পাতা:অচলায়তন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অচলায়তন ৩১ যদি বসতে পারি—তিনি যদি আমার জরার বন্ধন খুলে দেন, তিনি যদি অভয় দিয়ে বলেন আজ থেকে ভুল করে করে সত্য জানবার অধিকার তোমাকে দিলুম, আমার মনের উপর থেকে হাজার দু-হাজার বছরের পুরাতন ভার যদি তিনি নামিয়ে দেন । পঞ্চক । ওই উপাচার্য আসছেন—বোধ করি কাজের কথা আছে— বিদায় হই । প্রস্থান উপাধ্যায় ও উপাচার্যের প্রবেশ উপাচার্য । ( উপাধ্যায়ের প্রতি ) আচার্যদেবকে তো বলতেই হবে। উনি নিতান্ত উদ্বিগ্ন হবেন–কিন্তু দায়িত্ব যে ওঁরই । আচার্য। উপাধ্যায়, কোনো সংবাদ আছে নাকি । উপাধ্যায়। অত্যন্ত মন্দ সংবাদ । আচার্য। অতএব সেটা সত্বর বলা উচিত । উপাচার্য। উপাধ্যায় কথাটা বলে ফেলো। এদিকে প্রতিকারের সময় উত্তীর্ণ হয়ে যাচ্ছে । আমাদের গ্রহাচার্য বলছেন আজ তিন প্রহর সাড়ে তিন দণ্ডের মধ্যে দ্ব্যাত্মকচরাংশলগ্নে যা-কিছু করবার সময়—সেটা অতিক্রম করলেই গোপরিক্রমণ আরম্ভ হবে, তখন প্রায়শ্চিত্তের কেবল এক পাদ হবে বিপ্ৰ, অৰ্ধ পাদ বৈশু, বাকি সমস্তটাই শূদ্র । উপাধ্যায়। আচার্যদেব, সুভদ্র আমাদের আয়তনের উত্তর দিকের জানলা খুলে বাইরে দৃষ্টিপাত করেছে। আচার্য। উত্তর দিকটা তো একজটা দেবীর । উপাধ্যায়। সেই তো ভাবনা। আমাদের আয়তনের মন্ত্রঃপূত রুদ্ধ বাতাসকে সেখানকার হাওয়া কতটা দূর পর্যন্ত আক্রমণ করেছে বলা তে৷ যায় না ।