প্রধান মেনু খুলুন

.ନ୍ତ୍ର ୩ କ୍ସ୍ গল্পগুচ্ছ চিত্রকর ময়মনসিংহ ইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে আমাদের গোবিন্দ এল কলকাতায়। বিধবা মায়ের অলপ কিছল সবল ছিল। কিন্তু, সব চেয়ে তার বড়ো সম্প্রবল ছিল নিজের অবিচলিত সংকল্পের মধ্যে। সে ঠিক করেছিল, পয়সা করবই সমস্ত জীবন উৎসগ করে দিয়ে। সবদাই তার ভাষায় ধনকে সে উল্লেখ করত পয়সা বলে। অর্থাৎ, তার মনে খুব-একটা দশন পশন ঘাণের যোগ্য প্রত্যক্ষ পদাৰ্থ ছিল; তার মধ্যে বড়ো নামের মোহ ছিল না ; অত্যন্ত সাধারণ পয়সা, হাটে হাটে হাতে হাতে ঘরে ঘরে ক্ষয়ে-যাওয়া মলিন-হয়ে-যাওয়া পয়সা, তামগন্ধী পয়সা, কুবেরের আদিম স্বরপ, যা রপোয় সোনায় কাগজে দলিলে নানা মতি পরিগ্রহ করে মানুষের মনকে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। নানা বাঁকা পথের ভিতর দিয়ে নানা পণ্ডেক আবিল হতে হতে আজ গোবিন্দ তার পয়সাপ্রবাহিনীর প্রশস্তধারার পাকা বাঁধানো ঘাটে এসে পৌচেছে । গানিব্যাগওয়ালা বড়োসাহেব ম্যাকডুগালের বড়োবাবরে আসনে তার ধ্রুব প্রতিষ্ঠা। সবাই তাকে নাম দিয়েছিল ম্যাকদলাল। 妮” গোবিন্দর পৈতৃব্য ভাই মকুন্দ যখন উকিল-লীলা সম্বরণ করলেন তখন একটি বিধবা স্ত্রী, একটি চার বছরের ছেলে, কলকাতায় একটি বাড়ি, কিছ জমা টাকা রেখে তিনি গেলেন লোকান্তরে। সম্পত্তির সঙ্গে কিছয় ঋণও ছিল, সতরাং তাঁর পরিবারে অন্নবসের সংস্থান বিশেষ ব্যয়সংক্ষেপের উপর নিভার করত । এই কারণে তাঁর ছেলে চুনিলাল যে-সমস্ত উপকরণের মধ্যে মানুষ, প্রতিবেশীদের সঙ্গে তুলনায় সেগুলি খ্যাতিযোগ্য নয়। • মুকুন্দদাদার উইল-অনুসারে এই পরিবারের সম্পণে ভার পড়েছিল গোবিন্দর পরে। গোবিন্দ শিশুকাল থেকে ভ্রাতুপত্রের কানে মন্ত্র দিলে—‘পয়সা করো’। ছেলেটির দীক্ষার পথে প্রধান বাধা দিলেন তাঁর মা সত্যবতী। পষ্ট কথায় তিনি কিছ বলেন নি, বাধাটা ছিল তাঁর ব্যবহারে। শিশুকাল থেকেই তাঁর বাতিক ছিল শিল্পকাজে । ফল ফল পাতা নিয়ে, খাবারের জিনিস নিয়ে, কাগজ কেটে, কাপড় কেটে, মাটি দিয়ে, ময়দা দিয়ে, জামের রস— ফলসার রস– জবার রস—শিউলিবোঁটার রস দিয়ে, নানা অভূতপবে অনাবশ্যক জিনিস-রচনায় তাঁর আগ্রহের অন্ত ছিল না। এতে তাঁকে দঃখও পেতে হয়েছে। কেননা, যা অদরকারি, যা অকারণ, তার বেগ আষাঢ়ের আকস্মিক বন্যাধারার