নবজাতক/রোম্যাণ্টিক

রােম্যান্টিক

আমারে বলে যে ওরা রােম্যান্টিক।
সে কথা মানিয়া লই
রসতীর্থ পথের পথিক।
মাের উত্তরীয়ে
রং লাগায়েছি প্রিয়ে।
দুয়ার বাহিরে তব আসি যবে
সুর করে ডাকি আমি ভােরের ভৈরবে।
বসন্ত বনের গন্ধ আনি তুলে
রজনীগন্ধার ফুলে
নিভৃত হাওয়ায় তব ঘরে।
কবিতা শুনাই মৃদুস্বরে
ছন্দ তাহে থাকে
তার ফাঁকে ফাঁকে
শিল্প রচে বাক্যের গাঁথুনি—
তাই শুনি’

নেশা লাগে তােমার হাসিতে।
আমার বাঁশিতে
যখন আলাপ করি মূলতান
মনের রহস্য নিজ রাগিণীর পায় যে সন্ধান।
যে কল্পলােকের কেন্দ্রে তােমারে বসাই
ধূলি-আবরণ তার সযত্নে খসাই
আমি নিজে সৃষ্টি করি তারে।
ফাঁকি দিয়ে বিধাতারে,
কারুশালা হতে তার চুরি করে আনি রং-রস
আনি তাঁরি জাদুর পরশ।
জানি তার অনেকটা মায়া,
অনেকটা ছায়া।
আমারে শুধাও যবে এরে কভু বলে বাস্তবিক?
আমি বলি কখনাে না, আমি রােম্যান্টিক।
যেথা ঐ বাস্তব জগৎ
সেখানে আনাগােনার পথ
আছে মাের চেনা।
সেথাকার দেনা
শােধ করি, সে নহে কথায় তাহা জানি
তাহার আহ্বান আমি মানি।
দৈন্য সেথা, ব্যাধি সেথা, সেথায় কুশ্রীতা,
সেথায় রমণী দস্যুভীতা,

সেথায় উত্তরী ফেলি’ পরি বর্ম,
সেথায় নিমম কর্ম,
সেথা ত্যাগ, সেথা দুঃখ, সেথা ভেরি বাজুক মাভৈঃ
শৌখিন বাস্তব যেন সেথা নাহি হই।
সেথায় সুন্দর যেন ভৈরবের সাথে
চলে হাতে হাতে॥