প্রধান মেনু খুলুন


গল্পগুচ্ছ も。 ভাইফোঁটা শ্রাবণ মাসটা আজ যেন এক রাত্রে একেবারে দেউলে হইয়া গেছে। সমস্ত আকাশে কোথাও একটা ছোড়া মেঘের টকেরাও নাই। আশচষ* এই যে, আমার সকালটা আজ এমন করিয়া কাটিতেছে । আমার বাগানের মেহেদি-বেড়ার প্রান্তে শিরীষগাছের পাতাগলা ঝলমল করিয়া উঠিতেছে, আমি তাহা তাকাইয়া দেখিতেছি। সবনাশের যে মাঝ-দরিয়ায় আসিয়া পেছিয়াছি এটা যখন দরে ছিল তখন ইহার কথা কল্পনা করিয়া কত শীতের রাত্রে সবাঙ্গে ঘাম দিয়াছে, কত গ্রীমের দিনে হাত-পায়ের তেলো ঠান্ডা হিম হইয়া গেছে। কিন্তু, আজ সমস্ত ভয়ভাবনা হইতে এমনি ছয়টি পাইয়াছি যে, ঐ-যে আতাগাছের ডালে একটা গিরগিটি স্থির হইয়া শিকার লক্ষ্য করিতেছে সেটার দিকেও আমার চোখ রহিয়াছে। সবসব খোয়াইয়া পথে দাঁড়াইব, এটা তত কঠিন না—কিন্তু, আমাদের বংশে যে সততার খ্যাতি আজ তিন-পরিষ চলিয়া আসিয়াছে সেটা আমারই জীবনের উপর আছাড় খাইয়া চুরমার হইতে চলিল সেই লক্ষজাতেই আমার দিনরাত্রি অবস্তি ছিল না। এমন-কি আত্মহত্যার কথাও অনেকবার ভাবিয়াছি। কিন্তু, আজ যখন আর পদা রহিল না, খাতাপত্রের গৃহাগহবর হইতে অখ্যাতিগুলো কালো ক্লিমির মতো কিলবিল একটা মস্ত বোঝা নামিয়া গেল। পিতৃপরিষের সনামটাকে টানিয়া বেড়াইবার দায় হইতে রক্ষা পাইলাম। সবাই জানিল, আমি জয়াচোর। বাঁচা গেল। উকিলে উকিলে ছোড়াছড়ি করিয়া সকল কথাই বাহির করিবে, কেবল সকলের চেয়ে বড়ো কলঙ্কের কথাটা আদালতে প্রকাশ হইবার সম্পভাবনা নাই—কারণ, স্বয়ং ধম ছাড়া তার আর-কোনো ফরিয়াদি অবশিষ্ট নাই ! এইজন্য সেইটে প্রকাশ করিয়া দিব বলিয়াই আজ কলম ধরিলাম। আমার পিতামহ উথব দত্ত তাঁর প্রভুবংশকে বিপদের দিনে নিজের সম্পত্তি দিয়া রক্ষা করিয়াছেন। সেই হইতে আমাদের দারিদ্র্যই অন্য লোকের ধনের চেয়ে মাথা উচু করিয়াছে। আমার পিতা সনাতন দত্ত ডিরোজিয়োর ছাত্র। মদের সম্বন্ধে তাঁর যেমন, অদ্ভুত নেশা ছিল সত্যের সম্বন্ধে ততোধিক। মা আমাদের একদিন নাপিত-ভায়ার গল্প বলিয়াছিলেন শনিয়া পরদিন হইতে সন্ধ্যার পর আমাদের বাড়ির ভিতরে যাওয়া তিনি একেবারে বন্ধ করিয়া দিলেন। বাহিরে পড়িবার ঘরে শইতাম। সেখানে দেয়াল জড়িয়া ম্যাপগলা সত্য কথা বলিত, তেপাতের মাঠের খবর দিত না, এবং সাত সমদ্র তেরো নদীর গল্পটাকে ফাঁসিকাঠে ঝালাইয়া রাখিত। সততা সম্বন্ধেও তাঁর শাঁচিবায় প্রবল ছিল। আমাদের জবাবদিহির অন্ত ছিল না। একদিন একজন হকার দাদাকে কিছু জিনিস বেচিয়াছিল। তারই কোনো-একটা মোড়কের একখানা দড়ি লইয়া খেলা করিতেছিলাম। বাবার হরকুমে সেই দড়ি হকারকে ফিরাইয়া দিবার জন্য রাস্তায় আমাকে ছয়টিতে হইয়াছিল। ’ - আমরা সাধতার জেলখানায় সততার লোহার বেড়ি পরিয়া মানবে। মানব やリミ r r * * * গল্পগুচ্ছ বলিলে একটা বেশি বলা হয়—আমরা ছাড়া আর সকলেই মানুষ, কেবল আমরা মানষের দৃষ্টান্তস্থল। আমাদের খেলা ছিল কঠিন, ঠাট্টা বন্ধ, গল্প নীরস, বাক্য ‘স্বপে, হাসি সংযত, ব্যবহার নিখত। ইহাতে বাল্যলীলায় মস্ত যে-একটা ফাঁক পড়িয়াছিল লোকের প্রশংসায় সেটা ভতি হইত। আমাদের মাস্টার হইতে মনদি পৰ্যন্ত সকলেই স্বীকার করিত, দত্তবাড়ির ছেলেরা সত্যযুগ হইতে হঠাৎ পথ ভুলিয়া আসিয়াছে। পাথর দিয়া নিরেট করিয়া বাঁধানো রাস্তাতেও একটু ফাঁক পাইলেই প্রকৃতি তার মধ্য হইতে আপনার প্রাণশক্তির সবুজ জয়পতাকা তুলিয়া বসে। আমার নবীন জীবনে সকল তিথিই একাদশী হইয়া উঠিয়াছিল, কিন্তু উহারই মধ্যে উপবাসের একটা কোন ফাঁকে আমি একটুখানি সন্ধার স্বাদ পাইয়াছিলাম। যে কয়জনের ঘরে আমাদের যাওয়া-আসার বাধা ছিল না তার মধ্যে একজন ছিলেন অখিলবাব। তিনি ব্রাহ্মসমাজের লোক; বাবা তাঁকে বিশ্ববাস করিতেন। তাঁর মেয়ে ছিল অনসয়া, আমার চেয়ে ছয় বছরের ছোটো। আমি তার শাসনকতার পদ লইয়াছিলাম। তার শিশমখের সেই ঘন কালো চোখের পল্লব আমার মনে পড়ে। সেই পল্লবের ছায়াতে এই পৃথিবীর আলোর সমস্ত প্রখরতা তার চোখে যেন কোমল হইয়া আসিয়াছিল। কী নিগধ করিয়াই সে মুখের দিকে চাহিত। পিঠের উপরে দলিতেছে তার সেই বেণীটি সেও আমার মনে পড়ে; আর মনে পড়ে সেই দুইখানি হাত— কেন জানি না, তার মধ্যে বড়ো একটি কর্ণা ছিল। সে যেন পথে চলিতে আর-কারও হাত ধরিতে চায়; তার সেই কাঁচ আঙুলগুলি যেন সম্পণে বিশ্বাস করিয়া কার মঠোর মধ্যে ধরা দিবার জন্য পথ চাহিয়া আছে। ঠিক সেদিন এমন করিয়া তাকে দেখিতে পাইয়াছিলাম এ কথা বলিলে বেশি বলা হইবে। কিন্তু, আমরা সম্পণে বুঝিবার আগেও অনেকটা বুঝি। অগোচরে মনের মধ্যে অনেক