পাতা:অচলায়তন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8b" অচলায়তন দাদাঠাকুর । গুরু ! কী বিপদ। ভারি উৎপাত করবে তাহলে তো । পঞ্চক। একটু উৎপাত হলে যে বাচি । চুপচাপ থেকে প্রাণ হাপিয়ে উঠছে। দাদাঠাকুর । তোমার যে শিক্ষা কাচা রয়েছে, মনে ভয় হচ্ছে না ? পঞ্চক । আমার ভয় সব-চেয়ে কম—আমার একটি ভূলও হবে না । দাদাঠাকুর । হবে না ? পঞ্চক। একেবারে কিছুই জানিনে, ভূল করবার জায়গাই নেই। নিৰ্ভয়ে চুপ করে থাকব । দাদাঠাকুর । আচ্ছা বেশ, তোমার গুরু এলে তাকে দেখে নেওয়া যাবে। এখন তুমি আছ কেমন বলে তো । পঞ্চক । ভয়ানক টানাটানির মধ্যে আছি ঠাকুর । মনে মনে প্রার্থনা করছি গুরু এসে যেদিকে হ’ক একদিকে আমাকে ঠিক করে রাখুন—হয় এখানকার খোলা হাওয়ার মধ্যে অভয় দিয়ে ছাড়া দিন, নয়তো খুব কষে পুথি চাপা দিয়ে রাখুন ; মাথা থেকে পা পর্যন্ত আগাগোড়া একেবারে সমান চ্যাপট হয়ে যাই । দাদাঠাকুর। তা, তোমার গুরু তোমার উপর যত পুথির চাপই চাপান না কেন তার নিচের থেকে তোমাকে আস্ত টেনে বের করে আনতে পারব | পঞ্চক। তা তুমি পারবে সে আমি জানি । কিন্তু দেখো ঠাকুর একটা কথা তোমাকে বলি–আচলায়তনের মধ্যে ওই যে আমবা দরজা বন্ধ করে আছি, দিব্যি আছি । ওখানে আমাদের সমস্ত বোঝাপড়া একেবারে শেষ হয়ে গেছে। ওখানকার মানুষ সেইজন্যে বড়ো নিশ্চিন্ত । কিছুতে কারও একটু সন্দেহ হবার জো নেই। যদি দৈবাং কারও মনে এমন প্রশ্ন ওঠে যে, আচ্ছা ওই যে, চন্দ্রগ্রহণের দিনে শোবার ঘরের