৭২

গঙ্গার ধারের বাগানে প্রায়শ্চিত্তসভার আয়ােজন হইতে লাগিল।

 অবিনাশের মনে একটা আক্ষেপ বােধ হইতেছিল যে, কলিকাতার বাইরে অনুষ্ঠানটা ঘটিতেছে, ইহাতে লােকের চক্ষু তেমন করিয়া আকৃষ্ট হইবে না। অবিনাশ জানিত, গোরার নিজের জন্য প্রায়শ্চিত্তের কোনাে প্রয়ােজন নাই, প্রয়ােজন দেশের লােকের জন্য। মরাল এফেক্ট্। এইজন্য ভিড়ের মধ্যেই

এ কাজ দরকার।

 কিন্তু গােরা রাজি হইল না। সে যেরূপ বৃহৎ হােম করিয়া বেদমন্ত্র পড়িয়া এ কাজ করিতে চায়, কলিকাতা শহরের মধ্যে তেমনটা মানায় না। ইহার জন্য তপােবনের প্রয়ােজন। স্বাধ্যায়মুখরিত হােমাগ্নিদীপ্ত নিভৃত গঙ্গাতীরে, যে প্রাচীন ভারতবর্ষ জগতের গুরু তাঁহাকেই গােরা আবাহন করিবে, এবং স্নান করিয়া পবিত্র হইয়া তাঁহার নিকট হইতে সে নবজীবনের দীক্ষা গ্রহণ করিবে। গােরা মরাল এফেক্টের জন্য ব্যস্ত নহে।

 অবিনাশ তখন অনন্যগতি হইয়া খবরের কাগজের আশ্রয় গ্রহণ করিল। সে গােরাকে না জানাইয়াই এই প্রায়শ্চিত্তের সংবাদ সমস্ত খবরের কাগজে রটনা করিয়া দিল। শুধু তাই নহে- সম্পাদকীয় কোঠায় সে বড় বড় প্রবন্ধ লিখিয়া দিল। তাহাতে সে এই কথাই বিশেষ করিয়া জানাইল যে, গােরার মতাে তেজস্বী পবিত্র ব্রাহ্মণকে কোনাে দোষ স্পর্শ করিতে পারে না, তথাপি গোরা বর্তমান পতিত ভারতবর্ষের সমস্ত পাতক নিজের স্কন্ধে লইয়া সমস্ত দেশের হইয়া প্রায়শ্চিত্ত করিতেছে। সে লিখিল, ‘আমাদের দেশ যেমন নিজের দুষ্কৃতির ফলে বিদেশীর বন্দীশালায় আজ দুঃখ পাইতেছে, গােরাও তেমনি নিজের জীবনে সেই বন্দীশালায় বাসদুঃখ স্বীকার করিয়া লইয়াছে। এইরূপে দেশের দুঃখ সে যেমন নিজে বহন করিয়াছে, এমনি করিয়া দেশের অনাচারের প্রায়শ্চিত্তও সে নিজে অনুষ্ঠান করিতে প্রস্তুত হইয়াছে, অতএব ভাই বাঙালি, ভাই ভারতের পঞ্চবিংশতিকোটি দুঃখী সন্তান, তােমরা’-ইত্যাদি ইত্যাদি।

 গােরা এই-সমস্ত লেখা পড়িয়া বিরক্তিতে অস্থির হইয়া পড়িল। কিন্তু অবিনাশকে পারিবার জো নাই। গােরা তাহাকে গালি দিলেও সে গায়ে লয় না, বরঞ্চ খুশি হয়। ‘আমার গুরু অত্যুচ্চ ভাবলােকেই বিহার করেন, এ-সমস্ত পৃথিবীর কথা কিছুই বােঝেন না। তিনি বৈকুণ্ঠবাসী নারদের মতাে বীণা বাজাইয়া বিষ্ণুকে বিগলিত করিয়া গঙ্গার সৃষ্টি করিতেছেন, কিন্তু সেই গঙ্গাকে মর্তে প্রবাহিত করিয়া সগরসন্তানের ভস্মরাশি সঞ্জীবিত করিবার