ছবি অাঁকা হইয়া যায়— হঠাৎ একদিন কোনো-এক দিক হইতে আলো পড়িলে সেগলা চোখে পড়ে। অনরে মনের দরজায় কড়া পাহারা ছিল না। সে যা-তা বিশ্বাস করিত। একে তো সে তার বড়ি দাসীর কাছ হইতে বিশ্বতত্ত্ব সম্বন্ধে যে-সমস্ত শিক্ষা লাভ করিয়াছিল তা আমার সেই ম্যাপ-টাঙানো পড়িবার ঘরের জ্ঞানভাণ্ডারের আবর্জনার মধ্যেও ঠাই পাইবার যোগ্য নয় ; তার পরে সে আবার নিজের কল্পনার যোগেও কত কী যে সন্টি করিত তার ঠিকানা নাই। এইখানে কেবলই তাকে আমার শাসন করিতে হইত। কেবলই বলিতে হইত, “অনন, এ-সমস্ত মিথ্যা কথা, তা জান! ইহাতে পাপ হয়।” শুনিয়া অনরে দই চোখে কালো পল্লবের ছায়ার উপর আবার একটা ভয়ের ছায়া পড়িত। অন্য যখন তার ছোটাে বোনের কান্না থামাইবার জন্য কত কী বাজে কথা বলিত—তাকে ভুলাইয়া দুধ খাওয়াইবার সময় যেখানে পাখি নাই সেখানেও পাখি আছে বলিয়া উচ্চৈঃস্বরে উড়ো খবর দিবার চেষ্টা করিত, আমি তাকে ভয়ংকর গম্ভীর হইয়া সাবধান করিয়া দিয়াছি; বলিয়াছি, “উহাকে যে মিথ্যা বলিতেছ পরমেশবর সমস্ত শুনিতেছেন, এখনই তাঁর কাছে তোমার মাপ চাওয়া উচিত।” এমনি করিয়া আমি তাকে যত শাসন করিয়াছি সে আমার শাসন মানিয়াছে। মে ভাইফোঁটা ఆve নিজেকে যতই অপরাধী মনে করিত আমি ততই খুশি হইতাম। কড়া শাসনে মানুষের ভালো করিবার সযোগ পাইলে, নিজে ষে অনেক শাসনে ভালো হইয়াছি সেটার একটা দাম ফিরিয়া পাওয়া যায়। অন্যও আমাকে নিজের এবং পথিবীর অধিকাংশের তুলনায় অদ্ভুত ভালো বলিয়া জানিত। ক্ৰমে বয়স বাড়িয়াছে, ইস্কুল হইতে কলেজে গিয়াছি। অখিলবাবরে মীর মনে মনে ইচ্ছা ছিল, আমার মতো ভালো ছেলের সঙ্গে অনরে বিবাহ দেন। আমারও মনে এটা ছিল, কোনো কন্যার পিতার চোখ এড়াইবার মতো ছেলে আমি নই। কিন্তু একদিন শুনিলাম বি. এল. পাস-করা একটি টাটকা মনসেফের সঙ্গে অনার সম্মবন্ধ পাকা হইয়াছে। আমরা গরিব— আমি তো জানিতাম, সেটাতেই আমাদের দাম বাড়িয়াছে। কিন্তু, কন্যার পিতার হিসাবের প্রণালী স্বতন্ত্র। বিসজনের প্রতিমা ডুবিল। একেবারে জীবনের কোন আড়ালে সে পড়িয়া গেল। শিশুকাল হইতে যে আমার সকলের চেয়ে পরিচিত সে এক দিনের মধ্যেই এই হাজার-লক্ষ অপরিচিত মানুষের সমুদ্রের মধ্যে তলাইয়া গেল। সেদিন মনে যে কী বাজিল তাহা মনই জানে। কিন্তু, বিসজনের পরেও কি চিনিয়াছিলাম সে আমার দেবীর প্রতিমা ? তা নয় । অভিমান সেদিন ঘা খাইয়া আরও ঢেউ খেলাইয়া উঠিয়াছিল। অন্যকে তো চিরকাল ছোটো করিয়াই দেখিয়া আসিয়াছি; সেদিন আমার যোগ্যতার তুলনায় তাকে আরও ছোটো করিয়া দেখিলাম। আমার শ্রেষ্ঠতার যে পজা হইল না, সেদিন এইটেই সংসারে সকলের চেয়ে বড়ো অকল্যাণ বলিয়া জানিয়াছি। যাক, এটা বোঝা গেল, সংসারে শধ্যে সৎ হইয়া কোনো লাভ নাই। পণ করিলাম এমন টাকা করিব যে একদিন অখিলবাবকে বলিতে হইবে, বড়ো ঠকান ঠকিয়াছি।’ খবে কষিয়া কাজের লোক হইবার জোগাড় করিলাম। কাজের লোক হইবার সব চেয়ে বড়ো সরঞ্জাম নিজের পরে অগাধ বিশ্বাস: সে পক্ষে আমার কোনোদিন কোনো কমতি ছিল না। এ জিনিসটা ছোঁয়াকে । যে নিজেকে বিশ্বাস করে অধিকাংশ লোকেই তাকে বিশ্বাস করে। কেজো বন্ধিটা ষে আমার স্বাভাবিক এবং অসাধারণ সেটা সকলেই মানিয়া লইতে লাগিল ; . কেজো সাহিত্যের বই এবং কাগজে আমার শেলফ এবং টেবিল ভরিয়া উঠিল । বাড়ি-মেরামত, ইলেকট্রিক আলো ও পাখার কৌশল, কোন জিনিসের কত দর, বাজারদর ওঠাপড়ার গঢ়তত্ত্ব, একসচেঞ্জের রহস্য, প্ল্যান, এস্টিমেট প্রভৃতি বিদ্যায়। আসর জমাইবার মতো ওস্তাদি আমি একরকম মারিয়া লইয়াছিলাম । কিন্তু, অহরহ কাজের কথা বলি অথচ কিছতে কোনো কাজেই নামি না, এমনভাবে অনেক দিন কাটিল। আমার ভক্তরা যখনই আমাকে কোনো-একটা স্বদেশী কোম্পানিতে যোগ দিবার প্রস্তাব করিত আমি বৰাইয়া দিতাম, যতগলা কারবার চলিতেছে কোনোটার কাজের ধারা বিশন্ধে নহে, সকলেরই মধ্যে গলদ বিস্তর—তা ছাড়া, সততা বাঁচাইয়া চলিতে হইলে ওদের কাছে ঘোষিবার জো নাই । সততার লাগামে একট-আধট ঢ়িল না দিলে ব্যবসা চলে না, এমন কথা আমার কোনো বন্ধ বলাতে তার সঙ্গে আমার ছাড়াছাড়ি হইয়া গেছে। মৃত্যুকাল পর্যন্ত সবাঙ্গসন্দর প্রল্যান এস্টিমেট এবং প্রপেক্টস লিখিয়া আমার বশ অক্ষয় রাখিতে পারিতাম। কিন্তু, বিধির বিপাকে পল্যান করা ছাড়িয়া কাজ もげ8 • গল্পগুচ্ছ করায় লাগিলাম। এক তো পিতার মৃত্যু হওয়াতে আমার ঘাড়েই সংসারের দায় চাপিল; তার পরে আর-এক উপসৰ্গ আসিয়া জটিল, সে কথাও বলিতেছি। প্রসন্ন বলিয়া একটি ছেলে আমার সঙ্গে পড়িত। সে যেমন মখের তেমনি নিন্দক । আমাদের