নবজাতক/ক্যাণ্ডীয় নাচ

ক্যাণ্ডীয় নাচ

সিংহলে সেই দেখেছিলেম ক্যাণ্ডিদলের নাচ;
শিকড়গুলাের শিকল ছিঁড়ে যেন শালের গাছ
পেরিয়ে এল মুক্তি-মাতাল খ্যাপা
হুংকার তার ছুটল আকাশ-ব্যাপা।
ডালপালা সব দুড়্‌দাড়িয়ে ঘূর্ণি হাওয়ায় কহে—
নহে, নহে, নহে,—
নহে বাধা, নহে বাঁধন, নহে পিছন-ফেরা,
নহে আবেগ স্বপ্ন দিয়ে ঘেরা,
নহে মৃদু লতার দোলা, নহে পাতার কাঁপন,
আগুন হয়ে জ্বলে ওঠা এ যে তপের তাপন।
ওদের ডেকে বলেছিল সমুদ্দরের ঢেউ
আমার ছন্দ রক্তে আছে এমন আছে কেউ।
ঝঞ্ঝা ওদের বলেছিল, মঞ্জীর তাের আছে
ঝংকারে যার লাগাবে লয় আমার প্রলয় নাচে।
ঐ যে পাগল দেহখানা, শূন্যে ওঠে বাহু,
যেন কোথায় হাঁ করেছে রাহু,

লুব্ধ তাহার ক্ষুধার থেকে চাঁদকে করবে ত্রাণ,
পূর্ণিমাকে ফিরিয়ে দেবে প্রাণ।
মহাদেবের তপােভঙ্গে যেন বিষম বেগে
নন্দী উঠল জেগে,
শিবের ক্রোধের সঙ্গে
উঠল জ্বলে দুর্দাম তার প্রতি অঙ্গে অঙ্গে
নাচের বহ্নিশিখা
নিদয়া নির্ভীকা।
খুঁজতে ছােটে মােহ মদের বাহন কোথায় আছে
দাহন করবে এই নিদারুণ আনন্দময় নাচে।
নটরাজ যে পুরুষ তিনি, তাণ্ডবে তাঁর সাধন,
আপন শক্তি মুক্ত করে ছেঁড়েন আপন বাঁধন;
দুঃখবেগে জাগিয়ে তােলেন সকল ভয়ের ভয়,
জয়ের নৃত্যে আপনাকে তাঁর জয়॥

আলমােড়া

জ্যৈষ্ঠ, ১৩৪৪