মতো—সচলতা অত্যন্ত বেশি, কিন্তু দরকারি কাজের খেয়া বাইবার পক্ষে অচল। মাঝে মাঝে এমনও হয়েছে- জ্ঞাতিবাড়িতে নিমন্ত্রণ, সত্যবতী ভুলেই গেছেন, শোবার ঘরে দরজা বন্ধ, এক তাল মাটি চটকে বেলা কাটছে। জ্ঞাতিরা বললে, বড়ো অহংকার সন্তোষজনক জবাব দেবার জো নেই। এ-সব কাজেও ভালোমন্দর যে মাল্যবিচার চলে, সেটা বইপড়া বিদ্যার যোগেই মতুন্দ জানতেন। আট শব্দটার মাহাত্ম্যে শরীর রোমাচিত হত। কিন্তু, তাঁর আপন গহিণীর হাতের কাজেও যে এই শব্দটার কোনো স্থান আছে এমন কথা মনে করতেই পারতেন না। এই মানুষটির স্বভাবটিতে কোথাও কাঁটাখোঁচা ছিল না। তাঁর স্মী চিত্রকর 학 3 অনাবশ্যক খেয়ালে অযথা সময় নষ্ট করেন, এটা দেখে তাঁর হাসি পেত, সে হাসি মেহরসে ভরা। এ নিয়ে সংসারের লোক কেউ যদি কটাক্ষ করত তিনি তখনই তার প্রতিবাদ করতেন। মকুন্দর স্বভাবে অদ্ভুত একটা আত্মবিরোধ ছিল— ওকালতির কাজে ছিলেন প্রবীণ, কিন্তু ঘরের কাজে বিষয়বধি ছিল না বললেই হয়। পয়সা তাঁর কাজের মধ্যে দিয়ে যথেষ্ট বইত, কিন্তু ধ্যানের মধ্যে আটকা পড়ত না। সেইজন্য মনটা ছিল মুক্ত ; অনাগত লোকদের পরে নিজের ইচ্ছে চালাবার জন্যে কখনো দৌরাত্ম্য করতে পারতেন না। জীবনযাত্রার অভ্যাস ছিল খুব সাদাসিধা, নিজের বাথ বা সেবা নিয়ে পরিজনদের পরে কোনোদিন অযথা দাবি করেন নি। সংসারের লোকে সত্যবতীর কাজে শৈথিল্য নিয়ে কটাক্ষ করলে মুকুন্দ তখনই সেটা থামিয়ে দিতেন। মাঝে মাঝে আদালত থেকে ফেরবার পথে রাধাবাজার থেকে কিছ রঙ, কিছ রঙিন রেশম, রঙের পেন্সিল, কিনে এনে সত্যবতীর অজ্ঞাতসারে তাঁর শোবার ঘরে কাঠের সিন্ধকেটার পরে সাজিয়ে রেখে আসতেন । কোনোদিন বা সত্যবতীর অাঁকা একটা ছবি তুলে নিয়ে বলতেন, “বা, এ তো বড়ো সন্দের হয়েছে।” একদিন একটা মানুষের ছবিকে উলটিয়ে ধরে তার পা দটোকে পাখির মন্ডে বলে স্থির করলেন ; বললেন, “সতু, এটা কিন্তু বাঁধিয়ে রাখা চাই—বকের ছবি যা হয়েছে চমৎকার!” মনুকুন্দ তাঁর । মন্ত্রীর চিত্ররচনায় ছেলেমানষি কল্পনা করে মনে মনে যে রসটুকু পেতেন, সত্রীও তাঁর স্বামীর চিয়বিচার থেকে ভোগ করতেন সেই একই রস । সত্যবতী মনে নিশ্চিত জানতেন, বাংলাদেশের আর-কোনো পরিবারে তিনি এত ধৈৰ্য, এত প্রশ্রয়, আশা করতে পারতেন না; শিল্পসাধনায় তাঁর এই দুনিবার উৎসাহকে কোনো ঘরে এত দরদের সঙ্গে পথ ছেড়ে দিত না । এইজন্যে যেদিন তাঁর স্বামী তাঁর কোনো রচনা

