পাতা:অচলায়তন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


SS ર অচলায়তন মারীর কান্না, অকালমৃত্যুর কান্না, অপমানের কান্না । সেই কান্নাই নানা নাম ধরিয়া আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে এমন একটা ব্যাকুলতার সঞ্চার করিয়াছে, সমস্ত দেশকে নিরানন্দ করিয়া রাখিয়াছে এবং বাহিরের সকল আঘাতের সম্বন্ধেই তাহাকে এমন একান্তভাবে অসহায় করিয়৷ তুলিয়াছে। ইহার বেদনা কি প্রকাশ করিব না ? কেবল মিথ্যা কথা বলিব এবং সেই বেদনার কারণকে দিনরাত্রি প্রশ্রয় দিতেই থাকিব ? অস্তরে যে-সকল মর্মান্তিক বন্ধন আছে বাহিবের শুঙ্খল তাহারই স্থল প্রকাশ মাত্ৰ— অন্তরের সেই পাপগুলাকে কেবলই ‘বাপু বাছা বলিয়৷ নাচাইব, আর ধিককার দিবার বেলাষ ওষ্ঠ বাহিরের শিকলটাই আছে ? আমাদের পাপ আছে বলিয়াই শাস্তি আছে— যত লডাঠ ওঠ শাস্তির সঙ্গে আর যত মমতা ঐ পাপের প্রতি ? তবে কি এই কথাই সত্য যে, আমাদের কোথাও পাপ নাই, আমরা বিধাতার অন্যায বহন করিতেছি ? যদি তাহা সত্য না হয, যদি পাপ থাকে, তবে সে পাপের বেদন আমাদের সাহিত্যে কোথায় প্রকাশ পাইতেছে ? আমরা কেবলই আপনাকে ভূলাইতে চেষ্টা করিতেছি যে সমস্ত অপরাধ বাহিরের দিকেই , আপনার মধ্যে যেখানে সকলের চেয়ে বডো শত্ৰু আছে, যেখানে সকলের চেয়ে ভীষণ লডাক্ট প্রতীক্ষা করিতেছে, সেদিকে কেবলই আমরা মিথ্যার আড়াল দিয়া আপনাকে বচাইবার চেষ্টা করিতেছি । কিন্তু আমি আপনাকে বলিতেছি, আমার পক্ষে প্রতিদিন ইহা অসহ্য হইয়া উঠিয়াছে। আমাদের সমস্ত দেশব্যাপী এই বন্দিশালাকে একদিন আমিও নানা মিষ্টনাম দিয়া ভালোবাসিতে চেষ্টা করিয়াছি ; কিন্তু তাহাতে অন্তরাত্মা তৃপ্তি পায় নাই— এই পাষাণপ্রাচীরের চারিদিকেই তাহার মাথা ঠেকিয়া সে কোনো আশার পথ দেখিতেছে না— বাস রে ; এমন নীরন্ধ বেষ্টন! এমন আশ্চর্য পাক গাথনি! বাহাদুরি আছে বটে, কিন্তু