পাতা:অচলায়তন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


(? o অচলায়তন বজ্ৰগান্ধারী, ভূতের ভয়ের জন্যে চণ্ডভট্টারিকা, চোরের ভয়ের জন্যে হরাহরহদয়া। এমন আর কত নাম করব । দাদাঠাকুর। আমার বন্ধু এমন মন্ত্র আমাকে পড়িয়েছেন যে তাতে চিরদিনের জন্য ভয়ের বিষদাত ভেঙে যায়। পঞ্চক। তোমাকে দেখে তা বোঝা যায়। কিন্তু সেই বন্ধুকে পেলে কোথা ঠাকুর । , দাদাঠাকুর । পাবই বলে সাহস করে বুক বাড়িয়ে দিলুম, তাই পেলুম। কোথাও যেতে হয়নি । পঞ্চক । সে কী রকম। দাদাঠাকুর । যে ছেলের ভরসা নেই সে অন্ধকারে বিছানায় মাকে না দেখতে পেলেই কাদে, আর যার ভরসা আছে সে হাত বাড়ালেই মাকে তখনই বুক ভরে পায়। তখন ভয়ের অন্ধকারটাই আরো নিবিড় মিষ্টি হয়ে ওঠে । মা তখন যদি জিজ্ঞাসা করে, আলো চাই, ছেলে বলে তুমি থাকলে আমার আলোও যেমন অন্ধকারও তেমনি । পঞ্চক । দাদাঠাকুর, আমার অচলায়তন ছেড়ে অনেক সাহস করে তোমার কাছ অবধি এসেছি কিন্তু তোমার ওই বন্ধু পর্যন্ত যেতে সাহস করতে পারছিনে । দাদাঠাকুর। কেন, তোমার ভয় কিসের । পঞ্চক। খাচায় যে পাখিটার জন্ম, সে আকাশকেই সব-চেয়ে ডরায় । সে লোহার শলাগুলোর মধ্যে দুঃখ পায় তবু দরজাটা খুলে দিলে তার বুক । দুর দুর করে, ভাবে, বন্ধ না থাকলে বাচব কী করে। আপনাকে যে নিৰ্ভয়ে ছেড়ে দিতে শিখিনি। এইটেই আমাদের চিরকালের অভ্যাস । দাদাঠাকুর । তোমরা অনেকগুলো তালা লাগিয়ে সিন্দুক বন্ধ করে