তাঁহাকে অনেক খ:জিলাম, কোথাও তাঁহার দেখা পাইলাম না। “আমি তখন সন্ন্যাসী হইয়া নিরাসক্তচিত্তে ঘরিয়া বেড়াইতে লাগিলাম। অনেক বৎসর কাটিয়া গেল—সেই লিখনের কথা প্রায় ভুলিযাই গেলাম। “এমন সময় একদিন এই ধারাগোলের বনের মধ্যে প্রবেশ করিয়া একটি ভাঙা মন্দিরের মধ্যে আশ্রয় লইলাম। দই-একদিন থাকিতে থাকিতে দেখিলাম, মন্দিরের ভিতে পথানে স্থানে নানাপ্রকার চিহ্ন অাঁকা আছে। এই চিহ্নগুলি আমার পাব পরিচিত। “এক কালে বহুদিন যাহার সন্ধানে ফিরিয়াছিলাম তাহার যে নাগাল পাওয়া যাইতেছে তাহাতে আমার সন্দেহ রহিল না। আমি কহিলাম, এখানে আর থাকা হইবে না, এ বন ছাড়িয়া চলিলাম।” “কিন্তু ছাড়িয়া যাওয়া ঘটিল না। মনে হইল, দেখাই যাক-না, কী আছে—কৌতুহল একেবারে নিবত্তে করিয়া যাওয়াই ভালো। চিহ্নগলা লইয়া অনেক আলোচনা করিলাম; গপ্তেধন 66 & কোনো ফল হইল না। বারবার মনে হইতে লাগিল, কেন সে কাগজখানা পড়াইয়া zरहळिालाभ-८नथाना ब्राथिळलई दा क्रांठ कौ छिठ् । “তখন আবার আমার সেই জন্মগ্রামে গেলাম। আমাদের পৈতৃক ভিটার নিতান্ত কিন্তু এই গরিবরা তো গহী, সেই গনপত সম্পদ ইহাদের জন্য উদ্ধার করিয়া দিলে তাহাতে দোষ নাই । “সেই লিখন কোথায় আছে জানিতাম, তাহা সংগ্রহ করা আমার পক্ষে কিছুমার कठेिन श्झेल ना । “তাহার পরে একটি বৎসর ধরিয়া এই কাগজখানা লইয়া এই নিজন বনের মধ্যে গণনা করিয়াছি আর সন্ধান করিয়াছি। মনে আর-কোনো চিন্তা ছিল না। যত বারবার বাধা পাইতে লাগিলাম ততই উত্তরোত্তর আগ্রহ আরও বাড়িয়া চলিল—উন্মত্তের মতো অহোরাত্র এই এক অধ্যবসায়ে নিবিকট রহিলাম। "ইতিমধ্যে কখন তুমি আমার অনুসরণ করিতেছ তাহা জানিতে পারি নাই। আমি সহজ অবস্থায় থাকিলে তুমি কখনোই নিজেকে আমার কাছে গোপন রাখিতে পারিতে না; কিন্তু আমি তন্ময় হইয়া ছিলাম, বাহিরের ঘটনা আমার দস্টি আকষণ করিত না। "তাহার পরে, যাহা খ:জিতেছিলাম আজ এইমাত্র তাহা আলিঙ্কার করিয়াছি। এখানে যাহা আছে পৃথিবীতে কোনো রাজরাজেশবরের ভাণ্ডারেও এত ধন নাই। আর একটিমাত্র সংকেত ভেদ করিলেই সেই ধন পাওয়া যাইবে । "এই সংকেতটিই সবাপেক্ষা দরহে। কিন্তু এই সংকেতও আমি মনে-মনে ভেদ করিয়াছি। সেইজন্যই পাইয়াছি বলিয়া মনের উল্লাসে চীৎকার করিয়া উঠিয়াছিলাম । যদি ইচ্ছা করি তবে অার