কাজ পৃথিবীর ভগীরথের— সে স্বর্গের লােকের কর্ম নয়। এই দুই কাজ একেবারে স্বতন্ত্র।’ অতএব অবিনাশের উৎপাতে গােরা যখন আগুন হইয়া উঠে তখন অবিনাশ মনে মনে হাসে, গােরার প্রতি তাহার ভক্তি বাড়িয়া উঠে। সে মনে মনে বলে, ‘আমাদের গুরুর চেহারাও যেমন শিবের মতাে তেমনি ভাবেও তিনি ঠিক ভােলানাথ। কিছুই বােঝেন না, কাণ্ডজ্ঞান মাত্রই নাই, কথায় কথায় রাগিয়া আগুন হন, আবার রাগ জুড়াইতেও বেশিক্ষণ লাগে না।’

 অবিনাশের চেষ্টায় গােরার প্রায়শ্চিত্তের কথাটা লইয়া চারি দিকে ভারী একটা আন্দোলন উঠিয়া পড়িল। গােরাকে তাহার বাড়িতে আসিয়া দেখিবার জন্য, তাহার সঙ্গে আলাপ করিবার জন্য লােকের জনতা আরও বাড়িয়া উঠিল। প্রত্যহ চারি দিক হইতে তাহার এত চিঠি আসিতে লাগিল যে চিঠি পড়া সে বন্ধ করিয়াই দিল। গােরার মনে হইতে লাগিল, এই দেশব্যাপ্ত আলােচনার দ্বারা তাহার প্রায়শ্চিত্তের সাত্ত্বিকতা যেন ক্ষয় হইয়া গেল, ইহা একটা রাজসিক ব্যাপার হইয়া উঠিল। ইহা কালেরই দোষ।

 কৃষ্ণদয়াল আজকাল খবরের কাগজ স্পর্শও করেন না, কিন্তু জনশ্রুতি তাঁহার সাধনাশ্রমের মধ্যেও গিয়া প্রবেশ করিল। তাঁহার উপযুক্ত পুত্র গােরা মহাসমারােহে প্রায়শ্চিত্ত করিতে বসিয়াছে, এবং সে যে তাহার পিতারই পবিত্র পদাঙ্ক অনুসরণ করিয়া এক কালে তাঁহার মতােই সিদ্ধপুরুষ হইয়া দাঁড়াইবে, এই সংবাদ ও এই আশা কৃষ্ণদয়ালের প্রসাদজীবীরা তাঁহার কাছে বিশেষ গৌরবের সহিত ব্যক্ত করিল।

 গােরার ঘরে কৃষ্ণদয়াল কতদিন যে পদার্পণ করেন নাই তাহার ঠিক নাই। তাঁহার পট্টবস্ত্র ছাড়িয়া, সুতার কাপড় পরিয়া, আজ একেবারে তাহার ঘরে গিয়া প্রবেশ করিলেন। সেখানে গােরাকে দেখিতে পাইলেন না।

 চাকরকে জিজ্ঞাসা করিলেন। চাকর জানাইল, গােরা ঠাকুরঘরে আছে।

 অ্যাঁ! ঠাকুরঘুরে তাহার কী প্রয়ােজন!

 তিনি পূজা করেন।

 কৃষ্ণদয়াল শশব্যস্ত হইয়া ঠাকুরঘরে উপস্থিত হইয়া দেখিলেন, সত্যই গােরা পূজায় বসিয়া গেছে।

 কৃষ্ণদয়াল বাহির হইতে ডাকিলেন, “গােরা!”