পৈতৃক সততার খ্যাতিটাকে লইয়া খোঁচা দিবার সে ভারি সংযোগ পাইয়াছিল। বাবা আমার নাম দিয়াছিলেন সত্যধন। প্রসন্ন আমাদের দারিদ্র্য লক্ষ্য করিয়া বলিত, “বাবা দিবার বেলা দিলেন মিথ্যাধন, আর নামের বেলা দিলেন সত্যধন, তার চেয়ে ধনটাকে সত্য দিয়া নামটাকে মিথ্যা দিলে লোকসান হইত না।" প্রসন্নর মুখটাকে বড়ো ভয় করিতাম । অনেক দিন তার দেখাই ছিল না। ইতিমধ্যে সে বমর্ণয় লুধিয়ানায় শ্রীরঙ্গপত্তনে নানা রকম-বেরকমের কাজ করিয়া আসিয়াছে। সে হঠাৎ কলিকাতায় আসিয়া আমাকে পাইয়া বসিল। যার ঠাট্রাকে চিরদিন ভয় করিয়া আসিয়াছি তার শ্রদ্ধা পাওয়া কি কম আরাম । প্রসন্ন কহিল, “ভাই, আমার এই কথা রইল, দেখে নিয়ো, একদিন তুমি যদি দ্বিতীয় মতি শীল বা দগাচরণ লা না হও তবে আমি বউবাজারের মোড় হইতে বাগবাজারের মোড় পর্যন্ত বরাবর সমানে নাকে খত দিতে রাজি আছি।” প্রসন্নর মুখে এত বড়ো কথাটা যে কতই বড়ো তাহ প্রসন্নর সঙ্গে যারা এক ক্লাসে না পড়িয়াছে তারা বুঝিতেই পরিবে না। তার উপরে প্রসন্ন পথিবীটাকে খুব করিয়া চিনিয়া আসিয়াছে; উহার কথার দাম আছে । সে বলিল, “কাজ বোঝে এমন লোক আমি ঢের দেখিয়াছি দাদা— কিন্তু তারাই সব চেয়ে পড়ে বিপদে। তারা বধির জোরেই কিসিত মাত করিতে চায়, ভুলিয়া যায় যে মাথার উপরে ধম আছেন— কিন্তু তোমাতে যে মণিকাঞ্চনযোগ। ধর্মকেও শম্ভ করিয়া ধরিয়াছ, আবার কমের বধিতেও তুমি পাকা ।” তখন ব্যাবসা-খাপা কালটাও পড়িয়াছিল। সকলেই সিথর করিয়াছিল, বাণিজ্য ছাড়া দেশের মুক্তি নাই; এবং ইহাও নিশ্চিত কঝিয়ছিল যে, কেবলমাত্র মুলধনটার জোগাড় হইলেই উকিল মোক্তার ডাক্তার শিক্ষক ছাত্র এবং ছাত্রদের বাপ-দাদা সকলেই এক দিনেই সকলপ্রকার ব্যাবসা পরোদমে চালাইতে পারে। আমি প্রসন্নকে বলিলাম, “আমার সম্প্রবল নাই যে ।” সে বলিল, “বিলক্ষণ! তোমার পৈতৃক সম্পত্তির অভাব কাঁ।" তখন হঠাৎ মনে হইল, প্রসন্ন তবে বুঝি এত দিন ধবিয়া আমার সঙ্গে একটা লম্বা ঠাট্টা করিয়া আসিতেছে। প্রসন্ন কহিল, "ঠাট নয় দাদা। সততাই তো লক্ষীর সোনার পদ্ম। লোকের বিশ্বাসের উপরই কারবার চলে, টাকায় নয় ।” পিতার আমল হইতেই আমাদের বাড়িতে পাড়ার কোনো কোনো বিধবা মেয়ে টাকা গচ্ছিত রাখিত। তারা সদের আশা করিত না : কেবল এই বলিয়া নিশিচন্ত ছিল যে, মেয়েমানুষের সবারই ঠকিলার আশঙ্কা আছে, কেবল আমাদের ঘরেই নাই। সেই গচ্ছিত টাকা লইয়া স্বদেশী এজেসি খলিলাম। কাপড় কাগজ কালী বোতাম সাবান যতই আনাই বিক্তি হইয়া যায়-একেবারে পঙ্গপালের মতো খরিদার ভাইফোঁটা も bfé。 আসিতে লাগিল। একটা কথা আছে—বিদ্যা যতই বাড়ে ততই জানা যায় যে, কিছুই জানি না। টাকারও সেই দশা। টাকা যতই বাড়ে ততই মনে হয়, টাকা নাই বলিলেই হয়। আমার মনের সেইরকম অবস্থায় প্রসন্ন বলিল—ঠিক যে বলিল তাহা নয়, আমাকে দিয়া বলাইয়া লইল যে, খচরা-দোকানদারির কাজে জীবন দেওয়াটা জীবনের বাজে খরচ । পথিবী জড়িয়া যে-সব ব্যাবসা সেই তো ব্যাবসা। দেশের ভিতরেই ষে টাকা খাটে সে টাকা ঘানির বলদের মতো অগ্রসর হয় না, কেবল ঘুরিয়া মরে। প্রসন্ন এমনি ভক্তিতে গদগদ হইয়া উঠিল যেন এমন নতন অথচ গভীর জ্ঞানের কথা সে জীবনে আর কখনো শোনে নাই। তার পরে আমি তাকে ভারতবষে* তিসির ব্যাবসার সাত বছরের হিসাব দেখাইলাম। কোথায় তিসি কত পরিমাণে যায় ; কোথায় কত দর; দর সব চেয়ে উঠেই বা কত, নামেই বা কত ; মাঠে ইহার দম কত, জাহাজের ঘাটে ইহার দাম কত ; চাষাদের ঘর হইতে কিনিয়া একদম সমন্দ্রেপারে চালান করিতে পারিলে এক লম্বেফ কত লাভ হওয়া উচিত— কোথাও বা তাহা রেখা কাটিয়া, কোথাও বা তাহা শতকরা হিসাবের অঙ্কে ছকিয়া, কোথাও বা অনন্লোম-প্রণালীতে, কোথাও বা প্রতিলোম-প্রণালীতে, লাল এবং কালো কালীতে, অতি পরিকার অক্ষরে লম্বা কাগজের পাঁচ-সাত পাঠা ভতি করিয়া যখন প্রসন্নর হাতে দিলাম তখন সে আমার পায়ের ধলো লইতে যায় আর-কি। সে বলিল, “মনে বিশ্বাস ছিল, আমি এ-সব কিছু কিছ বুঝি ; কিন্তু আজ হইতে দাদা, তোমার সাকরেদ হইলাম।” আবার একট প্রতিবাদও করিল। বলিল, “যো ধ্রুবাণি পরিত্যজ্য—মনে আছে তো ? কী জানি, হিসাবে ভুল থাকিতেও পারে।” আমার রোখ চড়িয়া গেল। ভুল যে নাই কাগজে কাগজে তাহার অকাট্য প্রমাণ বাড়িয়া চলিল। লোকসান যত প্রকারের হইতে পারে সমস্তকে সার বধিয়া খাড়া করিয়াও, মনফাকে কোনোমতেই শতকরা বিশ-পাঁচিশের নীচে নামাইতে পারা গেল না ! এমনি করিয়া দোকানদারির সর খাল বাহিয়া কারবারের সমদ্রে গিয়া যখন পড়া গেল তখন যেন সেটা নিতান্ত আমারই