প্রধান মেনু খুলুন

গল্পগুচ্ছ/পাত্র ও পাত্রী


গল্পগুচ্ছ q8。 পাত্র ও পাত্রী ইতিপবে প্রজাপতি কখনো আমার কপালে বসেন নি বটে, কিন্তু একবার আমার মানসপন্মে বসেছিলেন। তখন আমার বয়স ষোলো। তার পরে, কাঁচা ঘামে চমক লাগিয়ে দিলে যেমন ঘমে আর আসতে চায় না, আমার সেই দশা হল। আমার বন্ধবান্ধবরা কেউ কেউ দারপরিগ্রহ ব্যাপারে দ্বিতীয়, এমন-কি তৃতীয় পক্ষে প্রোমোশন পেলেন; আমি কোঁমায্যের লাস্ট বেষ্টিতে বসে শান্য সংসারের কড়িকাঠ গণনা করে কাটিয়ে দিলাম। আমি চোদ্দ বছর বয়সে এনট্রেন্স পাস করেছিলাম। তখন বিবাহ কিবা এনট্রেন্স পরীক্ষায় বয়সবিচার ছিল না। আমি কোনোদিন পড়ার বই গিলি নি, সেইজন্যে শারীরিক বা মানসিক অজীর্ণ রোগে আমাকে ভুগতে হয় নি। ইন্দরে যেমন দাঁত বসাবার জিনিস পেলেই সেটাকে কেটে-কুটে ফেলে, তা সেটা খাদ্যই হোক আর অখাদ্যই হোক, শিশুকাল থেকেই তেমনি ছাপার বই দেখলেই সেটা পড়ে ফেলা আমার স্বভাব ছিল। সংসারে পড়ার বইয়ের চেয়ে না-পড়ার বইয়ের সংখ্যা ঢের বেশি, এইজন্যে আমার পথির সৌরজগতে স্কুল-পাঠ্য পথিবীর চেয়ে বেস্কুল-পাঠ্য সফ চোন্দ লক্ষগণে বড়ো ছিল। তব, আমার সংস্কৃত-পণ্ডিতমশায়ের নিদারণে ভবিষ্যদবাণী সত্ত্বেও, আমি পরীক্ষায় পাস করেছিলাম। আমার বাবা ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট । তখন আমরা ছিলেম সাতক্ষীরায় কিবা জাহানাবাদে কিবা ঐরকম কোনো-একটা জায়গায়। গোড়াতেই বলে রাখা ভালো, দেশ কাল এবং পাত্র সম্পবন্ধে আমার এই ইতিহাসে যে-কোনো পটি উল্লেখ থাকবে তার সবগুলোই সুস্পষ্ট মিথ্যা; যাঁদের রসবোধের চেয়ে কৌতুহল বেশি তাঁদের ঠকতে হবে । বাবা তখন তদন্তে বেরিয়েছিলেন । মায়ের ছিল কী-একটা ব্ৰত; দক্ষিণা এবং ভোজনব্যবস্থার জন্য ব্রাহ্মণ তাঁর দরকার। এইরকম পারমার্থিক প্রয়োজনে আমাদের পন্ডিতমশায় ছিলেন মায়ের প্রধান সহায় । এইজন্য মা তাঁর কাছে বিশেষ কৃতজ্ঞ ছিলেন, যদিচ বাবার মনের ভাব ছিল ঠিক তার উলেটা। আজ আহারান্তে দানদক্ষিণার যে ব্যবস্থা হল তার মধ্যে আমিও তালিকাভুক্ত হলম। সে পক্ষে ষে আলোচনা হয়েছিল তার মমটা এই – আমার তো কলকাতার কলেজে যাবার সময় হল। এমন অবস্থায় পত্রবিচ্ছেদদুঃখ দরে করবার জন্যে একটা সদ্যপায় অবলম্বন করা কতব্য। যদি একটি শিশবধ মায়ের কোলের কাছে থাকে তবে তাকে মানুষ করে, যত্ন করে, তাঁর দিন কাটতে পারে। পণ্ডিতমশায়ের মেয়ে কাশীশ্বরী এই কাজের পক্ষে উপযুক্ত—কারণ, সে শিশুও বটে, সুশীলাও বটে, আর কুলশাস্ত্রের গণিতে তার সঙ্গে আমার অঙ্কে অঙ্কে মিল । তা ছাড়া ব্রাহ্মণের কন্যাদায়মোচনের পারমাথি'ক ফলও লোভের সামগ্নী । মায়ের মন বিচলিত হল। মেয়েটিকে একবার দেখা কতব্য এমন আভাস দেবামায় পণ্ডিতমশায় বললেন, তাঁর পরিবার কাল রাত্রেই মেয়েটিকে নিয়ে বাসায় এসে পৌচেছেন । মায়ের পছন্দ হতে দেরি হল না; কেননা, রুচির সঙ্গে পণ্যের বাটখারার যোগ হওয়াতে সহজেই ওজন ভারী হল। মা বললেন, মেয়েটি সলেক্ষশা— 8げ ૧8ર গল্পগুচ্ছ অর্থাৎ ষথেষ্টপরিমাণ সন্দরী না হলেও সানার কারণ আছে। কথাটা পরস্পরায় আমার কানে উঠল। যে পণ্ডিতমশায়ের ধাতুর পকে বরাবর ভয় করে এসেছি তাঁরই কন্যার সঙ্গে আমার বিবাহের সম্বন্ধ-এরই বিসদৃশতা আমার মনকে প্রথমেই প্রবল বেগে আকর্ষণ করলে। রপেকথার গল্পের মতো হঠাৎ সবন্ত-প্রকরণ যেন তার সমস্ত অনসবার-বিসর্গ ঝেড়ে ফেলে একেবারে রাজকন্যা হয়ে উঠল। একদিন বিকেলে মা তাঁর ঘরে আমাকে ডাকিয়ে বললেন, “সন, পণ্ডিতমশায়ের বাসা থেকে আম আর মিষ্টি এসেছে, খেয়ে দেখা।” মা জানতেন, আমাকে পাচিশটা আম খেতে দিলে আর-পাঁচিশটার বারা তার পাদপসরণ করলে তবে আমার ছন্দ মেলে। তাই তিনি রসনার সরস পথ দিয়ে আমার হৃদয়কে আহবান করলেন। কাশীশ্বরী তাঁর কোলে বসেছিল। সমতি অনেকটা অস্পষ্ট হয়ে এসেছে, কিন্তু মনে আছে— রাঙতা দিয়ে তার খোঁপা মোড়া, আর গায়ে কলকাতার দোকানের এক সাটিনের জ্যাকেট-সেটা নীল এবং লাল এবং লেস এবং ফিতের একটা প্রত্যক্ষ প্রলাপ । যতটা মনে পড়ছে— রঙ শামলা; ভুর জোড়া খবে ঘন; এবং চোখদটাে পোষা প্রাণীর মতো বিনা সংকোচে তাকিয়ে আছে। মাখের বাকি অংশ কিছই মনে পড়ে না— বোধ হয় বিধাতার কারখানায় তার গড়ন তখনো সারা হয় নি, কেবল একমেটে করে রাখা হয়েছে। আর যাই হোক, তাকে দেখতে নেহাত ভালোমানুষের মতো। আমার বকের ভিতরটা ফলে উঠল। মনে মনে বললাম, ঐ রাঙতা-জড়ানো বেণীওয়ালা জ্যাকেট-মোড়া সামগ্ৰীটি ষোলো-আনা আমার— আমি ওর প্রভু, আমি ওর দেবতা। অন্য সমস্ত দলভ সামগ্রীর জন্যেই সাধনা করতে হয়, কেবল এই একটি জিনিসের জন্য নয়; আমি কড়ে আঙুল নড়ালেই হয়, বিধাতা এই বর দেবার জন্যে আমাকে সেধে বেড়াচ্ছেন। মাকে যে আমি বরাবর দেখে আসছি, স্ত্রী বলতে কী বোঝায় তা আমার ঐ সত্রে জানা ছিল। দেখেছি, বাবা অন্য-সমস্ত ব্লতের উপর চটা ছিলেন, কিন্তু সাবিত্রীরতের বেলায় তিনি মখে যাই বলন, মনে মনে বেশ একটা আনন্দ বোধ করতেন। মা তাঁকে ভালোবাসতেন তা জানি; কিন্তু কিসে বাবা রাগ করবেন, কিসে তাঁর বিরক্তি হবে, এইটেকে মা যে একান্ত মনে ভয় করতেন, এরই রসটকু বাবা তাঁর সমস্ত পৌরষে দিয়ে সব চেয়ে উপভোগ করতেন। প্যজাতে দেবতাদের বোধ হয় বড়ো-একটা কিছর আসে যায় না, কেননা সেটা তাঁদের বৈধ বরাদ্দ। কিন্তু, মানুষের নাকি ওটা অবৈধ পাওনা, এইজন্যে ঐটের লোভে তাদের অসামাল করে। সেই বালিকার রপগণের টান সেদিন আমার উপরে পৌছয় নি, কিন্তু আমি যে পাজনীয় সে কথাটা সেই চোদ্দ বছর বয়সে আমার পর ষের রক্তে গজিয়ে উঠল। সেদিন খাব গৌরবের সঙ্গেই আমগুলো খেলম, এমন-কি সগবে' তিনটে আম পাতে বাকি রাখলাম, যা আমার জীবনে কখনো ঘটে নি; এবং তার জন্যে সমস্ত অপরাহুকালটা অনুশোচনায় গেল। সেদিন কাশীশ্বরী খবর পায় নি আমার সঙ্গে তার সবন্ধটা কোন শ্রেণীর— কিন্তু বাড়ি গিয়েই বোধ হয় জানতে পেরেছিল। তার পরে যখনই তার সঙ্গে দেখা হত সে শশব্যস্ত হয়ে লকোবার জায়গা পেত না। আমাকে দেখে তার এই প্রস্ততা পার ও পায়ী a8む আমার খুব ভালো লাগত। আমার অবিভাব বিশ্বের কোনো-একটা জায়গায় কোনোr একটা আকারে খুব-একটা প্রবল প্রভাব সঞ্চার করে, এই জৈব-রাসায়নিক তথ্যটা আমার কাছে বড়ো মনোরম ছিল। আমাকে দেখেও যে কেউ ভয় করে বা লন্জা করে, বা কোনো একটা-কিছু করে, সেটা বড়ো অপব। কাশীশ্বরী তার পালানোর দ্বারাই আমাকে জানিয়ে যেত, জগতের মধ্যে সে বিশেষভাবে সম্পর্ণেভাবে এবং নিগঢ়ভাবে उप्राञान्नइँ । এতকালের অকিঞ্চিৎকরতা থেকে হঠাৎ এক মহতে এমন একাত গৌরবের পদ লাভ করে কিছুদিন আমার মাথার মধ্যে রক্ত ঝাঁঝাঁ করতে লাগল। বাবা যেরকম মাকে কতব্যের বা রন্ধনের বা ব্যবস্থার ক্রটি নিয়ে সবাদা ব্যাকুল করে তুলেছেন, আমিও মনে মনে তারই ছবির উপরে দাগা বলোতে লাগলম। বাবার অনভিপ্রেত কোনো-একটা লক্ষ্য সাধন করবার সময় মা যেরকম সাবধানে নানাপ্রকার মনোহর কৌশলে কাজ উদ্ধার করতেন, আমি কল্পনায় কাশীশ্বরীকেও সেই পথে প্রবত্ত হতে দেখলাম। মাঝে মাঝে মনে মনে তাকে অকাতরে এবং অকস্মাৎ মোটা অঙ্কের ব্যাকনোট থেকে আরম্ভ করে হীরের গয়না পর্যন্ত দান করতে আরম্ভ করলাম। এক-একদিন ভাত খেতে বসে তার খাওয়াই হল না এবং জানলার ধারে বসে অচিলের খ;ট দিয়ে সে চোখের জল মচেছে এই করণ দশ্যও আমি মনশচক্ষে দেখতে পেলাম, এবং এটা যে আমার কাছে অত্যন্ত শোচনীয় বোধ হল তা বলতে পারি নে। ছোটো ছেলেদের আত্মনিভীরতার সম্পবন্ধে বাবা অত্যন্ত বেশি সতক ছিলেন। নিজের ঘর ঠিক করা, নিজের কাপড়চোপড় রাখা, সমস্তই আমাকে নিজের হাতে করতে হত। কিন্তু, আমার মনের মধ্যে গাহ'স্থ্যের যে চিত্রগুলি পল্ট রেখায় জেগে উঠল, তার মধ্যে একটি নীচে লিখে রাখছি। বলা বাহুল্য, আমার পৈতৃক ইতিহাসে ঠিক এইরকম ঘটনাই পাবে একদিন ঘটেছিল; এই কল্পনার মধ্যে আমার ওরিজিনালিটি কিছুই নেই। চিত্রটি এই—রবিবারে মধ্যাহ্ন-ভোজনের পর আমি খাটের উপর বালিশে ঠেসান দিয়ে পা ছড়িয়ে আধ-শোওয়া অবস্থায় খবরের কাগজ পড়ছি। হাতে গড়গড়ির নল। ঈষৎ তন্দ্রাবেশে নলটা নীচে পড়ে গেল। বারান্দায় বসে কাশীশ্বরী ধোবাকে কাপড় দিচ্ছিল, আমি তাকে ডাক দিলাম; সে তাড়াতাড়ি ছটে এসে আমার হাতে নল তুলে দিলে। আমি তাকে বললাম, দেখো, আমার বসবার ঘরের বাঁ দিকের আলমারির তিনের থাকে একটা নীল রঙের মলাট-দেওয়া মোটা ইংরাজি বই আছে, সেইটে নিয়ে এসো তো। কাশী একটা নীল রঙের বই এনে দিলে; আমি বললাম "আঃ, এটা নয় ; সে এর চেয়ে মোটা, আর তার পিঠের দিকে সোনালি অক্ষরে নাম লেখা। এবারে সে একটা সবুজ রঙের বই আনলে—সেটা আমি ধপাস করে মেঝের উপর ফেলে দিয়ে রেগে উঠে পড়লাম। তখন কাশীর মাখ এতটুকু হয়ে গেল এবং তার চোখ ছলছল করে উঠল। আমি গিয়ে দেখলাম, তিনের শেলফে বইটা নেই, সেটা আছে পাঁচের শেলফে। বইটা হাতে করে নিয়ে এসে নিঃশব্দে বিছানায় শলম, কিন্তু কাশীকে ভুলের কথা কিছু বললাম না। সে মাথা হে’ট করে বিমৰ্ষ হয়ে ধোবাকে কাপড় দিতে লাগল এবং নিবাধিতার দোষে স্বামীর বিশ্রামে ব্যাঘাত করেছে, এই অপরাধ কিছতেই ভুলতে পারলে না। বাবা ডাকাতি তদন্ত করছেন, আর আমার এইভাবে দিন যাচ্ছে। এ দিকে আমার ૧88 গল্পগুচ্ছ সম্বন্ধে পণ্ডিতমশায়ের ব্যবহার আর ভাষা এক মহোতে কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে এসে পেছিল এবং সেটা নিরতিশয় সদভাববাচ্য। এমন সময় ডাকাতি তদন্ত শেষ হয়ে গেল, বাবা ঘরে ফিরে এলেন। আমি জানি, মা আস্তে আস্তে সময় নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বাবার বিশেষ প্রিয় তরকারিরান্নার সঙ্গে সঙ্গে একটা একটা করে সইয়ে সইয়ে কথাটাকে পাড়বেন বলে প্রস্তুত হয়ে ছিলেন। বাবা পণ্ডিতমশায়কে অথলখে বলে ঘণা করতেন; মা নিশ্চয়ই প্রথমে পণ্ডিতমশায়ের মাদরকম নিন্দা অথচ তাঁর সন্ত্রী ও কন্যার প্রচুর রকমের প্রশংসা করে কথাটার গোড়াপত্তন করতেন। কিন্তু, দভাগ্যক্রমে পণ্ডিতমশায়ের আনন্দিত