পাতা:অচলায়তন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অচলায়তন २१ মতো শক্ত হয়ে জমে গেছে। এক মুহূর্তের জন্যেও কিছুই ভাবতে হয় না । এর চেয়ে আর শান্তি কী হতে পাবে । আচার্য। না না, তবে আমি ভুল করছিলুম স্থতসোম, ভুল করছিলুম। যা আছে, এই ঠিক এইই ঠিক । যে করেই হ’ক এর মধ্যে শান্তি পেতেই হবে। উপাচার্য । সেইজন্যেই তো অচলায়তন ছেড়ে আমাদের কোথাও বেরোনো নিষেধ । তাতে যে মনের বিক্ষেপ ঘটে—শান্তি চলে যায়। আচার্য। ঠিক, ঠিক,—ঠিক বলেছ স্থতসোম। অচেনার মধ্যে গিয়ে কোথায় তার অন্ত পাব । এখানে সমস্তই জানা, সমস্তই অভ্যস্ত— এখানকার সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখানকারই সমস্ত শাস্ত্রের ভিতর থেকে পাওয়া যায়—তার জন্যে একটুও বাইরে যাবার দরকার হয় না। এই তে৷ নিশ্চল শাস্তি। গুরু, তুমি যখন আসবে, কিছু সরিয়ো না, কিছু আঘাত ক’রে না—চারিদিকেই আমাদের শান্তি, সেই বুঝে পা ফেলো। দয়া ক’রো, দয়া ক’রো আমাদের । আমাদের পা আড়ষ্ট হয়ে গেছে, আমাদের আর চলবার শক্তি নেই। অনেক বৎসর অনেক যুগ যে এমনি করেই কেটে গেল—প্রাচীন, প্রাচীন, সমস্ত প্রাচীন হয়ে গেছে— আজ হঠাৎ বলে না যে নূতনকে চাই—আমাদের আর সময় নেই। উপাচার্য । আচার্যদেব, তোমাকে এমন বিচলিত হতে কখনো দেখিনি । আচার্য। কী জানি, আমার কেমন মনে হচ্ছে কেবল একলা আমিই না, চারিদিকে সমস্তই বিচলিত হয়ে উঠেছে । আমার মনে হচ্ছে আমাদের এখানকার দেয়ালের প্রত্যেক পাথরটা পর্যন্ত বিচলিত । তুমি এটা অনুভব করতে পারছ না স্বতসোম ? উপাচার্য। কিছুমাত্র না। এখানকার অটল স্তব্ধতার লেশমাত্র