জয়তু নেতাজী/সুভাষচন্দ্রের কয়েকটি উক্তি ও মন্তব্য

সুভাষচন্দ্রের কয়েকটি উক্তি ও মন্তব্য

( উক্তিগুলির ইংরেজীর অনুবাদ দিলাম না——অধিকাংশ স্থলে সেইরূপ

উন্মােচন সুখকর নহে।)

গান্ধী-কংগ্রেসের নীতি ও প্রকৃত অতিপ্রায়

 “When the coast is clear federation[১] will steam in and will be welcomed by the prospective ministers with drums beating and colours flying——not the colours of the Indian National Congress, but of the British Empire which stands for peace democracy and progress.”

 [বর্ত্তমানে যাহা দাঁড়াইয়াছে তাহার ভিতরটা ঠিক আছে, কেবল নামগুলা ভিন্ন——বুলির চটকে ভিতরটা ঢাকিবার চেষ্টা হইতেছে।]

* * *

 “Have we yet to realise that pilgrimages to New Delhi will not bring us to our goal? ....

 Meanwhile may we not appeal to Mahatma Gandhi to give up these long and tiresome journeys to Viceroy's House and to come and stand at the head of his countrymen as he did in 1920?”

 [সুভাষচন্দ্রের এ কি কথা! দিল্লী-সিমলার বৈঠকখানায় বড়দের সঙ্গে বােঝাপড়া করিয়াই ত এতদিন স্বাধীনতার সিংহদ্বারের কপাট খুলিয়াছে। অবিশ্বাসী সুভাষ! গান্ধীজী ইংরেজ জাতিকে, বিশেষ করিয়া ঐ মন্ত্রীমিশন, এবং আরও বিশেষ করিয়া বড়লাট ওয়াভেলকে বিশ্বাস করিয়াছিলেন বলিয়াই ত’ স্বাধীনতাটি এমন নির্বিঘ্নে লাভ করা গেল,——এখন হজম করিতে যা একটু কষ্ট!]

* * *

 “Why do they talk big? Lengthy resolutions, high-sounding phraseology, frothy speeches, periodic doses of bellicose utterances, frequent references to a new order that need not be fought for, but will fall from the skies——Imperialism crashing under its own weight——all these fit in with what we know as Kerenskytactics and ill accord with the demands of ‘Real-Politik.’”

 [পণ্ডিত জবাহরলালের গগনবিদারী বক্তৃতার হুবহু বর্ণনা। এই ‘Kerensky-tactics গান্ধী-কংগ্রেসের একটি বড় অস্ত্র——ভাড়াটিয়া ভীমের গদা-আস্ফালনে এখনও আসর জমাইয়া রাখিয়াছে। আরও আসবাব-আয়ােজন আছে; বৈঠকখানায় নেহেরু-কৃপালানীর দল, কখনো বীর, কখনো করুণ, কখনো শান্ত রসের ঢেউ তুলিয়া মুগ্ধ দর্শকমণ্ডলীকে ‘আঙ্কোর’-রবে মুখর করিতেছে (প্রতিশ্রুতির আস্ফালন আছে, কার্য্যের কোনরূপ নির্দ্দেশ নাই!)। ঠাকুরঘরে বসিয়া গান্ধীজী ভাগবত-পাঠ করিতেছেন; সেখানে অহিংসা ও নিষ্কাম কর্ম্মের অপূর্ব্ব অনুপ্রেরণা-সঞ্চার হইতেছে, অর্থাৎ, এমন কর্ম্মের উপদেশ দেওয়া হইতেছে যাহা দেহধারী জীবকে সর্ব্ব কর্ম্মবন্ধন-মুক্ত করে; এবং ভাঁড়ার-ঘরের চাবি কোমরে বাঁধিয়া সর্দ্দার পাটেল অতিশয় কঠিন মূর্ত্তিতে গৃহস্থালী রক্ষা করিতেছেন, বৈঠকখানা বা ঠাকুর-ঘরের সঙ্গে তাঁহার কোন সম্বন্ধ নাই——বক্তৃতা প্রভৃতি বাহিরের জন্য, ভিতরে সব ঠিক আছে।]

