পাতা:অচলায়তন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গ্রন্থপরিচয় ১ ০৯ পারে? . কতকগুলি বিশেষ শব্দসমষ্টির মধ্যে কোনো অলৌকিক শক্তি আছে এই বিশ্বাস যখন মানুষের মনকে পাইয়া বসে তখন সে আর সেই শব্দের উপরে উঠতে চায় না, তখন মনন ঘুচিয়া গিয়া সে উচ্চারণের ফাঁদেই জড়াইয় পড়ে ; তখন, চিত্তকে যাহা মুক্ত করিবে বলিয়াই রচিত তাহাই চিত্তকে বদ্ধ করে । এবং ক্রমে দাডায় এই, মন্ত্র পড়িয়া দীর্ঘজীবন লাভ করা, মন্ত্র পডিয়া শত্রু জয় করা ইত্যাদি নানা প্রকার নিরর্থক দুশ্চেষ্টায় মানুষের মৃঢ় মন প্রলুব্ধ হইবা ঘুরিতে থাকে। এইরূপে মন্ত্রই যখন মননের স্থান অধিকার করিয়া বসে তখন মামুষের পক্ষে তাহ অপেক্ষ শুষ্ক জিনিস আর কী হইতে পারে ? যেখানে মন্ত্রের এরূপ ভ্রষ্টত সেখানে মানুষের দুৰ্গতি আছেই। সেই সমস্ত কৃত্রিম বন্ধনজাল হইতে মানুষ আপনাকে উদ্ধার করিয়া ভক্তির সজীবতা ও সরসতা-লাভের জন্য ব্যাকুল হইয়া উঠে— ইতিহাসে বারংবার ইহার প্রমাণ দেখা গিয়াছে। যাগযজ্ঞ মন্ত্রতন্ত্র যখনই অত্যন্ত প্রবল হঠয মানুষের মনকে চারিদিকে বেষ্টন করিয়া ধরে তখনই তো মানবের গুরু মানবের হৃদয়ের দাবি মিটাইবার জন্য দেখা দেন– তিনি বলেন, পাথরের টুকরা দিয়া রুটির টুকরার কাজ চালানো যায় না, বাহ অনুষ্ঠানকে দিয়া অস্তরের শূন্যতা পূর্ণ করা চলে না। কিন্তু তাই বলিয়। এ কথা কেহই বলে না যে, মন্ত্র যেখানে মননের সহায়, বাহিরের অনুষ্ঠান যেখানে অস্তরের ভাবস্তুতিব অনুগত, সেখানে তাহ নিন্দনীয়। ভাব তে রূপকে কামনা করে, কিন্তু রূপ যদি ভাবকে মারিয়া একলা রাজত্ব করিতে চায় তবে বিধাতার দণ্ডবিধি অনুসারে তাহার কপালে মৃত্যু আছেই । কেননা সে যতদিনই বাচিবে ততদিনই কেবলই মানুষের মনকে মারিতে থাকিবে । ভাবের পক্ষে রূপের প্রয়োজন আছে বলিয়াই রূপের মধ্যে লেশমাত্র অসতীত্ব এমন নিদারুণ । যেখানেই সে নিজেকে