প্ৰগলভতায় কথাটা চারি দিকে ছড়িয়ে গিয়েছিল। বিবাহ যে পাকা, দিনক্ষণ দেখা চলছে, এ কথা তিনি কাউকে জানাতে বাকি রাখেন নি। এমন-কি, বিবাহকালে সেরেস্তাদার বাবর পাকা দালানটি কয়দিনের জন্যে তাঁর প্রয়োজন হবে, যথাস্থানে সে আলোচনাও তিনি সেরে রেখেছেন। শুভকমে সকলেই তাঁকে যথাসাধ্য সাহায্য করতে সম্মত হয়েছে। বাবার আদালতের উকিলের দল চাঁদা করে বিবাহের ব্যয় বহন করতেও রাজি। স্থানীয় এনট্রেন্স-স্কুলের সেক্রেটারি বীরেশ্বরবাবর তৃতীয় ছেলে তৃতীয় ক্লাসে পড়ে, সে চাঁদ ও কুমাদের রপেক অবলম্বন করে এরই মধ্যে বিবাহ সম্বন্ধে ত্রিপদী ছন্দে একটা কবিতা লিখেছে। সেক্রেটারিবাব সেই কবিতাটা নিয়ে রাস্তায় ঘাটে যাকে পেয়েছেন তাকে ধরে ধরে শুনিয়েছেন। ছেলেটির সম্বন্ধে গ্রামের লোক খাব আশান্বিত হয়ে উঠেছে। সতরাং, ফিরে এসেই বাইরে থেকেই বাবা শভৈসংবাদ শুনতে পেলেন। তার পরে মায়ের কান্না এবং অনাহার, বাড়ির সকলের ভীতিবিহলতা, চাকরদের অকারণ জরিমানা, এজলাসে প্রবল বেগে মামলা ডিসমিস এবং প্রচণ্ড তেজে শাস্তিদান, পণ্ডিতমশায়ের পদচ্যুতি এবং রাঙতা-জড়ানো বেণী-সহ কাশীশ্বরীকে নিয়ে তাঁর অন্তধান—এবং ছটি ফরোবার পবেই মাতৃসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে আমাকে সবলে কলকাতায় নিবাসন। আমার মনটা ফাটা ফুটবলের মতো চুপসে গেল— আকাশে আকাশে, হাওয়ার উপরে তার লাফালাফি একেবারে বন্ধ হল। दे আমার পরিণয়ের পথে গোড়াতেই এই বিঘা-তার পরে আমার প্রতি বারে বারেই প্রজাপতির ব্যথ-পক্ষপাত ঘটেছে। তার বিস্তারিত বিবরণ দিতে ইচ্ছা করি নে— আমার এই বিফলতার ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত নোট দটো-একটা রেখে যাব। বিশ বছর বয়সের পাবেই আমি পরা দমে এম.এ. পরীক্ষা পাস করে চোখে চশমা পরে এবং গোঁফের রেখাটাকে তা দেবার যোগ্য করে বেরিয়ে এসেছি। বাবা তখন রামপুরহাট কিবা নোয়াখালি কিবা বারাসত কিবা ঐরকম কোনো-একটা জায়গায়। এতদিন তো শব্দসাগর মন্থন করে ডিগ্রিরত্ন পাওয়া গেল, এবার অর্থসাগর-মন্থনের পালা। বাবা তাঁর বড়ো বড়ো পেট্টন সাহেবদের স্মরণ করতে গিয়ে দেখলেন, তাঁর সব চেয়ে বড়ো সহায় যিনি তিনি পরলোকে, তাঁর চেয়ে যিনি কিছু কম তিনি পেন্সন নিয়ে বিলেতে, fर्यान आग्नe कधरखाग्नौ ठिनि नाछाप्य वर्माळ झरज्जाइन, श्राव्र शिम बारणारलटण याकि পার ও পায়ী ●8& আছেন তিনি অধিকাংশ উমেদারকেই উপক্ৰমণিকায় আশ্বাস দেন কিন্তু উপসংহারে সেটা সংহরণ করেন। আমার পিতামহ যখন ডেপটি ছিলেন তখন মরবির বাজার এমন কষা ছিল না, তাই তখন চাকরি থেকে পেন্সন এবং পেন্সন থেকে চাকরি একই বংশে খেয়া-পারাপারের মতো চলত। এখন দিন খারাপ, তাই বাবা যখন উদবিগন হয়ে ভাবছিলেন যে তাঁর বংশধর গভমেন্ট আপিসের উচ্চ খাঁচা থেকে সওদাগরি আপিসের নিম্পন দাঁড়ে অবতরণ করবে কি না, এমন সময় এক ধনী ব্রাহ্মণের একমার কন্যা তাঁর নোটিশে এল। ব্রাহ্মণটি কনট্র্যাক্টর, তাঁর অথাগমের পথটি প্রকাশ্য ভূতলের চেয়ে অদশ্য রসাতলের দিক দিয়েই প্রশস্ত ছিল। তিনি সে সময়ে বড়োদিন উপলক্ষে কমলালেব ও অন্যান্য উপহারসামগ্রী যথাযোগ্য পাত্রে বিতরণ করতে ব্যস্ত ছিলেন, এমন সময়ে তাঁর পাড়ায় আমার অভু্যদয় হল । বাবার বাসা ছিল তাঁর বাড়ির সামনেই, মাঝে ছিল এক রাস্তা। বলা বাহুল্য, ডেপুটির এম.এ. পাস-করা ছেলে কন্যাদারিকের পক্ষে খাব প্রাংশ লভ্য ফল। এইজন্যে কনট্র্যাক্টরবাব আমার প্রতি উদবাহন হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর বাহ আধলিলন্বিত ছিল সে পরিচয় পবেই দিয়েছি— অন্তত সে বাহন ডেপুটিবাবর হদয় পর্যন্ত অতি অনায়াসে পৌছল। কিন্তু, আমার হদয়টা তখন আরও অনেক উপরে ছিল। কারণ, আমার বয়স তখন কুড়ি পেরোয়-পেরোয়; তখন খাঁটি সন্ত্রীরত্ন ছাড়া অন্য কোনো রত্বের প্রতি আমার লোভ ছিল না। শুধু তাই নয়, তখনো ভাবকতার দীপ্তি আমার মনে উজ্জবল। অথাৎ, সহধমিশিী শব্দের ষে অথ* আমার মনে ছিল সে অর্থটা বাজারে চলিত ছিল না। বর্তমান কালে আমাদের দেশে সংসারটা চারি দিকেই সংকুচিত; মননসাধনের বেলায় মনকে জ্ঞান ও ভাবের উদার ক্ষেত্রে ব্যাপ্ত করে রাখা আর ব্যবহারের বেলায় তাকে সেই সংসারের অতি ছোটো মাপে কৃশ করে আনা, এ আমি মনে মনেও সহ্য করতে পারতুম না। যে সন্ত্রীকে আইডিয়ালের পথে সঙ্গিনী করতে চাই সেই স্ত্রী ঘরকন্নার গারদে পায়ের বেড়ি হয়ে থাকবে এবং প্রত্যেক চলাফেরায় ঝংকার দিয়ে পিছনে টেনে রাখবে, এমন দরগ্রহ আমি স্বীকার করে নিতে নারাজ ছিলম। আসল কথা, আমাদের দেশের প্রহসনে যাদের আধুনিক বলে বিদ্রপ উঠেছিলাম। আমাদের কালে সেই আধুনিকের দল এখনকার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। আশচষ” এই যে, তারা সত্যই বিশ্বাস করত যে, দগতি এবং তাকে টেনে চলাই উন্নতি । .. এ-হেন আমি শ্ৰীযন্ত সনৎকুমার, একটি বলশালী * थलिन्न হাঁ-করা মাখের সামনে এসে পড়লাম। বাবা বললেন, শুভস্য