* * *

 “They are afraid that if and when a struggle is launched the leadership will pass out of their hands. Hence avoid a struggle by all means, try to keep whatever power you have already won and work for more through antechamber conferences and negotiations"

 [এই জন্যই যখন যেখানে প্রকৃতিপুঞ্জ বা কোন সমাজ সত্যকার কারণে- মনুষ্যধর্ম্ম ও স্বভাবের বশে——পৃথকভাবে——অসহ্য অবস্থার প্রতিবিধান করিতে উদ্যত হইয়াছে সেইখানেই, নিজে কোনরূপ সংগ্রাম করিবে না অথচ নেতৃত্বও ত্যাগ করিবে না বলিয়া, তৎক্ষণাৎ সেই পৃথক কর্ম্ম-প্রচেষ্টাকে অঙ্কুরে বিনাশ করিবার জন্য, সে তাহার সর্ব্বশক্তি নিয়ােগ করিয়াছে।]

* * *

 "It has agreed to Separate Electorate knowing what its consequences would be."

 [এখানে ঐ ‘knowing’-শব্দটা বড়ই অর্থপূর্ণ; সে যে জানিত না তাহা নহে, জানা সত্ত্বেও সে তাহা গ্রাহ্য করে নাই এই জন্য যে, তাহাতে তাহার অভীষ্টসিদ্ধির ব্যাঘাত হইবে না; অর্থাৎ, জানিয়া শুনিয়া সে এই কাজ করিয়াছে। তাহা হইলে পূর্ব্ব হইতে তাহার মতলব কি ছিল? তাহার পরে, এবং এখনও পর্য্যন্ত, সেই মতলবটিই দিনদিন ফলােম্মুখ হইয়া উঠিতেছে দেখিয়াও, সে কি, নিশ্চিন্ত-নিরুপায় হইয়া থাকে নাই? এখন সাধু সাজিয়া, মুখে সেই অপরাধ স্বীকার করিলে কি হইবে? ইহার জন্য সমগ্রজাতি নিকটে গুরুতর জবাবদিহি আছে।]

* * *

 “The Working Committee are anxious to find any excuse or justification for postponing the struggle sine die. In future we shall probably hear of more messengers coming from Great Britain with frequency and regularity.”

 [হাঁ, আসিয়াছে, আসিতেছে, এবং আরও আসিবে——যতদিন না কংগ্রেস পূরা-স্বাধীনতা লাভ করে। আজিও আসিতেছে, যদিও প্রকাশ্যে নয়। এই দিব্যজ্ঞানের জন্যই ত’ সুভাষচন্দ্র ঘরে-পরে লাঞ্চনা ভোগ করিয়াছিলেন।]

* * *

 "The Rightists entertain hopes of a compromise with British Imperialism, or of getting back to power in the provinces.”

 [উহাই যে কংগ্রেসের স্বর্গলাভ, উহাই স্বাধীনতা, উহাই সর্ব্বার্থসিদ্ধি——তাহাতে কি আর সন্দেহ আছে? অনেক সাধ্য-সাধনায় ওইটুকু সে লাভ করিয়াছে, এখন তাহা রক্ষা করিবার জন্য জাতি-কুলমান সকলই বিসর্জ্জন দিবে। দিল্লীর মসনদে বসিয়া সর্দ্দার পাটেলের মতি-গতি যেরূপ প্রকাশ পাইতেছে তাহাতে আশ্চর্য্য হইবার কি আছে?] কংগ্রেসের ধর্ম্মচ্যুতি——তাহার কারণ

 “The tragedy that has overtaken the uppor ranks of the Congress leadership is due primarily to demoralisation that followed in the wake of office-acceptance....

 Lust for power has seized the upper ranks of our leadership——not the power that follows from Independence, but such power as will come through a compromise with Imperialism.”

