পাতা:অচলায়তন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অচলায়তন 있어 পঞ্চক । অচলায়তনে প্রণাম করে করে ঘাড়ে ব্যথা হয়ে গেছে। তাতে নিজেকেই কেবল ছোটো করেছি, বড়োকে পাইনি। দাদাঠাকুর । এই আমার সবার বাড়ী বড়োর মধ্যে এসে যখন বসি তখন যা করি তাই প্রণাম হয়ে ওঠে। এই যে খোলা আকাশের নিচে দাড়িয়ে তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে আমার মন তোমাকে আশীৰ্বাদ করছে এও আমার প্রণাম । পঞ্চক। দাদাঠাকুর, তোমার দুই চোখ দিয়ে এই যে তুমি কেবল সেই বড়োকে দেখছ, তোমাকে যখন দেখি তখন তোমার সেই দেখাটিকেও আমি যেন পাই। তখন পশুপাথি গাছপালা আমার কাছে আর কিছুই ছোটো থাকে না। এমন কি, তখন ওই শোণপাংশুদের সঙ্গে মাতামাতি করতেও আমার আর বাধে না । দাদাঠাকুর। আমিও যে ওদের সঙ্গে খেলে বেড়াই সে-খেলা আমার কাছে মস্ত খেলা । আমার মনে হয় আমি ঝরনার ধারার সঙ্গে খেলছি, সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে খেলছি। পঞ্চক । তোমার কাছে সবই বড়ো হয়ে গিয়েছে। দাদাঠাকুর । না ভাই, বড়ো হয়নি, সত্য হয়ে উঠেছে—সত্য যে বড়োই, ছোটোই তো মিথ্যা । পঞ্চক। তোমার বাপ কেটে গেছে দাদাঠাকুর, সব বাধা কেটে গেছে। এমন হাসতে খেলতে মিলতে মিশতে কাজ করতে কাজ ছাড়তে কে পারে । তোমার ওই ভাব দেখে আমার মনটা ছটফট করতে থাকে। ওই যে কী একটা আছে—চরম, না পরম, না কী তা কে বলবে—তার জন্যে দিনরাত যেন আমার মন কেমন করে। থেকে থেকে এক-একবার চমকে উঠি, আর ভাবি এইবার বুঝি হল, বুঝি পাওয়া গেল। দাদাঠাকুর, শুনছি আমাদের গুরু আসবেন।