পাতা:অজাতশত্রু শ্রীমৎ স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজের অনুধ্যান - মহেন্দ্রনাথ দত্ত.pdf/৫০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৩৪ অজাতশত্রু শ্রীমৎ স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজের অনুধ্যান খানিকক্ষণ বই পড়িয়া, মুখটী উচু করিয়া তুলিয়া সে যেন কি দেখিত, বইয়ের দিকে তাহার দৃষ্টি নাই। হয়ত বা একবার তামাক খাইল, না হয় উঠিয়া চলিয়া যাইল। আবার এক দিন বা দুয়ারে খিল দিয়া বসিয়া খুব বই পড়িত। আবার কখন কখন অতিশয় উদ্বিগ্ন হইয়া উঠিত। কখন কখন হুটকো গােপাল ( ছোট গােপাল) বেলা তিনটা বা চারিটার সময় আসিয়া নরেন্দ্রনাথকে লইয়া যুবা শরতের বাড়ীতে যাইত এবং সেখান হইতে কয়েকজনে মিলিয়া অবশেষে বলরাম বাবুর অথবা গিরিশ বাবুর বাড়ীতে যাইত। লাটুও মাঝে মাঝে রামতনু-ব-গলির বাড়াতে আসিত। লাটুকে দেখিতাম যে সে আর পূর্বকার লাটু নাই, তাহার পূর্বকার ভাব আর নাই। কয়েক মাস পূর্বে যে চাকর ছিল, মনিবের সহিত কথা কহিতে সঙ্কোচ করিত, পাশে বসিতে কখনও সাহস করিত না—সেই লাটুকে এখন দেখিলাম যে, রামতনু-বসু-গলির বাড়ীতে উপরের ঘরে আসিয়া দক্ষিণদিকের দেওয়ালে ঠেস দিয়া সমানভাবে বসিল। সে যেন সকলের সমান হইল। লাটুর এই পরিবর্তন বিশেষ লক্ষ্য করিবার বিষয়। দেখিলাম তাহার মুখ হাস্যময়, হৃদয় পরিপূর্ণ, বুকে একটা জোর আসিয়াছে এবং খুব উচ্চাঙ্গের কথা কহিতেছে। আমি মনে করিতে লাগিলাম—“বাঃ রে, লেটো আবার কি হয়ে গেল !” আমার মা লটুকে পূর্বের মত কি আদেশ করিতে গিয়াছিলেন। নরেন্দ্রনাথ অতি সঙ্কোচে