পাতা:অচলায়তন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অচলায়তন ৯৯ দাদাঠাকুর । ওরা তোমাকে গ্রহণ করতে চাচ্ছে না, সেইজন্যেই ওখানে তোমার সবচেয়ে দরকার। ওরা তোমাকে ঠেলে দিচ্ছে বলেই তুমি ওদের ঠেলতে পারবে না। পঞ্চক । আমাকে কী করতে হবে ? দাদাঠাকুর । যে যেখানে ছড়িয়ে আছে সবাইকে ডাক দিয়ে আনতে হবে । পঞ্চক। সবাইকে কি কুলোবে ? দাদাঠাকুর । না যদি কুলোয় তাহলে এমনি করে দেয়াল আবার আর-একদিন ভাঙতেই হবে সেই বুঝে গেথো—আমার আর কাজ বাড়িয়ে না। পঞ্চক । শোণপাংশুদের— দাদাঠাকুর। হা, ওদেরও ডেকে এনে বসাতে হবে, ওরা একটু বসতে শিখুক । পঞ্চক। ওদের বসিয়ে রাখা ! সর্বনাশ । তার চেয়ে ওদের ভাঙতে চুরতে দিলে ওরা বেশি ঠাণ্ড থাকে। ওরা যে কেবল ছটফট করাকেই মুক্তি মনে করে। দাদাঠাকুর । ছোটো ছেলেকে পাক বেল দিলে সে ভারি খুশি হয়ে মনে করে এটা খেলার গোল । কেবল সেটাকে গড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। ওরাও সেইরকম স্বাধীনতাকে বাইরে থেকে ভারি একটা মজার জিনিস বলে জানে–কিন্তু জানে না স্থির হয়ে বসে তার ভিতর থেকে সার পদার্থ টা বের করে নিতে হয়। কিছুদিনের জন্যে তোমার মহাপঞ্চকদাদার হাতে ওদের ভার দিলেই খানিকটা ঠাণ্ড হয়ে ওর নিজের ভিতরের দিকটাতে পাক ধরাবার সময় পাবে। পঞ্চক। তাহলে আমার মহাপঞ্চকদাদাকে কি ওইখানেই—