 গােরা তাহার পিতার আগমনে আশ্চর্য হইয়া উঠিয়া দাঁড়াইল। কৃষ্ণদয়াল তাহার সাধনাশ্রমে বিশেষভাবে নিজের ইষ্টদেবতার প্রতিষ্ঠা করিয়াছেন। ইহাদের পরিবার বৈষ্ণব, কিন্তু তিনি শক্তিমন্ত্র লইয়াছেন, গৃহদেবতার সঙ্গে তাঁহার প্রত্যক্ষ যােগ অনেক দিন হইতেই নাই।

 তিনি গােরাকে কহিলেন, “এসাে এসাে, বাইরে এসাে।”

 গােরা বাহির হইয়া আসিল। কৃষ্ণদয়াল কহিলেন, “এ কী কাণ্ড! এখানে তােমার কী কাজ?”

 গােরা কোনাে উত্তর করিল না। কৃষ্ণদয়াল কহিলেন, “পূজারি ব্রাহ্মণ আছে, সে তো প্রত্যহ পূজা করে, তাতেই বাড়ির সকলেরই পূজা হচ্ছে— তুমি কেন এর মধ্যে এসেছ!”

 গােরা কহিল, “তাতে কোনো দোষ নেই।”

 কৃষ্ণদয়াল কহিলেন, “দোষ নেই! বল কী! বিলক্ষণ দোষ আছে। যার যাতে অধিকার নেই তার সে কাজে যাবার দরকার কী। ওতে যে অপরাধ হচ্ছে। শুধু তােমার নয়, বাড়িসুদ্ধ আমাদের সকলের।”

 গােরা কহিল, “যদি অন্তরের ভক্তির দিক দিয়ে দেখেন তা হলে দেবতার সামনে বসবার অধিকার অতি অল্প লােকেরই আছে। কিন্তু আপনি কি বলেন, আমাদের ওই রামহরি ঠাকুরের এখানে পূজা করবার যে অধিকার আছে আমার সে অধিকারও নেই?”

 কৃষ্ণদয়াল গােরাকে কী জবাব দিবেন, হঠাৎ ভাবিয়া পাইলেন না। একটু চুপ করিয়া থাকিয়া কহিলেন, “দেখাে, পূজা করাই রামহরির জাত-ব্যাবসা। ব্যাবসাতে যে অপরাধ হয় দেবতা সেটা নেন না। ও জায়গায় ত্রুটি ধরতে গেলে ব্যাবসা বন্ধই করতে হয়, তা হলে সমাজের কাজ চলে না। কিন্তু তােমার তো সে ওজর নেই। তােমার এ ঘরে ঢােকবার

দরকার কী?”

 গােরার মতাে আচারনিষ্ঠ ব্রাহ্মণের পক্ষেও ঠাকুরঘরে প্রবেশ করিলে অপরাধ হয়, এ কথা কৃষ্ণদয়ালের মতাে লােকের মুখে নিতান্ত অসংগত শুনাইল না। সুতরাং গােরা ইহা সহ্য করিয়া গেল, কিছুই বলিল না।

 তখন কৃষ্ণদয়াল কহিলেন, “আর-একটা কথা শুনছি গােরা। তুমি নাকি প্রায়শ্চিত্ত করবার জন্যে সব পণ্ডিতদের ডেকেছ?”

 গােরা কহিল, “হাঁ।”

 কৃষ্ণদয়াল অত্যন্ত উত্তেজিত হইয়া উঠিয়া কহিলেন, “আমি বেঁচে থাকতে এ কোনােমতেই হতে দেব না।”

 গােরার মন বিদ্রোহী হইয়া উঠিবার উপক্রম করিল; সে কহিল, “কেন?”

 কৃষ্ণদয়াল কহিলেন, “কেন কী! আমি তােমাকে আর-একদিন বলেছি, প্রায়শ্চিত্ত হতে পারবে না।”

 গােরা কহিল, “বলে তাে ছিলেন, কিন্তু কারণ তাে কিছু দেখান নি।”

 কৃষ্ণদয়াল কহিলেন, “কারণ দেখাবার আমি কোনাে দরকার দেখি নে। আমরা তো তােমার গুরুজন, মান্যব্যক্তি; এ-সমস্ত শাস্ত্রীয় ক্রিয়াকর্ম আমাদের অনুমতি ব্যতীত করবার বিধিই নেই। ওতে যে পিতৃপুরুষের শ্রাদ্ধ করতে হয়, তা জানাে?”