শীঘ্রম। আমি চুপ করে রইলাম; মনে মনে ভাবলাম, একট দেখে-শনে বঝে-পড়ে নিই। চোখ কান খালে রাখলাম—কিছু পরিমাণ দেখা এবং অনেকটা পরিমাণ শোনা গেল । মেয়েটি পর্তুলের মতো ছোটো এবং সন্দের-সে ষে সবভাবের নিয়মে তৈরি হয়েছে তা তাকে দেখে মনে হয় না—কে যেন তার প্রত্যেক চুলটি পাট করে, তার ভুরটি একে, তাকে হাতে করে গড়ে তুলেছে। সে সংস্কৃতভাষায় গঙ্গার স্তব আবত্তি করে পড়তে পারে। তার মা পাথরে কয়লা পয’ত গঙ্গার জলে ধয়ে তবে রাখেন; জীবধাত্রী বসন্ধেরা নানা জাতিকে ধারণ করেন বলে পথিবীর সংস্পশ সম্বন্ধে তিনি সৰ্ব্বদাই সংকুচিত; 학한8 - গল্পগুচ্ছ তাঁর অধিকাংশ ব্যবহার জলেরই সঙ্গে, কারণ জলচর মৎস্যরা মসলমান-বংশীয় নয় এবং জলে পেয়াজ উৎপন্ন হয় না। তাঁর জীবনের সব প্রধান কাজ আপনার দেহকে গহকে কাপড়চোপড় হাঁড়িকুড়ি খাটপালঙ বাসনকোসনকে শোধন এবং মাজ’ন করা। তাঁর সমস্ত কৃত্য সমাপন করতে বেলা আড়াইটে হয়ে যায়। তাঁর মেয়েটিকে তিনি স্বহস্তে সবাংশে এমনি পরিশুদ্ধ করে তুলেছেন যে, তার নিজের মত বা নিজের ইচ্ছা বলে কোনো উৎপাত ছিল না। কোনো ব্যবস্থায় যত অসুবিধাই হোক, সেটা পালন করা তার পক্ষে সহজ হয় যদি তার কোনো সংগত কারণ তাকে বুঝিয়ে না দেওয়া যায়। সে খাবার সময় ভালো কাপড় পরে না পাছে সকড়ি হয়; সে ছায়া সম্বন্ধেও বিচার করতে শিখেছে। সে যেমন পালকির ভিতরে বসেই গংগাস্নান করে, তেমনি অষ্টাদশ পরাণের মধ্যে আবৃত থেকে সংসারে চলে ফেরে। বিধি-বিধানের পরে আমারও মায়ের যথেষ্ট গ্রন্ধা ছিল, কিন্তু তাঁর চেয়ে আরও বেশি শ্রদ্ধা যে আর-কারও থাকবে এবং তাই নিয়ে সে মনে মনে গমের করবে এটা তিনি সইতে পারতেন না। এইজন্যে আমি যখন তাঁকে বললাম "মা, এ মেয়ের যোগ্যপাত্র আমি নই”, তিনি হেসে বললেন, “না, কলিযুগে তেমন পাত্র মেলা ভার!” আমি বললাম, “তা হলে আমি বিদায় নিই।” মা বললেন, “সে কী সন, তোর পছন্দ হল না ? কেন, মেয়েটিকে তো দেখতে ভালো ৷” আমি বললাম, “মা, সত্ৰী তো কেবল চেয়ে চেয়ে দেখবার জন্যে নয়, তার বন্ধি থাকাও চাই।” মা বললেন, "শোনো একবার! এরই মধ্যে তুই তার কম বন্ধির পরিচয় কী পেলি।” আমি বললাম, “বন্ধি থাকলে মানুষ দিনরাত এই-সব অনৰ্থক অকাজের মধ্যে বাঁচতেই পারে না। হাঁপিয়ে মরে যায়।” মায়ের মুখ শুকিয়ে গেল। তিনি জানেন, এই বিবাহ সম্বন্ধে বাবা অপর পক্ষে প্রায় পাকা কথা দিয়েছেন। তিনি আরও জানেন যে, বাবা এটা প্রায় ভুলে যান যে, অন্য মানুষেরও ইচ্ছে বলে একটা বালাই থাকতে পারে। বস্তুত, বাবা যদি অত্যন্ত বেশি রাগারগি জবদসিত না করতেন তা হলে হয়তো কালক্রমে ঐ পৌরাণিক পর্তুলকে বিবাহ করে আমিও একদিন প্রবল রোখে নান-আহ্নিক এবং ব্ৰত-উপবাস করতে করতে গঙ্গাতীরে সম্পাতি লাভ করতে পারতুম। অর্থাৎ, মায়ের উপর যদি এই বিবাহ দেবার ভার থাকত তা হলে তিনি সময় নিয়ে, অতি ধীর মন্দ সুযোগে ক্ষণে ক্ষণে কানে মন্ত্র দিয়ে, ক্ষণে ক্ষণে অশ্রুপাত করে, কাজ উদ্ধার করে নিতে পারতেন। বাবা যখন কেবলই তজন গজন করতে লাগলেন আমি তাঁকে মরিয়া হয়ে বললাম, ছেলেবেলা থেকে খেতে-শতে চলতে-ফিরতে আমাকে আত্মনিভীরতার উপদেশ দিয়েছেন, কেবল বিবাহের বেলাতেই কি আত্মনিভার চলবে না। কলেজে লজিকে পাস করবার বেলায় ছাড়া ন্যায়শাস্ত্রের জোরে কেউ কোনোদিন সফলতা লাভ করেছে, এ আমি দেখি নি। সংগত যুক্তি কুতকের আগমনে কখনো জলের মতো কাজ করে না, বরঞ্চ তেলের মতোই কাজ করে থাকে। বাবা ভেবে রেখেছেন, তিনি অন্য পক্ষকে কথা দিয়েছেন, বিবাহের ঔচিত্য সম্বন্ধে এর চেয়ে বড়ো প্রমাণ আর-কিছুই নেই। অথচ আমি যদি পার ও পায়ী 속 8 তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিতুম যে, পণ্ডিতমশায়কে মাও একদিন কথা দিয়েছিলেন, তব সে কথায় শধ্যে যে আমার বিবাহ ফেসে গেল তা নয়, পণ্ডিতমশায়ের জীবিকাও তার সঙ্গে সহমরণে গেল— তা হলে এই উপলক্ষে একটা ফৌজদারি বাধত। বৃদ্ধি বিচার এবং রচির চেয়ে শচিতা মন্ত্রতন্ত্র ক্লিয়াকম যে ঢের ভালো, তার কবিত্ব যে সংগভীর ও সন্দের, তার নিষ্ঠা যে অতি মহৎ, তার ফল যে অতি উত্তম, সিম্বলিজমটাই যে আইডিয়ালিজম এ কথা বাবা আজকাল আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে সময়ে অসময়ে আলোচনা করেছেন। আমি রসনাকে থামিয়ে রেখেছি, কিন্তু মনকে তো চুপ করিয়ে রাখতে পারি নি। যে কথাটা মুখের আগার কাছে এসে ফিরে যেত সেটা হচ্ছে এই যে, এ-সব যদি আপনি মানেন তবে পালবার বেলায় মুরগি পালেন কেন। আরও একটা কথা মনে আসত; বাবাই একদিন দিনক্ষণ পালপাবণ বিধিনিষেধ দানদক্ষিণা নিয়ে তাঁর অসুবিধা বা ক্ষতি ঘটলে মাকে কঠোর ভাষায় এ-সব অনুষ্ঠানের পণ্ডতা নিয়ে তাড়না করেছেন। মা তখন দীনতা স্বীকার করে, অবলাজাতি স্বভাবতই অবাক বলে মাথা হে’ট ক’রে বিরক্তির ধাক্কাটা কাটিয়ে দিয়ে ব্রাহ্মণভোজনের বিস্তারিত আয়োজনে প্রবত্ত হয়েছেন। কিন্তু, বিশবকমা লজিকের পাকা ছাঁচে ঢালাই করে