পাতা:অজাতশত্রু শ্রীমৎ স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজের অনুধ্যান - মহেন্দ্রনাথ দত্ত.pdf/৯০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৭৪ অজাতশত্রু শ্রীমৎ স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজের অনুধ্যান সর্দার হরি সিং তাপস রাখালকে বিশেষ শ্রদ্ধা করিতেন। একদিন তিনি জানুর উপর বসিয়া, জোড় হাত করিয়া তাপস রাখালের কাছে আশীর্বাদ ভিক্ষা করিয়া বলিলেন, “দেখুন, আমার পিতামহ লড়াইয়ে মরেছেন। আমার পিতার গায়ে অনেক তরােয়ালের চোটের দাগ ছিল। আমি বংশের এমন অপদার্থ ছেলে যে, বংশের দুনাম কলুম; আমার গায়ে তৰােয়ালের একটাও দাগ নেই। লােকের কাছে বংশ-পরিচয় দিতে মাথা হেঁট হয়। আপনি আশীর্বাদ করুন, যেন আমি লড়াইয়েতে মরি।” তাপস রাখাল এই কথা শুনিয়া স্তম্ভিত হইল—রাজপুতদিগের কি জাতিগত ভাব! অর্থ চাহিলেন না, কেবলমাত্র আকাক্ষা—বংশপ্রথানুযায়ী যুদ্ধতে প্রাণত্যাগ করিতে পারেন। তাপস রাখাল নিজের বিবেচনা অনুযায়ী আশীর্বাদ করিয়াছিল। পরে সর্দার হরি সিং আফগানিস্থানের একটী যুদ্ধে ইংরাজের পক্ষে অতি বীরত্বের সহিত যুদ্ধ করিয়াছিলেন এবং যুদ্ধে জয়লাভ করিয়াছিলেন। সর্দার হরি সিং-এর এই উপাখ্যানটী বিশেষ করিয়া ভাবিবার বিষয়। রাজপুতদিগের মনােবৃত্তি যে কি, তাহা ইহা হইতে প্রতীয়মান হয়। কারণ, রাজপুত হাস্য-কৌতুক করিয়া, এই বলিয়া উল্লাস-ধ্বনি করে “রাজপুত হােকে রণ জো ছােড়, কওয়া উসকা মাংস না খাবে।” অর্থাৎ, রাজপুত হইয়া যে রণ ত্যাগ করিয়া পলাইয়া