 গােরা বিস্মিত হইয়া কহিল, “তাতে বাধা কী?”

 কৃষ্ণদয়াল ক্রুদ্ধ হইয়া উঠিয়া কহিলেন, “সম্পূর্ণ বাধা আছে। সে আমি হতে দিতে পারব না।”

 গােরা হৃদয়ে আঘাত পাইয়া কহিল, “দেখুন, এ আমার নিজের কাজ। আমি নিজের শুচিতার জন্যই এই আয়ােজন করছি—এ নিয়ে বৃথা আলােচনা করে আপনি কেন কষ্ট পাচ্ছেন!”

 কৃষ্ণদয়াল কহিলেন, “দেখাে গােরা, তুমি সকল কথায় কেবল তর্ক করতে যেয়াে না। এ-সমস্ত তর্কের বিষয়ই নয়। এমন ঢের জিনিস আছে যা এখনাে তােমার বােঝবার সাধ্য নেই। আমি তােমাকে ফের বলে যাচ্ছি-

হিন্দুধর্মে তুমি প্রবেশ করতে পেরেছ এইটে তুমি মনে করছ, কিন্তু সে তােমার সম্পূর্ণ ই ভুল। সে তােমার সাধ্যই নেই। তােমার প্রত্যেক রক্তের কণা, তােমার মাথা থেকে পা পর্যন্ত তার প্রতিকূল। হিন্দু হঠাৎ হবার জো নেই! ইচ্ছা করলেও জো নেই। জন্ম-জন্মান্তরের সুকৃতি চাই।”

 গােরার মুখ রক্তবর্ণ হইয়া উঠিল। সে কহিল, “জন্মান্তরের কথা জানি নে, কিন্তু আপনাদের বংশের রক্তধারায় যে অধিকার প্রবাহিত হয়ে আসছে আমি কি তারও দাবি করতে পারব না?”

 কৃষ্ণদয়াল কহিলেন, “আবার তর্ক! আমার মুখের উপর প্রতিবাদ করতে তােমার সংকোচ হয় না। এ দিকে বল হিন্দু। বিলাতি ঝাঁজ যাবে কোথায়। আমি যা বলি তাই শােনো। ও-সমস্ত বন্ধ করে দাও।”

 গােরা নতশিরে চুপ করিয়া দাঁড়াইয়া রহিল। একটু পরে কহিল, “যদি প্রায়শ্চিত্ত না করি তা হলে কিন্তু শশিমুখীর বিবাহে আমি সকলের সঙ্গে বসে খেতে পারব না।”

 কৃষ্ণদয়াল উৎসাহিত হইয়া বলিয়া উঠিলেন, “বেশ তো। তাতেই বা দোষ কী? তােমার জন্যে নাহয় আলাদা আসন করে দেবে।”

 গােরা কহিল, “সমাজে তা হলে আমাকে স্বতন্ত্র হয়েই থাকতে হবে।”

 কৃষ্ণদয়াল কহিলেন, “সে তত ভালােই।”

 তাঁহার এই উৎসাহে গােরাকে বিস্মিত হইতে দেখিয়া কহিলেন, “এই দেখো-না, আমি কারও সঙ্গে খাই নে, নিমন্ত্রণ হলেও না। সমাজের সঙ্গে আমার যােগ কী বা আছে? তুমি যে-রকম সাত্ত্বিকভাবে জীবন কাটাতে চাও তােমারও তো এইরকম পন্থাই অবলম্বন করা শ্রেয়। আমি তাে দেখছি, এতেই তােমার মঙ্গল।”

 মধ্যাহ্নে অবিনাশকে ডাকাইয়া কৃষ্ণদয়াল কহিলেন, “তােমরাই বুঝি সকলে মিলে গােরাকে নাচিয়ে তুলেছ?”

