পাতা:অচলায়তন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


У о о অচলায়তন দাদাঠাকুর । ই ওইখানেই বই কি ! তার ওখানে অনেক কাজ । এতদিন ঘর বন্ধ করে অন্ধকারে ও মনে করছিল চাকাটা খুব চলছে, কিন্তু চাকাটা কেবল এক জায়গায় দাড়িয়ে ঘুরছিল তা সে দেখতেও পায়নি। এখন আলোতে তার দৃষ্টি খুলে গেছে, সে আর সে-মানুষ নেই। কী করে আপনাকে আপনি ছাড়িয়ে উঠতে হয় সেইটে শেখাবার ভার ওর উপর। ক্ষুধাতৃষ্ণা-লোভভয়-জীবনমৃত্যুর আবরণ বিদীর্ণ করে আপনাকে প্রকাশ করার রহস্য ওর হাতে আছে । আচার্য। আর এই চির-অপরাধীর কী বিধান করলে প্রভূ । দাদাঠাকুর । তোমাকে আর কাজ করতে হবে না আচার্য । তুমি আমার সঙ্গে এসে । আচার্য । বাচালে প্রভু, আমাকে রক্ষা করলে | আমার সমস্ত চিত্ত শুকিয়ে পাথর হয়ে গেছে—আমাকে আমারই এই পাথরের বেড়া থেকে বের করে আনে । আমি কোনো সম্পদ চাইনে—আমাকে একটু রস দাও । দাদাঠাকুর । ভাবনা নেই আচার্য ভাবনা নেই—আনন্দের বর্ষা নেমে এসেছে—তার ঝর ঝর শব্দে মন নুত্য করছে আমার । বাইরে বেরিয়ে এলেই দেখতে পাবে চারিদিক ভেসে যাচ্ছে। ঘরে বসে ভয়ে কঁপিছে কারা । এ ঘনঘোর বর্ষার কালো মেঘে আনন্দ, তীক্ষু বিদ্যুতে আনন্দ, বজের গর্জনে আনন্দ । আজ মাথার উষ্ণীষ যদি উড়ে যায় তো উড়ে যাক, গায়ের উত্তরীয় যদি ভিজে যায় তো ভিজে যাক—আজ দুর্যোগ একে বলে কে । আজ ঘরের ভিত যদি ভেঙে গিয়ে থাকে যাক ন— আজ একেবারে বড়ো রাস্তার মাঝখানে হবে মিলন । স্বভদ্রের প্রবেশ l সুভদ্র । গুরু । দাদাঠাকুর। কী বাবা ।