প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অনাথবন্ধু.pdf/৯৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কৃষি । জমী শুষ্ক হইলে অর্থাৎ একেবারে নীরস হইলে তাহাতে ফসল জন্মে না। তবে কোন মাটিই একেবারে রসহীন হয় না । জমীতে যে পরিমাণ রস থাকিলে শস্য ভালভাবে জন্মিতে পারে, সেই পরিমাণ রস যদি উহাতে না থাকে, তাহা হইলে তাহাতে শস্তোৎপত্তির ব্যাঘাত ঘটে । সেই জন্য অনাবৃষ্টি হইলে ফসল জন্মে না। সকল অঞ্চলে সমান বারিপাত হয় না ; কোন কোন অঞ্চলে স্বভাবতঃই বৃষ্টি অল্প হইয়া থাকে; ঐ সকল দেশের জমীও সেই জন্য নীরস হয়, তাহাতে প্রচুর ফসল জন্মে না ; হয় ত শেষকালে বারির অভাবে শস্য মরিয়া যায়। মৃত্তিকাতে যথেষ্ট রস থাকিলে শস্ত সহসা মরে না । সেই জন্য যে সকল অঞ্চলে অল্প বারি বর্ষিত হয়, সে সকল দেশের কৃষকরা জমী সিক্ত রাখিবার জন্য কতকগুলি উপায় অবলম্বন করিয়া থাকে । কানোডায় ও মার্কিণ মুলুকের কোন কোন স্থলে বৎসরে দশ এগার ইঞ্চির অধিক বারি বর্ষে না ; সুতরাং সেখানকার জমীতে যে রস থাকে, তাহা গম উৎপাদনের পক্ষে পৰ্য্যাপ্ত নহে ; সেই জন্য তাহারা জমীতে এক বৎসর অন্তর এক বৎসর চাষ করে, প্ৰতি বৎসর জমীতে ফসল উৎপন্ন করে না । পক্ষান্তরে জমীর এক বৎসরের রস যাহাতে পরবৎসর পৰ্য্যন্ত সঞ্চিত থাকে, তাহারও ব্যবস্থা করিয়া থাকে । জমীর মাথা বা উপরিভাগ যদি অ্যাটা বা কঠিন থাকে, তাহা হইলে জমীর রস বাষ্পাকারে উড়িয়া যায়, জমী শুষ্ক হইয়া পড়ে ; কিন্তু জমীর উপরে যদি ঝুরুঝুরে ধূলা থাকে, তাহা হইলে নীচের রস বা জলীয় অংশ উপরে উঠিয়া বাম্পে পরিণত হইতে পারে না । সেই জন্য যে বৎসর তাহারা জমী ফেলিয়া রাখে, উহাতে চাষ দেয় না, সে বৎসরও বার বার জমীতে লাঙ্গল ও মই দেয় । এই লাঙ্গল ও মইদ্বারা তাহারা তিন চারি ইঞ্চি মাটি উস্কাইয়া একেবারে অতি সুন্ম ধূলিতে পরিণত করিয়া রাখে ; জমীর উপরিভাগ শক্তি বা কঠিন হইতে দেয় না। তাহাতে ধূলির নিম্নস্থিত মৃত্তিকায় রস সঞ্চিত থাকে। তাহার পরে পরবৎসর যখন বৃষ্টি হয়, তখন সেই জমীতে যথেষ্ট রস সঞ্চিত হয়, তখন তাহাতে স্বচ্ছন্দে গম প্ৰভৃতি জন্মে। আমাদের দেশে বীরভূম, বাঁকুড়া প্ৰভৃতি জেলার কয়েক স্থানে বারিপাত অল্প হয়। তথকার কোন কোন জমী অত্যন্ত শুষ্ক বলিয়া তথায় সকল ফসল ভাল হয় না। আমার মনে হয়, ঐ সকল “জেলায় ঐরূপ জমীতে যদি উল্লিখিত উপায় অবলম্বিত হয়, তাহা