পাতা:অধিকার-তত্ত্ব.pdf/১৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


鸟 অধিকার-তত্ত্ব | | মুসলমান ধৰ্ম্ম অতি সঙ্কীর্ণ ; তাহাতে নানা অধিকারী একত্রে স্থান পাইতে পারে না । বাইবেল ও কোরাণ অতি দুৰ্ব্বলাধিকারী বা উন্নত-ব্রহ্মজ্ঞানীর উপযুক্ত নহে ; কিন্তু হিন্দুশাস্ত্রে সৰ্ব্ব-প্রকার অধিকারীর উপযুক্ত উপাসনা প্রণালী বর্তমান । ম্লেচ্ছ-মগুলে ব্রহ্মজ্ঞানী হইলে ইস, মুসা, মহম্মদকে ছাড়া যায় না । এদেশে ব্রহ্মজ্ঞানী হুইলে দেবগণকে শাস্ত্রানুসারেই ছাড়িতে হয় । অতএব ভিন্ন ভিন্ন সম্প্রদায় ও বিভিন্ন অধিকারের লোককে একত্রে বা স্বতন্ত্র স্বতন্ত্ররূপে একায়তনে ছায়ণদান করিতে পারে, এমত ধৰ্ম্ম ধরণীতে যদি থাকে তাহ হিন্দুধৰ্ম্ম—যাহা স্বাভাবিক প্রভাব-শালী পদার্থের অপরাধনা করিতে করিতে অন্তে ব্ৰহ্ম-পূজায় আরোহণ করিয়াছিল । এমত লক্ষণাক্রান্ত হিন্দুধৰ্ম্ম থাকিতে ভারতে কিছুতেই অন্যধৰ্ম্ম প্রচারিত হইতে পরিবে না ।—হিন্দুধৰ্ম্ম একখানি শাস্ত্রও নহে, একটি বিশেষ মতও নহে । ঈশ্বর মানবকে যখন যে ষে অবস্থায় লইয়া গিয়াছেন—সেই ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় মানব ষে যে প্রকার ধৰ্ম্ম গ্রহণে অধিকারী ছিলেন, হিন্দুশাস্ত্র সকল তাহারই পুরাবৃত্ত স্বরূপ । অধিকার-ভেদে তাহার অনুসরণ করার নামই হিন্দুধৰ্ম্ম । এদেশে ইন্দ্রাদি ভৌতিক দেবগণের পূজা হইয়াছে, বেদ তাহার পরিচয় দিতেছে ; ব্রহ্মারাধনা হইয়াছে, উপনিষৎ তাহার প্রমাণ দিতেছে ; পুত্তলিকার পূজা হইতেছে, পুরাণ তন্ত্র তাহার শাস্ত্র রহিয়াছে। এই সকল শাস্ত্রই একে একে ভূভার-হরণের নিমিত্তে ভারতে প্রকাশ পাইয়াছিল ।