জীব সজন করেন নি। অতএব কোনো মানুষের কথায় বা কাজে সংগতি নেই এ কথা বলে . তাকে বাগিয়ে নেওয়া ষায় না, রাগিয়ে দেওয়া হয় মাত্র । ন্যায়শাস্ত্রের দোহাই পাড়লে অন্যায়ের প্রচন্ডতা বেড়ে ওঠে— যারা পোলিটিকাল বা গাহপথ্য অ্যাজিটেশনে শ্ৰহ্মাবান তাদের এ কথাটা মনে রাখা উচিত । ঘোড়া যখন তার পিছনের গাড়িটাকে অন্যায় মনে করে তার উপরে লাথি চালায় তখন অন্যায়টা তো থেকেই যায়, মাঝের থেকে তার পাকেও জখম করে। যৌবনের আবেগে অলপ একটখানি তক করতে গিয়ে আমার সেই দশা হল । পৌরাণিকী মেয়েটির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গেল বটে, কিন্তু বাবার আধুনিক যুগের তহবিলের আশ্রয়ও খোওয়ালম। বাবা বললেন, “ষাও, তুমি আত্মনিভর করো গে।" আমি প্রণাম করে বললাম, "যে আজ্ঞে ।” মা বসে বসে কাঁদতে লাগলেন । বাবার দক্ষিণ হস্ত বিমুখ হল বটে, কিন্তু মাঝখানে মা থাকাতে ক্ষণে ক্ষণে মানি-অর্ডারের পেয়াদার দেখা পাওয়া যেত। মেঘ বর্ষণ বন্ধ করে দিলে, কিন্তু গোপনে স্নিগ্ধ রাত্রে শিশিরের অভিষেক চলতে লাগল। তারই জোরে ব্যাবসা শর করে দিলাম। ঠিক উন-আশি টাকা দিয়ে গোড়াপত্তন হল। আজ সেই কারবারে ষে মলধন খাটছে তা ঈর্ষাকাতর জনশ্রুতির চেয়ে অনেক কম হলেও, বিশ লক্ষ টাকার চেয়ে কম নয় । প্রজাপতির পেয়াদারা আমার পিছন পিছন ফিরতে লাগল। আগে যে-সব স্বার বন্ধ ছিল এখন তার আর আগল রইল না। মনে আছে, একদিন যৌবনের দনিবার দরাশায় একটি ষোড়শীর প্রতি (বয়সের অঙ্কটা এখনকার নিষ্ঠাবান পাঠকদের ভয়ে কিছু সহনীয় করে বললাম) আমার হদয়কে উন্মুখ করেছিলাম, কিন্তু খবর পেয়েছিলম কন্যার মাতৃপক্ষ লক্ষ্য করে আছেন সিবিলিয়ানের প্রতি-অন্তত ব্যারিস্টারের নীচে তাঁর দটি পৌছয় না। আমি তাঁর মনোযোগ-মটরের জিরোপয়েন্টের নীচে ছিলাম। কিন্তু, পরে সেই ঘরেই অন্য একদিন শধে চা নয়, লাঞ্চ 48to গল্পগুচ্ছ খেয়েছি, রাত্রে ডিনারের পর মেয়েদের সঙ্গে হাইস্ট খেলেছি, তাদের মখে বিলেতের একেবারে খাস মহলের ইংরেজি ভাষার কথাবাত শুনেছি। আমার মশকিল এই যে, র্যাসেলস ডেজার্টেড ভিলেজ এবং অ্যাডিসন স্টীল পড়ে আমি ইংরেজি পাকিয়েছি, এই মেয়েদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া আমার কম নয়। O my, O dear O dear প্রভৃতি উদ্ভাষণগুলো আমার মখ দিয়ে ঠিক সরে বেরোতেই চায় না। আমার যতটুকু বিদ্যা তাতে আমি অত্যন্ত হাল ইংরেজি ভাষায় বড়োজোর হাটেবাজারে কেনা-বেচা করতে পারি, কিন্তু বিংশশতাব্দীর ইংরেজিতে প্রেমালাপ করার কথা মনে করলে আমার প্রেমই দৌড় মারে। অথচ এদের মুখে বাংলাভাষার যেরকম দভিক্ষ তাতে এদের সঙ্গে খাঁটি বকিমি সরে মধরালাপ করতে গেলে ঠকতে হবে। তাতে মজরি পোষাবে না। তা যাই হোক, এই-সব বিলিতি-গিলটি-করা মেয়ে একদিন আমার পক্ষে সলভ হয়েছিল। কিন্তু, রন্ধ দরজার ফাঁকের থেকে যে মায়াপরী দেখেছিলম দরজা যখন খলল তখন আর তার ঠিকানা পেলাম না। তখন আমার কেবল মনে হতে লাগল, সেই-যে আমার ব্ৰতচারিণী নিরর্থক নিয়মের নিরন্তর পুনরাবৃত্তির পাকে অহোরাত্র ঘরে ঘরে আপনার জড়বুদ্ধিকে তৃপ্ত করত, এই মেয়েরাও ঠিক সেই বধি নিয়েই বিলিতি চালচলন আদবকায়দার সমস্ত তুচ্ছাতিতুচ্ছ উপসগগুলিকে প্রদক্ষিণ করে দিনের পর দিন, বৎসরের পর বৎসর, অনায়াসে অক্লান্তচিত্তে কাটিয়ে দিচ্ছে । তারাও যেমন ছোঁয়া ও নাওয়ার লেশমাত্র পখলন দেখলে অশ্রদ্ধায় কণ্টকিত হয়ে উঠত, এরাও তেমনি অ্যাকসেন্টের একটা খাত কিবা কাঁটা-চামচের অলপ বিপর্যয় দেখলে ঠিক তেমনি করেই অপরাধীর মনুষ্যত্ব সম্বন্ধে সন্দিহান হয়ে ওঠে। তারা দিশি পতুল, এরা বিলিতি পতুল। মনের গতিবেগে এরা চলে না, অভ্যাসের-দম-দেওয়া কলে এদের চালায়। ফল হল এই যে, মেয়ে জাতের উপরেই আমার মনে মনে অশ্রদ্ধা জন্মাল; আমি ঠিক করলাম, ওদের বৃদ্ধি যখন কম তখন সনান-আচমন-উপবাসের অকম-কাণ্ড প্রকান্ড না হলে ওরা বাঁচে কী করে। বইয়ে পড়েছি, একরকম জীবাণ আছে সে ক্রমাগতই ঘোরে। কিন্তু, মানুষ ঘোরে না, মানষে চলে। সেই জীবাণুর পরিবর্ধিত সংস্করণের সঙ্গেই কি বিধাতা হতভাগ্য পরষমানষের বিবাহের সম্বন্ধ পাতিয়েছেন। ২ এ দিকে বয়স যত বাড়তে চলল বিবাহ সম্বন্ধে বিধাও তত বেড়ে উঠল। মানুষের একটা বয়স আছে যখন সে চিন্তা না করেও বিবাহ করতে পারে। সে বয়স পেরোলে বিবাহ করতে দুঃসাহসিকতার দরকার হয়। আমি সেই বেপরোয়া দলের লোক নই। তা ছাড়া কোনো প্রকৃতিস্থ মেয়ে বিনা কারণে এক নিশবাসে আমাকে কেন যে বিয়ে করে ফেলবে, আমি তা কিছুতেই ভেবে পাই নে। শুনেছি ভালোবাসা অন্ধ, কিন্তু এখানে সেই অন্ধের উপর তো কোনো ভার নেই। সংসারবন্ধির দটো চোখের চেয়ে আরও বেশি চোখ আছে—সেই চক্ষ যখন বিনা নেশায় আমার দিকে তাকিয়ে দেখে তখন আমার মধ্যে কী দেখতে পায় আমি তাই ভাবি। আমার গণ নিশ্চয়ই অনেক আছে, কিন্তু সেগুলো তো ধরা পড়তে দেরি লাগে, এক চাহনিতেই বোঝা যায় না। আমার নাসার মধ্যে যে খবতা