পাতা:অচলায়তন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অচলায়তন Mか○ জয়োত্তম। দেখে তৃণাঞ্জন, আস্তাকুঁড়ের ছাই দিয়ে তোমাৰ এই মুখের গর্তটা ভরিয়ে দিতে হবে। একটু থামো না। আচার্য। গুরু চলে গেলেন, আমরা তাব জায়গায় পুথি নিয়ে বসলুম ; তার শুকনো পাতায় ক্ষুধা যতই মেটে না ততই পুথি কেবল বাড়াতে থাকি । খাদ্যের মধ্যে প্রাণ যতই কমে তার পরিমাণ ততই । বেশি হয়। সেই জীর্ণ পুথির ভাণ্ডারে প্রতিদিন তোমরা দলে দলে আমার কাছে তোমাদের তরুণ হৃদয়টি মেলে ধরে কী চাইতে এসেছিলে । অমৃতবাণী ? কিন্তু আমার তালু যে শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। রসনায় যে রসের লেশমাত্র নেই। এবার নিয়ে এসো সেই বাণী, গুরু, নিয়ে এসে হৃদয়ের বাণী। প্রাণকে প্রাণ দিয়ে জাগিয়ে দিয়ে যাও। পঞ্চক। (ছুটিয়া প্রবেশ করিয়া) তোমার নববর্ষার সজল হাওয়ায় উড়ে যাক সব শুকনো পাতা—আয় রে নবীন কিশলয়—তোরা ছুটে আয়, তোরা ফুটে বেরো। ভাই জয়োত্তম, শুনছ না, আকাশের ঘন নীল মেঘের মধ্যে মুক্তির ডাক উঠেছে—আজ নৃত্য কররে নৃত্য করু। গান ওরে ওরে ওরে আমার মন মেতেছে তারে অাজ থামায় কে রে । সে যে আকাশ পানে হাত পেতেছে তার আজ নামায় কে রে । প্রথমে জয়োত্তমের, পরে বিশ্বস্তরের, পরে সঞ্জীবের নৃত্যগীতে যোগ মহাপঞ্চক। পঞ্চক, নির্লজ্জ বানর কোথাকার, থাম বলছি থাম্‌!