  • ा ? نجاب

এমন দলভ ও সত্যবতী একদিন হারালেন। মৃত্যুর পাবে তাঁর স্বামী একটা কথা পন্ট করে বুঝেছিলেন যে, তাঁর ঋণজড়িত সম্পত্তির ভার এমন কোনো পাকা লোকের হাতে দেওয়া দরকার যাঁর চালনার কৌশলে ফটো নৌকোও পার হয়ে যাবে। এই উপলক্ষে সত্যবতী এবং তাঁর ছেলেটি সম্পর্ণেভাবে গিয়ে পড়লেন গোবিন্দর হাতে। গোবিন্দ প্রথম দিন থেকেই জানিয়ে দিলেন, সবাগ্নে এবং সকলের উপরে পয়সা । গোবিন্দর এই উপদেশের মধ্যে এমন একটা সুগভীর হীনতা ছিল যে, সত্যবতী লক্ষজায় কুষ্ঠিত হত। তব নানা আকারে আহারে-ব্যবহারে পয়সার সাধনা চলল। তা নিয়ে কথায় কথায় আলোচনা না করে তার উপরে যদি একটা আর থাকত তা হলে ক্ষতি ছিল না। সত্যবতী মনে মনে জানতেন, এতে তাঁর ছেলের মনুষ্যত্ব থব করা হয়—কিন্তু, সহ্য করা ছাড়া অন্য উপায় ছিল না; কেননা, যে চিত্তভাব স্কুমার, যার মধ্যে একটি অসামান্য মর্যাদা আছে, সেই সব চেয়ে অরক্ষিত; তাকে আঘাত করা, বিন্দ্রপ করা, সাধারণ রাঢ়স্বভাব মানষের পক্ষে অত্যন্ত সহজ। শিল্পচর্চার জন্যে কিছু কিছু উপকরণ আবশ্যক। এতকাল সত্যবতী তা না চাইতেই পেয়েছেন, সেজন্যে কোনোদিন তাঁকে কুণ্ঠিত হতে হয় নি। সংসারধারার পক্ষে এই-সমুদ্রুত অনাবশ্যক সামগ্রী, ব্যয়ের ফদে ধরে দিতে আজ যেন তাঁর মাথা 6:O 8 গল্পগুচ্ছ কাটা যায়। তাই তিনি নিজের আহারের খরচ বাঁচিয়ে গোপনে শিল্পের সরঞ্জাম কিনিয়ে আনাতেন। যা-কিছু কাজ করতেন সেও গোপনে দরজা বন্ধ করে। ভংসনার ভয়ে নয়, অরসিকের দটিপাতের সংকোচে। আজ চুনি ছিল তাঁর শিল্প-রচনার একমাত্র দশক ও বিচারকারী। এই কাজে ক্লমে তার সহযোগিতাও ফটে উঠল। তাকে লাগল বিষম নেশা। শিশরে এ অপরাধ ঢাকা পড়ে না, খাতার পাতাগুলো অতিক্রম করে দেয়ালের গায়ে পৰ্যন্ত প্রকাশ হতে থাকে। হাতে মখে জামার হাতায় কলঙ্ক ধরা পড়ে। পয়সা-সাধনার বিরদ্ধে ইন্দ্রদেব শিশর চিত্তকেও প্রলব্ধ করতে ছাড়েন না। খড়োর হাতে অনেক দুঃখ তাকে পেতে হল। এক দিকে শাসন যতই বাড়তে চলল আর-এক দিকে মা তাকে ততই অপরাধে সহায়তা করতে লাগলেন। আপিসের বড়োসাহেব মাঝে মাঝে আপিসের বড়োবাবকে নিয়ে আপন কাজে মফস্বলে যেতেন, সেই সময়ে মায়েতে ছেলেতে মিলে অবাধ আনন্দ। একেবারে ছেলেমানষির একশেষ ! যে-সব জন্তুর মতি হত বিধাতা এখনো তাদের