 অবিনাশ কহিলেন, “বলেন কী! আপনার গােরাই তাে আমাদের সকলকে নাচায়। বরঞ্চ সে নিজেই নাচে কম।”

 কৃষ্ণদয়াল কহিলেন, “কিন্তু বাবা, আমি বলছি, তােমাদের ও-সব প্রায়শ্চিত্ত-টিত্ত হবে না। আমার ওতে একেবারেই মত নেই। এখনই সব বন্ধ করে দাও।”

 অবিনাশ ভাবিল, বুড়ার এ কী রকম জেদ। ইতিহাসে বড় বড় লােকের বাপরা নিজের ছেলের মহত্ত্ব বুঝিতে পারে নাই এমন দৃষ্টান্ত ঢের আছে, কৃষ্ণদয়ালও সেই জাতেরই বাপ। কতকগুলা বাজে সন্ন্যাসীর কাছে দিনরাত না থাকিয়া কৃষ্ণদয়াল যদি তাঁহার ছেলের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করিতে পারিতেন, তাহা হইলে তাঁহার ঢের উপকার হইত।

 অবিনাশ কৌশলী লােক; যেখানে বাদপ্রতিবাদ করিয়া ফল নাই, এমনকি মরাল এফেক্টেরও সম্ভাবনা অল্প, সেখানে সে বৃথা বাক্যব্যয় করিবার লােক নয়। সে কহিল, “বেশ তাে মশায়, আপনার যদি মত না থাকে তাে হবে না। তবে কিনা, উদ্যােগ-আয়ােজন সমস্ত হয়েছে, নিমন্ত্রণপত্রও বেরিয়ে গেছে, এ দিকে আর বিলম্ব ও নেই, তা নয় এক কাজ করা যাবে- গােরা থাকুন, সেদিন আমরাই প্রায়শ্চিত্ত করব— দেশের লােকের পাপের তো অভাব নেই।”

 অবিনাশের এই আশ্বাসবাক্যে কৃষ্ণদয়াল নিশ্চিন্ত হইলেন।


 কৃষ্ণদয়ালের কোনাে কথায় কোনােদিন গােরার বিশেষ শ্রদ্ধা ছিল না। আজও সে তাঁহার আদেশ পালন করিবে বলিয়া মনের মধ্যে স্বীকার করিল না। সাংসারিক জীবনের চেয়ে বড় যে জীবন সেখানে গােরা পিতামাতার নিষেধকে মান্য করিতে নিজেকে বাধ্য মনে করে না। কিন্তু তবু আজ সমস্ত দিন তাহার মনের মধ্যে ভারী একটা কষ্ট বােধ হইতে লাগিল। কৃষ্ণদয়ালের সমস্ত কথার মধ্যে যেন কী-একটা সত্য প্রচ্ছন্ন আছে, তাহার মনের ভিতরে এই রকমের একটা অস্পষ্ট ধারণা জন্মিতেছিল। একটা যেন আকারহীন দুঃস্বপ্ন তাহাকে পীড়ন করিতেছিল, তাহাকে কোনােমতেই তাড়াইতে পারিতেছিল না। তাহার কেমন এক-রকম মনে হইল, কে যেন সকল দিক

হইতেই তাহাকে ঠেলিয়া সরাইয়া ফেলিবার চেষ্টা করিতেছে। নিজের একাকিত্ব তাহাকে আজ অত্যন্ত একটা বৃহৎ কলেবর ধরিয়া দেখা দিল। তাহার সম্মুখে কর্মক্ষেত্র অতি বিস্তীর্ণ, কাজও অতি প্রকাণ্ড, কিন্তু তাহার পাশে কেহই দাঁড়াইয়া নাই।