পাতা:অজাতশত্রু শ্রীমৎ স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজের অনুধ্যান - মহেন্দ্রনাথ দত্ত.pdf/১৩২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১১৬ অজাতশত্ৰু শ্ৰীমৎ স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজের অনুধ্যান বিকাশের চরম অবস্থা হইল শক্তিকে সংযত করিয়া রাখা - The greatest display of energy is in controlling the energy. প্রথমে একটা ইষ্টনাম বা পবিত্র শব্দ অনবরত আবৃত্তি করিতে হয়। এইরূপ পুনঃ পুনঃ উচ্চারণ করিলে দেহের ভিতর স্পন্দন আসে। প্রথমে স্পন্দন বিরক্তিকর ও কষ্টদায়ক হয় এবং বহির্মুখী হইয়া প্রধাবিত হইতে চায়। তখন কিছুক্ষণের জন্য তাহার ইচ্ছামত গতি হইতে দেওয়া আবশ্যক; কারণ, বহিমুখী শক্তি অল্পক্ষণের মধ্যে ক্লান্ত ও বিভক্ত হইয়া যায় এবং এইরূপে বহির্গামী গতি পরিত্যক্ত হইলে, মনের চিন্তাস্রোত অন্তর্মুখী হইতে চেষ্টা করে। মনের সাধারণ অবস্থা হইল বহিমুখী, অন্তমুখী নয়। এইজন্য, বিশেষ প্রয়াস করিয়া মনকে অন্তর্মুখী করিতে হয়। শক্তি যখন এইরূপ অন্তর্মুখী হয়, তখন দেহের মধ্যে নানাপ্রকার যন্ত্রণা হয়। | দেহ হইল পরমাণুপুঞ্জ গঠিত বহুসংখ্যক স্নায়ুর একত্রীভূত সমষ্টিমাত্র। যেমন খড়ের আটি একত্রীভূত করিয়া রাখা হয় – স্নায়ুপুঞ্জ ঠিক তপ। এক একটী স্নায়ু এক একটা ভাব বা উদ্দেশ্যের জন্য নির্মিত। দুই ভাব এক স্নায়ুর ভিতর দিয়া প্রধাবিত হয় না; যেমন শৈত্য বা উষ্ণতার জন্য দুইটা পৃথক স্নায়ু, দৃঢ়তা বা কমনীয়তার জন্য অপর দুইটী বিভিন্ন স্নায়ু, ইত্যাদি থাকে। শক্তি যখন প্রথম বহির্মুখী হইতে অন্তমুখী হয়, তখন অনভ্যাস বশতঃ স্নায়ুপুঞ্জ নিতান্ত উদ্বেলিত হইয়া উঠে।