জেদ-বশত ঘটিল, এমনি একটা ভাব দেখা দিল। দায়িত্ব আমারই। - একে দত্তবংশের সততা, তার উপরে সদের লোভ; গচ্ছিত টাকা ফাঁপিয়া উঠিল। মেয়েরা গহনা বেচিয়া টাকা দিতে লাগিল । কাজে প্রবেশ করিয়া আর দিশা পাই না। ল্যানে যেগুলো দিব্য লাল এবং কালো কালীর রেখায় ভাগ করা, কাজের মধ্যে সে বিভাগ খুজিয়া পাওয়া দায়। আমার পল্যানের রসভঙ্গ হয়, তাই কাজে সাখ পাই না। অন্তরাত্মা পাট বঝিতে লাগিল, কাজ করিবার ক্ষমতা আমার নাই; অথচ সেটা কবল করিবার ক্ষমতাও আমার নাই। কাজটা স্বভাবত প্রসন্নর হাতেই পড়িল, অথচ আমিই যে কারবারের হতীকতা বিধাতা এ ছাড়া প্রসন্নর মুখে আর কথাই নাই। তার মতলব এবং আমার স্বাক্ষর, তার দক্ষতা এবং আমার পৈতৃক খ্যাতি, এই দইয়ে মিলিয়া ব্যাবসাটা চার পা তুলিয়া যে কোন পথে ছটিতেছে ঠাহর করিতেই পারিলাম না। ・もげも গল্পগুচ্ছ দেখিতে দেখিতে এমন জায়গায় আসিয়া পড়িলাম যেখানে তলও পাই না, কলও দেখি না। তখন হাল ছাড়িয়া দিয়া যদি সত্য খবরটা ফাঁস করি তবে সততা রক্ষা হয়, কিন্তু সততার খ্যাতি রক্ষা হয় না। গচ্ছিত টাকার সদ জোগাইতে লাগিলাম, কিন্তু সেটা মনফা হইতে নয়। কাজেই সদের হার বাড়াইয়া গচ্ছিতের পরিমাণ বাড়াইতে থাকিলাম। আমার বিবাহ অনেকদিন হইয়াছে। আমি জানিতাম, ঘরকন্না ছাড়া আমার সন্ত্রীর আর কোনো-কিছুতেই খেয়াল নাই। হঠাৎ দেখি, অগস্ত্যের মতো এক গণ্ডষে টাকার সমদ্র শষিয়া লইবার লোভ তারও আছে। আমি জানি না, কখন আমারই মনের মধ্য হইতে এই হাওয়াটা আমাদের সমস্ত পরিবারে বহিতে আরম্ভ করিয়াছে। সত্ৰীও আমাকে ধরিয়া পড়িল, সে কিছু কিছু গহনা বেচিয়া আমার কারবারে টাকা খাটাইবে। আমি ভৎসনা করিলাম, উপদেশ দিলাম। বলিলাম, লোভের মতো রিপন .নাই – সত্রীর টাকা লই নাই। আরও একজনের টাকা আমি লইতে পারি নাই । অন্য একটি ছেলে লইয়া বিধবা হইয়াছে। যেমন কৃপণ তেমনি ধনী বলিয়া তার স্বামীর খ্যাতি ছিল । কেহ বলিত, দেড় লক্ষ টাকা তার জমা আছে; কেহ বলিত আরও অনেক বেশি। লোকে বলিত, কৃপণতায় অন্য তার স্বামীর সহধর্মিণী। আমি ভাবিতাম, তা হবেই তো। অন্য তো তেমন শিক্ষা এবং সঙ্গ পায় নাই।’ এই টাকা কিছু খাটাইয়া দিবার জন্য সে আমাকে অনুরোধ করিয়া পাঠাইয়াছিল। লোভ হইল, দরকারও খুব ছিল, কিন্তু ভয়ে তার সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করিতে গেলাম না ! একবার যখন একটা বড়ো হাণ্ডির মেয়াদ আসন্ন এমন সময়ে প্রসন্ন আসিয়া বলিল, “অখিলবাবরে মেয়ের টাকাটা এবার না লইলে নয়।” আমি বলিলাম, “যে রকম দশা সি’ধ কাটাও আমার বারা সম্ভব, কিন্তু ও টাকাটা লইতে পারিব না।" চলিতেছে। কপাল ঠুকিয়া লাগিলেই কপালের জোরও বাড়ে।" কিছুতেই রাজি হইলাম না। পরদিন প্রসন্ন আসিয়া কহিল, “দক্ষিণ হইতে এক বিখ্যাত মারাঠি গণৎকার আসিয়াছে, তাহার কাছে কুঠি লইয়া চলো।” সনাতন দত্তর বংশে কুষ্ঠি মিলাইয়া ভাগ্যপরীক্ষা! দুবলতার দিনে মানবপ্রকৃতির ভিতরকার সাবেক-কেলে ববরটা বল পাইয়া উঠে। যাহা দটি তাহা যখন ভয়ংকর তখন যাহা অদষ্ট তাহাকে বকে চাপিয়া ধরিতে ইচ্ছা করে। বৃদ্ধিকে বিশ্বাস করিয়া কোনো আরাম পাইতেছিলাম না, তাই নিবন্ধিতার শরণ লইলাম; জন্মক্ষণ ও সন-তারিখ লইয়া গনাইতে গেলাম । শুনিলাম, আমি সবনাশের শেষ কিনারায় আসিয়া দাঁড়াইয়াছি। কিন্তু, এইবার বহম্পতি অনুকল—এখন তিনি আমাকে কোনো-একটি স্মীলোকের ধনের সাহায্যে উদ্ধার করিয়া অতুল ঐশ্বয মিলাইয়া দিবেন। : ভাইফোঁটা ક૪૧ ইহার মধ্যে প্রসন্নর হাত আছে, এমন সন্দেহ করিতে পারিতাম। কিন্তু, সন্দেহ করিতে কোনোমতেই ইচ্ছা হইল না। বাড়ি ফিরিয়া আসিলে প্রসন্ন আমার হাতে একখানা বই দিয়া বলিল, “খোলো দেখি।” খলিতেই যে পাতা বাহির হইল তাহাতে ইংরাজিতে লেখা, বাণিজ্যে আশ্চর্য সফলতা। সেইদিনই অনকে দেখিতে গেলাম। স্বামীর সঙ্গে মফঃস্বলে ফিরিবার সময় বারবার ম্যালেরিয়া জনরে পড়িয়া অনর এখন এমন দশা যে ডাক্তাররা ভয় করিতেছে, তাকে ক্ষয়রোগে ধরিয়াছে। কোনো ভালো জায়গায় যাইতে বলিলে সে বলে, “আমি তো আজ বাদে কাল মরিবই, কিন্তু আমার সবোধের টাকা আমি নট করিব কেন।”