শেষ বেলা

এল বেলা পাতা ঝরাবারে
শীর্ণ বলিত কায়া, আজ শুধু ভাঙা ছায়া
মেলে দিতে পারে।
একদিন ডাল ছিল ফুলে ফুলে ভরা
নানা রং-করা।
কুঁড়ি ধরা ফলে
কার যেন কী কৌতূহলে
উকি মেরে আসা
খুঁজে নিতে আপনার বাসা
ঋতুতে ঋতুতে
আকাশের উৎসব দূতে
এনে দিত পল্লব-পল্লীতে তার
কখনাে পা-টিপে চলা হাল্‌কা হাওয়ার,
কখনাে বা ফাগুনের অস্থির এলােমেলাে চাল
জোগাইত নাচনের তাল।

জীবনের রস আজ মজ্জায় বহে,
বাহিরে প্রকাশ তার নহে।
অন্তর বিধাতার সৃষ্টি-নিদেশে
যে অতীত পরিচিত, সে নূতন বেশে
সাজ বদলের কাজে ভিতরে লুকালাে,
বাহিরে নিবিল দীপ, অন্তরে দেখা যায় আলাে।
গােধূলির ধূসরতা ক্রমে সন্ধ্যার
প্রাঙ্গণে ঘনায় আঁধার।
মাঝে মাঝে জেগে ওঠে তারা
আজ চিনে নিতে হবে তাদের ইশারা।
সমুখে অজানা পথ ইঙ্গিত মেলে দেয় দূরে,
সেথা যাত্রার কালে যাত্রীর পাত্রটি পূরে
সদয় অতীত কিছু সঞ্চয় দান করে তারে
পিপাসার গ্লানি মিটাবারে।
যত বেড়ে ওঠে রাতি
সত্য যা সেদিনের উজ্জ্বল হয় তার ভাতি।
এই কথা ধ্রুব জেনে নিভৃতে লুকায়ে
সারা জীবনের ঋণ একে একে দিতেছি চুকায়ে॥

১১ জানুয়ারি, ১৯৪০