পাতা:অচলায়তন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অচলায়তন ২৩ উপাধ্যায়। হঁ। কিন্তু এতে তোমার উৎসাহের তো কোনো কারণ নেই। পঞ্চক। আমারই তো গুরুর দরকার বেশি, আমার যে কিছুই শেখা হয়নি । সুভদ্রের প্রবেশ সুভদ্র । উপাধ্যায়মশায় । পঞ্চক। আরে পালা পালা উপাধ্যায়মশায়ের কাছ থেকে একটু পরমার্থতত্ত্ব শুনছি এখন বিরক্ত করিসনে, একেবারে দৌড়ে পালা। উপাধ্যায়। কী সুভদ্র, তোমার বক্তব্য কী শীঘ্র বলে যাও । সুভদ্র । আমি ভয়ানক পাপ করেছি। পঞ্চক । ভারি পণ্ডিত কিনা। পাপ করেছি ! পাল বলছি । উপাধ্যায়। (উৎসাহিত হইয়া ) ওকে তাড়া দিচ্ছ কেন । সুভদ্র শুনে যাও । পঞ্চক। আর রক্ষা নেই, পাপের একটুকু গন্ধ পেলে একেবারে মাছির মতো ছোটে । , উপাধ্যায়। কী বলছিলে । সুভদ্র । আমি পাপ করেছি। উপাধ্যায়। পাপ করেছ ? আচ্ছা বেশ । তাহলে বসো । শোনা যাক । সুভদ্র । আমি আয়তনের উত্তর দিকের— উপাধ্যায়। বলে, বলো, উত্তর দিকের দেওয়ালে আঁক কেটেছ ? সুভদ্র । না, আমি উত্তর দিকের জানলায়— উপাধ্যায়। বুঝেছি, কুকুই ঠেকিয়েছ। তাহলে তো সেদিকে আমাদের যতগুলি যজ্ঞের পাত্র আছে সমস্তই ফেলা যাবে। সাত মাসের বাছুরকে দিয়ে ওই জানলা ন চাটাতে পারলে শোধন হবে না।