পাতা:অজাতশত্রু শ্রীমৎ স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজের অনুধ্যান - মহেন্দ্রনাথ দত্ত.pdf/৮৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অজাতশত্রু শ্রীমৎ স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজের অনুধ্যান ৭১ বাড়ী-ঘর ইত্যাদি বিশেষ কিছুই ছিল না। সেইজন্য, কোন জিনিষ সংগ্রহ করা অতীব দুরূহ কাৰ্য্য ছিল। আমি তাহার কয়েক বৎসর পরে গিয়াও প্রায় এইরূপই দেখিয়াছিলাম। তখন কেবলমাত্র হরিদ্বার পর্যন্ত সামান্য রেলপথ হইয়াছে ; কিন্তু তখন পৰ্যন্তও চলিবার রাস্তা-ঘাট এবং সং নদীর উপর পুল হয় নাই। শুনিয়াছি, হৃষীকেশে নরেন্দ্রনাথের কঠিন পীড়া হয়। নরেন্দ্রনাথ একটু সুস্থ হইলে খিচুড়ি খাইতে ইচ্ছা প্রকাশ করে। এইরূপ নিবিড় জঙ্গলময় স্থানে খিচুড়ির জন্য চাল ডাল ইত্যাদি জোগাড় করা খুবই দুঃসাধ্য ছিল, কিন্তু তাহা হইলেও সকলে মিলিয়া চাল ডাল ইত্যাদি জোগাড় করিল। রাখাল বালক-স্বভাব-এক ডেলা মিছরি লইয়া খিচুড়ির ভিতর দিল। নরেন্দ্রনাথ ঝালখাের লােক, মিষ্ট জিনিষ একেবারেই ভালবাসিত । সে খিচুড়ি খাইয়া দেখিল যে, উহা মিষ্ট ঠেকিতেছে, আর খিচুড়ির ভিতর হইতে একটা লম্বা সূতা বাহির হইল। তখন নরেন্দ্রনাথ জিজ্ঞাসা করিল, “খিচুড়িতে একটা সূতত কেন রে? আর খিচুড়ি এত মিষ্টি হয়েছে কেন?” সকলে বলিল, “রাখাল খিচুড়িতে এক ডেলা মিছরি ফেলে দিয়েছে।” তখন নরেন্দ্রনাথ ব্যঙ্গ ও কৌতুক করিয়া বলিল, “শালা রাখাল, এ তাের কাজ, তুই খিচুড়িতে মিষ্টি দিয়েছি।” বহুকাল পরেও সান্ন্যাল মহাশয় এই কথা তুলিয়া রাখালকে লইয়া কৌতুক করিতেন।