পাতা:অচলায়তন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৬ অচলায়তন উপাচার্য । আচার্যদেব, বলেন কী । বৃথা, সমস্তই বৃথা ? আচার্য । সুতসোম, আমরা এখানে কতদিন হল এসেছি মনে পড়ে কি। কত বছর হবে ? উপাচার্য। সময় ঠিক করে বলা বড়ো কঠিন। এখানে মনের পক্ষে প্রাচীন হয়ে উঠতে বয়সের দরকার হয় না। আমার তো মনে হয় আমি জন্মের বহু পূর্ব হতেই এখানে স্থির হয়ে বসে আছি । আচার্য । দেখো, সুতসোম, প্রথম যখন এখানে সাধনা আরম্ভ করেছিলুম তখন নবীন বয়স, তখন আশা ছিল সাধনার শেষে একটাকিছু পাওয়া যাবে। সেইজন্যে সাধন যতই কঠিন হচ্ছিল উৎসাহ আরও বেড়ে উঠছিল। তার পরে সেই সাধনার চক্রে ঘুরতে ঘুরতে একেবারেই ভুলে বসেছিলুম যে সিদ্ধি বলে কিছু একটা আছে। আজ গুরু আসবেন শুনে হঠাৎ মনটা থমকে দাড়াল-আজ নিজেকে জিজ্ঞাসা করলুম, ওরে পণ্ডিত, তোর সব শাস্ত্রই তো পড়া হল, সব ব্রতই তো পালন করলি, এখন বল মূর্থ কী পেয়েছিল। কিছু না, কিছু না, স্বতসোম। আজ দেখছি—এই অতিদীর্ঘকালের সাধনা কেবল আপনাকেই আপনি প্রদক্ষিণ করেছে—কেবল প্রতিদিনের অন্তহীন পুনরাবৃত্তি রাশীকৃত হয়ে জমে উঠেছে । উপাচার্য । ব’লে না, ব’লে না, এমন কথা ব’লো না | আচার্যদেব, আজ কেন হঠাৎ তোমার মন এত উদভ্ৰান্ত হল। আচার্য। স্বতসোম, তোমার মনে কি তুমি শান্তি পেয়েছ। উপাচার্য । আমার তো একমুহূতের জন্যে অশান্তি নেই। আচার্য । অশান্তি নেই ? উপাচার্য। কিছুমাত্র না । আমার অহোরাত্র একেবারে নিয়মে বাধা । সে হাজার বছরের, বাধন । ক্রমেই সে পাথরের মতো বজ্রের