প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অনাথবন্ধু.pdf/২৮৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তথাগত ধৰ্ম্ম । [ জনৈক অভিজ্ঞ বৌদ্ধাচাৰ্য্য কর্তৃক লিখিত। ] তথ্যাগতের ধৰ্ম্ম বিস্ময়কার ; ভারতে ইংরেজের আগমন অবধি ইহা যুরোপীয় দেশমধ্যে বিস্তৃতিলাভ করিতেছে। DDDSDKS uS LDDSDBBBS DBBDBS SDBDBBBS সুইডেন, বেলজিয়াম, হল্যাণ্ড, ইটালী, সুইটজারল্যাণ্ড প্রভৃতি দেশের বিদ্বন্মণ্ডলী ভগবান বুদ্ধদেবের প্রবর্তিত ধৰ্ম্মের আলোচনা করিতেছেন এবং সংস্কৃত, পালি, চীনা, সিংহলী, বক্ষ্মীজ, শ্যামদেশের ও তিববতীয় ভাষায় লিখিত গ্রন্থের অনুবাদ যুরোপীয় ভাষায় প্ৰকাশিত করিতেছেন। যে ভারতবর্ষ গঙ্গা, যমুনা, গোদাবরী, নৰ্ম্মদ প্ৰভৃতি নদীজলে বিধৌত চাইতেছে, সেই ভারতবর্ষের মধ্যভাগেই ভগবান বুদ্ধদেবের বাস। নগরাজ হিমালয়ের অত্যুঙ্গ শৃঙ্গ হইতে সিংহল দ্বীপের দক্ষিণপ্ৰান্ত পৰ্য্যন্ত দেবগণ বুদ্ধদেবের গুণগান করিতেছেন । ভারত যখন ভারতীয় রাজার অধীন ছিল, তখন উহা বৌদ্ধ দেশ ছিল। ২২০০ বৎসর পূৰ্ব্বে মহারাজ অশোক বৌদ্ধধৰ্ম্ম গ্ৰহণ করতঃ এসিয়াখণ্ডের সর্বত্র ঐ ধৰ্ম্ম প্ৰচারিত করিয়াছিলেন। তিনি তাহার পুত্ৰ মহেন্দ্র ও কন্যা সজঘমিত্ৰাকে সিংহলে ধৰ্ম্মপ্রচারার্থ প্রেরণ করিয়াছিলেন । র্তাহাদের ধৰ্ম্মপ্রচারের ফলে শৈব-সিংহলীগণ র্তাহাদের রাজা প্রিয়তিয্যের সহিত বৌদ্ধধৰ্ম্ম গ্ৰহণ করিয়াছেন । তদবধি আজ ২২০০ বৎসর সিংহলীরা ঐ ধৰ্ম্ম পরিত্যাগ করে নাই । সিংহল হইতে শু্যামদেশে ও ব্ৰহ্মদেশে বৌদ্ধধৰ্ম্ম প্ৰচারিত হইয়াছে। মুসলমানগণ যদি ভারতে এবং হিন্দুকুশ পৰ্ব্বতের পশ্চিমস্থিত দেশসমূহে বৌদ্ধধৰ্ম্মের বিনাশসাধন না করিত, তাহা হইলে বর্তমান সময় পৰ্যন্ত ভারতে বৌদ্ধধৰ্ম্মই প্ৰবল থাকিত। পঞ্চদশ শতাব্দীতে ব্যবদ্বীপে বৌদ্ধধৰ্ম্ম বিলুপ্ত হয়। আরবগণ ঐ ধৰ্ম্মের বিনাশসাধন করে। বরোবদোরের ধ্বংসাবশেষ হইতে ত্ৰয়োদশ ও চতুৰ্দশ শতাব্দীতে বৌদ্ধশিল্প কিরূপ উন্নত ও জমকালো ছিল, তাহার পরিচয় পাওয়া যায়। এই পবিত্ৰ দিয়ামূলক ধৰ্ম্ম তাহার জন্মভূমি হইতে নিৰ্বাসিত হইয়াছে, ইহা অপেক্ষা দুঃখের বিষয় আর কি হইতে পারে ? আট শত বৎসর পূর্বে যদি এই D BDBBDBD BDBu BBBD DO DBBDS DBDD DBB DDDBS ব্ৰহ্ম, শুখাম, জাপান, চীন, তিববত প্ৰভৃতি দেশে উহা যেমন প্রবল রহিয়াছে, ভারতেও সেইরূপ প্ৰবল থাকত। প্ৰাচীন ভারতীয় বৌদ্ধগণ। কৰ্ম্মবীর ছিলেন, সেই জন্যই তঁাহারা হিমালয়ের পরপারে এবং