এক দন্ডের মধ্যে সেই সবণমাণিক্যের ভাণ্ডারের মাঝখানে গিয়া দাঁড়াইতে পারি।" মৃত্যুঞ্জয় শংকরের পা জড়াইয়া ধরিয়া কহিল, “তুমি সন্ন্যাসী, তোমার তো ধনের কোনো প্রয়োজন নাই – আমাকে সেই ভাণ্ডারের মধ্যে লইয়া যাও । আমাকে বঞ্চিত করিয়ো না।” শংকর কহিলেন, “আজ আমার শেষ বন্ধন মুক্ত হইয়াছে। তুমি ঐ যে পাথর ফেলিয়া আমাকে মারিবার জন্য উদ্যত হইয়াছিলে তাহার আঘাত আমার শরীরে লাগে নাই, কিন্তু তাহা আমার মোহাবরণকে ভেদ করিয়াছে। তৃষ্ণার করালমতি আজ আমি দেখিলাম। আমার গরে পরমহংসদেবের নিগঢ়ে প্রশান্ত হাস্য এত দিন পরে আমার অন্তরের কল্যাণদীপে অনিবাণ আলোকশিখা জনালাইয়া তুলিল।” , মৃত্যুঞ্জয় শংকরের পা ধরিয়া পনরায় কাতর স্বরে কহিল, “তুমি মুক্ত পরবে, আমি মন্ত নহি, আমি মন্তি চাহি না, আমাকে এই ঐশ্বয হইতে বঞ্চিত করিতে পরিবে না।” * সন্ন্যাসী কহিলেন, “বৎস, তবে তুমি তোমার এই লিখনটি লও। যদি ধন খুজিয়া লইতে পার তবে লইয়ো।" এই বলিয়া তাঁহার যটি ও লিখনপত্র মৃত্যুঞ্জয়ের কাছে রাখিয়া সন্ন্যাসী চলিয়া গেলেন। মৃত্যুঞ্জয় কহিল, "আমাকে দয়া করো, আমাকে ফেলিয়া যাইয়ো না—আমাকে 戟总总 গল্পগুচ্ছ zनभाईझा प्राG !” কোনো উত্তর পাইল না। তখন মৃত্যুঞ্জয় যটির উপর ভর করিয়া হাংড়াইয়া সরেঙ্গ হইতে বাহির হইবার চেন্টা করিল। কিন্তু, পথ অত্যন্ত জটিল, গোলকধাঁধার মতো, বার বার বাধা পাইতে লাগিল। অবশেষে ঘুরিয়া ঘরিয়া ক্লান্ত হইয়া এক জায়গায় শ্যইয়া পড়িল এবং নিদ্রা আসিতে বিলম্বব হইল না। ঘমে হইতে যখন জাগিল তখন রাত্রি কি দিন কি কত বেলা তাহা জানিবার কোনো উপায় ছিল না। অত্যন্ত ক্ষুধা বোধ হইলে মৃত্যুঞ্জয় চাদরের প্রান্ত হইতে চি’ড়া খালিয়া লইয়া খাইল। তাহার পর আর-একবার হাংড়াইয়া সরেঙ্গ হইতে বাহির হইবার পথ খ:জিতে লাগিল। নানা স্থানে বাধা পাইয়া বসিয়া পড়িল। তখন চীৎকার করিয়া ডাকিল, “ওগো সন্ন্যাসী, তুমি কোথায়।” তাহার সেই ডাক সরঙ্গের সমস্ত শাখা প্রশাখা হইতে বারবার প্রতিধৰনিত হইতে লাগিল। অনতি দরে হইতে উত্তর আসিল, “আমি তোমার নিকটেই আছি— কী চাও বলো।” মৃত্যুঞ্জয় কাতর স্বরে কহিল, “কোথায় ধন আছে আমাকে দয়া করিয়া দেখাইয়া দাও।” তখন আর-কোনো সাড়া পাওয়া গেল না। মৃত্যুঞ্জয় বারবার ডাকিল, কোনো