পাতা:অচলায়তন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গ্রন্থপরিচয় Σ Σ Σ গ্রন্থের সমালোচনা-প্রসঙ্গে, পূর্বসংখ্যা আর্যাবর্তে প্রকাশিত র্তাহার অচলায়তন আলোচনার ও রবীন্দ্রনাথের বিরূপ সমালোচনা করেন । অক্ষয়চন্দ্রের আলোচনা সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথ ললিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়কে একখানি পত্রে লেখেন— আমার লেখা পড়িয়া অনেকে বিচলিত হইবেন এ কথা আমি নিশ্চিত জানতাম— আমি শীতল-ভোগের বরাদ্দ আশাও করি নাই । অচলায়তন লেখায় যদি কোনো চঞ্চলতাই না আনে তবে উহা বৃথা লেখা হইয়াছে বলিয়া জানিব । সংস্কারের জড়তাকে আঘাত করিব অথচ তাহা আহত হইবে না, ইহাকেই বলে নিস্ফলতা। অবস্থাবিশেষে ক্রোধের উত্তেজনাই সত্যকে স্বীকার করিবার প্রথম লক্ষণ, এবং বিরোধই সত্যকে গ্রহণ করিবার আরম্ভ। যদি কেহ এমন অদ্ভূত স্বষ্টিছাড়া কথা বলেন ও বিশ্বাস করেন যে, জগতের মধ্যে কেবল আমাদের দেশেই ধর্মে ও সমাজে কোথাও কোনো কত্রিমত ও বিকৃতি নাই, অথচ বাহিরে গতি আছে, তবে সত্যের সংঘাত তাহার পক্ষে সুখকর হইবে না, তিনি সত্যকে আপনার শত্রু বলিয়া গণ্য করিবেন। তাহাদের মন রক্ষা করিয়া যে চলিবে, হয় তাহাকে মূঢ় নয় তাহাকে ভীরু হইতে হইবে । নিজের দেশেব আদর্শকে যে ব্যক্তি যে পরিমাণে ভালোবাসিবে সেই তাহার বিকারকে সেই পরিমাণেই আঘাত করিবে, ইহাই শ্রেয়স্কর । ভালোমন্দ সমস্তকেই সমান নির্বিচারে সর্বাঙ্গে মাখিয়া নিশ্চল হইয়া বসিয়া থাকাকেই প্রেমের পরিচয় বলিতে পারি না। দেশের মধ্যে এমন অনেক আবর্জনা স্ত,পাকার হইয়া উঠিয়াছে যাহ। আমাদের বুদ্ধিকে শক্তিকে ধর্মকে চারিদিকে আবদ্ধ করিয়াছে— সেই কৃত্রিম বন্ধন হইতে মুক্তি পাইবার জন্য এ দেশে মাহবের আত্মা অহরহ কাদিতেছে— সেই কান্নাই ক্ষুধার কান্ন,