সন্টি করেন নি—বেড়ালের ছাঁচের সঙ্গে কুকুরের ছাঁচ ষেত মিলে, এমন-কি মাছের সঙ্গে পাখির প্রভেদ ধরা কঠিন হত। এই-সমস্ত সটিকায রক্ষা করবার উপায় ছিল না—বড়োবাব ফিরে আসবার পবেই এদের চিহ্ন লোপ করতে হত। এই দুজনের সস্টিলীলায় ব্রহ্মা এবং রন্দ্রই ছিলেন, মাঝখানে বিফর আগমন হল না। শিল্পরচনাবায়র প্রকোপ সত্যবতীদের বংশে প্রবল ছিল। তারই প্রমাণস্বরপে সত্যবতীর চেয়ে বয়সে বড়ো তাঁরই এক, ভাগনে রঙ্গলাল চিত্রবিদ্যায় হঠাৎ নামজাদা হয়ে উঠলেন। অথাৎ, দেশের রসিক লোক তাঁর রচনার অদ্ভূতত্ব নিয়ে খুব অট্টহাস্য জমালে । তারা যেরকম কপেনা করে তার সঙ্গে তাঁর কলপনার মিল হয় না দেখে তাঁর গণপনার সম্বন্ধে তাদের প্রচণ্ড অবজ্ঞা হল। আশ্চর্য এই যে, এই অবজ্ঞার জমিতেই বিরোধ-বিদ্রুপের আবহাওয়ায় তাঁর খ্যাতি বেড়ে উঠতে লাগল; যারা তাঁর যতই নকল করে তারাই উঠে পড়ে লাগল প্রমাণ করতে যে, লোকটা আর্টিস্ট হিসাবে ফকি—এমন-কি, তার টেকনিকে সম্পাট গলদ। এই পরমনিন্দিত চিত্রকর একদিন আপিসের বড়োবাবরে অবতমানে এলেন তাঁর মামির বাড়িতে। বারে ধাক্কা মেরে মেরে ঘরে যখন প্রবেশলাভ করলেন, দেখলেন মেঝেতে পা ফেলবার জো নেই। ব্যাপারখানা ধরা পড়ল। রঙ্গলাল বললেন, "এতদিন পরে দেখা গেল, গণেীর প্রাণের ভিতর থেকে সন্ট মতি তাজা বেরিয়েছে—এর মধ্যে দাগা-বলোনোর তো কোনো লক্ষণ নেই, যে বিধাতা রাপ সৃষ্টি করেন তাঁর বয়সের সঙ্গে ওর বয়সের মিল আছে। সব ছবিগুলো বের করে আমাকে দেখাও।” কোথা থেকে বের করবে। যে গণেী রঙে রঙে ছায়ায় আলোয় আকাশে আকাশে চিত্র অাঁকেন তিনি তাঁর কুহেলিকা-মরীচিকাগুলি যেখানে অকাতরে সরিয়ে ফেলেন, এদের কাঁতিগুলোও সেইখানেই গেছে। রঙ্গলাল মাথার দিব্যি দিয়ে তাঁর মামিকে বললেন, “এবার থেকে তোমরা যা-কিছু রচনা করবে আমি এসে সংগ্রহ করে নিয়ে যাব।” বড়োবাব এখনো আসেন নি। সকাল থেকে শ্রাবণের ছায়ায় আকাশ ধ্যানমগন, বষ্টি পড়ছে; বেলা ঘড়ির কাঁটার কোন সংকেতের কাছে তার ঠিকানা নেই, তার খোঁজ করতেও মন যায় না। আজ চুনিবাব নোঁকো-ভাসানোর ছবি অকিতে লেগেছেন। চিত্রকর ፋፋዕ নদীর ঢেউগুলো মকরের পাল, হী করে নৌকোটাকে গিলতে চলেছে এমনিতরো ভাব; আকাশের মেঘগলোও যেন উপর থেকে চাদর উড়িয়ে উৎসাহ দিঙ্কে বলে বোধ হচ্ছে—কিন্তু, মকরগলো সবসাধারণের মকর নয়, আর মেঘগলোকে ‘ধমজ্যোতিঃসলিলমরতাং