সাড়া পাইল না। দণ্ড প্রহরের বারা অবিভক্ত এই ভূতলগত চিররাত্রির মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় আর-একবার ঘমাইয়া লইল । ঘমে হইতে আবার সেই অন্ধকারের মধ্যে জাগিয়া উঠিল। চীৎকার করিয়া ডাকিল, “ওগো, আছ কি।" নিকট হইতেই উত্তর পাইল, “এইখানেই আছি। কী চাও।” মৃত্যুঞ্জয় কহিল, “আমি আর-কিছর চাই না— আমাকে এই সরেঙ্গ হইতে উদ্ধার করিয়া লইয়া যাও।” সন্ন্যাসী জিজ্ঞাসা করিলেন, “তুমি ধন চাও না ?” মৃত্যুঞ্জয় কহিল, "না, চাহি না।” তখন চকমকি ঠোকার শব্দ উঠিল এবং কিছুক্ষণ পরে আলো জলিল। সন্ন্যাসী কহিলেন, "তবে এসো মৃত্যুঞ্জয়, এই সরেঙ্গ হইতে বাহিরে যাই।” মৃত্যুঞ্জয় কাতর স্বরে কহিল, “বাবা, নিতান্তই কি সমস্ত ব্যথ হইবে। এত কন্টের পরেও ধন কি পাইব না।” তৎক্ষণাৎ মশাল নিবিয়া গেল। মৃত্যুঞ্জয় কহিল, “কি নিষ্ঠর।" বলিয়া সেইখানে বসিয়া পড়িয়া ভাবিতে লাগিল। সময়ের কোনো পরিমাণ নাই, অন্ধকারের কোনো অন্ত নাই। মতুল্লয়ের ইচ্ছা করিতে লাগিল, তাহার সমস্ত শরীর-মনের বলে এই অন্ধকারটাকে ভাঙিয়া চণ করিয়া ফেলে। আলোক আকাশ আর বিশ্বচ্ছবির বৈচিত্র্যের জন্য তাহার প্রাণ ব্যাকুল হইয়া উঠিল; কহিল, "ওগো সন্ন্যাসী, ওগো নিষ্ঠর সন্ন্যাসী, আমি ধন চাই না, আমাকে উদ্ধার করো।" সন্ন্যাসী কহিলেন, “ধন চাও না ? তবে আমার হাত ধরে । আমার সঙ্গে চলো।” এবারে আর আলো জনলিল না। এক হাতে যটি ও এক হাতে সন্ন্যাসীর উত্তরীর গণপতধন &áQ, ধরিয়া মৃত্যুঞ্জয় ধীরে ধীরে চলিতে লাগিল। বহনক্ষণ ধরিয়া অনেক অাঁকাবাঁকা পথ দিয়া অনেক ঘরিয়া-ফিরিয়া এক জায়গায় আসিয়া সন্ন্যাসী কহিলেন, “দাঁড়াও।” মৃত্যুঞ্জয় দাঁড়াইল। তাহার পরে একটা মরিচাপড়া লোহার বার খোলার উৎকট শব্দ শোনা গেল। সন্ন্যাসী মৃত্যুঞ্জয়ের হাত ধরিয়া কহিলেন, “এসো।” মৃত্যুঞ্জয় অগ্রসর হইয়া যেন একটা ঘরে প্রবেশ করিল। তখন আবার চকমকি ঠোকার শব্দ শোনা গেল। কিছুক্ষণ পরে যখন মশাল জনলিয়া উঠিল তখন এ কী আশ্চৰ্য দশ্য! চারি দিকে দেয়ালের গায়ে মোটা মোটা সোনার পাত ভূগভরন্থ কঠিন সযোলোকপঞ্জের মতো স্তরে স্তরে সজিত। মৃত্যুঞ্জয়ের চোখ দটা জনলিতে লাগিল। সে পাগলের মতো বলিয়া উঠিল, "এ সোনা আমার-এ আমি কোনোমতেই ফেলিয়া যাইতে পারিব