পাতা:অচলায়তন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৩২ অচলায়তন উপাচার্য । এখন কথা হচ্ছে এ পাপের প্রায়শ্চিত্ত কী। আচার্য । আমার তো স্মরণ হয় না। উপাধ্যায় বোধ করি— উপাধ্যায়। না, আমিও তো মনে আনতে পারিনে। আজ তিন-শ বছর এ প্রায়শ্চিত্তটার প্রয়োজন হয়নি—সবাই ভূলেই গেছে। ওই যে মহাপঞ্চক আসছে—যদি কারও জানা থাকে তো সে ওর। উপাধ্যায়। মহাপঞ্চক, সব শুনেছ বোধ করি । মহাপঞ্চক। সেই জন্তেই তো এলুম ; আমরা এখন সকলেই অশুচি, বাহিরের হাওয়া আমাদের আয়তনে প্রবেশ করেছে। উপাচার্য। এর প্রায়শ্চিত্ত কী, আমাদের কারও স্মরণ নেই— তুমিই বলতে পার । \ মহাপঞ্চক । ক্রিয়াকল্পতরুতে এর কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না— একমাত্র ভগবান জলনানন্তকৃত আধিকমিক বর্ষায়ণে লিখছে অপরাধীকে ছয় মাস মহাতামস সাধন করতে হবে । উপাচার্য । মহাতামস ? মহাপঞ্চক । হা, আলোকের এক রশ্মিমাত্র সে দেখতে পাবে না। কেননা আলোকের দ্বারা যে-অপরাধ অন্ধকারের দ্বারাই তার ক্ষালন । উপাচার্য। তাহলে, মহাপঞ্চক, সমস্ত ভার তোমার উপর রইল । উপাধ্যায়। চলে। আমিও তোমার সঙ্গে যাই । ততক্ষণ সুভদ্রকে হিজুমদ নকুণ্ডে স্বান করিয়ে আনি গে। সকলের গমনোদ্যম আচার্য। শোনো, প্রয়োজন নেই। উপাধ্যায় । কিসের প্রয়োজন নেই । আচার্য। প্রায়শ্চিত্তের । মহাপঞ্চক। প্রয়োজন নেই বলছেন ! আধিকমিক বর্ষায়ণ খুলে আমি এখনই দেখিয়ে দিচ্ছি—