পাতা:অদ্ভুত ফকির - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
দারোগার দপ্তর, ১৯৫ সংখ্যা।

আমার বিলক্ষণ জানা ছিল। কাজেই কনষ্টেবলকে বিদায় দিলাম।

 আলিপুরের সরকারের বিখ্যাত ধনবান পরিবার। তাঁহাদের নাম ডাক যথেষ্ট। বাড়ীতে সকল প্রকার ক্রিয়া-কলাপের অনুষ্ঠান হইয়া থাকে। কিন্তু এ পর্য্যন্ত আমার সহিত তাঁহাদের কোনরূপ পরিচয় হয় নাই।

 অর্দ্ধ ঘণ্টার মধ্যে একখানি গাড়ী আনাইয়া তাহাতে আরোহণ পূর্ব্বক গন্তব্যস্থানে যাইতে লাগিলাম। বেলা প্রায় নয়টা বাজিলেও পথে অধিক লোকের সমাগম নাই। পথের উভয় পার্শ্বের মাঠ সকল ফল-পুষ্পে সুশোভিত বৃক্ষশ্রেণী দ্বারা পরিপূর্ণ। কৃষকগণ মাঠে গোচারণ ও বৃক্ষপরিচর্য্যায় নিযুক্ত।

 প্রায় আধ ঘণ্টা শকটারোহণে গমন করিবার পর আমরা সরকারদিগের বাড়ীর নিকটবর্ত্তী হইলাম। দেখিলাম, নিকটস্থ মাঠ সকলে বৃক্ষাদির নামগন্ধও নাই, তদ্ভিন্ন মাঠগুলির অবস্থা দেখিলে বোধ হয়, যেন কাহারও সে দিকে ভ্রুক্ষেপ নাই।

 আমি দেখিলাম, সেই সকল মাঠের নিকটবর্ত্তী অন্যান্য মাঠ সকল বেশ উর্ব্বরা, সেখানে সকল বৃক্ষই ফল-পুষ্পে সুশোভিত, অথচ এই মাঠগুলির অবস্থা অতি শোচনীয়। ইহার কারণ কি, জানিবার জন্য আমার কৌতূহল জন্মিল। আমি আমার সমভিবাহারী আবদুল কাদের নামক কর্ম্মচারীকে জিজ্ঞাসা করিলাম, আবদুল কাদের! এই মাঠগুলির অবস্থা এমন কেন? দেখ দেখি, ইহার নিকটস্থ মাঠগুলি কেমন সুন্দর? আর এ গুলির অবস্থা দেখিয়া সত্যই আমার বড় কষ্ট হইতেছে। তুমি এদিকে আর কখনও আসিয়াছিলে কি?”