পাতা:অচলায়তন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


SWE অচলায়তন তাকে ওই বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ পর্যন্ত দেখিয়ে বিস্মিত করবার চেষ্টায় ছিলুম কিন্তু তিনি চোখ পাকিয়ে তর্জনী তুললেন, আমার আর এগোল না। বিশ্বম্ভর । না, পঞ্চক, এবার গুরু আসার জন্যে তোমাকে প্রস্তুত হতে হবে । পঞ্চক। পঞ্চক পৃথিবীতে যেমন অপ্রস্তুত হয়ে জন্মেছে তেমনি অপ্রস্তুত হয়েই মরবে। ওর ওই একটি মহাগুণ আছে, ওর কখনো বদল হয় না। সঞ্জীব । তোমার সেই গুণে উপাধ্যায়মশায়কে যে মুগ্ধ করতে পেরেছ তা তো বোধ হয় না | পঞ্চক । আমি তাকে কত বোঝাবার চেষ্টা করি যে বিদ্যাসম্বন্ধে আমার একটুও নড়চড় নেই—ওই যাকে বলে ধ্রুবনক্ষত্র—তাতে সুবিধা এই যে এখানকার ছাত্ররা কে কতদূর এগোল তা আমার সঙ্গে তুলনা করলেই বোঝা যাবে। জয়োত্তম । তোমার আশ্চর্য এই স্বযুক্তিতে উপাধ্যায়মশায়ের বোধ ठ्ग्रु পঞ্চক। না, কিছু না—ৰ্তার মনে কিছুমাত্র বিকার ঘটল না। আমার সম্বন্ধে পূর্বে তার যে-ধারণ ছিল সেইটেই দেখলুম আরও পাকা হল। সঞ্জীব । আমরা যদি উপাধ্যায়মশায়কে তোমার মতন অমন যা-তা বলতুম তাহলে রক্ষা থাকত না। কিন্তু পঞ্চকের বেলায়— পঞ্চক। তার মানে আছে। কুতর্কটা আমার পক্ষে এমনি সুন্দর স্বাভাবিক যে সেটা আমার মুখে ভারি মিষ্ট শোনায় । সকলেই খুশি হয়ে বলে, ঠিক হয়েছে, পঞ্চকের মতোই কথা হয়েছে। কিন্তু ঘোরতর বুদ্ধির পরিচয় না দিতে পারলে তোমাদের আদর নেই। এমনি তোমরা হতভাগ্য ।