—এমনি করিয়া সে সবোধকে ও সবোধের টাকাটিকে নিজের প্রাণ দিয়া পালন করিতেছে। আমি গিয়া দেখিলাম, অনরে রোগটি তাকে এই পৃথিবী হইতে তফাত করিয়া দিয়াছে। আমি যেন তাকে অনেক দর হইতে দেখিতেছি। তার দেহখানি একেবারে স্বচ্ছ হইয়া ভিতর হইতে একটি আভা বাহির হইতেছে। যা-কিছু পথল সমস্ত ক্ষয় করিয়া তার প্রাণটি মৃত্যুর বাহির-দরজায় সবগের আলোতে আসিয়া দাঁড়াইয়াছে। আর, সেই তার করণ দটি চোখের ঘন পল্লব ! চোখের নীচে কালী পড়িয়া মনে হইতেছে, যেন তার দটির উপরে জীবনান্তকালের সন্ধ্যার ছায়া নামিয়া আসিয়াছে। আমার সমস্ত মন স্তবধ হইয়া গেল, আজ তাহাকে দেবী বলিয়া মনে হইল। আমাকে দেখিয়া অনর মাখের উপর একটি শান্ত প্রসন্নতা ছড়াইয়া পড়িল। সে বলিল, “কাল রাত্রে আমার অসুখ যখন বাড়িয়াছিল তখন হইতে তোমার কথাই ভাবিতেছি। আমি জানি, আমার আর বেশি দিন নাই। পরশ ভাইফোঁটার দিন, সেদিন আমি তোমাকে শেষ ভাইফোঁটা দিয়া যাইব ।” টাকার কথা কিছুই বলিলাম না। সবোধকে ডাকাইয়া আনিলাম। তার বয়স সাত। চোখদুটি মায়েরই মতো। সমস্তটা জড়াইয়া তার কেমন-একটি ক্ষণিকতার ভাব, পথিবী যেন তাকে পরা পরিমাণ স্তন্য দিতে ভুলিয়া গেছে। কোলে টানিয়া তার কপাল চুম্বন করিলাম। সে চুপ করিয়া আমার মাখের দিকে চাহিয়া রহিল। প্রসন্ন জিজ্ঞাসা করিল, “কী হইল।” আমি বলিলাম, “আজ আর সময় হইল না।” সে কহিল, "মেয়াদের আর নয় দিন মাত্র বাকি।" অনরে সেই মুখখানি, সেই মৃত্যুসরোবরের পদ্মটি, দেখিয়া অবধি সবনাশকে আমার তেমন ভয়ংকর বলিয়া মনে হইতেছিল না । কিছুকাল হইতে হিসাবপত্র দেখা ছাড়িয়া দিয়াছিলাম। কল দেখা যাইত না वलिग्ना छटश द्वघ्नाथ दछिन्ना थाकिठाभ । भब्रिध्ना श्ञा नई कब्रिग्ना माझेऊाभ, बर्शकवाब्र চেন্টা করিতাম না। ভাইফোঁটার সকালবেলায় একখানা হিসাবের চুবক ফদ লইয়া জোর করিয়া প্রসন্ন আমাকে কারবারের বর্তমান অবস্থাটা বুঝাইয়া দিল। দেখিলাম, মলধনের সমস্ত তলা একেবারে ক্ষইয়া গেছে। এখন কেবলই ধারের টাকায় জল সোচিরা না চলিলে নৌকাডুবি হইবে। কৌশলে টাকার কথাটা পাড়িবার উপায় ভাবিতে ভাবিতে ভাইফোঁটার নিমন্স্কণে もbf。 গল্পগুচ্ছ চলিলাম। দিনটা ছিল বহিস্পতিবার। এখন হতবুদ্ধির তাড়ায় বহিস্পতিবারকেও ভয় না করিয়া পারি না। যে মানুষ হতভাগা, নিজের বৃদ্ধি ছাড়া আর-কিছনকেই না মানিতে তার ভরসা হয় না। যাবার বেলায় মনটা বড়ো খারাপ হইল। অনরে জর বাড়িয়াছে। দেখিলাম, সে বিছানায় শইয়া। নীচে মেঝের উপর চুপ করিয়া বসিয়া সবোধ ইংরাজি ছবির কাগজ হইতে ছবি কাটিয়া আটা দিয়া একটা খাতায় অাঁটিতেছিল। বারবেলা বাঁচাইবার জন্য সময়ের অনেক আগে আসিয়াছিলাম। কথা ছিল, আমার সন্ত্রীকেও সঙ্গে আনিব। কিন্তু, অনরে সম্প্রবন্ধে আমার স্ত্রীর মনের কোণে বোধ করি একটখানি ঈষা ছিল, তাই সে আসিবার সময় ছতা করিল, আমিও পীড়াপীড়ি করিলাম না। অন জিজ্ঞাসা করিল, “বউদিদি এলেন না ?” অন্য একটা নিশ্বাস ফেলিল, আর কিছু বলিল না। আমার মধ্যে একদিন যেটুকু মাধ্য দেখা দিয়াছিল সেইটিকে আপনার সোনার আলোয় গলাইয়া শরতের আকাশ সেই রোগীর বিছানার উপর বিছাইয়াছিল। কত কথা আজ উঠিয়া পড়িল । সেই-সব অনেক দিনের অতি ছোটো কথা আমার আসন্ন সবনাশকে ছাড়াইয়া আজ কত বড়ো হইয়া উঠিল। কারবারের হিসাব ভুলিয়া গেলাম। ভাইফোঁটার খাওয়া খাইলাম। আমার কপালে সেই মরণের যাত্রী দীঘর্ণয়কামনার ফোঁটা পরাইয়া আমার পায়ের ধলা লইল। আমি গোপনে চোখ মছিলাম । ঘরে আসিয়া বসিলে সে একটি টিনের বাক্স আমার কাছে আনিয়া রাখিল। বলিল, “সবোধের জন্য এই যা-কিছু এতদিন আগলাইয়া রাখিয়াছি তোমাকে দিলাম, আর সেই সঙ্গে সবোধকেও তোমার হাতে দিলাম। এখন নিশ্চিত হইয়া মরিতে পারিব।” আমি বলিলাম, “অন দোহাই তোমার, টাকা আমি লইব না। সবোধের দেখাশনার কোনো ক্ৰটি হইবে না, কিন্তু টাকা আর-কারও কাছে রাখিয়ো।" অন্য কহিল, “এই টাকা লইবার জন্য কত লোক হাত পাতিয়া বসিয়া আছে। তুমি কি তাদের হাতেই দিতে বল।” আমি চুপ করিয়া রহিলাম। অন্য বলিল, “একদিন আড়াল হইতে শুনিয়াছি, ডাক্তার বলিয়াছে সবোধের যেরকম শরীরের লক্ষণ ওর বেশিদিন বাঁচার আশা নাই । শুনিয়া অবধি ভয়ে ভয়ে আছি, পাছে আমার মরিতে দেরি হয়। আজ অন্তত আশা লইয়া মরিব যে, ডাক্তারের কথা ভুল হইতেও পারে। সাতচল্লিশ হাজার টাকা কোম্পানির কাগজে জমিয়াছে—আরও কিছর এ দিকে ও দিকে আছে। ঐ টাকা হইতে সবোধের পথ্য ও চিকিৎসা ভালো করিয়াই চলিতে পরিবে। আর, যদি ভগবান অলপ বয়সেই উহাকে টানিয়া লন তবে এই টাকা উহার নামে একটা-কোনো ভালো কাজে লাগাইয়ো।” আমি কহিলাম, “অন আমাকে তুমি যত বিশ্বাস কর আমি নিজেকে তত বিশ্ববাস করি না।” শনিয়া অন্য একটমাত্র হাসিল। আমার মুখে এমন কথা মিথ্যা বিনয়ের মতো শোনায় ! ভাইফোঁটী も。 