আছে বধির উন্নতি তা পরণ করেছে জানি; কিন্তু নাসাটাই থাকে প্রত্যক্ষ হয়ে, আর ভগবান বদ্ধিকে নিবাকার করে রেখে দিলেন। যাই হোক, যখন দেখি কোনো সাবালক মেয়ে অত্যপ কালের নোটিশেই আমাকে পার ও পারী 8> বিয়ে করতে অত্যপমাত্র আপত্তি করে না, তখন মেয়েদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আরও কমে। আমি যদি মেয়ে হতুম তা হলে শ্ৰীষতে সনৎকুমারের নিজের খব নাসার দীঘনিশ্বাসে তার আশা এবং অহংকার ধুলিসাং হতে থাকত। এমনি করে আমার বিবাহের-বোঝাই-হীন নৌকাটা মাঝে মাঝে চড়ায় ঠেকেছে, কিন্তু ঘাটে এসে পৌছয় নি। স্মী ছাড়া সংসারের অন্যান্য উপকরণ ব্যাবসার উন্নতির সঙ্গে বেড়ে চলতে লাগল। একটা কথা ভুলে ছিলাম, বয়সও বাড়ছে। হঠাৎ একটা ঘটনায় সে কথা মনে করিয়ে দিলে। অভ্রের খনির তদন্তে ছোটোনাগপরের এক শহরে গিয়ে দেখি, পণ্ডিতমশায় সেখানে শালবনের ছায়ায় ছোট্ট একটি নদীর ধারে দিব্যি বাসা বেধে বসে আছেন । তাঁর ছেলে সেখানে কাজ করে। সেই শালবনের প্রান্তে আমার তাঁব পড়েছিল। এখন দেশ জড়ে আমার ধনের খ্যাতি। পণ্ডিতমশায় বললেন, কালে আমি যে অসামান্য হয়ে উঠব এ তিনি পবেই জানতেন। তা হবে, কিন্তু আশ্চৰ্যরকম গোপন করে রেখেছিলেন। তা ছাড়া কোন লক্ষণের বারা জেনেছিলেন আমি তো তা বলতে পারি নে। বোধ করি অসামান্য লোকদের ছাত্র-অবস্থায় ষত্বণত্বজ্ঞান থাকে না । কাশীশ্বরী শ্বশুরবাড়িতে ছিল, তাই বিনা বাধায় আমি পণ্ডিতমশায়ের ঘরের লোক, হয়ে উঠলাম। কয়েক বৎসর পবে তাঁর সন্ত্রীবিয়োগ হয়েছে—কিন্তু তিনি নাৎনিতে পরিবত। সবগুলি তাঁর স্বকীয়া নয়, তার মধ্যে দটি ছিল তাঁর পরলোকগত দাদার ৮ বন্ধ এদের নিয়ে আপনার বাধক্যের অপরাহুকে নানা রঙে রঙিন করে তুলেছেন। তাঁর অমরুশতক আযাসপ্তশতী হংসদত পদাঙ্কদ্যুতের শেলাকের ধারা নড়িগুলির চারি দিকে গিরিনদীর ফেনোজ্জ্বল প্রবাহের মতো এই মেয়েগুলিকে ঘিরে ঘিরে সহস্যে ধৰনিত হয়ে উঠছে। আমি হেসে বললাম, “পণ্ডিতমশায়, ব্যাপারখানা কাঁ।" তিনি বললেন, “বাবা, তোমাদের ইংরাজি শাসের বলে যে, শনিগ্রহ চাঁদের মালা পরে থাকেন—এই আমার সেই চাঁদের মান্থ "_/ সেই দরিদ্র ঘরের এই দশ্যটি দেখে হঠাৎ আমার মনে পড়ে গেল, আমি একা ৮ বাঝতে পারলাম, আমি নিজের ভারে নিজে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। পণ্ডিতমশায় জানেন না যে তাঁর বয়স হয়েছে, কিন্তু আমার ষে হয়েছে সে আমি পল্ট জানলাম। বয়স হয়েছে বলতে এইটে বোঝায়, নিজের চারি দিককে ছাড়িয়ে এসেছি, চার পাশে চিলে হয়ে ফাঁক হয়ে গেছে। সে ফাঁক টাকা দিয়ে, খ্যাতি দিয়ে, বোজানো যায় না। পথিবী থেকে রস পাচ্ছি নে, কেবল বস্তু সংগ্রহ করছি, এর ব্যর্থতা অভ্যাসবশত ভুলে থাকা যায়। কিন্তু, পণ্ডিতমশায়ের ঘর যখন দেখলাম তখন বকলম, আমার দিন শাক, আমার রাত্রি শন্য। পণ্ডিতমশায় নিশ্চয় ঠিক করে বসে আছেন যে, আমি তাঁর চেয়ে ভাগ্যবান পরষ—এই কথা মনে করে আমার হাসি এল। এই বস্তুজগৎকে ঘিরে একটি অদৃশ্য আনন্দলোক আছে। সেই আনন্দলোকের সঙ্গে আমাদের জীবনের যোগসত্র না থাকলে আমরা ত্রিশঙ্কুর মতো শন্যে থাকি। পণ্ডিতমশায়ের সেই যোগ थाटक, आधाग्न एनई, dई ठझाङ । आभि श्राब्राध-८कमाब्राब्र मझे एाङाम्न मई ना छूरण দিয়ে সিগারেট খেতে খেতে ভাবতে লাগলম, পরেষের জীবনের চার আশ্রমের চার অধিদেবতা। বাল্যে মা; বৌবনে সী; প্রৌঢ়ে কন্যা, পরবন্ধ; বাধক্যে নাৎনি, মাতবউ। <! & O গল্পগুচ্ছ এমনি করে মেয়েদের মধ্য দিয়ে পর্ষ আপনার পণেতা পায়। এই তত্ত্বটা মম’রিত শালবনে আমাকে আবিষ্ট করে ধরল। মনের সামনে আমার ভাবী বান্ধবয়সের শেষপ্রান্ত পর্যন্ত তাকিয়ে দেখলাম— দেখে তার নিরতিশয় নীরসতায় হদয়টা হাহাকার করে উঠল। ঐ মরপথের মধ্য দিয়ে মনেফার বোঝা ঘাড়ে করে নিয়ে কোথায় গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে মরতে হবে। আর দেরি করলে তো চলবে না। সম্প্রতি চল্লিশ পেরিয়েছি-যৌবনের শেষ থলিটি ঝেড়ে নেবার জন্যে পঞ্চাশ রাস্তার ধারে বসে আছে, তার লাঠির ডগাটা এইখান থেকে দেখা যাচ্ছে। এখন পকেটের কথাটা বন্ধ রেখে জীবনের কথা একটুখানি ভেবে দেখা যাক। কিন্তু, জীবনের যে অংশে মলেতুবি পড়েছে সে অংশে আর তো ফিরে যাওয়া চলবে না। তবু তার ছিন্নতায় তালি লাগাবার সময় এখনো সম্পণে যায় নি। এখান থেকে কাজের গতিকে পশ্চিমের এক শহরে যেতে হল। সেখানে বিশ্ববপতিবাবা ধনী বাঙালি মহাজন। তাঁকে নিয়ে আমার কাজের কথা ছিল। লোকটি খুব হয়শিয়ার, সতরাং তাঁর সঙ্গে কোনো কথা পাকা করতে বিস্তর সময় লাগে। একদিন বিরক্ত হয়ে যখন ভাবছি একে নিয়ে আমার কাজের সুবিধা হবে না, এমন-কি, চাকরকে আমার জিনিসপত্র প্যাক করতে বলে দিয়েছি, হেনকালে বিশবপতিবাব সন্ধ্যার সময় এসে আমাকে বললেন, “আপনার সঙ্গে নিশ্চয়ই অনেকরকম লোকের আলাপ আছে, আপনি একটা মনোযোগ করলে একটি বিধবা বেচে যায়।” इक्वेनागीप्ले ७झै - নন্দকৃষ্ণবাব