প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অনাথবন্ধু.pdf/৯৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্ৰথম খণ্ড-দ্বিতীয় সংখ্যা । ] ம்- al উপাদান বিভিন্ন হইলে অন্য কারণেও মৃত্তিকার উত্তাপ বৃদ্ধি পাইতে পারে। যথা-যে মাটিতে অধিক বালী, সে মাটি সহজে উত্তপ্ত হয়। এই পরীক্ষার দ্বারা সপ্ৰমাণ হয় যে, মুক্তিকার বর্ণের উপরও উহার উত্তাপ অনেক পরিমাণে নির্ভর করে । সূৰ্য্যকিরণই ভূমির উত্তাপপ্রদানের প্রধান কারণ, q कथा शूल्दश् दल श्नाएछ। किछु श्। डिब्र डूगिद्ध উত্তাপবৃদ্ধির অন্য কতকগুলি বিশেষ কারণ আছে। ক্ষেত্রে পূৰ্ব্বফসলের শিকড় ও গোড়া থাকে ; উহা মৃত্তিকার মধ্যে যখন পচিতে থাকে, তখন উহা হইতে তাপ উৎপন্ন হয়। যে কারণে এই উত্তাপের আবির্ভাব হয়, সেই কারণকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় অক্সাইডেশন (Oxidation) কহে। যে সকল পদার্থে অক্সিজেন (Oxygen) নাই অথবা অক্সিজেনের ভাগ অতি অল্পই আছে, সেই সকল পদার্থের সহিত বায়ু মণ্ডলের অক্সিজেন আসিয়া মিলিত হইয়া ঐ উত্তাপের উদ্ভব করে। এই অক্সিজেন বা অম্লজানবাষ্প-সন্মিলন-ব্যাপারকে অক্সাইডেশন বলে । বাঙ্গালীয় উহাকে অম্লজানমিলন বলিলে কোন দোষ হয় না । ধানের যে সমস্ত গোড়া জমীতে থাকে, তাহা যখন মাটির সহিত মিলিত হইয়া পচিতে থাকে, তখন উহা হইতে উত্তাপ জন্মে। আমাদের দেশের কৃষকরা ধান কাটিয়া লইবার কিছুদিন পরে যদি জনীতে লাঙ্গল দিয়া ঐ গোড়া ও ধানের শিকড় মাটির সহিত ভাল করিয়া মিশাইয়া দেয়, তাহা হইলে ভূমির উর্বরতা আরও একটু বৃদ্ধি পায় ; কিন্তু উহারা ঐ কাজটা প্ৰয়োজনের অতিরিক্ত সময় অতীত হইলে পরে করে । তাহার ফলে কখন কখন ঐ গোড়াকাটায় উর্বরাশক্তিবৃদ্ধির শক্তি ক্ষুন্ন হয় এবং সময় সময় জমীতেও অনেক আগাছ জন্মে। তবে শীতপ্রধান দেশে ভূমির উত্তাপবৃদ্ধির জন্য যতটা চেষ্টা করা আবশ্যক, এ দেশে তােত আবশ্যক হয় না । জমীর উত্তাপের আর একটা কারণ আছে ; সেই কারণ-ভূগর্ভস্থ অগ্নি। পৃথিবীর মধ্যে ভীষণ উত্তাপ বা অগ্নি আছে, উহা উষ্ণ প্রস্রবণ ও আগ্নেয়গিরির উত্তাপে প্ৰকাশ পায় । খনির ভিতর প্রবেশ করিলে এই অগ্নির অস্তিত্ব বেশ বুঝা যায়; কারণ ভূগর্ভের যতই নিম্নে প্রবেশ করা যায়, ততই উত্তাপ অধিক অনুভূত হইয়া থাকে। তবে ভূস্তর বিশেষভাবে উত্তাপ বহন করে না । মাটির একদিক উলুপ্ত ইষ্টলে অন্যদিকে সহজে উত্তপ্ত হইতে চাহে না । সেই জন্য সেই ভূগর্ভস্থিত অগ্নির তেজে ভূপৃষ্ঠ অগ্নিসম উত্তপ্ত হয় না,-কিন্তু উহার জন্য মৃত্তিক অনেক স্থলে আবশ্যক উত্তাপ হইতে বঞ্চিত হয় না। ’ চাষের সম্পর্কে মাটির গুণা গুণের কথা সন্তই আলোচনা করা যায়, ততই ভগবানের প্রতি মানুষের ভক্তি বুদ্ধি পায়। মাটিতে ভগবান চাষের উপযোগী ও আবশ্যক কতকগুলি বিশেষ গুণ দিয়াছেন, সে গুণ অন্য কোন দ্রব্যে ਦੋ কৃষি । ANO দেখা যায় না । যে সকল ধাতব পদাৰ্গ খাইয়া উদ্ভিদরা জীবনধারণ করে, সেই সকল জিনিস ধরিয়া রাখিবার গুণ মাটিতে অসাধারণভাবে লক্ষিত হয়। অন্যান্য জিনিসের ভিতর দিয়া যদি দ্রব্যবিশেষমিশ্ৰিত জল পরিশ্রুত করা যায়, তাঙ্গা হইলে সেই দ্রব্য ঐ জিনিসের ভিত্তর আটকাইয়া থাকে। মাটির ভিতর দিয়াও ঐরূপ জলে দ্রবীভূত কোন দ্রব্য ক্ষরিত করিলে উহা মাটিতে থাকিয়া যায় । অন্যান্য জিনিসের সহিত মাটির এই গুণ সাধারণভাবে বর্তমান আছে । কিন্তু মাটির আর একটা অতি বিস্ময়কর গুণ দেখিতে পাওয়া যায়। যে সকল দ্রব্য উদ্ভিদরা আহার করে, মাটি তাহাই অতি বিস্ময়করভাবে টানিয়া লইতে পারে। যে সমস্ত ধাতব পদার্থ জলের সহিত এমনভাবে মিশাইয়া থাকে যে, অন্য কোন চুর্ণদ্রব্যের ভিতর দিয়া ঐ জল পরিশ্রুত করিলে অর্থাৎ ছাকিয়া লইলে তাহা জল হইতে পৃথক হয় না, যেমন জলের ভিতর ছিল, তেমনই জলের ভিতর থাকিয়া যায় ; তাহা যদি মাটির ভিতর দিয়া ছাকিয় লওয়া যায়, তাহা হইলে তাহা কেমন বিস্ময়করাভাবে মাটিতেই থাকিয়া যায়। যে সকল ধাতব পদার্গ উদ্ভিদের আহাৰ্য্য অর্থাৎ কার্বন বা ক্ষার, হাইড্রোজেন বা উদজান, অক্সিজেন বা অম্লজান, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, সালফার বা গন্ধক, পোটেসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম, লৌহ ও কলসিয়াম-তােহা মাটি অতি বিস্ময়করভাবে শুষিয়া লইতে পারে। গাভী যেমন দোহনকারী গোয়ালার হস্ত হইতে দুধ চুরি করিয়া উহা আপনার বাছুরের জন্য রাপিয়া দেয়, ধরিত্রীও তেমনই জলের সহিত অতি গৃঢ়ভাবে মিশ্রিত দ্রব্য কাড়িয়া আপনার অঙ্কে রাপিয়া দেন । আবার আরও একটা বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে, সার্টির ভিতর বা উপর দিয়া জল গড়াইয়া দিলে ঐ সকল ধাতব . পদার্গ মৃত্তিক হইতে ধৌত হুইয়া যাইতে পারে, কিন্ম সে আশঙ্কা অতি অল্প । কোন কোন জিনিস জলে কতক পরিামাণে ধৌত হইবার শঙ্কা আছে সত্য, কিন্তু মোটের উপাব যে সকল পদার্থ উদ্ভিদের জন্য নিতান্তই আবশ্যক, জলে তাহা মাটির নিকট হইতে বড় একটা কাড়িয়া লািঠতে পারে না। তবে কোন দ্রব্য কোন মৃত্তিকায় বেশী পপি - মাণে থাকিলে মৃত্তিকা উচ্চার কিছু জলকে দান করেন, জ৭ যেখানের মাটিতে ঐ সকল দ্রব্য অল্প আছে, সেইখনোেব মাটিকে উহা দিয়া থাকেন । জল এইভাবে মৃত্তিক ধ সম্পদ বণ্টনকার্স্য সমাধা করেন। ধরিত্রী প্ৰকৃতিরই রূপ--- অপ বা জল নারায়ণ। প্ৰকৃতির বক্ষে নারায়ণের দ্বা পুরুনের এই লীলায় বিশ্বের বৈচিত্রা বিকশিত হইতেছে, ধরা ধন-ধান্য-পস্পিভরা হইতেছে ; প্ৰাকৃতিক চারুশোভায় ধরণীর অঙ্ক সুশোভিত হইতেছে, শ্যামল চেলাঞ্চলে মেদিনী মণ্ডিতা তইতেছেন,-লীলাময়ী প্ৰকৃতির ইহাই লীলা, কে বলে প্ৰকৃতি-অন্ধ-জড়া ?