বিদায়কালে অন বাক্স খালিয়া কোম্পানির কাগজ ও কয়েক কেতা নোট বঝোইয়া দিল। তার উইলে দেখিলাম লেখা আছে, অপত্রক ও নাবালক অবস্থায় সবোধের মৃত্যু হইলে আমিই সম্পত্তির উত্তরাধিকারী। আমি বলিলাম, “আমার বাথের সঙ্গে তোমার সম্পত্তি কেন এমন করিয়া জড়াইলে ।” অন কহিল, “আমি যে জানি, আমার ছেলের সবাথে তোমার বাথ কোনোদিন বাধিবে না।” 缘 আমি কহিলাম, “কোনো মানুষকেই এতটা বিশ্ববাস করা কাজের দস্তুর নয় ।” অন কহিল, “আমি তোমাকে জানি, ধমকে জানি, কাজের দস্তুর বুঝিবার আমার শক্তি নাই ।” বাক্সের মধ্যে গহনা ছিল, সেগুলি দেখাইয়া সে বলিল, “সবোধ যদি বাঁচে ও বিবাহ করে, তবে বউমাকে এই গহনা ও আমার আশীবাদ দিয়ো । আর, এই পান্নার কন্ঠীটি বউদিদিকে দিয়া বলিয়ো, আমার মাথার দিব্য, তিনি যেন গ্রহণ করেন।" এই বলিয়া অন যখন ভূমিষ্ঠ হইয়া আমাকে প্রণাম করিল তার দুই চোখ জলে ভরিয়া উঠিল। উঠিয়া দাঁড়াইয়া তাড়াতাড়ি সে মুখ ফিরাইয়া চলিয়া গেল। এই আমি তার শেষ প্রণাম পাইয়াছি। ইহার দই দিন পরেই সন্ধ্যার সময় হঠাৎ নিশ্বাস বন্ধ হইয়া তার মৃত্যু হইল—আমাকে খবর দিবার সময় পাইল না। ভাইফোঁটার নিমন্ত্রণ সারিয়া, টিনের বাক্স হাতে, গাড়ি হইতে বাড়ির দরজায় যেমনি নামিলাম দেখি, প্রসন্ন অপেক্ষা করিয়া আছে। জিজ্ঞাসা করিল, “দাদা, খবর ভালো তো ?” আমি বলিলাম, “এ টাকায় কেহ হাত দিতে পারিবে না।” প্রসন্ন কহিল, “কিন্তু—” আমি বলিলাম, “সে জানি, না-যা হয় তা হোক, এ টাকা আমার ব্যবসায়ে ठनाकाट्द ना ।” প্রসন্ন বলিল, “তবে তোমার অন্ত্যেটিসৎকারে লাগিবে ।” অনরে মৃত্যুর পর সমবোধ আমার বাড়িতে আসিয়া আমার ছেলে নিত্যধনকে সঙ্গী পাইল । যারা গল্পের বই পড়ে মনে করে, মানুষের মনের বড়ো বড়ো পরিবতন ধীরে ধীরে ঘটে। ঠিক উলটা। টিকার আগন ধরিতে সময় লাগে কিন্তু বড়ো বড়ো আগন হহেন করিয়া ধরে। আমি এ কথা যদি বলি ষে, অতি অলপ সময়ের মধ্যে সবোধের উপর আমার মনের একটা বিশ্বের্য দেখিতে দেখিতে বাড়িয়া উঠিল, তবে সবাই তার বিস্তারিত কৈফিয়ত চাহিবে। সবোধ অনাথ, সে বড়ো ক্ষীণপ্রাণ, সে দেখিতেও সন্দের, সকলের উপরে সবোধের মা স্বয়ং অনা-কিন্তু তার কথাবাতা, চলাফেরা, খেলাধুলা, সমস্তই যেন আমাকে দিনরাত খোঁচা দিতে লাগিল। আসল, সময়টা বড়ো খারাপ পড়িয়াছিল। সবোধের টাকা কিছুতেই লইব না BBB DDS DBBB C DDD D DD DD DDDD BBBB BBBBB BBDDD DD বিপদে পড়িয়া কিছু লইলাম। ইহাতে আমার মনের কল এমনি বিশ্নড়াইয়া গেল ఆఫిO গলপথচ্ছে যে, সবোধের কাছে মুখ দেখানো আমার দায় হইল। প্রথমটা উহাকে এড়াইতে থাকিলাম, তার পর উহার উপরে বিষম রাগিতে আরম্ভ করিলাম। রাগিবার প্রথম উপলক্ষ হইল উহার স্বভাব। আমি নিজে ব্যস্তবাগীশ, সব কাজ তড়িঘড়ি করা আমার অভ্যাস। কিন্তু, সবোধের কী এক রকমের ভাব, উহাকে প্রশ্ন করিলে হঠাৎ যেন উত্তর করিতেই পারে না- যেখানে সে আছে সেখানে যেন সে নাই, যেন সে আর কোথাও । রাস্তার ধারের জানলার গরাদে ধরিয়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাইয়া দেয়; কী দেখে, কী ভাবে, তা সেই জানে। আমার এটা অসহ্য বোধ হয়। সবোধ বহুকাল হইতে রাগণ মায়ের কাছে মানুষ, সমবয়সী খেলার সঙ্গী কেউ ছিল না; তাই সে বরাবর আপনার মনকে লইয়াই আপনি খেলা করিয়াছে। এই-সব ছেলের মশকিল এই যে, ইহারা যখন শোক পায় তখন ভালো করিয়া কাঁদিতেও জানে না, শোক ভুলিতেও জানে না। এইজন্যই সবোধকে ডাকিলে হঠাৎ সাড়া পাওয়া যাইত না, এবং কাজ করিতে বলিলে সে ভুলিয়া যাইত। তার জিনিসপত্র সে কেবলই হারাইত, তাহা লইয়া বকিলে চুপ করিয়া মুখের দিকে চাহিয়া থাকিত— যেন সেই চাহিয়া থাকাই তার কান্না । আমি বলিতে লাগিলাম, এর দশটান্ত যে আমার ছেলের পক্ষে বড়ো খারাপ। আবার মশকিল এই যে, ইহাকে দেখিয়া অবধি নিত্যর ইহাকে ভারি ভালো লাগিয়াছে; তার প্রকৃতি সপণ অন্যরকম বলিয়াই ইহার প্রতি টানও যেন তার বেশি হইল। পরের স্বভাব সংশোধন আমার কৌলিক কাজ ; ইহাতে আমার পটতাও যেমন উৎসাহও তেমনি। সবোধের স্বভাবটা কমপট নয় বলিয়াই আমি তাকে খুব কষিয়া কাজ করাইতে লাগিলাম। যতবারই সে ভুল করিত ততবারই নিজেকে দিয়া তার সে ভুল শোধরাইয়া লইতাম । আবার তার আর-এক অভ্যাস, সেটা তার মায়েরও ছিল—সে আপনাকে এবং আপনার চারি দিককে নানারকম করিয়া কল্পনা করিত। জানলার সামনেই যে জামরাল গাছ ছিল সেটাকে সে কী-একটা অদ্ভুত নাম দিয়াছিল; সন্ত্রীর কাছে শনিয়াছি একলা দাঁড়াইয়া সেই গাছটার সঙ্গে সে কথা কহিত। বিছানাটাকে মাঠ, আর বালিশগলাকে গোরর পাল মনে করিয়া শোবার ঘরে বসিয়া রাখালি করাটা যে কত মিথ্যা, ইহা তার নিজের মখে কবল করাইবার অনেক চেষ্টা করিয়াছি—সে