না।" সন্ন্যাসী কহিলেন, “আচ্ছা, ফেলিয়া যাইয়ো না; এই মশাল রহিল— আর এই ছাতু চিড়িা আর বড়ো এক-ঘটি জল রাখিয়া গেলাম।” দেখিতে দেখিতে সন্ন্যাসী বাহির হইয়া আসিলেন, আর এই বর্ণভাণ্ডারের লৌহবারে কপাট পড়িল । মৃত্যুঞ্জয় বারবার করিয়া এই স্বর্ণপঞ্জে পশ করিয়া ঘরময় ঘুরিয়া ঘুরিয়া বেড়াইতে লাগিল। ছোটো ছোটো সবণখণ্ড টানিয়া মেজের উপরে ফেলিতে লাগিল, কোলের উপর তুলিতে লাগিল, একটার উপরে আর-একটা আঘাত করিয়া শব্দ করিতে লাগিল, সবাঙ্গের উপর বলাইয়া তাহার পশ* লইতে লাগিল। অবশেষে শ্রান্ত হইয়া সোনার পাত বিছাইয়া তাহার উপর শয়ন করিয়া ঘুমাইরা পড়িল । জাগিয়া উঠিয়া দেখিল, চারি দিকে সোনা ঝক ঝক করিতেছে। সোনা ছাড়া আরকিছুই নাই। মৃত্যুঞ্জয় ভাবিতে লাগিল, পথিবীর উপরে হয়তো এতক্ষণে প্রভাত হইয়াছে, সমস্ত জীবজন্তু আনন্দে জাগিয়া উঠিয়াছে —তাহাদের বাড়িতে পাকুরের ধারের বাগান হইতে প্রভাতে যে একটি সিনগধ গন্ধ উঠিত তাহাই কল্পনায় তাহার নাসিকায় যেন প্রবেশ করিতে লাগিল। সে যেন পল্ট চোখে দেখিতে পাইল, পাতিহসিগলি দলিতে দলিতে কলরব করিতে করিতে সকালবেলায় পকূরের জলের মধ্যে আসিয়া পড়িতেছে, আর বাড়ির ঝি বামা কোমরে কাপড় জড়াইয়া উথেৰাখিত দক্ষিণ হস্তের উপর একরাশি পিতল-কাঁসার থালা বাটি লইয়া ঘাটে আনিয়া উপস্থিত করিতেছে। মৃত্যুঞ্জয় বারে আঘাত করিয়া ডাকিতে লাগিল, “ওগো সন্ন্যাসীঠাকুর, আছ কি।” মবার খলিয়া গেল। সন্ন্যাসী কহিলেন, “কী চাও।” মৃত্যুঞ্জয় কহিল, “আমি বাহিরে যাইতে চাই—কিন্তু সঙ্গে এই সোনার দটোএকটা পাতও কি লইয়া বাইতে পারিব না।” সন্ন্যাসী তাহার কোনো উত্তর না দিয়া নতেন মশাল জনালাইলেন-পাণ কমণ্ডল একটি রাখিলেন, আর উত্তরীয় হইতে কয়েক মাটি চিড়িা মেজের উপর রাখিয়া বাহির হইয়া গেলেন। বার বন্ধ হইয়া গেল। মৃত্যুঞ্জয় পাংলা একটা সোনার পাত লইয়া তাহা দোমড়াইয়া খণ্ড খণ্ড করিয়া ভাঙিয়া ফেলিল। সেই খণ্ড সোনাগলোকে লইয়া ঘরের চারি দিকে লোষ্ট্রখণ্ডের মতো ছড়াইতে লাগিল। কখনো বা দাঁত দিয়া দংশন করিয়া সোনার পাতের উপর দাগ む。