বেরেলিতে প্রথমে আসেন একটি বাঙালি-ইংরাজি স্কুলের হেডমাস্টার হয়ে । কাজ করেছিলেন খুব ভালো। সকলেই আশ্চর্য হয়েছিল— এমন সযোগ্য সুশিক্ষিত লোক দেশ ছেড়ে, এত দরে, সামান্য বেতনে চাকরি করতে এলেন কী কারণে। কেবল যে পরীক্ষা পাস করাতে তাঁর খ্যাতি ছিল তা নয়, সকল ভালো কাজেই তিনি হাত দিয়েছিলেন। এমন সময় কেমন করে বেরিয়ে পড়ল, তাঁর মন্ত্রীর রপ ছিল বটে কিন্তু কুল ছিল না; সামান্য কোন জাতের মেয়ে, এমন-কি তাঁর ছোঁওয়া লাগলে পানীয় জলের পানীয়তা এবং অন্যান্য নিগড় সাত্ত্বিক গণে নষ্ট হয়ে যায়। তাঁকে যখন সবাই চেপে ধরলে তিনি বললেন, হাঁ, জাতে ছোটো বটে, কিন্তু তব সে তাঁর সন্ত্রী। তখন প্রশন উঠল, এমন বিবাহ বৈধ হয় কী করে। ষিনি প্রশন করেছিলেন নন্দকৃষ্ণবাব তাঁকে বললেন, “আপনি তো শালগ্রাম সাক্ষী করে পরে পরে দটি সত্ৰী বিবাহ করেছেন, এবং দ্বিবচনেও সন্তুষ্ট নেই তার বহর প্রমাণ দিয়েছেন। শালগ্রামের কথা বলতে পারি নে কিন্তু অন্তষামী জানেন, আমার বিবাহ আপনার বিবাহের চেয়ে বৈধ, প্রতিদিন প্রতি মহাতে বৈধ—এর চেয়ে বেশি কথা আমি আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই নে ৷” যাকে নন্দকৃষ্ণ এই কথাগুলি বললেন তিনি খুশি হন নি। তার উপরে লোকের অনিষ্ট করবার ক্ষমতাও তাঁর অসামান্য ছিল। সতরাং সেই উপদ্রবে নন্দকৃষ্ণ বেরিলি ত্যাগ করে এই বর্তমান শহরে এসে ওকালতি শরে করলেন। লোকটা অত্যন্ত খ:ৎখতে ছিলেন—উপবাসী থাকলেও অন্যায় মকদ্দমা তিনি কিছতেই নিতেন না। প্রথমটা তাতে তাঁর যত অসুবিধা হোক, শেষকালে উন্নতি হতে লাগল। কেননা, হাকিমরা তাঁকে সম্পণে বিশ্বাস করতেন। একখানি বাড়ি করে একটা জমিয়ে বসেছেন পাত্র ও পায়ী 9é> এমন সময় দেশে মন্বন্তর এল। দেশ উজাড় হয়ে যায়। যাদের উপর সাহায্যবিতরণের ভার ছিল তাদের মধ্যে কেউ কেউ চুরি করছিল বলে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতেই ম্যাজিস্ট্রেট বললেন, “সাধলোক পাই কোথায় ?” তিনি বললেন, “আমাকে যদি বিশ্বাস করেন আমি এ কাজের কতক ভার নিতে পারি।” তিনি ভার পেলেন এবং এই ভার বহন করতে করতেই একদিন মধ্যাহ্নে মাঠের মধ্যে এক গাছতলায় মারা যান। ডাক্তার বললে, তাঁর হৃৎপিণ্ডের ক্লিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। গলে্পর এতটা পৰ্যন্ত আমার পবেই জানা ছিল। কেমন একটা উচ্চ ভাবের মেজাজে এরই কথা তুলে আমাদের ক্লাবে আমি বলেছিলাম, “এই নন্দকৃষ্ণের মতো লোক যারা সংসারে ফেল করে শকিয়ে মরে গেছে—না রেখেছে নাম, না রেখেছে টাকা— তারাই ভগবানের সহযোগী হয়ে সংসারটাকে উপরের দিকে—” এইটুকু মাত্র বলতেই ভরা পালের নৌকা হঠাৎ চড়ায় ঠেকে যাওয়ার মতো, আমার কথা মাঝখানে বন্ধ হয়ে গেল। কারণ, আমাদের মধ্যে খুব একজন সম্পত্তি ও প্রতিপত্তি-শালী লোক খবরের কাগজ পড়ছিলেন– তিনি তাঁর চশমার উপর থেকে যাক গে। শোনা গেল, নন্দকৃষ্ণর বিধবা সত্ৰী তাঁর একটি মেয়েকে নিয়ে এই পাড়াতেই থাকেন। দেওয়ালির রাত্রে মেয়েটির জন্ম হয়েছিল বলে বাপ তার নাম দিয়েছিলেন দীপালি। বিধবা কোনো সমাজে স্থান পান না বলে সম্পণে একলা থেকে এই মেয়েটিকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করেছেন। এখন মেয়েটির বয়স পঁচিশের উপর হবে। মায়ের শরীর র্যগণ এবং বয়সও কম নয়—কোনদিন তিনি মারা যাবেন, এই মেয়েটির কোথাও কোনো গতি হবে না। বিশ্বপতি আমাকে বিশেষ অননয় করে বললেন, “যদি এর পাত্র জটিয়ে দিতে পারেন তো সেটা একটা পণ্যেকম হবে।” আমি বিশ্বপতিকে শুকনো সবাথপর নিরেট কাজের লোক বলে মনে মনে একটা অবজ্ঞা করেছিলাম। বিধবার অনাথা মেয়েটির জন্য তাঁর এই আগ্রহ দেখে আমার মন গলে গেল। ভাবলম, প্রাচীন পথিবীর মত ম্যামথের পাকযন্ত্রের মধ্যে থেকে খাদাবীজ বের করে পতে দেখা গেছে, তার থেকে অঙ্কুর বেরিয়েছে—তেমনি মানুষের মনষ্যেত্ব বিপলে মতস্তপের মধ্যে থেকেও সম্পণে মরতে চায় না। } আমি বিশবপতিকে বললাম, “পাত্র আমার জানা আছে, কোনো বাধা হবে না । আপনারা কথা এবং দিন ঠিক করন।” “কিন্তু মেয়ে না দেখেই তো আর—” “না দেখেই হবে।” “কিন্তু, পাত্র যদি সম্পত্তির লোভ করে সে বড়ো বেশি নেই। মা মরে গেলে কেবল ঐ বাড়িখানি পাবে, আর সামান্য যদি কিছু পার।" “পাত্রের নিজের সম্পত্তি আছে, সেজন্যে ভাবতে হবে না।" “তাঁর নাম বিবরণ প্রভৃতি—” “সে এখন বলব না, তা হলে জানাজানি হয়ে বিবাহ ফেসে যেতে পারে।” “মেয়ের মাকে তো তার একটা বর্ণনা দিতে হবে।" १6 २ গল্পগুচ্ছ “বলবেন, লোকটা অন্য সাধারণ মানুষের মতো দোষে গণে জড়িত। দোষ এত বেশি নেই যে ভাবনা হতে পারে; গণও এত বেশি নেই যে লোভ করা চলে। আমি যতদরে জানি তাতে কন্যার পিতামাতারা তাকে বিশেষ পছন্দ করে, স্বয়ং কন্যাদের মনের কথা ঠিক জানা যায় নি।” বিশ্বপতিবাব এই ব্যাপারে যখন অত্যন্ত কৃতজ্ঞ হলেন তখন তাঁর উপরে আমার ভক্তি বেড়ে গেল। য়ে কারবারে ইতিপবে তাঁর সঙ্গে আমার দরে