পাতা:অচলায়তন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অচলায়তন ○○ আমি স্বপন দিয়ে বাধা, কেবল ঘুমের ঘোরের বাধা, সে যে জড়িযে আছে প্রাণের কাছে মুদিযে আঁখিপুটে ; ওগো দিনের পরে দিন আমার কোথায় হল লীন, কেবল ভাষাহারা অশ্রধারায় পরান কেঁদে উঠে । আচ্ছা দাদাঠাকুর, তোমাকে আর র্কাদতে হয় না ? তুমি যার কথা বল তিনি তোমার চোখের জল মুছিয়েছেন ? দাদাঠাকুর । তিনি চোখের জল মোছান কিন্তু চোখের জল ঘোচান न1 ।। পঞ্চক। কিন্তু দাদা, আমি তোমার ওই শোণপাংশুদের দেখি আর মনে ভাবি ওরা চোখের জল ফেলতে শেখেনি। ওদের কি তুমি একেবারেই কাদাতে চাও না। দাদাঠাকুর । যেখানে আকাশ থেকে বৃষ্টি পড়ে না সেখানে থাল কেটে জল আনতে হয়। ওদেরও রসের দরকার হবে তখন দূর থেকে বয়ে আনবে । কিন্তু দেখছি ওরা বর্ষণ চায় না, তাতে ওদের কাজ কামাই যায়, সে ওরা কিছুতেই সহ্য করতে পারে না, ওই রকমই ওদের স্বভাব। পঞ্চক। ঠাকুর, আমি তো সেই বর্ষণের জন্যে তাকিয়ে আছি। যতদূর শুকোবার তা শুকিয়েছে, কোথাও একটু সবুজ আর কিছু বাকি নেই, এইবার তো সময় হযেছে—মনে হচ্ছে যেন দূর থেকে গুরু গুরু ডাক শুনতে পাচ্ছি। বুঝি এবার ঘন নীল মেঘে তপ্ত আকাশ জুড়িয়ে যাবে ভরে যাবে ।