পাতা:অচলায়তন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অচলায়তন (? (? পঞ্চক। আজ আমাদের দীপকেতন পূজা। দাদাঠাকুর । কী করতে হবে। পঞ্চক। আজ ডুমুরতলা থেকে মাটি এনে সেইটে পঞ্চগব্য দিয়ে মেখে বিরোচন মন্ত্র পড়তে হবে । তার পরে সেই মাটিতে ছোটো ছোটো মন্দির গড়ে তার উপরে ধ্বজ বসিযে দিতে হবে। এমন হাজারটা গড়ে তবে সূর্যাস্তের পরে জলগ্ৰহণ । দাদাঠাকুর । ফল কী হবে। পঞ্চক। প্রেতলোকে পিতামহদের ঘর তৈরি হয়ে যাবে। দাদাঠাকুর । যারা ইহলোকে আছে তাদের জন্যে— পঞ্চক। তাদের জন্যে ঘর এত সহজে তৈরি হয় না। চললুম ঠাকুর, আবার কবে দেখা হবে জানিনে । তোমার এই হাতের স্পর্শ নিয়ে চললুম—এ-ই আমার সঙ্গে সঙ্গে যাবে—এ-ই আমার নাগপাশবাধন আলগা করে দেবে । ওই আসছে শোণপাংশুর দল—আমরা এখানে বসে আছি দেখে ওদের ভালো লাগছে না, ওরা ছটফট করছে। তোমাকে নিয়ে ওরা হুটোপাটি করতে চায়—করুক, ওরাই ধন্য, ওরা দিনরাত তোমাকে কাছে পায়। দাদাঠাকুর। হুটোপটি করলেই কি কাছে পাওয়া যায়। কাছে আসবার রাস্তাটা কাছের লোকের চোখেই পড়ে না। শোণপাংশুদলের প্রবেশ প্রথম শোণপাংশু ও কী ভাই পঞ্চক, যাও কোথায় । পঞ্চক। আমার সময় হয়ে গেছে, আমাকে যেতেই হবে। দ্বিতীয় শোণপাংশু । বাঃ সে কি হয়। আজ আমাদের বনভোজন, আজ তোমাকে ছাড়ছিনে।