পাতা:অনুরাধা - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১১১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরেশ সে না বোঝে তা বৃথাই এতদিন পরের ছেলেকে বুক দিয়ে মানুষ করে এলাম । দাসী কহিল, সে আর বলতে ? সে বছর মায়ের অনুগ্রহ হলে তুমি ছাড়া আর যমের মুখ থেকে তাকে কে কেড়ে আনতে পারতো। বড়বাৰু ? তখন কোথাই বা ছোটবাবু আর কোথাই বা তার সৎ-মা । ভয়ে একবার দেখতে পৰ্যন্ত এলো না। তখন একলা জ্যোঠামশাই কিবা দিন কিবা রাত্ৰি । মেজ বৌমা বলিলেন, পরেশের নিজের মা বেঁচে থাকলেও হয়ত এতখানি করতে পারতেন না । গুরুচরণ। কুষ্ঠিত হইয়া উঠিলেন, কহিলেন থাক মা ও সকল আলোচনা। তাহারা প্রস্থান করিলে বুদ্ধের চোখের সম্মুখে যেন, বিমল এবং পরেশ আসিয়া পাশাপাশি দাড়াইল । জানালার বাহিরে অন্ধকার আকাশের প্রতি চাহিয়া অকস্মাৎ মুখ দিয়া দীর্ঘশ্বাস পড়িল। তাহার পরে মোটা বাঁশের লাঠিটি হাতে তুলিয়া লইয়া সরকারদের বৈঠকখানায় পাশা খেলিতে চলিয়া গেলেন। পরদিন দুপুর বেলায় গুরুচরণ ভাত খাইতে বসি৷াছিলেন বাটীর উত্তরদিকের বারান্দার কতকটা অংশ ঘিরিয়া লইয়া হরিচরণের রান্নার কাজ চলিতেছিল, তথা হইতে তীক্ষ্ম নারীকণ্ঠে কি কটু কথাই যে বাহির হইয়া আসিতেছিল তাহার সীমা নাই। তাহার আহারের যথেষ্ট বিঘ্ন ঘটতেছিল, কিন্তু সহসা পুরুষের S