 [প্রথম বাক্যটিতে, সুভাষচন্দ্র যাহা পরে ঘটিয়াছে বলিয়াছেন, তাহাতে তাঁহার উদারতাই প্রকাশ পাইয়াছে। আসলে ঐ office-acceptance-এর লােভ পূর্ব্বেই এমন দুর্দ্দমনীয় হইয়াছিল,——আপাতকর্তৃত্ত্বের সেই সামান্য ক্ষমতাটুকুও এমন পরমার্থ বলিয়া মনে হইয়াছিল যে, তাহারই জন্য ‘সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা’র এমন সাংঘাতিক সর্ত্তেও রাজী হইতে বাধে নাই——‘না-গ্রহণ না-বর্জ্জন’রূপ একটা কথার ভেল্কির দ্বারা তাহাকে ঢাকিয়া লইতে হইয়াছিল।]

নেতৃত্বের ন্যায়সঙ্গত অধিকার

 “A nation feels grateful for a leader's past services and may love him for the same ... Past suffering and sacrifice can never be a passport to future leadership under all circumstances....

 “In a nation that has been enslaved or suffers from a slave-mentality, it is somewhat different. Once leaders ascend the pedestal they do not feel like retiring voluntarily. In such a country, the people are prone to blind hero-worship and take more time to be disillusioned than elsewhere. But the evil day can nowhere be put off indefinitely. In the fulness of time, the naked truth ultimately stands unmasked."

 [এ কথা যে কত সত্য তাহা আমরা হাড়ে হাড়ে বুঝিয়াছি; কিন্তু এ ত’ শুধুই hero-worship নয় এ যে অবতার-পূজা। এ মােহ এ জাতির পক্ষে কি সহজে ভাঙ্গে!]

প্রেসিডেন্ট নির্ব্বাচনে কংগ্রেসের কু-নীতি

 “A unanimous election as a matter of fact is possible only when the opinion in the country is not divided, but when it is fought on the basis of definite policies and programmes the plea for unanimous election is quite out of the question

 ... As in other free countries, the presidential election in India should be fought on the basis of definite problems and programmes.”

 [উপরের ঐ উক্তিগুলি হয় ত’ ঠিক হয় নাই, কারণ, কংগ্রেস গণ-মতের প্রতিনিধির দ্বারাই তাহার সকল কার্য্য অনুমােদিত করিয়া লয়। ঐ প্রতিনিধি-নির্ব্বাচন প্রভৃতি সকল কর্ম্মেই সে যে নীতি প্রচলিত করিয়াছে তাহার সৌরভে দশদিক আমােদিত হইতেছে; ঐ নীতির ফলেই, দেশের সর্ব্বত্র সকল ছােট-বড় কংগ্রেস-কমিটিতে ধর্ম্মের যে ঝড় বহিয়া থাকে তাহা কাহারও অবিদিত নাই। কংগ্রেস যে একটি খাঁটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, ব্রিটিশ সরকারের সহিত রফা করিয়া সে যে-শাসনতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করিতেছে তাহা যে জন-গণ-অনুমােদিত, এ কথা সে উচ্চকণ্ঠে ঘােষণা করিয়া থাকে। অথচ জনগণ তাহার কিছুই জানে না, কিছুই বােঝে না; যদি অবস্থাবিশেষে পড়িয়া তাহা বুঝিতে চায়, তবে ধমক খাইয়া নিরস্ত হয়,——বলিবার যো নাই যে, এমন ব্যবস্থায় কেন স্বীকৃত হইয়াছিলে? এমন অদ্ভুত গণতন্ত্র কোন্ দেশে আছে? কংগ্রেস-প্রেসিডেন্টও যে তেমনই জন-গণ-নির্ব্বাচিত, তাহার একটি প্রকৃষ্ট প্রমাণ——বড় কর্ত্তারা যাহাকেই খাড়া করেন, তিনিই নির্ব্বাচিত হন;——unity ও discipline-এর কি মহিমা! ইংরেজ-প্রভুদেরই যত দোষ!]

নকল গণ-পরিষদ

 “What has caused us the greatest concern is not the unfair and improper tactics, but the substitution of the national demand for what I call a faked Constituent Assembly.