@b গল্পগুচ্ছ - করিয়া দিল। কখনো বা একটা সোনার পাত মাটিতে ফেলিয়া তাহার উপরে বারবার পদাঘাত করিতে লাগিল। মনে-মনে বলিতে লাগিল, পথিবীতে এমন সমাট কয়জন আছে যাহারা সোনা লইয়া এমন করিয়া ফেলাছড়া করিতে পারে। মৃত্যুঞ্জয়ের যেন একটা প্রলয়ের রোখ চাপিয়া গেল। তাহার ইচ্ছা করিতে লাগিল, এই রাশীকৃত সোনাকে চণ করিয়া ধলির মতো সে ঝাঁটা দিয়া ঝাঁট দিয়া উড়াইয়া ফেলে—আর এইরপে পথিবীর সমস্ত সবৰ্ণলখে রাজা-মহারাজকে সে অবজ্ঞা করিতে পারে। এমনি করিয়া যতক্ষণ পারিল মৃত্যুঞ্জয় সোনাগলাকে লইয়া টানাটানি করিয়া শ্রান্তদেহে ঘামাইয়া পড়িল । ঘমে হইতে উঠিয়া সে আবার তাহার চারি দিকে সেই সোনার সতপ দেখিতে লাগিল। সে তখন বারে আঘাত করিয়া চীৎকার করিয়া বলিয়া উঠিল, “ওগো সন্ন্যাসী, আমি এ সোনা চাই না— সোনা চাই না!” কিন্তু, স্বার খলিল না। ডাকিতে ডাকিতে মৃত্যুঞ্জয়ের গলা ভাঙিয়া গেল, কিন্তু দুবার খলিল না। এক-একটা সোনার পিন্ড লইয়া বারের উপর ছড়িয়া মারিতে লাগিল, কোনো ফল হইল না। মৃত্যুঞ্জয়ের বকে দমিয়া গেল—তবে আর কি সন্ন্যাসী আসিবে না! এই সবণকারাগারের মধ্যে তিলে তিলে পলে পলে শুকাইয়া মরিতে হইবে! তখন সোনাগলোকে দেখিয়া তাহার আতহুক হইতে লাগিল। বিভীষিকার নিঃশব্দ কঠিন হাস্যের মতো ঐ সোনার সতপ চারি দিকে স্থির হইয়া রহিয়াছে—তাহার মধ্যে পন্দন নাই, পরিবতন নাই—মতু্যঞ্জয়ের যে হাদয় এখন কাঁপিতেছে, ব্যাকুল হইতেছে, তাহার সঙ্গে উহাদের কোনো সম্পক নাই, বেদনার কোনো সম্প্রবন্ধ নাই। এই সোনার পিণ্ডগলা আলোক চায় না, আকাশ চায় না, বাতাস চায় না, প্রাণ চায় না, মুক্তি চায় না। ইহারা এই চির-অন্ধকারের মধ্যে চিরদিন উক্তজবল হইয়া, কঠিন হইয়া, সিথর হইয়া রহিয়াছে। পথিবীতে এখন কি গোধলি আসিয়াছে। আহা, সেই গোধলির সবণ ! যে সবৰ্ণ কেবল ক্ষণকালের জন্য চোখ জড়াইয়া অন্ধকারের প্রান্তে কাঁদিয়া বিদায় লইয়া যায়। তাহার পরে কুটিরের প্রাঙ্গণতলে সন্ধাতারা একদটে চাহিয়া থাকে। গোষ্ঠে প্রদীপ জালাইয়া বধ ঘরের কোণে সন্ধ্যাদীপ পথাপন করে। মন্দিরে আরতির ঘণ্টা বাজিয়া উঠে। উজ্জল হইয়া উঠিল। তাহাদের সেই যে ভোলা কুকুরটা লেজে মাথায় এক হইয়া উঠানের প্রান্তে সন্ধ্যার পর ঘনমাইতে থাকিত, সে কল্পনাও তাহাকে যেন ব্যথিত করিতে লাগিল। ধারাগোল গ্রামে কয়দিন সে যে-মদির দোকানে আশ্রয় লইয়াছিল সেই মাদি এতক্ষণ রাত্রে প্রদীপ নিবাইয়া, দোকানে ঝাঁপ বন্ধ করিয়া, ধীরে