পাতা:অজাতশত্রু শ্রীমৎ স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজের অনুধ্যান - মহেন্দ্রনাথ দত্ত.pdf/১৫৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অজাতশত্রু শ্রীমৎ স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজের অনুধ্যান ১৪৩ ‘দ্বাণুক, ইহাও আমাদের চিন্তার অতীত। তৃতীয় অবস্থা হইল - ‘সরেণু, ইহাই আমাদের চিন্তার গােচর বস্তু। এইজন্য, এই ‘সরেণু’কে ‘চিং-জড়-গ্রন্থি বলা হয়; কিন্তু পূৰ্ব্বকথিত কয়েকটী অবস্থা হইতে মন অতীন্দ্রিয় অবস্থায় উঠিলে, অর্থাৎ, সূক্ষ্ম-স্নায়ুতে প্রধাবিত হইলে, ত্রসরেণুতে স্নায়ুর উৎপত্তি ক্ষেত্র অনুভূত হয়। এই ত্রসরেণু ইত্যাদি শক্তি হইতে উদ্ভুত, শক্তির দ্বারা পরিচালিত এবং শক্তির দ্বারা আবরিত। এই আবরণী শক্তি অধিকতর সক্রিয়। ইহাকেই অপর ভাষায় বলা হয় - প্রকৃতি সক্রিয় এবং পুরুষ অপেক্ষাকৃত নিষ্ক্রিয়। এই ‘পুরুষ’ ও ‘প্রকৃতির’ ভাবই স্নায়ু-পুঞ্জ হইতে উদ্ভূত। প্রত্যেক পরমাণুর অনবরত কম্পন বা প্রকম্পন হইতেছে। প্রকম্পন হইল সৃষ্টির আদি কারণ ; দেহ হইল প্রকম্পমান পরমাণুর স্রোত, উহা বহিদেশ হইতে বহু ছিদ্র দিয়া এককেন্দ্রে আগমন করিতেছে এবং বহু ছিদ্র দিয়া অপসারিত হইতেছে। প্রত্যেক পরমাণু নূতনভাবে আসিতেছে এবং পুরাতন সকল পরমাণুই পরিবর্তিত হইতেছে। অনবরত এই পরিবর্তনের মধ্যে যাহাই স্থিতি, তাহাকেই ‘দেহ’ বলিয়া থাকি। অপর একটা কথা, মৌমাছি যেমন মৌচাকের উপর অনবরত উড়িতে থাকে এবং দোদুল্যমান থাকে, কিন্তু দূর হইতে দেখিলে সমস্ত মধুমক্ষিকা যেন একস্থলে বসিয়া আছে বলিয়া বােধ হয় - দেহও সেইরূপ দোদুল্যমান পরমাণুসমূহের একটা সমষ্টিকৃত বা পুঞ্জীভূত পদার্থ। বিশেষভাবে অনুধাবন করিয়া দেখিলে,