প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অক্ষয়কুমার বড়াল গ্রন্থাবলী.djvu/২৯২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অক্ষয়কুমার বড়াল-গ্রন্থাবলী ولمة. জগতের লৰ্ব্বত্র বিবিধ রল ছড়াইয়া আছে। এমন বিষয় বা বন্ড, অবস্থা বা ব্যবস্থা কিছু নাই, বাহাতে কোন না কোন একটা রস স্বল্পবিস্তর ফুটিয়া না উঠে । কিন্তু তাই ৰলিয়া এ সকলই ষে কাৰ্যের উপাদান, এমন নহে। হালিকায়া সংসার জুড়ির আছে ; কিন্তু সকল হাসি-কান্নাতেই কাৰ্য গঠিত হয় না। শৃঙ্গারাদি স্বামী স্বলও জনসমাজকে নিয়ত চঞ্চল ও সরস করিয়া রাখিয়াছে; কিন্তু এ সকলের সকলগুলিতেই ষে কাব্য স্বষ্টি হয়, বা হইতে পারে, এমনও নহে। সস্তানবতী রমণী সংসারে অসংখ্য। সন্তানবাৎসল্যও স্বল্পাধিক সকল মাতার মধ্যেই ফুটিয়া আছে। এ রস—ৰিশিষ্ট, বিশ্বজনীন নহে। সৰল মাকে দেখিয়াই গণেশজননীর বা ম্যাডোনার ভিতরে জৈবপ্রতিভাশালী শিল্পী ষে অদ্ভুত রস ফুটাইয়া তুলিয়াছেন, তাহার আস্বাদন পাই না। র্যাফেল বিশাল বিশ্বের বাৎসল্যকে ছাকিয়া, সেই রসে অমৃতময়ী জননীমূৰ্ত্তির রচনা করিয়াছেন। মা বস্ত—রসময়, রসাত্মক। ম্যাডোনা এই রসের মূৰ্ত্তি। বাৎসল্য রস যেমন বিশ্বজনীন, সে রসের সত্য মূৰ্ত্তিও সেইরূপ বিশ্বজনীন হওয়া চাই। এই রসের যে মূৰ্ত্তি, তাহ শ্বেত কৃষ্ণ, হিন্দু মেচ্ছ—সকলেরই প্রকৃত জননীমূৰ্ত্তি। ম্যাডোনা সকলের মা। আর ম্যাডোনার অঙ্কে ষে অপরূপ শিশু, প্রভাত-অরুণের আভা অঙ্গে মাখিয়া মাতৃবাছ-লীন হইয়া আছে, সেও কোন ব্যক্তিবিশেষের সন্তান নহে, সে বিশ্বের সস্তান। বিশাল বিশ্বে অগণ্যকোটী জীবের শরীর-মনের ভিতর দিয়া যে বাৎসল্য নিয়ত প্রবাহিত হইয়া অনন্ত জীবপ্রবাহকে রক্ষা করিতেছে, ম্যাডোনা সেই নিখিলবিশ্বের মাতৃশক্তির প্রতিচ্ছবি। আর তাহার কোলের এই শিশুটী বিশ্ববাংলল্যের উপজীব্য ও উদ্দীপনা—সস্তানাবতার। এই বিশ্ব-সম্বন্ধটাকে বিশদ করিয়াই ম্যাডোনার রসমূৰ্ত্তি হইয়াছে। এই বিশ্ব-সম্বন্ধটাও কাব্যের একটি অপরিহার্ষ্য লক্ষণ। বাক্য এক দিকে যেমন রসাত্মক হইবে, অন্য দিকে সেই রসও আবার বিশ্বজনীন হওয়া আবশুক । রসাত্মকতার ন্যায় এই বিশ্বজনীনত্বও কাব্যের বিশেষ লক্ষণ। ইহার একটাকেও ছাড়িলে কাব্যের কাব্যত্ব থাকে না। ফলতঃ যে কাব্য কোন না কোন রসের বিশ্বজননীকে ফুটাইয়া তুলে না, তাহা যতই কেন শ্রুতিমধুর বা চিত্তোন্মাদকর হউক না, সে কাব্য শ্রেষ্ঠত্বের দাবী করা দূরে থাকুক, আদৌ কাব্যত্বেরই দাবী করিতে পারে না। লোককে হাসান, কাদান, মাতান, এ সকল যে বড় একটা বেশী কথা, তাহা নহে। হাস্যরসের অবতারণা করে বলিয়া মুখবিকৃতিকে কেহ কাব্যস্থটি বলে না। আর ইহা কাব্যস্থটি নয়,—কারণ, হান্তরসের যে একটা বিশ্বজনীনতা আছে, সে গুণটা এখানে ফুটিা উঠে না। সেইরূপ লোককে কাদানও সহজ ; কিন্তু সেই কারার ভিতরে বিশ্বব্যাপী যে ক্ৰন্ধনরোল দিবানিশি প্রতিধ্বনিত হইতেছে, তাহার স্বর জাগাইয়া তোলা কঠিন। আর যতক্ষণ না সে স্বর জাগিতেছে, ততক্ষণ ক্ৰন্দনের মধ্যে কারণ্য জাগে না, আর লে কান্নাতেও কাব্যস্থষ্টি হয় না। মায়ামারি ব্যাপারটা ষে রসাত্মক,