 ... We feel astounded that it does not strike our elderly leaders that before they could sit down to frame a Constitution they should first win the right to do so. Have they, we ask, secured that right? No.

 It will ultimately break up in disorder and the enemies of India will point their fingers at the Congress as the real author of the tragedy.”  [এই ভবিষ্যৎ-বাণী ফলিতেও আর বিলম্ব নাই। তথাপি, গণ-পরিষৎ আহ্বান করার অধিকার সে অর্জ্জন করে নাই——সুভাষচন্দ্রের এমন কথা নিশ্চয়ই অপমানজনক। সে যে ঘােরতর যুদ্ধ করিয়াই ব্রিটিশ-সিংহকে পরাস্ত করিয়াছে, তাহা কে না স্বীকার করিবে? আগষ্ট-বিদ্রোহ ত’ সে-ই করিয়াছিল, আজাদ-হিন্দ্-ফৌজের বিচার ও তজ্জনিত আন্দোলনে, ভারতীয় সৈন্যদলে——নৌ-বিভাগে পর্য্যন্ত——যে অশান্তি দেখা দিয়াছিল, তাহাও ত’ কংগ্রেসের দুর্দ্ধর্ষ অভিযানের ফলে। সেই সকল বীরত্ব এবং ভবিষ্যতে তাহার বৃহত্তর পুনরাভিনয়ের ভয় দেখাইয়া পণ্ডিত নেহেরু ব্রিটিশ গভর্ণমেন্টকে যেরূপ ত্রাসযুক্ত করিয়াছিলেন, এবং সেই সঙ্গে আন্তর্জ্জাতিক পরিস্থিতির দিকে ঘন ঘন দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়াছিলেন, তাহাই ত’ যথেষ্ট, তাহাতেই ত’ ইংরেজ পরাজিত হইয়াছে; সেই জয়লাভের অধিকারেই ত' কংগ্রেস বুক ফুলাইয়া গণ-পরিষৎ দাবী করিয়াছে, এবং একটি অতিশয় খাঁটি গণ-পরিষৎ আহ্বান করিতেছে!]

সুভাষচন্দ্রের নিজ অভিপ্রায় ও তাহাতে সিদ্ধিলাভ

 “They (his followers) may win Swaraj or they may not. But one thing is certain. They will have the satisfaction of having done their duty when others failed. They will be upholding the honour of the Indian Nation at home and abroad. ... Whether Independence is won by one stroke or not, the grave of Rightism will be dug once for all, and Leftism will be firmly rooted on Indian soil.”

[ জয়তু নেতাজী!]

গান্ধীজীর নেতৃত্ব নিষ্ফল হইয়াছে কেন?

 “He has failed because the strength of a leader depends not on the largeness but on the character of his following. With a much smaller following other leaders have been able to liberate their country.

 “He has failed because while he has understood the character of his own people, he has not understood the character of his opponents. The logic of a Mahatma is not the logic which appeals to John Bull.

 “He has failed because the false unity of interests that are inherently opposed, is not a source of strength but a source of weakness in political warfare. The future of India rests exclusively with those radical and militant forces that will be able to undergo the sacrifice and suffering necessary for winning freedom.

 “Last but not least, the Mahatma has railed because he has had to play a dual role in one person——the role of the leader of an enslaved people and that of a world-teacher, who has a new doctrine to preach.”

 [মহাত্মা যে ভারতবাসী জনগণের চরিত্র ভালরূপ বুঝিয়াছেন——তাহাই ত’ তাহাদের সর্ব্বনাশের কারণ হইয়াছে, সেইজন্যই ত’ তিনি ‘মহাত্মা’ হইতে পারিয়াছেন। হাজার বছর ধরিয়া যাহারা আফিমের নেশা করিয়াছে তাহাদিগকে কোন্ বস্তুটি দিলে কৃতার্থ হইয়া যায় ইহা গান্ধীজী খুব ভাল করিয়া বুঝিয়া লইয়াছিলেন। উপরে আর যে কথাগুলি আছে, তাহাতে সুভাষচন্দ্র অতি-গভীর তত্ত্ব-দৃষ্টি ও রাজীতিজ্ঞানের পরিচয় দিয়াছেন——কথাগুলি এতই মূল্যবান্ যে তাহার অনুবাদ না দিয়া পারিলাম না ——