সাগরপারস্থ দ্বীপসমূহে এই ধৰ্ম্ম প্রচারিত করিয়াছিলেন । তাহারা যখন দেখিলেন যে, অন্য দেশের জনসাধারণের কোন ধৰ্ম্ম নাই, তখন সেই সমস্ত মানবজাতির জন্য তঁহাদের হৃদয় বিগলিত হইয়াছিল, সেই জন্যই তাহারা তাহাদের দুঃখ দূর করিবার মানসে তাহাদের নিকট সদ্ধৰ্ম্মের প্রচার করেন । বৌদ্ধধৰ্ম্ম মানবকে অমঙ্গল পরিহার করিতে, মঙ্গলানুষ্ঠান করিতে এবং হৃদয় পবিত্ৰ করিতে শিক্ষা দেয়। মনে রাখিবেন যে, যে সময় বৌদ্ধধৰ্ম্ম প্রচারিত হইতে আরব্ধ হয়, সে সময় খৃষ্টানধৰ্ম্ম বা মুসলমান ধৰ্ম্ম জন্মগ্রহণ করে নাই ; তখন অন্য দেশের লোক কৰ্ম্মবাদ, পুনর্জন্মবাদ, পবিত্র ব্ৰহ্মচর্যোর উপকারিতা, স্বৰ্গ, নরক ও অন্যান্য লোকের কথা কিছুই অবগত ছিল না । বুদ্ধ ভগবান সেই জন্য ভিক্ষুদিগকে অজ্ঞানান্ধকারে নিমগ্ন দুঃখপীড়িত ব্যক্তিদিগের প্রতি দয়া করিতে আদেশ করিয়া গিয়াছিলেন । অজ্ঞতা অপেক্ষা মানবের আর অধিকতর দুঃখ কি আছে ? জ্ঞানই মানুষকে সুখী করে, জাতি বা ধনসমৃদ্ধি মানবকে সুখী করিতে পারে না । জাতি যদি সুখপ্রদানে সমর্থ হইত, তাহা হইলে সাধুতার প্রয়োজন হইত না। অর্থ, গোধন ও শস্যাদি। যদি মানুষকে সুখী করিতে পারিত, তাহা হইলে ধৰ্ম্মের আবশ্যকতা থাকিস্ত না। মানুষ চাহে-মনের সুখ ; কেবল মাত্ৰ ঐশ্বৰ্য্য, জাতি বা পুস্তকগত বিদ্যা সে সুখদানে সমর্গ নহে। নিরীহ গো, ছাগ, মেষ বলি দিলে বা শরীরকে কষ্ট দিলে মানুষকে সুখ ও মানসিক শান্তি দিতে পারে না । । মনের শান্তি বার্তত প্ৰকৃত সুখলাভ সম্ভাবে না । তবে কি প্রকারে শান্তিলাভ করা যায়, সেই তত্ত্ব বুঝাইয়া দিবার জন্য ভগবান বুদ্ধদেব মহান অষ্ট্রপথিসমন্বিত আৰ্য্যধৰ্ম্ম নামক ব্ৰহ্মচৰ্য্যধৰ্ম্ম প্রচার করিয়া গিয়াছেন । এই ধৰ্ম্মের অনুবাৰ্ত্তন করিলে মানব মনের শান্তি ও সন্তোষ লাভ করে এবং তাহার ঘূণা, অজ্ঞতা, লোভজনিত যন্ত্রণার নিবৃত্তি হয়। চিরস্থায়ী শান্তি কি, তাহা বুদ্ধ ভগবান ধরাবাসীকে দিয়া গিয়াছেন এবং তাহা বুঝাইয়া দিবার জন্যই ত্রিপিটকে নির্দেশিত ধৰ্ম্মশিক্ষা দিয়া গিয়াছেন। বিনয়-পিটক, সুত্ৰ-পিটক ও অভিধৰ্ম্মপিটকই ত্রিপিটক নামে অভিহিত । সৰ্ব্ব পাপসাস অকারণং। কুসলসস গুণসম্পদ ॥ সচিত্ত পরিয়োদীপনাম। এতং বুদ্ধান সাসনং ॥ প্ৰথম ছত্রের উপদেশ,-কাৰ্য্যে, কথায় ও চিন্তায় মন্দকে পরিহার করিবে । দ্বিতীয় ছত্রের উপদেশ,-কাৰ্য্যে, কথায় ও চিন্তায় সুকাৰ্য্যের অনুষ্ঠান করিবে। তৃতীয় ছত্রের উপদেশ,-যোগ ও ধ্যানদ্বারা মনকে , পবিত্ৰ করিবে।