বনছিল না, সেটাতে লোকসান দিয়েও রেজিস্ট্রি দলিল সই করবার জন্যে আমার উৎসাহ হল। তিনি যাবার সময় বলে গেলেন, “পারটিকে বলবেন, অন্য সব বিষয়ে যাই হোক, এমন গণবতী মেয়ে কোথাও পাবেন না।” যে মেয়ে সমাজের আশ্রয় থেকে এবং শ্রদ্ধা থেকে বঞ্চিত তাকে যদি হৃদয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত করা যায় তা হলে সে মেয়ে কি আপনাকে উৎসগ করতে কিছমাত্র কৃপণতা করবে। যে মেয়ের বড়ো রকমের আশা আছে তারই আশার অন্ত থাকে না । কিন্তু, এই দীপালির দীপটি মাটির, তাই আমার মতো মেটে ঘরের কোণে তার শিখাটির অমষ"দা হবে না। - . সন্ধ্যার সময় আলো জেলে বিলিতি কাগজ পড়ছি, এমন সময় খবর এল, একটি মেয়ে আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে। বাড়িতে সত্রীলোক কেউ নেই, তাই ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। কোনো ভদ্র উপায় উদ্ভাবনের পবেই মেয়েটি ঘরের মধ্যে ঢুকে প্রণাম করলে। বাইরে থেকে কেউ বিশ্বাস করবে না, কিন্তু আমি অত্যন্ত লাজকে মানুষ। আমি না তার মুখের দিকে চাইলাম, না তাকে কোনো কথা বললাম। সে বললে, “আমার নাম দীপালি।” গলাটি ভারি মিষ্টি। সাহস করে মাখের দিকে চেয়ে দেখলাম, সে মাখ বধিতে কোমলতাতে মাখানো। মাথায় ঘোমটা নেই– সাদা দিশি কাপড়, এখনকার ফ্যাশানে পরা। কী বলি ভাবছি, এমন সময় সে বললে, “আমাকে বিবাহ দেবার জন্যে আপনি কোনো চেষ্টা করবেন না।” আর যাই হোক, দীপালির মুখে এমন আপত্তি আমি প্রত্যাশাই করি নি। আমি ভেবে রেখেছিলাম, বিবাহের প্রস্তাবে তার দেহ মন প্রাণ কৃতজ্ঞতায় ভরে উঠেছে। জিজ্ঞাসা করলাম, “জানা অজানা কোনো পারকেই তুমি বিবাহ করবে না ?” সে বললে, “না, কোনো পারকেই না।” যদিচ মনস্তত্ত্বের চেয়ে বস্তুতত্ত্বেই আমার অভিজ্ঞতা বেশি-বিশেষত নারীচিত্ত আমার কাছে বাংলা বানানের চেয়ে কঠিন, তব কথাটার সাদা অর্থ আমার কাছে সত্য অথ বলে মনে হল না। আমি বললাম, “যে পাত্র আমি তোমার জন্যে বেছোঁচ সে অবজ্ঞা করবার যোগ্য নয়।” - দীপালি বললে, “আমি তাঁকে অবজ্ঞা করি নে, কিন্তু আমি বিবাহ করব না।” আমি বললাম, “সে লোকটিও তোমাকে মনের সঙ্গে শ্রদ্ধা করে।” “কিন্তু না, আমাকে বিবাহ করতে বলবেন না।” “আচ্ছা, বলব না, কিন্তু আমি কি তোমাদের কোনো কাজে লাগতে পারি নে।" “আমাকে যদি কোনো মেয়ে-ইস্কুলে পড়বার কাজ জটিয়ে দিয়ে এখান থেকে কলকাতায় নিয়ে যান তা হলে ভারি উপকার হয়।” পার ও পারী * १९० বললাম, “কাজ আছে, জটিয়ে দিতে পারব।” 熔 এটা সম্পণে সত্য কথা নয়। মেয়ে-ইস্কুলের খবর আমি কী জানি। কিন্তু, মেয়ে-ইস্কুল পথাপন করতে তো দোষ নেই। দীপালি বললে, “আপনি আমাদের বাড়ি গিয়ে একবার মায়ের সঙ্গে এ কথার আলোচনা করে দেখবেন ?" আমি বললাম, “আমি কাল সকালেই যাব।” দীপালি চলে গেল। কাগজ-পড়া আমার বন্ধ হল। ছাতের উপর বেরিয়ে এসে চেকিতে বসলাম। তারাগুলোকে জিজ্ঞাসা করলাম, কোটি কোটি যোজন দরে থেকে তোমরা কি সত্যই মানষের জীবনের সমস্ত কমসত্র ও সম্বন্ধসত্র নিঃশব্দে বসে বসে বনছ।" এমন সময়ে কোনো খবর না দিয়ে হঠাৎ বিশ্বপতির মেজো ছেলে শ্রীপতি ছাতে এসে উপসিথত। তার সঙ্গে যে আলোচনাটা হল, তার মম" এই— শ্রীপতি দীপালিকে বিবাহ করবার আগ্রহে সমাজ ত্যাগ করতে প্রস্তুত। বাপ বলেন, এমন দকার্য করলে তিনি তাকে ত্যাগ করবেন। দীপালি বলে, তার জন্যে এত বড়ো দুঃখ অপমান ও ত্যাগ স্বীকার কেউ করবে এমন যোগ্যতা তার নেই। তা ছাড়া শ্ৰীপতি শিশুকাল থেকে ধনীগহে লালিত; দীপালির মতে, সে সমাজচ্যুত এবং নিরাশ্রয় হয়ে দারিদ্র্যের কন্ট সহ্য করতে পারবে না। এই নিয়ে তক চলছে, কিছতে তার মীমাংসা হচ্ছে না। ঠিক এই সংকটের সময় আমি মাঝখানে পড়ে এদের মধ্যে আর-একটা পাত্রকে খাড়া করে সমস্যার জটিলতা অত্যন্ত বাড়িয়ে তুলেছি। এইজন্যে শ্রীপতি আমাকে এই নাটকের থেকে প্রফেশিটের কাটা অংশের মতো বেরিয়ে যেতে বলছে । আমি বললাম, “যখন এসে পড়েছি তখন বেরোচ্ছি নে। আর, যদি বেরোই তা হলে গ্রন্থি কেটে তবে বেরিয়ে পড়ব।" বিবাহের দিনপরিবতন হল না। কেবলমাত্র পাত্রপরিবর্তন হল। বিশ্বপতির অননয় রক্ষা করেছি, কিন্তু তাতে তিনি সন্তুষ্ট হন নি। দীপালির অননেয় রক্ষা করি নি, কিন্তু ভাবে বোধ হল সে সন্তুষ্ট হয়েছে। ইস্কুলে কাজ খালি ছিল কি না জানি নে কিন্তু আমার ঘরে কন্যার স্থান শান্য ছিল, সেটা পণ হল। আমার মতো বাজে লোক যে নিরর্থক নয়, আমার অথাই সেটা শ্রীপতির কাছে প্রমাণ করে দিলে । তার গহদীপ আমার কলকাতার বাড়িতেই জবলল। ভেবেছিলাম, সময়মত বিবাহ না সেরে রাখার মলতবি অসময়ে বিবাহ করে পরণ করতে হবে, কিন্তু দেখলাম উপরওয়ালা প্রসন্ন হলে দটো-একটা ক্লাস ডিঙিয়েও প্রোমোশন পাওয়া যায়। আজ পঞ্চান্ন বছর বয়সে আমার ঘর নাৎনিতে ভরে গেছে, উপরন্তু একটি নাতিও জটেছে। কিন্তু বিশ্বপতিবাবর সঙ্গে আমার কারবার বন্ধ হয়ে গেছে—কারণ, তিনি পারটিকে পছন্দ করেন নি। পৌষ ১৩২৪