পাতা:অচলায়তন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


} > 0 অচলায়তন প্রবল করিতে চাহিবে সেইখানেই সে নির্লজ্জ, সে অকল্যাণের আকর। কেননা, ভাব যে রূপকে টানিয়া আনে সে যে প্রেমের টান, আনন্দের টান— রূপ যখন সেই ভাবকে চাপা দেয় তখন সে সেই প্রেমকে আঘাত করে, আনন্দকে আচ্ছন্ন করে— সেইজন্য যাহারা ভাবের ভক্ত তাহার রূপের এইরূপ ভ্রষ্টাচার একেবারে সহিতে পারে না । কিন্তু রূপে তাহাদের পরমানন্দ যখন ভাবের সঙ্গে তাহার পূর্ণ মিলন দেখে । কিন্তু শুধু রূপের দাসখত মানুষের সকলের অধম দুৰ্গতি । র্যাহারা মহাপুরুষ র্তাহারা মানুষকে এই দুৰ্গতি হইতেই উদ্ধার করিতে আসেন। তাই অচলায়তনে এই আশার কথাই বল হইয়াছে যে, যিনি গুরু তিনি সমস্ত আশ্রয় ভাঙিয়া চুরিয়া দিয়া একটা শূন্যতা বিস্তার করিবার জন্য আসিতেছেন না ; তিনি স্বভাবকে জাগাইবেন, অভাবকে ঘুচাইবেন, বিরুদ্ধকে মিলাইবেন— যেখানে অভ্যাসমাত্র আছে সেখানে লক্ষ্যকে উপস্থিত করিবেন, এবং যেখানে তপ্তবালু-বিছানো খাদ পড়িয়া আছে মাত্র সেখানে প্রাণপরিপূর্ণ রসের ধারাকে বহাইয়া দিবেন। এ কথা কেবল যে আমাদেরই দেশের সম্বন্ধে থাটে তাহা নহে— ইহা সকল দেশেষ্ট সকল মামুষেরই কথা। অবশ্য এই সার্বজনীন সত্য অচলায়তনে ভারতবর্ষীয় রূপ ধারণ করিয়াছে— তাহা যদি না করিত তবে উহা অপাঠ্য হইত। মনে করিয়াছিলাম সংক্ষেপে বলিব— কিন্তু ‘নিজের কথা পাচ কাহন’ হইয় পড়ে— বিশেষত শ্রোতা যদি সহৃদয় ও ক্ষমাপরায়ণ হন। ইতিপূর্বেও আপনার প্রতি জুলুম করিয়া সাহস বাড়িয়া গেছে— এবারেও প্রশ্রয় পাইব এ ভরসা মনে আছে। ইতি ৩রা অগ্রহায়ণ ১৩১৮, শান্তিনিকেতন। আর্যাবর্তের যে সংখ্যাতে রবীন্দ্রনাথের এই প্রত্যুত্তর মুদ্রিত হয় সেই সংখ্যাতেই অক্ষয়চন্দ্র সরকার, ললিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ফোয়াক্স