পাতা:অচলায়তন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 o অচলায়তন আমি তাকে বললুম, ও বেচারারা পড়াশুনে কিছুই করেনি সে আমি জানি—এমন কি, এই পৃথিবীটা যে ত্রিশিরা রাক্ষসীর মাথামুড়োনো চুলের জট দিয়ে তৈরি তাও ওই মূর্থেরা জানে না, আবার সে-কথা বলতে গেলে মারতে আসে,—তাই ব’লে ভালোমন্দর জ্ঞান কি ওদের এতটুকুও নেই যে লোহার কাজ নিজের হাতে করবে। আজ তো স্পষ্টই দেখতে পাচ্ছি যার যে-বংশে জন্ম তার সেইরকম বুদ্ধি হয়। প্রথম শোণপাংশু । কেন, লোহা কী অপরাধটা করেছে। পঞ্চক । আরে ওটা যে লোহা সে তো তোকে মানতেই হবে । প্রথম শোণপাংশু । তা তো হবে । পঞ্চক। তবে আর কী—এই বুঝে নে না। দ্বিতীয় শোণপাংশু । তবু একটা তে কারণ আছে। পঞ্চক। কারণ নিশ্চয়ই আছে কিন্তু কেবল সেটা পুথির মধ্যে। সুতরাং মহাপঞ্চকদাদা ছাড়া আর অতি অল্প লোকেরই জানবার সম্ভাবনা আছে। সাধে মহাপঞ্চকদাদাকে ওখানকার ছাত্রেরা একেবারে পূজা করে । যা হ’ক ভাই তোরা যে আমাকে ক্রমেই আশ্চর্য করে দিলি রে । তোরা তো খেসারিডাল চাষ করছিস আবার লোহাও পিটোচ্ছিস, এখনও তোরা কোনো দিক থেকে কোনো পাচ-চোখ কিংবা সাতমাথাওআলার কোপে পড়িসনি ? প্রথম শোণপাংশু। যদি পড়ি তবে আমাদেরও লোহা অাছে তারও কোপ বড়ো কম নয় । পঞ্চক । আচ্ছা, তোদের মন্ত্র কেউ পড়ায়নি ? দ্বিতীয় শোণপাংশু । মন্ত্ৰ ! কিসের মন্ত্র । পঞ্চক। এই মনে কর যেমন বজ্রবিদারণ মন্ত্র -তট তট তোতয় তোতয়—