পাতা:অচলায়তন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


이 있 অচলায়তন দিনের পর দিন কী ভার বয়েই বেড়িয়েছি। কিন্তু কতই সহজ, সরল প্রাণ নিয়ে সেই পারের কাণ্ডারীর খেয়ায় চড়ে বসা । পঞ্চক । আমি দেখছি দৰ্ভক জাতের একটা গুণ—ওরা একেবারে স্পষ্ট করে নাম নিতে জানে। আর তট তট তোতয় তোতয় করতে করতে আমার জিবের এমনি দশা হয়েছে যে, সহজ কথাটা কিছুতেই মুখ দিয়ে বেরোতে চায় না। আচার্যদেব, কেবল ভালো করে না ডাকতে পেরেই আমাদের বুকের ভিতরটা এমন শুকিয়ে এসেছে, একবার খুব করে গলা ছেড়ে ডাকতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু গলা খোলে না যে—রাজ্যের পুথি পড়ে পড়ে গলা বুজে গিয়েছে প্রভু। এমন হয়েছে আজ কান্না এলেও বেধে যায় । আচার্য । সেইজন্যেই তো ভাবছি আমাদের গুরু আসবেন কবে । জঞ্জাল সব ঠেলে ফেলে দিয়ে আমাদের প্রাণটাকে একেবারে সরল করে দিন—হাতে করে ধরে সকলের সঙ্গে মিল করিয়ে দিন । , পঞ্চক । মনে হচ্ছে যেন ভিজে মাটির গন্ধ পাচ্ছি, কোথায় যেন বর্ষা নেমেছে ৷ আচার্য । ওই পঞ্চক শুনতে পাচ্ছি কি ? পঞ্চক। কী বলুন দেখি ? আচার্য । আমার মনে হচ্ছে যেন সুভদ্র কাদছে । পঞ্চক । এখান থেকে কি শোনা যাবে ? এ বোধ হয় আর-কোনো শবদ । আচার্য। তা হবে পঞ্চক, আমি তার কান্না আমার বুকের মধ্যে করে এনেছি। তার কান্নাট এমন করে আমাকে বেজেছে কেন জান ? সে যে কান্না রাখতে পারে না তবু কিছুতে মানতে চায় না সে র্কাদছে ।