হইলে সুফল ফলিতে পারে। কিন্তু একটা বিশ্বেষ কথা আছে। পাশাপাশি সকলে যদি সকলের জমীতে এই ভাবে কারকিৎ করে, তাহা হইলে উহার ফল অনেক ভাল হয়। এক জন যদি তাহার এক খণ্ড অতি ক্ষুদ্র জমীতে ঐ রূপ করে, তাহা হইলে डेशब क्ल आaiश्क़श्र श्म ना, डब किकू डाल श्रड পারে। ইহার কারণ এইখানে বলা যাইতে পারে। মৃত্তিকার জল টানিবার শক্তি আছে, এ কথা আমি পূৰ্ব্বেই বলিয়াছি। মাটি যে কেবল নিম্নদেশ হইতে উপরের দিকে বা উপরের দিক হইতে নীচের দিকে জল টানে, তাহা নহে, পাশাপাশিও বিলক্ষণ জল টানিয়া থাকে। সেই জন্য একখানি জমীর মাটি যদি সিক্ত থাকে, তাহা হইলে পাশের ক্ষেত্রের মাটিও সেই রস শুষিয়া লইতে পারে। প্ৰকৃতি সকলকে তঁহার আশীৰ্ব্বাদ সমানভাবে বাটিয়া দিতে চাহেন,-ৰ্তাহার পক্ষপাত নাই ; এক জনের কৃতকৰ্ম্মের সুফল বা কুফল সকলে ভোগ করে, ইহাই তাহার ব্যবস্থা। মানুষে আপনাদের সন্ধীর্ণতার ও অদূরদর্শিতার প্রভাবেই আত্মম্ভরী হইয়া উঠে। সেই জন্যই মানুষ কষ্ট পায়। একটু বিস্তীর্ণ জমীতে উল্লিখিত ব্যবস্থা করিলে ফল ভালই হইয়া থাকে। দুৰ্ভাগ্যক্রমে আমাদের দেশে এক এক যোতের পরিমাণ অতি অল্প, সেই জন্য একাকী বিচ্ছিন্নভাবে কোন কাজ করিলে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না । জমীতে কখনই কোনরূপ আগাছা বা তৃণগুল্মাদি জন্মিতে দেওয়া উচিত নহে। তৃণগুল্মাদি যে কেবল মৃত্তিকার রসLLB BBS BDBD DDDS S KKD DD DBD DB যাহা খাইয়া শস্যাদি পুষ্টিলাভ করে, আগাছা তাহাই খাইয়া ফেলে ; কাজেই ক্ষেত্রে যখন চাষ দিয়া শস্য বুনা হয়, তখন সেই শস্ত প্রচুর আহাৰ্য অভাবে শীর্ণ হইয়া যায় ; উচ্চার সেরূপ তেজ হয় না, ফসলও অধিক জন্মে না । সেই জন্য ক্ষেত পরিষ্কৃত ও পরিচ্ছন্ন রাখাই কৰ্ত্তব্য। আমাদের দেশের অনেক স্থানে কৃষকরা ক্ষেত বেশ পরিষ্কৃত করিয়া রাখে ; কিন্তু নিম্ন ও মধ্যম বঙ্গের স্থানে স্থানে কৃষকরা এ বিষয়ে কতকটা উদাসীন বলিয়াই বোধ হয়। গৃহস্থের মধ্যে যাহারা বাড়ীর সংলগ্ন জমীতে লাউ, কুমড়া, ঝিঙ্গা, করলা, শশা, শিম, ডাটা, উচ্ছে, ঢেড়স, বেগুন প্ৰভৃতি তরকারী রোপণ করিয়া সংসারের খরচ লঘু করিতে প্ৰয়াস পান, র্তাহাদিগেরও বারো মাস জমী পরিষ্কৃত ও পরিচ্ছন্ন রাখা DDuDBS KDKDBD BBBDDBDDBS DDDDS SS S BBBD করিব, এরূপ মনে করা উচিত, নহে। জমীতে রসের বা জলের যেমন প্ৰয়োজন, উত্তাপেরও তেমনই প্ৰয়োজন। জলের সহিত উত্তাপের সংযোগ না।