সন্নিবেশঃ’ বললে অত্যুক্তি করা হবে। এ কথাও সত্যের অনুরোধে বলা উচিত যে, এইরকমের নৌকো যদি গড়া হয় তা হলে ইনসয়োরেন্স আপিস কিছুতেই তার দায়িত্ব নিতে রাজি হবে না। চলল রচনা, আকাশের চিত্রীও যা-খুশি তাই করছেন আর ঘরের মধ্যে ঐ মস্ত-চোখ-মেলা ছেলেটিও তথৈবচ। এদের খেয়াল ছিল না যে, দরজা খোলা। বড়োবাব এলেন। গজন করে উঠলেন, “কী হচ্ছে রে?” ছেলেটার বকে কোপে উঠল, মাখ হল ফ্যাকাশে। পাট বুঝতে পারলেন, পরীক্ষায় চুনিলালের ইতিহাসে তারিখ ভুল হচ্ছে তার কারণটা কোথায়। ইতিমধ্যে চুনিলাল ছবিটাকে তার জামার মধ্যে লকোবার ব্যথ প্রয়াস করাতে অপরাধ আরও প্রকাশমান হয়ে উঠল। টেনে নিয়ে গোবিন্দ যা দেখলেন তাতে তিনি আরও অবাক—এটা ব্যাপারখানা কী। এর চেয়ে যে ইতিহাসের তারিখ ভুলও ভালো। ছবিটা কুটিকুটি করে ছিড়ে ফেললেন। চুনিলাল ফাপিয়ে ফাপিয়ে কে’দে উঠল । সত্যবতী একাদশীর দিন প্রায় ঠাকুরঘরেই কাটাতেন। সেইখান থেকে ছেলের কান্না শনে ছটে এলেন। ছবির ছিন্ন খণ্ডগলো মেঝের উপর লীটোচ্ছে আর মেঝের উপর লটোচ্ছে চুনিলাল । গোবিন্দ তখন ইতিহাসের তারিখ-ভুলের আদি কারণগুলো সংগ্ৰহ করছিলেন অপসারণের অভিপ্রায়ে। - সত্যবতী এতদিন কখনো গোবিন্দর কোনো ব্যবহারে কোনো কথা বলেন নি । এরই পরে তাঁর স্বামী নিভার স্থাপন করেছেন, এই স্মরণ করেই তিনি নিঃশব্দে সব সহ্য করেছেন। আজ তিনি আশ্রতে আদ্র, ক্লোধে কম্পিত কণ্ঠে বললেন, “কেন তুমি চুনির ছবি ছিড়ে ফেললে।” গোবিন্দ বললেন, “পড়াশুনো করবে না ? আখেরে ওর হবে কী ?” সত্যবতী বললেন, “আখেরে ও যদি পথের ভিক্ষক হয় সেও ভালো। কিন্তু, কোনোদিন তোমার মতো যেন না হয়। ভগবান ওকে যে সম্পদ দিয়েছেন তারই গৌরব যেন তোমার পয়সার গবের চেয়ে বেশি হয়, এই ওর প্রতি আমার, মায়ের ठाथीदfम !” গোবিন্দ বললেন, “আমার দায়িত্ব আমি ছাড়তে পারব না, এ চলবে না কিছতেই। আমি কালই ওকে বোডিং-স্কুলে পাঠিয়ে দেব-নইলে তুমি ওর সবনাশ করবে।” বড়োবাব আপিসে গেলেন। ঘনবন্টি নামল, রাস্তা জলে ভেসে যাচ্ছে। সত্যবতী চুনির হাত ধরে বললেন, “চল, বাবা।” চুনি বললে, “কোথায় যাবে, মা।” "এখান থেকে বেরিয়ে যাই ।” রঙ্গলালের দরজায় এক-হাঁট জল। সত্যবতী চুনিলালকে নিয়ে তার ঘরে চকলেন; বললেন, “বাবা, তুমি নাও এর ভার। বাঁচাও একে পয়সার সাধনা থেকে।” কাতিক ১৩৩৬