পাতা:অচলায়তন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অচলায়তন @ S রাখাকেই মস্ত লাভ মনে কর—কিন্তু সিন্দুকে যে আছে কী তার খোজ রার্থ না । পঞ্চক। আমার দাদা বলে, জগতে যা-কিছু আছে সমস্তকে দূর করে ফেলতে পারলে তবেই আসল জিনিসটিকে পাওয়া যায়। সেইজন্যেই দিনরাত্রি আমরা কেবল দূরই কবছি—আমাদের কতটা গেল সেই হিসাবটাই আমাদের হিসাব—সে হিসাবের অন্তও পাওয়া যাচ্ছে না | দাদাঠাকুর । তোমার দাদ| তে ওই বলে, কিন্তু আমার দাদা বলে, যখন সমস্ত পাই তখনই আসল জিনিসকে পাই। সেইজন্যে ঘরে আমি দরজা দিতে পারিনে–দিনরাত্রি সব খুলে রেখে দিই। আচ্ছা পঞ্চক, তুমি যে তোমাদের আয়তন থেকে বেরিয়ে আস কেউ তা জানে না ? পঞ্চক । আমি জানি যে আমাদের আচার্য জানেন । কোনোদিন তার সঙ্গে এ নিয়ে কোনো কথা হয়নি--তিনিও জিজ্ঞাসা করেন না আমিও বলিনে। কিন্তু আমি যখন বাইরে থেকে ফিরে যাই তিনি আমাকে দেখলেই বুঝতে পারেন। আমাকে তখন কাছে নিয়ে বসেন, র্তার চোথের যেন একটা কী ক্ষুধা তিনি আমাকে দেখে মেটান । \ যেন বাইরের আকাশটাকে তিনি আমার মুখের মধ্যে দেখে নেন । ঠাকুর, যেদিন তোমার সঙ্গে আচার্যদেবকে মিলিয়ে দিতে পারব সেদিন আমার অচলায়তনের সব দুঃখ ঘূচবে । দাদাঠাকুর । সেদিন আমারও শুভদিন হবে । পঞ্চক। ঠাকুর, আমাকে কিন্তু তুমি বড়ো অস্থির করে তুলেছ । এক-একসময় ভয় হয় বুঝি কোনোদিন স্বান শান্ত হবে না। দাদাঠাকুর । আমিই কি স্থির আছি ভাই । আমার মধ্যে ঢেউ উঠেছে বলেই তোমারও মধ্যে ঢেউ তুলছি।