পাতা:অচলায়তন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


X o ხr অচলায়তন লইয়াই কি মামুষের পেট ভরিবে ? অর্থাৎ আচার-অনুষ্ঠানের বাধ৷ দূর করিলেই কি মানুষ কৃতাৰ্থ হইবে ? তাই যদি হইবে তবে ইতিহাসে কোথাও তাহার কোনো দৃষ্টান্ত দেখা যায় না কেন ? : f কিন্তু এরূপ প্রশ্ন কি অচলায়তনের লেখককে জিজ্ঞাসা করা ঠিক হইয়াছে ? অচলায়তনের গুরু কি ভাঙিবার কথাতেই শেষ করিয়াছেন ? গড়িবার কথা বলেন নাই ? পঞ্চক যখন তাড়াতাড়ি বন্ধন ছাড়াইয়। উধাও হইয়া যাইতে চাহ্যিাছিল তখন তিনি কি বলেন নাই— না, তা যাক্টতে পারিবে না – যেখানে ভাঙা হইল এইখানেই আবার প্রশস্ত করিয়৷ গড়িতে হইবে ? গুরুর আঘাত, নষ্ট করিবার জন্য নহে, বড়ে করিবার জন্যই । তাহার উদ্দেশ্য ত্যাগ করা নহে, সার্থক করা । মানুষের স্থল দেহ যখন মানুষের মনকে অভিভূত করে তখন সেই দেহগত রিপুকে আমরা নিন্দ করি, কিন্তু তাহা হইতে কি প্রমাণ হয় প্রেতত্বলাভই মানুষের পূর্ণত ? স্থল দেহের প্রয়োজন আছে, কিন্তু সেই দেহ মানুষের উচ্চতর সত্তার বিরোধী হইবে না, তাহার অন্তগত হইবে এ কথা বলার দ্বারা দেহকে নষ্ট কবিতে বলা হয় না । অচলায়তনে মন্ত্রমাত্রের প্রতি তীব্র শ্লেষ প্রকাশ করা হইয়াছে এ কথা কখনোই সত্য হইতে পারে না— যেহেতু মস্ত্রের সার্থকতা সম্বন্ধে আমার মনে কোনো সন্দেহ নাই । কিন্তু মন্ত্রের যথার্থ উদ্দেশু মননে সাহায্য করা । ধ্যানের বিষয়ের প্রতি মনকে অভিনিবিষ্ট করিবার উপায় মন্ত্র । আমাদের দেশে উপাসনার এই-যে আশ্চর্য পন্থা স্বল্প হইয়াছে ইহা ভারতবর্ষের বিশেষ মাহায্যের পরিচয় । । কিন্তু সেই মন্ত্রকে মনন-ব্যাপার হইতে যখন বাহিরে বিক্ষিপ্ত করা হয়, মন্ত্র যখন তাহার উদ্দেশ্যকে অভিভূত করিয়া নিজেই চরম পদ অধিকার করিতে চায়, তখন তাহার মতো মননের বাধা আর কী হইতে