জবাবই করে না। আমি যতই তাকে শাসন করি আমার কাছে তার কটি ততই বাড়িয়া চলে। আমাকে দেখিলেই সে থতমত থাইয়া যায়; আমার মাখের সাদা কথাটাও সে বুঝিতে পারে না। - আর কিছ নয়, হাদয় যদি রাগ করিতে শরে করে এবং নিজেকে সামলাইবার মতো বাহির হইতে কোনো ধাক্কা যদি সে না পায় তবে রাগটা আপনাকে আপনিই বাড়াইয়া চলে, নতন কারণের অপেক্ষা রাখে না। যদি এমন মানুষকে দু-চারবার মখ বলি যার জবাব দিবার সাধ্য নাই তবে সেই দু-চারবার বলাটাই পঞ্চম বারকার বলাটাকে সন্টি করে, কোনো উপকরণের দরকার হয় না। সৰোধের উপর কেবলই বিরক্ত হইয়া ওঠা আমার মনের এমনি অভ্যাস হইয়াছিল যে, সেটা ত্যাগ করা জামার भाथाई झिल ना । अर्बान कर्गब्रम्रा नाँझ यहद्र कर्णाष्ट्रेल । नुवारथच्न बङ्गन बषम वाट्ञा उथन छाद्र ভাইফোঁটা 也为> কোম্পানির কাগজ এবং গহনাপত্র গলিয়া গিয়া আমার হিসাবের খাতায় গোটাকতক কালীর অঙ্কে পরিণত হইল। মনকে বঝাইলাম, অন তো উইলে আমাকেই টাকা দিয়াছে। মাঝখানে সবোধ আছে বটে, কিন্তু ও তো ছায়া, নাই বলিলেই হয়। যে টাকাটা নিশ্চয়ই পাইব সেটাকে আগেভাগে খরচ করিলে অধম হয় না। অলপ বয়স হইতেই আমার বাতের ব্যামো ছিল। কিছুদিন হইতে সেইটে অত্যন্ত বাড়িয়া উঠিয়াছে। যারা কাজের লোক তাদের সিথর করিয়া রাখিলে তারা চারি দিকের সমস্ত লোককে অস্থির করিয়া তোলে। সে কয়দিন আমার সী, আমার ছেলে, সবোধ, বাড়ির চাকরবাকর, কারও শান্তি ছিল না। এ দিকে আমার পরিচিত যে কয়জন বিধবা আমার কাছে টাকা রাখিয়াছিল কয়েক মাস তাদের সদ বধ। পবে এমন কখনো ঘটিতে দিই নাই। এইজন্য তারা উদবিগ্ন হইয়া আমাকে তাগিদ করিতেছে। আমি প্রসন্নকে তাগিদ করি, সে কেবলই দিন ফিরায়। অবশেষে যেদিন নিশ্চিত দিবার কথা সেদিন সকাল হইতে পাওনাদাররা বসিয়া আছে, প্রসন্নর দেখা নাই। নিত্যকে বলিলাম, “সবোধকে ডাকিয়া দাও।” সে বলিল, “সবোধ শইয়া আছে।” আমি মহা রাগিয়া বলিলাম, “শ্যইয়া আছে! এখন বেলা এগারোটা, এখন সে শ্যইয়া আছে।” সবোধ ভয়ে ভয়ে আসিয়া উপস্থিত হইল। আমি বলিলাম, “প্রসন্নকে যেখানে পাও ডাকিয়া আনো।” সব দা আমার ফাইফরমাশ খাটিয়া সবোধ এ-সকল কাজে পাকা হইয়াছিল। কাকে কোথায় সন্ধান করিতে হইবে, সমস্তই তার জানা। বেলা একটা হইল, দুটা হইল, তিনটা হইল, সবোধ আর ফেরে না। এ দিকে বারা ধন্না দিয়া বসিয়া আছে তাদের ভাষার তাপ এবং বেগ বাড়িয়া উঠিতে লাগিল । কোনোমতেই সবোধটার গড়িমসি চাল ঘাচাইতে পারিলাম না। যত দিন যাইতেছে ততই তার ঢিলামি আরও যেন বাড়িয়া উঠিতেছে। আজকাল সে বসিতে পারিলে উঠিতে চায় না, নড়িতে-চড়িতে তার সাত দিন লাগে। এক-একদিন দেখি, বিকালে পাঁচটার সময়েও সে বিছানায় গড়াইতেছে; সকালে তাকে বিছানা হইতে জোর করিয়া উঠাইয়া দিতে হয়; চলিবার সময় যেন পায়ে পায়ে জড়াইয়া চলে। আমি সবোধকে বলিতাম, জন্মকুড়ে, কুড়েমির মহামহোপাধ্যায়। সে লজিত হইয়া চুপ করিয়া থাকিত। একদিন তাকে বলিয়াছিলাম, "বল দেখি প্রশান্ত মহাসাগরের পরে কোন মহাসাগর।” যখন সে জবাব দিতে পারিল না আমি বলিলাম, “সে হচ্ছে তুমি, আলস্যমহাসাগর।” পারংপক্ষে সবোধ কোনোদিন আমার কাছে কাঁদে না; কিন্তু সেদিন তার চোখ দিয়া ঝর ঝর করিয়া জল পড়িতে লাগিল। সে মার গালি সব সহিতে পারিত, কিন্তু বিদ্রুপ তার মমে গিয়া বাজিত। ध्वजा प्शण। ब्राज्र श्ट्रेल । घरङ्ग कश् वाउि झिल ना। आश्रि छाकाछाकि कीग्रजाप्र, কেহ সাড়া দিল না। বাড়িসদ্ধ সকলের উপর আমার রাগ হইল। তার পরে হঠাৎ আমার সন্দেহ হইল, হয়তো প্রসন্ন সদের টাকা সবোধের হাতে দিয়াছে, সবোধ *ఏ షా গল্পগুচ্ছ তাই লইয়া পালাইয়াছে। আমার ঘরে সবোধের যে আরাম ছিল না সে আমি জানিতাম । পক্ষে। তাই এ সম্বন্ধে আমার মনে কোনো পরিতাপ ছিল না। কিন্তু, তাই বলিয়া সবোধ যে টাকা লইয়া পলাইয়া যাইতে পারে, ইহা চিন্তা করিয়া আমি তাকে কপট অকৃতজ্ঞ বলিয়া মনে মনে গালি দিতে লাগিলাম। এই বয়সেই চুরি আরম্ভ করিল, ইহার গতি কী হইবে। আমার কাছে থাকিয়া, আমাদের বাড়িতে বাস করিয়াও ইহার এমন শিক্ষা হইল কী করিয়া। সবোধ যে টাকা চুরি করিয়া পালাইয়াছে এ সম্বন্ধে আমার মনে কোনো সন্দেহ রহিল না। ইচ্ছা হইল, পশ্চাতে ছটিয়া তাকে যেখানে পাই ধরিয়া আনি, এবং আপাদমস্তক একবার কষিয়া প্রহার করি। এমন সময় আমার অন্ধকার ঘরে সবোধ আসিয়া প্রবেশ করিল। তখন আমার এমন রাগ হইয়াছে যে চেষটা করিয়াও আমার কন্ঠ দিয়া কথা বাহির হইল না । সবোধ বলিল, “টাকা পাই নাই।” আমি তো সবোধকে টাকা আনিতে বলি নাই, তবে সে কেন