ছড়া/খেঁদুবাবুর এঁধো পুকুর, মাছ উঠেছে ভেসে (পাঠান্তর)

খেঁদুবাবুর এঁধো পুকুর, মাছ উঠেছে ভেসে—
পদ্মমণি চচ্চড়িতে মসলা দিল ঠেসে।
লঙ্কা দিল, আর দিয়েছে কালো জিরের বাটনা,
কালুবাবু আলুর খোঁজে চলে গেছে পাটনা।
পাটনাতে নীলকুঠীর গঞ্জে খেয়া চালায় পাটনী,
রোদে জলে নিতুই চলে চার পহরের খাটনি।
জামাইবাবু হুকুম করেন বিয়ে বাড়ির তোল্ মাল
তাই নিয়ে সব পাইকগুলো লাগায় বিষম গোলমাল।
খড়্গপুরের বাজন্দারে মাতায় গড়ের বাজনাতে
গোমস্তারা ভুলে গেল জমিদারের খাজনাতে।
হুইস্‌ল্ দিল মালগাড়িতে সাৎরাগাছির ড্রাইভার
মাথায় মোছে হাতের কালি সময় পায় না নাইবার।
ননদ গেল বিয়ে করতে সঙ্গে গেল চিন্তে,
লিলুয়াতে নেমে গেল ঘুড়ির লাঠাই কিনতে।
ধানের কলে সারি সারি গোরুর গাড়ি বয় ধান,
ঘুড়ির কাটাকাটি লাগায় কোন্নগরের ময়দান।
ননদ পড়ল রাঙা সাড়ি পাল্কি চড়ে চল্‌ল।
পাড়ায় পাড়ায় রব উঠেছে গায়ে হলুদ কল্য।
হুইস্‌ল্ শুনে চমকে ওঠে বরের জ্যাঠামশাই,
খোঁজ পড়ে যায় গেলেন কোথা অগ্রদ্বীপের গোঁসাই।
সাৎরাগাছির বরের পিসি সাঁতার কাটতে গিয়ে
শাঁখা কোথায় ভেসে গেল করল সে যে কী এ।
মোষের শিঙে বসে ফিঙে ল্যাজ দুলিয়ে নাচে
শুধোয় পিসি শাঁখা আমার নিয়েছে কোন্ মাছে।
মাছের লেজের ঝাপট লাগে শালুক ওঠে দুলে
রোদ পড়েছে নাচনমণির ভিজে এলো চুলে।
কোথায় ঘাটের ফাটল থেকে উঠল ডেকে ব্যাঙ,
খড়্গপুরের ঢাকে ঢোলে বাজল ড্যাডাংড্যাঙ।
হুইস্‌ল্ বাজে, আছে সেজে পাইকপাড়ার পাত্রী
শেয়ালকাঁটার বন পেরিয়ে গেল বিয়ের যাত্রী।