ধীরে গ্রামে বাড়িমখে আহার করিতে চলিয়াছে, এই কথা স্মরণ করিয়া তাহার মনে হইতে লাগিল, মদি কী সখেই আছে। আজ কী বার কে জানে। যদি রবিবার হয় তবে এতক্ষণে হাটের লোক যে যার আপন আপন বাড়ি ফিরিতেছে, সঙ্গচু্যত সাথিকে উধাবরে ডাক পাড়িতেছে, দল বধিয়া খেয়ানৌকায় পার হইতেছে; মেঠো রাস্তা ধরিয়া, শস্যক্ষেত্রের আল বাহিয়া, পল্লীর শাকবংশপত্ৰখচিত অঙ্গনপাব দিয়া চাষি-লোক হাতে দটোএকটা মাছ ঝালাইয়া মাথায় একটা চুপড়ি লইয়া অন্ধকারে আকাশ-ভরা তারার ক্ষীণা গুপ্তধন ծ&: লোকে গ্রামে গ্রামান্তরে চলিয়াছে। ... ." ধরণীর উপরিতলে এই বিচিত্র বহৎ চিরচঞ্চল জীবনযাত্রার মধ্যে তুচ্ছতম দাঁত হইয়া নিজের জীবন মিশাইবার জন্য শতস্তর মত্তিকা ভেদ করিয়া তাহার লোকালয়ের আহবান আসিয়া পে’ছিতে লাগিল। সেই জীবন, সেই আকাশ, সেই আলোক, পথিবীর সমস্ত মণিমাণিক্যের চেয়ে তাহার কাছে দমল্য বোধ হইতে লাগিল। তাহার মনে হইতে লাগিল, কেবল ক্ষণকালের জন্য একবা? যদি আমার সেই শ্যামা জননী ধরিত্রীর ধালিক্লোড়ে, সেই উন্মুক্ত আলোকিত নষ্ট দশবরের তলে, সেই তৃণপত্রের গন্ধ-বাসিত বাতাস বকে ভরিয়া একটিমাত্র শেষ নিশবাসে গ্রহণ করিয়া মরিতে পারি তাহা হইলেও জীবন সাথক হয় ।” এমন সময় বার খলিয়া গেল। সন্ন্যাসী ঘরে প্রবেশ করিয়া কহিলেন, “মৃত্যুঞ্জয়, কী চাও।” সে বলিয়া উঠিল, “আমি আর কিছুই চাই না— আমি এই সরেঙ্গ হইতে, অন্ধকার হইতে, গোলকধাঁধা হইতে, এই সোনার গারদ হইতে বাহির হইতে চাই। আমি আলোক চাই, আকাশ চাই, মুক্তি চাই।” সন্ন্যাসী কহিলেন, “এই সোনার ভাণ্ডারের চেয়ে মল্যবান রত্নভাণ্ডার এখানে আছে । একবার যাইবে না ?" মৃত্যুঞ্জয় কহিল, “না, যাইব না।” সন্ন্যাসী কহিলেন, “একবার দেখিয়া আসিবার কৌতুহলও নাই ?” মৃত্যুঞ্জয় কহিল, “না, আমি দেখিতেও চাই না। আমাকে যদি কেীপীন পরিয়া ভিক্ষা করিয়া বেড়াইতে হয় তব আমি এখানে এক মহেতেও কাটাইতে ইচ্ছা করি না।” সন্ন্যাসী কহিলেন, “আচ্ছা, তবে এসো।” মৃত্যুঞ্জয়ের হাত ধরিয়া সন্ন্যাসী তাহাকে সেই গভীর কাপের সম্মখে লইয়া গেলেন। তাহার হাতে সেই লিখনপত্র দিয়া কহিলেন, “এখানি লইয়া তুমি কী করবে।” মৃত্যুঞ্জয় সে পতখানি টুকরা টকেরা করিয়া ছি’ড়িয়া কপের মধ্যে নিক্ষেপ করিল। কাতিক ১৩১১