বলিল টাকা পাই নাই’। নিশ্চয় টাকা পাইয়া চুরি করিয়াছে—কোথাও লুকাইয়াছে। এই-সমস্ত ভালোমানুষ ছেলেরাই মিটমিটে শয়তান। আমি বহন কটে কন্ঠ পরিকার করিয়া বলিলাম, “টাকা বাহির করিয়া দে!” সেও উদ্ধত হইয়া বলিল, “না, দিব না, তুমি কী করিতে পারো করো।” আমি আর কিছুতেই আপনাকে সামলাইতে পারিলাম না। হাতের কাছে লাঠি ছিল, সজোরে তার মাথা লক্ষ্য করিয়া মারিলাম। সে আছাড় খাইয়া পড়িয়া গেল। তখন আমার ভয় হইল। নাম ধরিয়া ডাকিলাম, সে সাড়া দিল না । কাছে গিয়া যে দেখিব আমার সে শক্তি রহিল না। কোনো মতেই উঠিতে পারিলাম না । হাংড়াইতে গিয়া দেখি, জাজিম ভিজিয়া গেছে। এ যে রক্ত! ক্ৰমে রক্ত ব্যাপ্ত হইতে লাগিল । ক্লমে আমি যেখানে ছিলাম তার চারি দিক রক্তে ভিজিয়া উঠিল। আমার খোলা জানলার বাহির হইতে সন্ধ্যাতারা দেখা যাইতেছিল; আমি তাড়াতাড়ি চোখ ফিরাইয়া লইলাম ; আমার হঠাৎ কেমন মনে হইল, সন্ধ্যাতারাটি ভাইফোঁটার সেই চন্দনের ফোঁটা। সবোধের উপর আমার এতদিনকার যে অন্যায় বিদ্বেষ ছিল সে কোথায় এক মহেতে ছিন্ন হইয়া গেল। সে যে অনর হৃদয়ের ধন; মায়ের কোল হইতে ভ্ৰষ্ট হইয়া সে যে আমার হদয়ে পথ খুজিতে আসিয়াছিল। আমি এ কী করিলাম। এ কী করিলাম। ভগবান, আমাকে এ কী বধি দিলে। আমার টাকার কী দরকার ছিল। আমার সমস্ত কারবার ভাসাইয়া দিয়া সংসারে কেবল এই রাগণ বালকটির কাছে যদি ধম রাখিতাম তাহা হইলে যে আমি রক্ষা পাইতাম । ক্লমে ভয় হইতে লাগিল পাছে কেহ আসিয়া পড়ে, পাছে ধরা পড়ি। প্রাণপণে ইচ্ছা করিতে লাগিলাম, কেহ যেন না আসে, আলো যেন না আনে ; এই অন্ধকার যেন মহেতের জন্য না ঘোচে, যেন কাল সবে না ওঠে, যেন বিশ্বসংসার একেবারে সপণ মিথ্যা হইয়া এমনিতরো নিবিড় কালো হইয়া আমাকে আর এই ছেলেটিকে छिब्रभिन छाकिझा ब्राह्थ । পায়ের শব্দ শুনিলাম। মনে হইল, কেমন করিয়া পলিস খবর পাইয়াছে। কী पैभथा कझिग्नउ मिथ ऊाम्नाऊाफ़ि टनईट छाविग्ना ठाईंटल क्रभंगै कर्गद्रणाब, किन्छू भन ভাইফোঁটা 沙>惨 একেবারেই ভাবিতে পারিল না। ধড়াসা করিয়া দরজাটা পড়িল, ঘরে কে প্রবেশ করিল। আমি আপাদমস্তক চমকিয়া উঠিলাম। দেখিলাম, তখনো রোঁদু আছে। ঘামাইয়া পড়িয়াছিলাম; সবোধ ঘরে ঢুকিতেই আমার ঘমে ভাঙিয়াছে। 2 সবোধ হাটখোলা বড়োবাজার বেলেঘাটা প্রভৃতি যেখানে যেখানে প্রসন্নর দেখা পাইবার সম্ভাবনা ছিল সমস্ত দিন ধরিয়া সব জায়গায় খুজিয়াছে। যে করিয়াই হউক তাহাকে যে আনিতে পারে নাই, এই অপরাধের ভয়ে তার মুখ লান হইয়া গিয়াছিল। এত দিন পরে দেখিলাম, কী সন্দের তার মুখখানি, কী কর্ণায় ভরা তার দুইটি চোখ । আমি বলিলাম, “আয় বাবা সবোধ, আর আমার কোলে আয়!” সে আমার কথা বঝিতেই পারিল না; ভাবিল, আমি বিদ্রপ করিতেছি। ফ্যালক্যাল করিয়া আমার মুখের দিকে তাকাইয়া রহিল এবং খানিক ক্ষণ দাঁড়াইয়া মছিক্তি হইয়া পড়িয়া গেল। মহাতে আমার বাতের পৎগতা কোথায় চলিয়া গেল। আমি ছটিয়া গিয়া কোলে করিয়া তাহাকে বিছানায় আনিয়া ফেলিলাম। কু’জায় জল ছিল, তার মুখে মাথায় ছিটা দিয়া কিছুতেই তার চৈতন্য হইল না। ডাক্তার ডাকিতে পাঠাইলাম । - ডাক্তার আসিয়া তার অবস্থা দেখিয়া বিস্মিত হইলেন । বলিলেন, “এ যে একেবারে ক্লান্তির চরম সীমায় আসিয়াছে। কী করিয়া এমন হওয়া সম্ভব হইল।” আমি বলিলাম, “আজ কোনো কারণে সমস্ত দিন উহাকে পরিশ্রম করিতে হইয়াছে।” তিনি বলিলেন, "এ তো এক দিনের কাজ নয়। বোধ হয় দীঘকাল ধরিয়া ইহার ক্ষয় চলিতেছিল, কেহ লক্ষ্য করে নাই।” উত্তেজক ঔষধ ও পথ্য দিয়া ডাক্তার তার চৈতন্যসাধন করিয়া চলিয়া গেলেন । বলিলেন, “বহা যত্নে যদি দৈবাৎ বাঁচিয়া যায় তো বাঁচবে, কিন্তু ইহার শরীরে প্রাণশক্তি নিঃশেষ হইয়া গেছে । বোধ করি শেষ-কয়েক দিন এ ছেলে কেবলমাত্র মনের জোরে চলাফেরা করিয়াছে।" আমি আমার রোগ ভুলিয়া গেলাম। সবোধকে আমার বিছানায় শোয়াইয়া দিনরাত তার সেবা করিতে লাগিলাম। ডাক্তারের যে ফি দিব এমন টাকা আমার ঘরে নাই। সীর গহনার বাক্স খলিলাম। সেই পান্নার কন্ঠীটি তুলিয়া লইয়া সন্ত্রীকে দিয়া বলিলাম, “এইটি তুমি রাখো।” বাকি সবগুলি লইয়া বন্ধক দিয়া টাকা লইয়া आमिळनाय । কিন্তু, টাকায় তো মানুষ বাঁচে না। উহার প্রাণ যে আমি এতদিন ধরিয়া দলিয়া নিঃশেষ করিয়া দিয়াছি। যে মেহের অন্ন হইতে উহাকে দিনের পর দিন বঞ্চিত করিয়া রাখিয়ছি আজ যখন তাহা হাদয় ভরিয়া তাহাকে আনিয়া দিলাম তখন সে আর তাহা গ্রহণ করিতে পারিল না। শান্য হাতে তার মার কাছে সে ফিরিয়া গেল । ভায় ১৩২১ 86.