 “গান্ধীজীর ব্যর্থতার প্রথম কারণ——নেতার শক্তি নির্ভর করে অনুচর-সংখ্যার উপরে নয়, পরন্তু সেই অনুচরবৃন্দের প্রকৃতি বা চরিত্রের উপরে। গান্ধীজীর অপেক্ষা বহুগুণ অল্প অনুচর লইয়াও অপরাপর নেতা স্বদেশ উদ্ধার করিতে সমর্থ হইয়াছেন।

 “দ্বিতীয় কারণ,——তিনি নিজ-দেশীয় জনগণের চরিত্র যেমন বুঝিয়াছেন প্রতিপক্ষ বা ইংরাজ জাতির চরিত্র তাহার তুলনায় কিছুমাত্র বুঝিতে পারেন নাই——একজন ‘মহাত্মা’ যেরূপ যুক্তিকে আশ্রয় করেন, ‘জন বুল’ তাহাতে ধরা দেয় না।

 “তৃতীয় কারণ——যে সকল ক্ষেত্রে স্বার্থ-বিরোধ অতিশয় মূলগত, সেখানে একটা কৃএিম ঐক্য-স্থাপনের চেষ্টা করিলে রাজনৈতিক সংগ্রামে শক্তিবৃদ্ধি না হইয়া শক্তিক্ষয় হইয়া থাকে। ভারতের ভবিষ্যৎ ভাগ্য তাহারাই স্থির করিবে যাহারা সম্পূর্ণ স্বাধীনচিত্ত ও সংগ্রামশীল, এবং সেইজন্য স্বাধীনতা-অর্জ্জনের জন্য সর্ব্বপ্রকার কষ্ট ও ত্যাগস্বীকার করিতে সমর্থ।  “সর্ব্বশেষ কারণ এবং তাহাও সামান্য নয়——এই যে, তিনি একই কালে দুইটি বিপরীত ব্রত গ্রহণ করিয়াছেন——দাসত্বমােচনের জন্য একটি পরাধীন জাতির নেতৃত্ব, এবং পৃথিবীতে একটি নবধর্ম্ম-প্রচারের জন্য জগৎ-গুরুর ভূমিকা” গান্ধীজী কিরূপ নেতা

 “In many ways he is an idealist and a visionary. In other respects he is an astute politician. At times he is obstinate as a fanatic, on other occasions he is liable to surrender like a child. The instinct, or the judgment so necessary for politıcal bargaining is lackıng in him. . . . Born in another country he might have been a complete misfit. . . His doctrine of non-violence would have led him to the cross or to the mental hospital.”

 [এই উক্তি তাঁহার যে গ্রন্থে আছে তাহার প্রকাশ-কাল ১৯৩৪ সাল; গান্ধী-চরিত্রের বিকাশ বা পূর্ণতার পরিচয় তখনও বাকি ছিল, তখনও এিপুরীর বিলম্ব আছে। শেষের দিকে ঐ যে’ ‘mental hospital’-এর উল্লেখ আছে, এক্ষণে উহার আর প্রয়োজন নাই, গান্ধীজী সারাদেশটাকেই সেইরূপ হাসপাতালে পরিণত করিয়া তন্মধ্যে অতিশয় স্বচ্ছন্দে বিচরণ ও বাস করিতেছেন।]

  1. * এই ‘Federation' ছিল ব্রিটিশ গবর্ণমেন্টের প্রস্তাবিত স্বাধীনতা-দানের একটা বড় সর্ত্ত। উহার মূল অভিপ্রায় ছিল——ভারত-বিভাগ। উহাতেও তখনই কংগ্রেস রাজী হইতে চাহিয়াছিল, ভিতরে ভিতরে সেই পরামর্শই চলিতেছিল।